শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
Home Blog

‘মুজিবুল হক চুন্নুই জাতীয় পার্টির বৈধ মহাসচিব’

0

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত প্রত্যখ্যান করেছেন দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তাদের অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছি, আমাদের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বহাল রয়েছেন। ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একদিন আগে ৭ জুলাই তাকে এবং পার্টির মহাসচিবসহ তিন শীর্ষনেতাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যে প্রেসিডিয়ামের সভার রেফারেন্স দিয়েছেন জিএম কাদের সেই বৈঠককেও অস্বীকার করেছেন তিনি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রথমত ওই প্রেসিডিয়ামের সভায় কোরাম হয়নি। আর গঠনতন্ত্রের ২০/৩(খ) ধারায় বলা হয়েছে মহাসচিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রেসিডিয়ামের মিটিং আহ্বান করবেন। আলোচ্য সূচি নির্ধারণ করবেন মহাসচিব। পার্টির চেয়ারম্যান মিটিং ডাকার এখতিয়ার রাখেন না। সম্মেলন ঘোষণার পর পার্টির কোনো পদে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারবেন না।

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে আমরা গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছি। আমরা পার্টির বিরুদ্ধে কি কাজ করেছি। আমরা বিবৃতি দিয়ে বলেছি ২০ (ক) ধারা বাতিল করতে বলেছি, হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলেছি। আমাদের এসব কাজ কোনভাবেই দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর কাছ থেকে জোর করে দলের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জি এম কাদের নেন বলে অভিযোগ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘জি এম কাদেরের প্রতিটি বিষয়ে স্বৈরাচারী মনোভাব।’

দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তারা জাতীয় পার্টিকে ভাঙতে দেবেন না এবং তারা দল ছাড়বেন না। সোমবার ৭ জুলাই জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন দলের চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টির দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ মাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছিলো। মুজিবুল হক চুন্নুর স্থলে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করার কথা জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, গত ২৮শে জুন দলের প্রেসিডিয়াম সভায়ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই তিনজন নেতাকে দলীয় সকল পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমন অবস্থায় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

ওত পেতে আছে ‘স্প্রে পার্টি’, অটোরিকশায় সাবধান

0

এম কে তুহিন
মিষ্টি একটি সুবাস। তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন একটু চেতনা ফেরে তখন দেখেন সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, দামি জিনিসপত্র গায়েব। সিলেটে প্রায় প্রতিদিনই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশাযাত্রীদের অনেকেই। ‘স্প্রে পার্টি’ খপ্পরে পড়ে দামি জিনিসপত্র খোয়ালেও প্রতিকার মিলছে না। এমন ঘটনা ঘটছেই।
সিলেট নগরীতে গণপরিবহন বলতে কিছু নেই। পথ চলতে অনেক ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশাই ভরসা নগরবাসীর। এটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে সিএনজি অটোরিকশা চালকের একটি চক্র। দিনে কিংবা রাতে টার্গেট করা ব্যক্তিকে অটোরিকশায় তুলে নেন। যাত্রী হিসেবে থাকেন ওই চক্রেরই আরো দুই সদস্য। তারা কৌশলে ‘টার্গেট’কে বসিয়ে দেন অটোরিকশার পেছনের সিটের মাঝখানে। দুই পাশে বসেন চক্রের সেই দুই সদস্য। কিছুদুর যাওয়ার পর কখনও ‘স্প্রে’ ব্যবহার করে আবার কখনও তেল বা সুগন্ধিজাতীয় চেতনানাশক ব্যবহার ঘোরের মধ্যে ফেলেন ওই যাত্রীকে। কিছুসময় ‘বেখবর’ হয়ে যান টার্গেট করা যাত্রীটি। এই সময়ের মধ্যেই তার সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পড়েন চক্রের এক সদস্য। কিন্তু কিছুই টের পান না ভুক্তভোগী। আরও কিছু দূর গিয়ে কোনো এক অজুহাতে যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতই সরে পড়েন অটোরিকশা চালক। তখনও ওই যাত্রীর ঘোর পুরোপুরি কাটেনি। ধীরে ধীরে যখন স্বাভাবিক হতে থাকেন, মনে পড়ে মোবাইল ফোনের কথা। পকেটে বা হ্যান্ডব্যাগে হাত দিয়ে দেখেন মোবাইল ফোন নেই, টাকা-পয়সা , জিনিসপত্রও গায়েব। তখন আর কিছুই করার থাকে না। সিএনজি অটোরিকশা তো কখনই হাওয়া হয়ে গেছে।
এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে নগরীর বন্দরবাজার-হুমায়ুন রশীদ চত্বর, পুলেরমুখ- টুকেরবাজার, আম্বরখানা- হুমায়ুন রশীদ চত্বর, আম্বরখানা-বন্দরবাজার, আম্বরখানা-টিলাগড়, আম্বরখানা-টুকেরবাজার, টিলাগড়- মেজরটিলাসহ সিএনজি অটোরিকশার বিভিন্ন রুটে। কোন কোন ক্ষেত্রে নীরবে সহ্য করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেও প্রতিকার পান না। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে তারা কোনো অভিযোগ পায় না। কার কাছে বিচার দেবেন ভুক্তভোগীরা? মনের দুঃখ তাই তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দৈনিক আধুনিক কাগজের কাছে এরকমই এক অভিজ্ঞতার গল্প বললেন ভুক্তভোগী আমজাদ হাসান ফাহিম। তিনিও খপ্পরে পড়েছিলেন ‘স্প্রে পার্টি’র। সে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি এভাবে,

আমি রাত ৮ ঘটিকার সময় বন্দর বাজার থেকে সোবহানীঘাট যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে উঠি। ড্রাইভারের পাশে একজন এবং গাড়ির পিছনের সিটে আরো দুই জন যাত্রী ছিলেন। ধোপাদিঘীর পার যাওয়ার পর গাড়ির ড্রাইভার বলল গাড়ির চাকায় কি একটা সমস্য হচ্ছে গাড়ি থেকে নামার জন্য। আমি নামলাম। আমার সাথে আমার ল্যাপটপ ছিল সাথে আরো দুটি ব্যাগ। ড্রাইভার বলল ব্যাগগুলো পিছনে রেখে গাড়িতে ধাক্ষা দেওয়ার জন্য। গাড়িতে ধাক্ষা দিয়ে যখন গাড়িতে উঠছিলাম তখন আমার পাশেরজন বলল, ভাই আপনি মাঝখানে চলে যান, আমার মাঝখানে বসতে সমস্যা হচ্ছে। আমার বমির ভাব হচ্ছে। পরে গাড়িটি ছাড়ার পর সোবহানীঘাট পয়েন্ট পার হওয়ার সাথে সাথে আমার পাশে থাকা ব্যক্তি বলল, গাড়ি থেকে পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে বলেই একটা ‘প্রে’ বের করে মারতে থাকে। সাথে সাথে মনে হচ্ছিল আমার জানি কি হয়ে যাচ্ছে। আমি ড্রাইভারকে বললাম গাড়িটি থামানোর জন্যে কিন্তু ড্রাইভার গাড়িটি থামাচ্ছিলেন না। পরে আমি লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সামনে বসা ব্যক্তি আমি যাতে না নামতে পারি তার জন্যে হাত দিয়ে আমাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। আমি জোড় করে নামার সময় আমার পাশে থাকা ব্যাক্তি আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা চলে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী আদৃতা পিংকি বলেন, আমি বাসা থেকে বের হয়ে বন্দর যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠি। সিএনজিতে একজন বোরকা পড়া আন্টি ছিলেন। আম্বরখানা ক্রস করার পর হঠাৎ আন্টি উনার হিজাবটা খুলে মাথায় তেল দেওয়া শুরু করলেন। উনার তেল দেওয়া দেখে আমি অবাক হই। কারণ উনি যেহেতু পর্দা করেন তো পর্দা খুলে কেন মাথায় তেল দিতে যাবেন। তেলের সুগন্ধিটা এত কড়া যা আমার নাকে আসার সাথে সাথে আমার ঘুম চলে আসছে। তখন আমার হঠাৎ মনে হল আমি যদি ঘুমিয়ে যাই আমার ফোনটা পড়ে যায়। আমার শরীর খারাপ করায় আমি ড্রাইভারকে বলি আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু। আমার একটাই খারাপ লাগতেছিল যে আমি জুরে বলতেও পারতেছিলাম না আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য। ড্রাইভার কোন ‘রেসপন্স’ করতেছিলেন না। চৌহাট্টা যাওয়ার পর আমি জ্যামে আটকা পড়া অবস্থায় নেমে যাই। ড্রাইভার হঠাৎ করে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি কেন বন্দর বলে চৌহাট্টা নেমে যাচ্ছি। আমি টাকা দিছি উনি নেয়নি। পওর াইম পানি ক্রয় করে মাথায় ও মুখের মধ্যে দেই। দিয়ে বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পরও আমার মাথা ভার ছিলো। শরীরটা অনেক খারাপ ছিলো।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাস থেকে শহরে ‘স্প্রে পার্টি’ নামে একটি চক্র সিএনজি অটোরিকশাকে ব্যবহার করে যাত্রীদের সাথে থাকা টাকাপয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এটা আগে এই শহরে ছিলোনা। আমরা এ বিষয়ে সজাগ ইছ। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার তা করব।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, এ বিষয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় মিটিং করেছি। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি অপরিচিত কাউকে এই রুটে পেলে তার নেতার সাথে কথা বলে তার পরিচয় শনাক্ত করে তাকে ছেঢ়ে দেওয়া। আবার আমার শ্রমিক যদি কেউ জড়িত হয় একাজে আমরা তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সকলকে সহযোগীতা করব।
সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরাও দেখেছিলাম এবং এরকম ‘প্রে’ প্রয়োগ করার সংবাদগুলে সিলেটের সাধারণ মানুষ ফেসবুক ভাইরাল কার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে আমরা আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। যাতে এ ধরনের কার্যক্রম যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। যদি কোন যাত্রী সিএনজিতে উঠার পর যাত্রী বা কারো আচরণ সন্দেহজন মনে হয় অবশ্যই আমদের ট্রাফিকপুলিশ সদস্যদের নহায়তা যেন গ্রহণ করেন। আমরা অনেককেই বলেছি আপনার কোন সমস্যায় থানায় যান, পুলিশের কাছে যান, অথিযোগ করুন, সময়টা ও স্থানটা আমাদের কাছে বলুন। হেহেতু আমরা আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে সিলেট নগরে সানুষের গতিবিধি বা গাড়ির নাম্বারটা সনাক্ত করতে পারি। যদি আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। আমরা জানিনা আসলে এই চক্রে কতজন আছে। প্রকৃতঅর্থে তাদেরকে আইনের আওয়ায় এনে কারা আছে এটা শনাক্ত করতে পারব। এখন পর্যন্ত আমরা কোন অভিযোন পাইনি। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার জাকির হোসেন খান

0

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান।
সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান সদ্য বদলি হওয়া সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মো. ইলিয়াছ শরীফকে পিবিআইয়ের ডিআইজি করা হয়েছে।
এরআগে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফকে প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের মাধ্যমে সিলেটসহ দুই পুলিশের কমিশনার এবং পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) অন্যত্র বদলির জন্য ইসিতে এই প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। আর হবিগঞ্জে নতুন এসপি হিসেবে যাচ্ছেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আক্তার হোসেন।
গত রোববার সকালে ইসির উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়। পরে সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ২টা ২৫ মিনিটে তিনটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা আসেন। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।

‘অপমানিত বোধ করছেন’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা তিনি অপমানিত বোধ করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। ঢাকায় নিজের বাসভবন বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তবে এ পদ অনেকটাই আলংকারিক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। অবশ্য ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে রাষ্ট্রপতির পদের গুরুত্ব বাড়ে। কারণ, অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’ তিনি বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রায় সাত মাস হয় অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তাঁর জনসংযোগ বিভাগ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।’

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে তিনি লিখিতভাবে বলেছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিবরা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ হয়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নিলে প্রবীণ এই রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।

সাহাবুদ্দিন বলেন, জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান স্পষ্ট করেছেন দেশের ক্ষমতা নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে। তবে জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান বলে আসছেন, তিনি চান দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, যদিও কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী শুরুর দিকে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল তাকে পদত্যাগ করতে বলেনি।

জনমত জরিপগুলোতে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে। দল দুটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোটের অংশ ছিল।

২০ বছর দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি দলনিরপেক্ষ, কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

রাজশাহীতে গর্ত থেকে উদ্ধার করা শিশু সাজিদ বেঁচে নেই

0

আধুনিক ডেস্ক ::

রাজশাহীর তানোরে গর্ত থেকে উদ্ধার করা দুই বছরের শিশুটি বেঁচে নেই। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। ভূগর্ভস্থ পানি তোলার জন্য তৈরি করা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বার্নাবাস হাসদাক জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযান শুরুর পর থেকেই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা ছিল। তবে সেখানে কোনো চিকিৎসক দল ছিল না। শিশুটিকে উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা একটার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েল হাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে গভীর গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। সে কোয়েল হাট পূর্বপাড়া গ্রামের মো. রাকিবুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, তানোরের কোয়েল হাট গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এরপরও ওই গ্রামের এক ব্যক্তি তাঁর জমিতে পানির স্তর পাওয়া যায় কি না, সেটা যাচাই করার জন্য গর্তটি খনন করেছিলেন। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন; কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হয়। মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে শিশুটি সেই গর্তে পড়ে যায়।

শিশুটিকে উদ্ধারে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। একে একে যোগ দেয় আটটি ইউনিট। মূল গর্তের পাশ থেকে কেটে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য গতকাল সন্ধ্যা থেকে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে খননকাজ শুরু করা হয়। ৪৫ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাতে রাতে শিশু সাজিদের মা রুনা খাতুনকে গর্তের পাশ থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রুনা খাতুনকে নিয়ে বসে আছেন তাঁর মা শেফালী বেগম। শেফালী বেগম সাজিদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। কাঁদতে কাঁদতে রুনা খাতুন বলেন, ‘গ্রামের কছির উদ্দিন তিন জায়গায় গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খুঁড়েছিল। দুই বছর ধরে বন্ধ না করে গর্তগুলো এভাবে ফেলে রাখেন। আমি কছিরের শাস্তি চাই, তাঁর বিচার চাই।’ তিনি জানান, ঘটনার পর কছির একবার দেখতে এসেছিলেন। তারপর আর আসেননি। তিনি পালিয়ে গেছেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কছিরের দেখা হয়নি। আমরা তাঁকে পাইনি।’ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না প্রশ্ন করলে ওসি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। আমরা এটা দেখছি।’

‘ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে’ খালেদা জিয়া

0

আধুনিক ডেস্ক ::

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ–সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠান।

‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ আপডেট’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষায় তাঁর স্বাস্থ্যে বেশ কিছু জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা এবং বিআইপিএপি মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁর ফুসফুস ও অন্যান্য অর্গানকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য তাঁকে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়।’

গত ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার ‘অ্যাকিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস’ ধরা পড়ে, যেগুলোর নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের (ব্যাকটেরিয়া অ্যান্ড ফাঙ্গাল ইনফেকশন) কারণে তাঁকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

পাশাপাশি কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এখনো নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। এ ছাড়া পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও ‘ডিআইসি’র ফলস্বরূপ তাঁকে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান (ব্লাড অ্যান্ড ব্লাড প্রোডাকশন) ট্রানফিউশন দিতে হচ্ছে।

সব চিকিৎসার পরও জ্বর না কমার কারণে এবং পাশাপাশি রেগুলার ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে অরটিক ভাল্‌ভে কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হওয়ায় টিইই (ট্রান্স অয়েসোপিগাল ইকো) করা হয় এবং সেখানে ইনফেক্টিভ এন্ডোকার্ডাইটিস ধরা পরে। সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শে এ রোগের চিকিৎসা গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়।

সাবেক এই সরকারপ্রধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভারসংক্রান্ত জটিলতা, কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও ইনফেকশন–জনিত সমস্যা। এগুলোর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন।

নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে তাঁর শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি-পরবর্তী পরীক্ষা–নিরীক্ষায় তাঁর ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির অবস্থার দ্রুত অবনতি পরিলক্ষিত হওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কেবিন থেকে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিবৃতিতে তুলে ধরা হয় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণও। তাতে বলা হয়, ‘দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাঁর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।’ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে কোনো অনুমান বা ভুল তথ্য প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বানও জানানো হয় তাতে।

গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

প্রশাসনের স্বৈরাচারিতা দমনের উদ্দেশ্যে শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র জোট গঠন

0

শাবি প্রতিনিধিঃ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের একাংশ নিয়ে ‘স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান জোট’ নামে প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে জোটের আত্মপ্রকাশ করেন। এসময় জোটের আটজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন । জোটের আওতায় আরো কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সাংবাদ সম্মেলনের জোটের নেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, এটা একক নির্দিষ্ট কোন প্যানেল নয়। স্বতন্ত্র বিভিন্ন একক প্রার্থীরা একত্রিত হয়ে এটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরেও সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের জন্য সবসময় সোচ্চার ভূমিকা রাখে। কিন্তু তাদের ভয়েজ সম্মিলিত না হওয়ার কারণে তাদের আওয়াজ প্রশাসনের স্বৈরাচারী মনোভাবকে ডিঙাতে পারে না।

প্রশাসনের ও রাজনৈতিক দলের ছাত্রছায়ায় বেশিরভাগ সময় মিউচুয়াল বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ, বাণিজ্য ও দুর্নীতি শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে থাকে। এমনকি কোন একক ব্যাক্তি বা তুলনামূলক ছোট সংগঠন থেকে প্রতিবাদ করলেও তাদেরকে বিভিন্ন কায়দায় কোণঠাসা করে রাখা হয়।

স্বতন্ত্র ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান সুমাইয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ছাত্ররাজনীতিতে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। হল দখল, মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দাপট ছিল স্পষ্ট। প্রশাসনও তাদের রক্ষক হয়ে নিজস্ব দুর্নীতিকে বাড়তে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ব্যক্তি বদল হলেও প্রশাসনের আচরণ ও কাঠামোগত সমস্যায় তেমন পরিবর্তন আসেনি। এই অবস্থায় শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নে স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান জোট শিক্ষার্থীদের সৌহার্দ্য বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমরা একক প্যানেল নই তাই প্রত্যেকে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেই দায়ী থাকবে। একজনের ভুলের দায় অন্যজনের নয়। তবে শিক্ষার্থীদের কমন ও যৌক্তিক দাবিতে আমরা সবাই একত্রে কাজ করব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফয়সাল হোসেন, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান সুমাইয়া, পরিবহন সম্পাদক মো. রিয়াজ হোসেন, তথ্য ও প্রযুিক্ত সম্পাদক সৈকত হোসেন, শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মেহেদী হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য রবিউল হোসেন ও মুছা চৌধুরী।

জিইবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ

0

শাবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিভাগের মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সদস্যদের কাছে দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এছাড়া, দেশের বাইরে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন সদস্য অনলাইনে যুক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এসময় প্রধান নিবাচন কমিশনার ড. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল একটি সুসংগঠিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করা।
আজ সেই দীর্ঘদিনের ইচ্ছার বাস্তবায়ন হয়েছে। আশাকরি এই প্ল্যাটফর্ম প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করবে এবং বিভাগের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নবনির্বাচিত সভাপতি জি. এম. নূরনবী আজাদ জুয়েল বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আমার জন্য গর্বের। আমরা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাব। তিনি আরও বলেন, সেমিনার, কর্মশালা ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে অ্যাসোসিয়েশনকে সক্রিয় এবং কার্যকর করতে চাই।

এর আগে ২৯ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই দিনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এসময় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন জি. এম. নূরনবী আজাদ জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহমুদুল হাসান।
এছাড়া কমিটিতে অন্যান্য পদে নির্বাচিত সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি ড. মো. নাজমুল হাসান ও মো. ইলিয়াস হুসাইন ভূইয়া , কোষাধ্যক্ষ মো.হযরত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আল ফারুক ও মো. আশিকুর রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবিদুর রহমান আনাম ও মুশফিক আহমেদ জিদান, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন মো: সরোয়ার আলম পারভেজ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসরাত জাহান দৃষ্টি ও তাহমিদা আক্তার, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইউশা আরাফ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইউরোপ অঞ্চলে মো. ফখরুল ইসলাম ফারুক এবং আমেরিকা ও কানাডা অঞ্চলে মো: ফাহমিদ হোসেন ভূঞাঁ, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন সাহরিয়ার আদিল, সংস্কৃতি সম্পাদক জেড. এম. তৌহিদুল ইসলাম শিজান, ক্রীড়া সম্পাদক এ. কে. এম. শাহিনুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক তৌফিক আলম এবং নিবাহী সদস্য হিসেবে আফরোজা পারভীন, মাকসুম রাব্বি, মুহাম্মদ ইনজামুল হক।

তফসিল ঘোষণা, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে একই দিন। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারেরাও পোস্টাল ব্যলটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলো ইসি।

শুরুতে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিএনপিসহ কিছু দল। গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দুজন একমত হন।

এরপর থেকে সরকার বারবার বলে আসছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। ইসিও সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ দুটি ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন সিইসি।

ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই কেবল দলীয় প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫৬টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকা দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। নিবন্ধিত অন্য দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর বাইরে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আগামী নির্বাচনই হবে এই কমিশনের অধীনে প্রথম কোনো নির্বাচন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হচ্ছে। দুটি ভোটের সময় ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি।

সময় ব্যবস্থাপনার জন্য এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট গতি বৃদ্ধিসহ ৭ দাবিতে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0

শাবি প্রতিনিধি:

ক্যাম্পাসের ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধিসহ ৭ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বরাবর দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জামাদুস সানি, গণিত বিভাগের মো. আল শাহারিয়া শিশির, পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের মো. মাসুদ রানা শাহারিয়ার প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের ৭ দাবির মধ্যে রয়েছে।

এক. ২০২২-২৩ র্শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া ওবিই কারিকুলামের যথাযথ প্রয়োগ ও শিক্ষকদের ওবিই কারিকুলামের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে অন্যথায় এই কারিকুলাম বাতিল করতে হবে।

দুই. কোর্স ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেমে অযৌক্তিক শর্ত বাতিল করতে হবে ।

তিন. ছাত্র এবং ছাত্রী হল চত্বরে দুটি গ্রোসারি শপ স্থাপন করতে হবে, যেখানে মোবাইল ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ঔষধ সহ সব রকম নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যাবে।

চার. ক্যাম্পাসে বিলাসবহুল ফুড কর্নারের সংখ্যা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সহলভ্য এমন খাবারের দোকান স্থাপন করা যেখান থেকে সকাল দুপুর এবং রাতের খাবার পাওয়া যাবে ।

পাঁচ. বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিজেদের বই নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ছয়. বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ইন্টারনেট সংযোগগুলোর গতি বৃদ্ধি করতে হবে।

সাত. বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জিমনেশিয়াম আধুনিকরণ করতে হবে।

শাবিতে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

0

শাবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘হিউমান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি’ কর্তৃক দিবসটি পালত করা হয়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা বের করেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই সামনে আসে গত ১৬ বছরে আমাদের দেশের মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিষয়গুলো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত হোক।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট শাখার কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাসনাত, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান স্পৃহা প্রমুখ।

নির্বাচনের তফশিল বৃহস্পতিবার

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে তফসিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারে তফসিল ঘোষণার ভাষণ রেকর্ড করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ভাষণ রেকর্ডের পর সব কমিশনার সিইসির রুমে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। দুই নির্বাচনের জন্য পৃথক রঙের দুটি ব্যালট দেওয়া হবে ভোটারদের। একই দিনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এবার ইসিকে বাড়তি অনেক ধরনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।