শনিবার, মে ২৫, ২০২৪
Google search engine
Home Blog

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার জাকির হোসেন খান

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান।
সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান সদ্য বদলি হওয়া সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মো. ইলিয়াছ শরীফকে পিবিআইয়ের ডিআইজি করা হয়েছে।
এরআগে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফকে প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের মাধ্যমে সিলেটসহ দুই পুলিশের কমিশনার এবং পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) অন্যত্র বদলির জন্য ইসিতে এই প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। আর হবিগঞ্জে নতুন এসপি হিসেবে যাচ্ছেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আক্তার হোসেন।
গত রোববার সকালে ইসির উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়। পরে সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

অপরাধ ঠেকাতে একাট্টা তেররতন এলাকাবাসি, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

আধুনিক ডেস্ক:

দীর্ঘদিন থেকে সিলেট নগরের শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন তেররতন এলাকায় মাদক, জুয়াসহ নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার এলাকাবাসি একাট্টা হয়েছেন। এলাকার যুব সমাজসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য এবার তারা দারস্থ হয়েছেন পুলিশের।

এলাকা রক্ষার্থে সোমবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‍্যাব-৯, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও শাহপরাণ (রহ.) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তারা তেররতন এলাকাকে রক্ষা করার পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ঠেকাতে পুলিশের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- আক্তার হোসেন, জালাল আহমদ সাহেদ, ফটিক মিয়া, সৈয়দ রহিম আলী রাসু, এনাম আহমদ, সবুজ আলী, দেলোয়ার হোসেন দিনার, রুহেল, মুন্না আহমদ, আব্দুস সাদিক তারেক, আবুল কাশেম, মান্না আহমদ, মাহফুজ আহমদ, মুক্তা আহমদ, মারুফ আহমদসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

১১ বছর পর এভারেস্টের চূড়ায় আবার বাংলাদেশের পতাকা

আধুনিক রিপোর্ট ::
১১ বছর পর আবারও এভারেস্ট চূড়ায় ওড়লো বাংলাদেশের পতাকা। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন চট্টগ্রামের বাবর আলী। রোববার ১৯ মে নেপালের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় তিনি চূড়ায় পৌঁছান। বাবরের সংগঠন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের পক্ষ থেকে রোববার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। বাবর আলীর এভারেস্ট জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান আধুনিক কাগজকে জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্প-৪ এ নেমে বিশ্রামে যান বাবর আলী।
এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গত ১ এপ্রিল বাবর আলী বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে ৪ এপ্রিল কাঠমান্ডু থেকে উড়ে যান লুকলা বিমানবন্দরে। এরপর পথচলা শুরু করেন এভারেস্ট বেজক্যাম্পের উদ্দেশে। ১০ এপ্রিল সেখানে পৌঁছান। এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ জন্য একাধিকবার উচ্চতায় ওঠানামা করতে হয়েছে বাবরকে। ২৬ এপ্রিল বেজক্যাম্প থেকে এভারেস্টের ক্যাম্প ২ পর্যন্ত ঘুরে এসে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্ব সমাপ্ত করেন। এরপর অনুকূল আবহাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় বাবরকে। ১৪ মে মাঝরাতে বেজক্যাম্প থেকে বাবরের যাত্রা শুরু হয় চূড়া অভিমুখে। প্রথম দিনেই সরাসরি উঠে যান ক্যাম্প ২-এ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে দুই রাত কাটিয়ে বাবর ১৮ মে উঠে যান ক্যাম্প ৩ এবং ১৯ মে পৌঁছান ক্যাম্প ৪-এ। ২৬ হাজার ফুট উচ্চতার এই ক্যাম্পের ওপরের অংশকে বলা হয় ‘ডেথ জোন।১৮ মে মাঝরাতে আবারও শুরু হয় বাবরের যাত্রা। ১৯ মে ভোরের প্রথম আলোয় ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে ওড়ান বাংলাদেশের পতাকা।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় ১শ বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে। তবে সফলতা আসে৭১ বছর আগে। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি। আর প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের শীর্ষে ওঠেন মুসা ইব্রাহীম। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে দুবার এভারস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই মাসের ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন জয় করেন এভারেস্ট।
বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের গল্পে আছে করুণ কাহিনীও। ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্টজয়ী পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদ এভারেস্টচূড়া থেকে নেমে আসার সময় মারা যান।এরপর আর ১১ বছর ধরে কোনো বাংলাদেশির পা পড়েনি এভারেস্টের চূড়ায়।১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন ৩৩ বছর বয়সী বাবর আলী।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় বাবর আলী পেশায় চিকিৎসক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসা পেশা শুরু করলেও থিতু হননি। ডাক্তারি ছেড়ে দেশ-বিদেশ ঘোরা শুরু করেন। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে সাইকেলযাত্রা শুরু করেছিলেন বাবর আলী। এক মাসের চেষ্টায় প্রায় চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী গিয়ে থেমেছিলেন তিনি। পথে যেতে যেতে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। এর আগে ২০১৯ সালে পরিবেশ রক্ষার ব্রত নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা হেঁটে পার করেন তিনি। এসব অভিযান নিয়ে লিখেছেন বই।
বাবর আলীর সাফল্যে অভিভূত তার টিমের সদস্যরাও। অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে জানান, বেসক্যাম্পে ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।
বাবর আলীর সাফল্যে অভিভূত তার টিমের সদস্যরাও। অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে জানান, বেসক্যাম্পে ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।
এভারেস্ট জয় করেই থামছেন না বাবর আলী। এর সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও জয় করতে চান তিনি। ক্যাম্প ৪–এ নামার পরই শুরু হবে দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা।

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট পুলিশ গড়ে তোলা হচ্ছে : আইজিপি

আধুনিক রিপোর্ট

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট পুলিশ দরকার। সেই স্মার্ট পুলিশ গড়ে তোলার জন্য যে আধুনিকায়ন দরকার, সেটি আমরা গড়ে তুলেছি। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বৃদ্ধি করেছি। যুগপযোগী প্রশিক্ষণ এবং আধুনিকায়ন করছি। রোববার ১৯ মে দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এখন প্রায় নির্মূল করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আরও বলেন, সারা দেশে জঙ্গিরা এক সঙ্গে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জানান দিয়েছিল তাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে। তাদের সেই দৃষ্টতাকে কিন্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বলি না যে আমরা পুরোপুরি নির্মূল করেছি। যেকোনো অপরাধ নির্মূল করা হয়তো সম্ভব না, তবে আমরা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে যথাযথভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমাদের সকল সদস্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি। বাংলাদেশ পুলিশের সামনে যে কোনো চ্যালেঞ্জ আসলে সে চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরে পুলিশ গর্বিত জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের সময় সাধারণ মানুষ, এদেশের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ যার যার গন্তব্যে যাচ্ছেন। আমাদের পুলিশ সদস্যরা এই নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাফিক ডিউটি এবং আইনশৃঙ্খলার ডিউটি করছে। আমাদের আত্মীয়স্বজন টিভিতে দেখছে হাজার হাজার মানুষ যার যার গন্তব্যে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা ভাবে আমাদের বাবারাও মনে হয় আসবে, আমাদের পরিবার ভাবে আমরাও যাবো। কিন্তু তারা দিন শেষে দেখে সবাই এসেছে কিন্তু আমাদের লোকজন আসেনি।

কিরগিজস্তানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: অনিশ্চয়তায় ৮শ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট ::

কিরগিজস্তানে মিসরের কয়েকজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সংঘর্ষের জেরে বিদেশিদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। এতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বাংলাদেশের অন্তত ৮০০ মেডিকেল শিক্ষার্থীর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সে দেশের সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।


রোববার দুপুরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।তিনি জানান, কোনো বাংলাদেশি ছাত্র খুব জখম হয়েছে এমন খবর নেই। রাষ্ট্রদূতকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ১৩ মে বিশকেক শহরে স্থানীয় দু–তিনজন বাসিন্দার সঙ্গে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মিসরীয় কয়েকজনের সংঘর্ষ হয়। এরপর ১৬ মে রাত থেকে বিশকেক শহরে থাকা বিদেশিদের ওপর হামলা শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। সেখানে থাকা বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শহরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদেশিদের মারধর ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি মেডিকেল কলেজগুলোর হোস্টেলে তাঁরা ঢুকে পড়েছেন। দেশটিতে পড়তে যাওয়া নারীদের ওপরও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শহরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর ১৪০ শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান।

অ্যাসাইলাম আবেদন খারিজ : ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

আধুনিক রিপোর্ট

অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি করেছে যুক্তরাজ্য। চুক্তির আওতায় যাঁদের আশ্রয়ের অর্থাৎ অ্যাসাইলাম আবেদন খারিজ হয়েছে, যাঁরা বিদেশি অপরাধী ও যাঁদের ভিসার বৈধ মেয়াদ অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাঁদের ‘ফাস্ট-ট্রাক’(দ্রুত) পদ্ধতিতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। সে হিসেবে ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি হয়। অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার জন্য শক্ত প্রমাণ রয়েছে—এমন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে চুক্তিটি।

প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র গত বছর ভ্রমণ কিংবা কাজের ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তারা বসবাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। দেশটিতে প্রাথমিক আশ্রয়ের জন্য তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর হয়। বাকি ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আবেদন খারিজ হওয়া এসব আশ্রয়প্রার্থীদের এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় এই বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বলেছেন, অবৈধভাবে লোকজনের এখানে আসা ও থাকা ঠেকাতে তাঁদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণ ত্বরান্বিত করা। যুক্তরাজ্যের একটি মূল্যবান অংশীদার বাংলাদেশ। এটা একটা চমৎকার ব্যাপার যে এই বিষয়সহ অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁরা সম্পর্ক জোরদার করছেন।

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রবিষয়ক যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ প্রথম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে চুক্তির ব্যাপারে দুই দেশ সম্মত হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয় দেশ অংশীদারত্ব জোরদারে অঙ্গীকার করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরালো করতে প্রতিশ্রুতি দেয়।

ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান ভিসা রুটগুলোর মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনের সুবিধা অব্যাহত রাখা, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, তথ্য ভাগাভাগি জোরদার করা, গুরুতর সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় নিজ নিজ পন্থা সম্পর্কে পরস্পরের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ানোর ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

ভিসা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য দেশের মানুষকে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর কেউ আশ্রয়ের আবেদন করলে সেখানে তার অবস্থান অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি।

ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় প্রার্থীর শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান, এরপরের অবস্থানে আছে বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও আফগানিস্তান। গত বছর যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন দেশের ২৬ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মিরাবাজার বিরতি পাম্পে আবারও আ গু ন

আধুনিক ডেস্ক:

সিলেট নগরীর মিরাবাজার দাদাপীর মাজার সংলগ্ন বিরতি ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকান্ডে ঘটনার সাড়ে ৮ মাসের মাথায় একই পাম্পে ফের দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার ১২ টার দিকে ফিলিং স্টেশনটিতে ফের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে কিনা তা এখন জানা যায় নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার দিকে বিরতি ফিলিং স্টেশনে বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কয়েক মুহুর্তের মধ্যে আগুন পাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে  সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃষ্টিতে লাউয়াছড়ায় প্রাণচাঞ্চল্যে বন্যপ্রাণি

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:

বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজি সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। সম্প্রতি প্রচণ্ড গরমে জনজীবনের পাশাপাশি ওষ্ঠাগত হয়ে উঠে লাউয়াছড়া বনের প্রাণীকূলও। বন উজাড়, বৃক্ষ নিধনসহ নানা কারনে শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণির খাবার পানি সঙ্কটও দেখা দেয়। সম্প্রতি কয়েকদফা বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণির মধ্যে। জাতীয় উদ্যানে বানর, উল্লুক ও শূকরের সংখ্যাও বৃদ্ধির দাবি সংশ্লিষ্টদের। করোনার সময়ে বনের নিরব, নিস্তব্ধ পরিবেশ বৃক্ষকূল ও বন্যপ্রাণীর মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সনের মার্চ মাসের শেষ সময় থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল লাউয়াছড়া উদ্যান। সে সময়ে সংরক্ষিত বনে মানুষের উৎপাত, হাল্লা-চিৎকার বন্ধ ছিল। এক বছরের ব্যবধানেই বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। পর্যটক শুন্য নি:স্তব্দ বনে হাল্লা-চিৎকার ও অবাদে বিচরণ করে বন্যপ্রাণী। গাছে গাছে পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর বৃক্ষরাজিতে নতুন পত্রপল্লবে সুশোভিত হয়ে উঠে বন। উল্লুকের আওয়াজ, বানরের লাফালাফি, পাখির কলরব, বনমোরগের ডাক শুনা যেতো। করোনাকালীন পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় প্রাণ ফিরে প্রকৃতিতে। বন্যপ্রাণির মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য প্রকৃতি ও পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে তুলে।

স্থানীয়রা জানান, বিরল প্রজাতির গাছ, নানা প্রজাতির পাখির ডাক, ছড়া, বনফুল, অর্কিড, চশমাবানর, বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় দূর্লভ উল্লুক এই বনের বিশেষ আকর্ষন। অরণ্যের আচ্ছাদিত, বন্যপ্রাণী, পাখি ও পাহাড়ী ঝর্ণার কলধ্বনিতে মুখরিত লাউয়াছড়া। ক্রমাম্বয়ে বনের প্রাকৃতিক গাছগাছালি বিলীন হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ছড়া ও খাল শুকিয়ে যায়। তৃষ্ণা মেটাতে লোকালয়ে ছুটাছুটি করতে গিয়ে ট্রেন ও যানবাহনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায় বন্যপ্রাণি। তবে অনুকূল পরিবেশে ও করোনাকালীন বনের স্বাভাবিকতা বর্তমানে লাউয়াছড়া বনে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের প্রজননও কিছুটা বেড়েছে। তাছাড়া বানর ও শূকরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বনের ঘন বনজঙ্গল হ্রাস পাওয়ায় বস্তির বাসাবাড়িতে বানর ও শূকরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

১২৫০ হেক্টর আয়তনের বনটিকে ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করা হয়। সে সময়ের সার্ভে অনুযায়ী ৪৬০ প্রজাতির প্রাণ বৈচিত্র্যে ভরপুর উদ্যানটিতে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে সেগুন, গর্জন, মেনজিয়াম, চাপালিশ, ডুমুর, কদম, জলপাই, চাউর বা বন সুপারি, বনোকলা, শ্যাওড়া, কৃষ্ণচুড়া, গামাই, ছাতিম, বন পেঁপে, মৃর্তিংঙ্গা, কাঁকরা, বাতা, বাজনা, বন রুই, ঝাওয়া, জগডুমুর, কাইমুলা, করই, আওয়াল, জাম, জাম্বুরা লটকন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ৪ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড, ২০ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারনে বৃক্ষরাজি গুলোতে পত্রপল্লবে সুশোভিত হয়ে উঠে। পাখির কলরব, বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের অবাধ বিচরন প্রকৃতিতে সজিবতা জাগিয়ে দেয়।

অনুকূল পরিবেশে পশু-পাখি ও পোকা মাকড়ের অদ্ভুত ঝিঝি শব্দ, বানরের ভেংচি, ভালুকের গাছে গাছে ছুটাছুটির দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘন সন্নিবেসিত বনটি নানা কারণে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাবারের সংকট প্রবল হচ্ছে। ফলে লাউয়াছড়ায় আগ্রাসী হয়ে উঠছে বানরসহ অন্যান্য প্রাণী।
স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমী জনক দেব বর্মা জানান, বনের নিরব, নিস্তব্দ খোলামেলা পরিবেশে গাছে গাছে বন্যপ্রাণী ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। আগে সচরাচর এভাবে দেখা যায়নি।

লাউয়াছড়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাতের কারনে বনের সজিবতা ফিরে পেয়েছে। তাছাড়া এখন বানর, শূকরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের দিকে নানা সময়ে বন্যপ্রাণী বনের বাইরে চলে যেতো। এখন সেরকম হচ্ছে না।

এব্যাপারে মৌলভীবাজারস্থ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার বলেন, উল্লুকের প্রজনন বাড়ার কথা। তাছাড়া ধারণা করা হচ্ছে বানর ও শূকরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় সম্প্রতি প্রচণ্ড গরমে সারাদেশের তাপমাত্রার সাথে লাউয়াছড়াসহ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এলাকার তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল। এটি বন্যপ্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ। তিনি আরো বলেন, লাউয়াছড়ায় মিশ্র ও ফলজ বনায়ন বন্যপ্রাণীর জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে।

এটিএন বাংলা ইউকে’র সিলেট প্রতিনিধি হলেন সুজন

আধুনিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের বহুল সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা ইউকে’র সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দৈনিক আধুনিক কাগজের অনলাইন সম্পাদক ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস এম সুজন।

গত ৮ মে এটিএন বাংলা ইউকে’র হেড অব নিউজ সাঈম চৌধুরী সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে এস এম সুজনকে নিয়োগ প্রদান করেন।

এস এম সুজন বর্তমানে দৈনিক আধুনিক কাগজের অনলাইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে এস এম সুজনের সাংবাদিকতার শুরু। পরবর্তীতে স্থানীয় দৈনিক শুভ প্রতিদিন, একাত্তরের কথা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেট ভিউ২৪, রিয়েল টাইমস,২৪, জাতীয় দৈনিক সকালের খবর, মানবজমিন. টিভি চ্যানেল আরটিভিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
এস এম সুজন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে টানা দুবার কার্যনির্বাহী সদস্য ও দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংবাদ প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে এস এম সুজনের এর মোবাইল নং ০১৭১৬৪৬৬৮০৮যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এটিএন বাংলা ইউকে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন সাংবাদিক সুজন।

স্কুল শিক্ষকের বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট, উত্তাল বিশ্বনাথ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামসুন্দর সরকারি হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক একে আজাদ ফেসবুক গ্রুপে বিশ্ব নবী হযরত মুহম্মদ (স.) ও ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্নানাথ।

শনিবার সন্ধায় পৌর শহরে হাজারো জনতা প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা। পাশাপাশি শিক্ষক একে আজাদকে রোববার সকাল ১১টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচী দিবেন বলেও হুশিয়ারি দেন তারা। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসিয়া সেতুতে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় দুইটি দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদ মোবারক হোসেনসহ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দাবিগুলো হলো- ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিক্ষক আজাদকে গ্রেপ্তার করে সুষ্ট বিচার ও রামসুন্দর স্কুল ও সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে ‘দর্শনের স্কুল’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে নবী হযরত মুহম্মদ (স.) ও ধর্মকে নিয়ে শিক্ষক একে আজাদের লেখার স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং মুসলমানদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

রোববার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসেও ক্ষমা চান ওই শিক্ষক। তবে, ওই শিক্ষক বিকেলেই পৌর শহরের নিজ বাসা থেকে পালিয়ে যান বলেও একটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।

লন্ডনের মেয়র হিসেবে সাদিক খানের হ্যাট্রিক

ডেস্ক রিপোর্ট ::

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেয়র হিসেবে আবারো নির্বাচিত হয়েছেন সাদিক খান। এর মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি। বৃটিশ গণমাধ্যমগুলো তার এ বিজয়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছে । শতকরা ৪৩.৭ ভাগ ভোট পেয়েছেন সাদিক খান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজার্ভেটিভ পার্টির সুসান হল পেয়েছেন শতকরা ৩২.৬ ভাগ ভোট। স্থানীয় এই নির্বাচনে শতকরা ৪০.৫ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন।  লেবার পার্টির সাদিক খান পেয়েছেন মোট ১০ লাখ ৯৯ হাজার ২২৫ ভোট। সুসান হল পেয়েছেন ৮ লাখ ১১ হাজার ৫১৮ ভোট। এর ফলে লন্ডনের ইতিহাসে টানা তৃতীয় মেয়র হিসেবে তিনিই প্রথম দায়িত্ব পালন করবেন। লন্ডনের মেয়র হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন থেকেই পদটি ধরে রেখেছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক।

সাদিক খানের জন্ম লন্ডনেই, ১৯৭০ সালের ৮ অক্টোবর। এর দুই বছর আগে ১৯৬৮ সালে তাঁর মা-বাবা পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যের অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। বাবা আমানউল্লাহ ছিলেন বাসচালক। মা শেহরুন করতেন দরজির কাজ। সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাদিক পঞ্চম।

সাদিক খানের পড়ালেখা ইউনিভার্সিটি অব নর্থ লন্ডন থেকে। বিষয় ছিল আইন। পড়াশোনা শেষে মানবাধিকার-বিষয়ক আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কম বয়সেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন লেবার পার্টির রাজনীতিতে।

১৯৯৪ সালে লেবার পার্টির হয়ে লন্ডনের ওয়ান্ডসওর্থ বারার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন সাদিক খান। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৪ বছর। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনে দক্ষিণ লন্ডনের টুটিং আসন থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে গর্ডন ব্রাউন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন স্থানীয় সরকারের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সাদিক খান। ২০১০ সালে লেবার পার্টি বিরোধী দলে গেলে তিনি ছায়া মন্ত্রিসভায় বিচার-বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী, লর্ড চ্যান্সেলর (ছায়া অর্থমন্ত্রী) ও লন্ডন-বিষয়ক ছায়া মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালে লন্ডনের মেয়র পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেন সাদিক খান। সে বছরের ৯ মে কনজারভেটিভ পার্টির জেক গোল্ডস্মিথকে হারিয়ে প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ সালে কনজারভেটিভ পার্টির সোন বেইলিকে পরাজিত করে মেয়র পদ ধরে রাখেন সাদিক।

এবার তৃতীয় দফায় সাদিক খানের জয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ লন্ডনের মেয়র নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, সাদিক খান পেয়েছেন ১০ লাখ ৮৮ হাজার ২২৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সোসান হলের দখলে ৮ লাখ ১১ হাজার ৫১৮ ভোট। অর্থাৎ, দুজনের ব্যবধান প্রায় ৩ লাখ ভোট।

এবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে ১৪টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে নয়টিতেই জিতেছেন সাদিক খান। এর মধ্যে কনজারভেটিভদের দুটি এলাকায় জিতেছেন তিনি। এবার নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ২৪ লাখ, যা মোট ভোটারের ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। ভোট পড়ার হার গতবারের চেয়ে কিছুটা কম।

ব্যক্তিগত জীবনে সাদিক খানের দুই সন্তান রয়েছে। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে তাঁর। সাদিক খানের পছন্দের খেলা ফুটবল, ক্রিকেট ও বক্সিং। ২০১৪ সালে লন্ডন ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে জনপ্রিয় সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নেন সাদিক খান।