শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) আয়োজনে এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক এই ফোরামটি আয়োজনে যৌথভাবে সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)।
এ বছরের ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ। অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক ও নীতি-নির্ধারকেরা অংশ নেন এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আধুনিকায়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।ফোরামের প্যানেল আলোচনায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নেন।
এতে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী এবং উদীয়মান প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ক্লাসরুমে প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে শিক্ষাদান পদ্ধতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা, আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, নীতি-নির্ধারক ও বেসরকারি খাতের একটি সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মটি উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।


