ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল ::
আমাদের স্বপ্ন অবশেষে ডালপালা মেলতে শুরু করে। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের জন্য নির্বাচিত হয় লাক্কাতুরা মাঠ। ২০০৭ সালে টিলা অপসারণ করে মাঠ এবং বিভাগীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির কাজ শুরু হয়। তখন নির্বাচনের মাধ্যমে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা হয়। আমিও সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য- যেহেতু আমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন করি। সেই নির্বাচনে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জসহ সিলেটের সকল জেলা ক্রীড়া সংগঠকরা অংশ নেন। এই একবারই বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হয়েছিল।
ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আমার বন্ধু ইমরান চৌধুরী। তার মাধ্যমে এবং সে সময়কার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ঐকান্তিক ইচ্ছায় সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নামে বরাদ্দকৃত অর্থে বিভাগীয় স্টেডিয়ামের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। আমি বিশেষ করে উৎসাহী ছিলাম কারণ এই মাঠটি আমার ঘরের মাঠ। এখানে স্টেডিয়াম নির্মিত হলে আমাদের স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং আমাদের এলাকার সব ইভেন্টের খেলোয়াড়দের অনুশীলন করার নুতন দুয়ার উম্মুক্ত হবে। দ্রুতগতিতেই কাজ এগুতে লাগল। এক সময় বাস্তব রূপ নিলো আমাদের স্বপ্নের বিভাগীয় স্টেডিয়াম। লাক্কাতুরা খেলার মাঠ রূপ নিলো সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে।
বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মিত হওয়ার পর জাতীয় ক্রিকেট লিগ এবং সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগও এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে আমরা সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে শুরু করি। এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষ করে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মেয়র কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চুড়ান্ত খেলায় হাজার হাজার সমর্থকদের সম্মুখে অর্থমন্ত্রী, এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি সহ অন্যরা যখন বক্তব্যের মাধ্যমে সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর পক্ষে জোরালো দাবি জানাই-তখন সেটি আর শুধু একটি দাবি থাকেনি। সকলেই এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করেন। শুরু হয় নতুন লক্ষ্য নিয়ে দৌড়ঝাঁপ। সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু প্রতিষ্ঠার জন্য বিভাগীয় এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা তখন এ স্বপ্ন নিয়েই ছুটতে থাকেন। (চলবে)
ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, ক্রীড়া সংগঠক


