আধুনিক ডেস্ক ::
ভারতের বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল বিমানটির। উড়োজাহাজটিতে ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ফ্লাইট রাডারের তথ্য, রানওয়ে থেকে ওঠার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ৬২৫ ফিট উচ্চতায় বিমানের সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরের বাইরের দিকে পড়ে বিমানটি। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের এ উড়োজাহাজটির ধারণক্ষমতা ২৫৬ জন।
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল -এক এর ব্যবস্থাপক জানান, বিমানবন্দরের বাইরে থেকে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। তার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সবাই।
আহমেদাবাদ পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করা উড়োজাহাজটি চিকিৎসকদের একটি হোস্টেলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং অন্য বেসামরিক কর্মীরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
দুর্ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যে বাড়ির ওপর বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এক কর্মকর্তা জানান, উড্ডয়নের পাঁচ মিনিট পরই মেঘানি নগরের একটি আবাসিক এলাকায় চিকিৎসকদের হোস্টেল ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয়।
উড়োজাহাজের প্রধান পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাবহারওয়াল ও সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্ডার। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই বিমানে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যে কারণে দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ফ্লাইট সেফটি বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল ও আকাশ পরিষ্কার ছিল।
আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আহমেদাবাদের এই দুর্ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে, দু:খিত করেছে। এটা কতটা হৃদয়বিদারক, তা কথায় বোঝানো যাবে না। যতজন মানুষ এই ঘটনায় প্রভাবিত, তাদর প্রত্যেকের কথাই আমার ভাবনা জুড়ে আছে এই দু:সময়ে। যেসব মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বিপদে পড়া মানুষদের সহায়তা করছেন, তাদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখছি।
অন্যদিকে, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আমি মর্মাহত। দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা এবং হাসপাতালে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, বলে জানান প্যাটেল।


