Home Blog Page 16

শাবিতে ‘নির্বাচন, ভোট আচরণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া’ গবেষণার লক্ষ্যে ইলেকশন ল্যাবের উদ্বোধন

শাবি প্রতিনিধি:

দেশে প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র নির্বাচনভিত্তিক গবেষণার উদ্দেশ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘ইলেকশন ল্যাব’র উদ্বোধন করা হয়েছে। নির্বাচন, ভোট আচরণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে পদ্ধতিগত ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনার লক্ষ্যে এ ল্যাব কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ল্যাবের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইলেকশন ল্যাবের যাত্রা শুরু হচ্ছে এর মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ইলেকশনের ডাটা কালেকশন, পর্যালোচনা করে উপকৃত হবে।

এসময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, এবছরের নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের থেকে তুলনামূলক ভালো হয়েছে। এই ইলেকশন ল্যাব দেশের পরবর্তী ইলেকশন গুলো আরো ভালো করার জন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

ইলেকশন ল্যাব উদ্বোধন সভার সভাপতি ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফুর রহমান বলেন, ‘বিভাগে প্রথমবারের মত ল্যাব উদ্বোধন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের গবেষণা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়াতে পারবে’

ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, “এই ল্যাবের লক্ষ্য হলো নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্তের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করা।”

জানা যায় , গত ১ ফেব্রুয়ারি বিভাগের এক সভায় ইলেকশন ল্যাব গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ, আসনভিত্তিক ফলাফল মূল্যায়ন এবং ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ইলেকশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। উন্নয়ন ও নাগরিক প্রতিষ্ঠান ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর সহযোগিতাও এতে যুক্ত রয়েছে।

ইলেকশন ল্যাবটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য বাংলাদেশে ভোট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সময়োপযোগী, নির্ভুল এবং গবেষণাভিত্তিক পরিসংখ্যান, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণমূলক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করা। জরিপের তথ্য, নির্বাচনের ফলাফল এবং অন্যান্য প্রায়োগিক উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ ল্যাব গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে কঠোর একাডেমিক মান বজায় রেখে সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইলেকশন ল্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন ও প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চলনা করেন ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। এসময় বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড.ফাহামিদা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. হাজেরা আক্তারসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের ফলাফল, ভোটের প্রবণতা, রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বেশিরভাগ আসনে জামায়াতের তুলনায় বিএনপি বেশি আসন লাভ করেছে মূলত তাদের সারাদেশব্যাপী সাংগঠনিক শক্তি, শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং গ্রামীণ এলাকায় দৃঢ় উপস্থিতির কারণে। সংখ্যালঘু ভোট এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশের সমর্থনও বিএনপির পক্ষে গেছে, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বয়ান ব্যবহার তাদের বিস্তৃত রাজনৈতিক বৈধতা জোরদার করেছে। তবে কিছু অঞ্চলে, বিশেষত শহরাঞ্চল এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় জামায়াত তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। তাদের জোট জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছয়টি জয়ের মাধ্যমে। ভারতবিরোধী বক্তব্য, সীমান্ত হত্যা ইস্যু এবং বিভিন্ন আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোট বিভাজনও জামায়াতের স্থানীয় সাফল্যকে সহায়তা করেছে। নির্বাচনী ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশ আসন বেশি জয়ী হওয়ায় সংসদে দুর্বল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত অংশগ্রহণ করবে আর পাশাপাশি বড় মেজরিটির জন্য বিএনপি সহজে আইন পাশ করা থেকে শুরু করে একচ্ছত্র স্বৈরাচারী সরকার হিসেবে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এআই ইমপ্যাক্ট সামিট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণ

অনিরুদ্ধ দাস:

বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রবেশ করেছে—এর ব্যবহার আমরা চারপাশেই দেখতে পাচ্ছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) বলতে বোঝায় এমন যন্ত্রগত সক্ষমতা, যার মাধ্যমে সাধারণত মানুষের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন হয়—এমন কাজ যন্ত্র নিজে সম্পাদন করতে পারে। এআই কেবল দ্রুততর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেই সহায়ক হবে না, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে। এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতির ফলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়েছে। পূর্ববর্তী শিল্পবিপ্লবগুলোর মতোই এই বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বব্যাপী আয় বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে—এটি বৈষম্য বাড়াতে পারে, শ্রমবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং এআইয়ের অনৈতিক ব্যবহারের ঝুঁকি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইয়ের সম্ভাবনাকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে একাধিক বহুপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জি–২০ এআই নীতিমালা, জাতিসংঘ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন এআই (GPAI)-এর এআই সংক্রান্ত প্রস্তাব, আফ্রিকান ডিক্লারেশন অন এআই এবং হামবুর্গ ডিক্লারেশন অন রেসপনসিবল এআই। এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, এআইয়ের রূপান্তরমূলক প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের এআই সেফটি সামিট, এআই সিওল সামিট, ফ্রান্স এআই অ্যাকশন সামিট এবং গ্লোবাল এআই সামিট অন আফ্রিকার মতো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর ধারাবাহিকতায় ভারত ২০২৬ সালের ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে আয়োজন করতে যাচ্ছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট।

এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬:
ভারত বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে—যা গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত সবচেয়ে বড় এআই সম্মেলনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্পখাত এবং জনসম্পৃক্ততা – সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সামিটটি বিদ্যমান বহুপাক্ষিক উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন অগ্রাধিকার, কার্যকর ফলাফল এবং সহযোগিতামূলক কাঠামো এগিয়ে নেবে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি ভবিষ্যৎ পথনকশা তৈরি করা, যেখানে এআইয়ের রূপান্তরমূলক শক্তি মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, সামাজিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে এবং মানুষকেন্দ্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমাদের গ্রহকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে সামিটটি গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে, যাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সুযোগ কেবল কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এই সামিটে ১০০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত—যার মধ্যে প্রায় ২০ জন সরকারপ্রধান, ৫০ জনের বেশি মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ৪০ জনের বেশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন। পাশাপাশি সাতটিরও বেশি বিষয়ভিত্তিক প্যাভিলিয়নে ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক (এক্সিবিটর) অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে

ভারতের এআই যাত্রা:
ভারত এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত এক নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে এবং দেশের অগ্রযাত্রাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এআই আর শুধু গবেষণাগার বা বড় করপোরেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো থেকে শুরু করে কৃষকদের ফসল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা – এআই দৈনন্দিন জীবনকে করছে আরও সহজ, বুদ্ধিদীপ্ত ও সংযুক্ত। এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষকে রূপান্তরিত করছে, শহরকে করছে আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ এবং দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক শাসনের মাধ্যমে জনসেবার মান উন্নত করছে।
ভারত সরকারের নীতি-পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধান থিঙ্ক ট্যাংক নীতি আয়োগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই ভারতের ৪৯ কোটি অনানুষ্ঠানিক (ইনফরমাল) শ্রমিককে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাড়িয়ে ক্ষমতায়িত করতে পারে। এআই-চালিত সরঞ্জাম উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে—যাঁরা ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গভীর বিভাজন দূর করতে পারে এবং এআইয়ের সুফল যেন প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে পারে। অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পাচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড এআই ইনডেক্স এআই দক্ষতা, সক্ষমতা ও নীতিমালার দিক থেকে ভারতকে শীর্ষ চারটি দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে। জাতীয় উদ্যোগ ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতে এআই বাস্তব সমস্যা সমাধান, জনসেবা উন্নয়ন এবং সুযোগকে আরও সহজলভ্য করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গ্রহ, মানুষ ও অগ্রগতির জন্য এআই:
ভারত আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—গ্রহ (প্ল্যানেট), মানুষ (পিপল) ও অগ্রগতি (প্রগ্রেস)। ‘মানুষ’ স্তম্ভটি নিশ্চিত করে যে, এআই মানবকেন্দ্রিক থাকবে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে, মর্যাদা রক্ষা করবে এবং নকশা ও প্রয়োগে অন্তর্ভুক্তিকে প্রাধান্য দেবে। ‘গ্রহ’ স্তম্ভটি পরিবেশ সুরক্ষা ও বৈশ্বিক স্থায়িত্ব জোরদারে দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। আর ‘অগ্রগতি’ স্তম্ভটি এআইকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে কল্পনা করে—যেখানে এর সুফল বৈশ্বিক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সুযোগের ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
ভারতে আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট কেবল বিশ্বনেতৃত্বের সমাবেশ নয়; এটি এআইয়ের ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। এই তিনটি স্তম্ভের মাধ্যমে বৈশ্বিক সম্প্রদায় এমন বাস্তব পথনির্দেশ তৈরি করবে, যাতে এআই গ্রহের সেবা করে, সব মানুষকে ক্ষমতায়িত করে এবং প্রতিটি দেশের জন্য অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে।
বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশের মতোই, উদীয়মান এআই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারে। বাংলাদেশ ইউনেস্কোর ১৯৩টি সদস্য দেশের একটি, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা বিষয়ক ইউনেস্কোর সুপারিশ গ্রহণ করেছে—যাতে এআই ন্যায়সঙ্গত, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ফলাফল নিশ্চিত করে। এআইয়ের এই নতুন যুগের সূচনালগ্নে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়, এআই ইমপ্যাক্ট সামিট হতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—যার মাধ্যমে দেশটি এআই অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করে জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে এবং আগামীর কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

অনিরুদ্ধ দাস
সহকারী হাইকমিশনার,
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেট

‘অর্জন, চর্চা, সৃষ্টি’- নীতিতে শাবিপ্রবির তিন যুগ পূর্তি

হিমেল হান্নান, শাবি:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলের লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘অর্জন, চর্চা, সৃষ্টি’- এই নীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১(১লা ফাল্গুন)। গৌরবময় ৩৫ টি বসন্ত পাড়ি দিয়ে আজ(১৪ ফেব্রুয়ারি) তিন যুগ পূর্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির।

১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি বিভাগ(পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতি), ১৩ জন শিক্ষক ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শিক্ষাপ্রদানের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি,নতুন জ্ঞান ও আবিষ্কার সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে আরো টেকসই উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে নিরলস ভাবে কাজ করছে। যার ফলশ্রুতিতে ৩২০ একরের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আলো ছড়াচ্ছে বিশ্বে।

বিগত বছরগুলোতে ইংরেজি দিনপঞ্জি অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হলেও ২০২০ থেকে বাংলা দিনপঞ্জির সঙ্গে মিল রেখে ১লা ফাল্গুন (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।বর্তমান প্রতিষ্ঠানটিতে ৭টি স্কুল, ২৭টি বিভাগ এবং ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে । শিক্ষক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৬ জনে, আর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৮,৫৯৬। এর পাশাপাশি মেডিকেল সায়েন্স স্কুলের অধীনে রয়েছে এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ ১২টি অনুমোদিত মেডিকেল কলেজ, যেখানে অধ্যয়ন করছে প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থী।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে জার্মানির কার্লসরুয়ে প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট,ইতালির কালাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চীনের চিংশু বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি ফ্যাচকশিউল (বার্লিন),ফিনল্যান্ডের তামপেরে ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।

২০২৫ সালের কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৪২তম স্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।এডুর‍্যাঙ্ক অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যে ১১তম এবং বিশ্বব্যাপী ৩৪৪৮তম স্থানে রয়েছে ।ভবিষ্যতের দিক বিবেচনায়, গবেষণা, শিক্ষার গুণমান ও একাডেমিক কার্যক্রমে আরও উন্নতি সাধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক আইটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে , যার মধ্যে রয়েছে হাই-স্পিড নেটওয়ার্কিং, ক্লাউড ও ভার্চুয়ালাইজেশন সুবিধা, ক্যাম্পাস অটোমেশন সিস্টেম এবং ২৪/৭ টিয়ার-৩ ডেটা সেন্টার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত অনেক প্রযুক্তি দেশে প্রথম ও অনন্য স্থান দখল করে রেখেছে। মোবাইল ফোনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই সেবার আওতায় নিয়ে আসা, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ উদ্ভাবন, যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস উদ্ভাবন, চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) উদ্ভাবন, বাংলায় কথা বলা সামাজিক রোবট ‘রিবো’ তৈরি, হাঁটতে চলতে সক্ষম রোবট ‘লি’ তৈরি, অনলাইনে টান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সুবিধা চালু, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কিবোর্ড তৈরি , রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনসহ অসংখ্য উদ্ভাবন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশে ইন্টিগ্রেটেড অনার্স প্রোগ্রাম চালু করা প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল । ১৯৯৬–৯৭ শিক্ষাবর্ষে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করে, যা শিক্ষার মানে দৃশ্যমান উন্নতি এনেছে, এমনকি জাতীয় পর্যায়েও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ৭৯টি দেশের বাছাইকৃত ২৭২৯টি দলের সঙ্গে লড়াই করে শীর্ষ চারে জায়গা করে নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম অলিক’।সর্বশেষ দেশের প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ‘দেশসেরা ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে শাবিপ্রবি।

শুধু শিক্ষা ও গবেষণায় নয়, মানবিকতায়ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শাবিপ্রবি। অতিমারী করোনাকালে নিজস্ব অর্থায়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধীনে করোনা শনাক্তরণ ল্যাব তৈরি করেছে। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমিয়েছে। করোনা ভাইরাসের জিনোম রহস্য উন্মোচন করে ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছে শাবিপ্রবির গবেষক দল।

প্রথম পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকা অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফাতিমা তুজ জাহরা(পূর্বনাম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল) সৈয়দ মুজতবা আলী হলের অসমাপ্ত তিন-চতুর্থাংশ, সেন্টার এক্সেলেন্স ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় ভবন, টেনিস কোর্ট, আইআইসিটি ভবনের অসমাপ্ত পঞ্চম থেকে দশম তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প কাজ চালছে । এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন, চতুর্থ ছাত্রী হল, চতুর্থ ছাত্র হল, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগসমূহের দুটি একাডেমিক ভবন, কর্মচারীদের জন্য একটি আবাসিক ভবন, ভৌত বিজ্ঞান, কৃষি ও খনিজ বিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগসমূহের জন্য একটি একাডেমিক ভবন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন, বাংলা, ইংরেজি বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের জন্য একটি একাডেমিক ভবন, গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশি ছাত্রদের জন্য হোস্টেল, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের জন্য একটি ভবন, চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ সহ দুটি সংযোগ সেতু নির্মানের কাজ চলমান।

শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা প্রদানের জন্য বর্তমানে মোট ৬টি আবাসিক হল রয়েছে। যার মধ্যে ৩টি ছেলেদের জন্য ও ৩টি মেয়েদের জন্য বরাদ্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সৃজনশীলতার চর্চার জন্য রয়েছে অর্ধ-শতাধিক সংগঠন ।

১৯৯০ সালে মাত্র কিছু বই ও চারটি কক্ষে লাইব্রেরি শুরু হলেও আজ এটি একটি আধুনিক ৪ তলা ভবনে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা সেবা প্রদান করা হয়। এখানে ৭৫ হাজারের বেশি বই, ৬ হাজারের বেশি জার্নাল এবং ২৩টি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে সহায়ক।

গ্রন্থাগারটি ২৫ হাজারের বেশি ই-জার্নাল এবং ই-বুক সাবস্ক্রাইব করে, যা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও পড়াশোনায় আরও এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আধুনিকায়িত লাইব্রেরিটি কোহা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে ডিজিটালাইজড হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই বই খুঁজে পেতে এবং আরএফআইডি সিস্টেমের মাধ্যমে বই ধার নেওয়া যায়।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায়ে শিক্ষার গুনগত মান যাতে বজায় থাকে, সেজন্য ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহায়তায় আইকিউএসি চালু হয়। প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট ও ইন্সটিটিউট এর শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিগূঢ়ভাবে গবেষণা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিরলস ভাবে কাজ করছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাস্ট রিসার্চ সেন্টার। সেন্টারটি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড ম্যানেজ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে থাকে।

শাবিপ্রবি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণের আশ্রয়, গর্ব আর সম্ভাবনার একটি নাম।
৩৬বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন,প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন যুগ পূর্তি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগের জায়গা। তিন যুগ পূর্তিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

আধুনিক ডেস্ক ::

নানা আলোচনা ও জল্পনার পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটেও ভোট দিবেন দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার। বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওইআসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ঠেলে অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে; আমেজ ছিল অনেকটা ঈদ উৎসবের মতোই। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে।


বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারি। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের তিনদিনের মাথায় চব্বিশের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর কয়েক মাসের মাথায়ই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক হয় তারেক রহমানের। এরপরই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে। ২০২৫ সালের পাঁচই অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়।
এবারের নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটার। ভোটারদের বড় একটি অংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পৌনে তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ ভোটার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এই তরুণ ভোটাররা।

ইসির তথ্য বলছে, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। ভোট চলবে বিকেলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য। যে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।
অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে। আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিএনপির ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুসহ প্রধান প্রতিশ্রুতি নয়টি

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহারে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির ইশতেহারে যে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা–উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠায়ো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যামে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন, ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

বিএনপি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, সবার আগে বাংলাদেশ।

শাবিতে ক্রিকেট খেলায় ‘স্লেজিংকে’ কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৬

আধুনিক ডেস্ক ::

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ‘স্লেজিংকে’ কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষক। তারা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর আলম। তাদের মধ্যে আশরাফ সিদ্দিকী ও আব্দুল বাসিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাঁদের মধ্যে সোহানুর ও যশমন্তকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফারদিন ইসলাম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ফারদিন ও সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলা বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বাংলা বিভাগ লোকপ্রশাসন বিভাগকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি লোকপ্রশাসন বিভাগ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে ২০ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হয়। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘স্লেজিং’ করা হলে মাঠে থাকা অপর পক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই দফায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তর–পশ্চিম কোনায় ছিল। লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠে যায়নি। আগে থেকেই বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেকেই আহত হয়েছে। যা–ই ঘটুক সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে খেলা পরিচালনা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু ফাইনাল খেলা, আমি খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলাম। আমাদের একজন খেলোয়াড়কে স্লেজিং করা হয়। ওই খেলোয়াড় মনে হয় প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলেছিল। এরপর আমাদের খেলোয়াড় শিক্ষার্থীকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মারধর শুরু করে। পরে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা তা দেখে সেখানে যায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। আমি আটকাতে গেলে একজন আমার চোখের দিকে ঘুষি মারে। আহত হয়ে পড়ি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আহত হয়েছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। জানামতে, দুটি হাসপাতালে দুজন করে ভর্তি আছে। শিক্ষার্থীরা এখন কোন পর্যায়ে যাচ্ছে, আমাদের ভাবতে হবে। এটা তো মাত্রা ছাড়িয়ে গেল।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এছাক মিয়াকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মো. এছাক মিয়া বলেন, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানায় প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একুশে পদকের জন্য ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান মনোনীত

আধুনিক ডেস্ক ::

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন ববিতা, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মেরিনা তাবাশ্যুম, আইয়ুব বাচ্চু, ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিক শফিক রেহমান, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, তেজশ হালদার যশ ও অর্থী আহমেদ। আর প্রতিষ্ঠানটি—ওয়ারফেজ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

আধুনিক ডেস্ক ::

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড। আর একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এই মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন।

এই মামলার মোট আসামি মোট ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আটজন। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (৭ বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (৭ বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) ও মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)। পলাতক আট আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এ এফ এম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত ছিলেন, তাঁকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে এটি প্রথম রায় হলো। অন্যদিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। এর মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ২৬ জানুয়ারি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১।

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে পাঁচ গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ

আধুনিক রিপোর্ট ::

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। বুধবার মধ্যরাতে নেগরের তেমুখী এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরাধ করে সংঘর্ষে জড়ান ৫ গ্রাম বাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বুধবার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের জালালাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, জালালাবাদ থানার অধীন তেমুখী এলাকার পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে কুমারগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে নাজিরেরগাঁও এবং সাহেবেরগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁওয়ের লোকজন যুক্ত হন। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় ওই সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। তবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রা ১ টার দিকে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়েপরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কেউ কেউ সংঘর্ষের ঘটনাটি রাজনৈতিক বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত শিশুদের ঝগড়া থেকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সিলেটের কানাইঘাটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল তরুণের

কানাইঘাট প্রতিনিধি ::

সিলেটের কানাইঘাটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল (২১) নামে এক তরুণ খুন হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাবিল কানাইঘাট সরকারী কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী বলে জানা গেছে।

ছুরিকাঘাতে নাবিল হত্যার তথ্য নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচাতো ইসলাম হোসেনের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল খুন হয়।

তিনি বলেন, নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই একই বাড়ির বাসিন্দা। সকালে বাড়ির বাথরেমে মাটি ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাবিলকে ছুরিকাঘাত করেন ইসলাম।

বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী জানান, ছুরিকাহত নাবিলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।