নাজিম উদ্দিন, লাখাই :
নেই প্রয়োজনীয় জনবল, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি-এভাবেই চলছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নানা সমস্যা ও অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তবে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ৩১ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চারজন কনসালট্যান্টসহ মোট ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নেই। অন্যদিকে, ২৫ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্মরতদের।হাসপাতালে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম করার যন্ত্রপাতি থাকলেও এসব সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রথম ইসিজি যন্ত্রটি আসে ২০১৪ সালের ১৮ জুন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আবারও একটি ইসিজি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়।
একইভাবে, প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি আসে ২০১৪ সালের ১৮ জুন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আরও একটি যন্ত্র হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এসব যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে, হাসপাতালে ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর অভাবে তাঁরা চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না। হাসপাতালটিতে ডা. সাখাওয়াত হোসেন ও ডা. আফসানা বেগম নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, “লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ১১ জন এবং ২৫ জন নার্সের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন নার্স দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। শয্যাসংখ্যার তুলনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত কমসংখ্যক জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামের যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে লাখাই উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।


