Home Blog

‘মুজিবুল হক চুন্নুই জাতীয় পার্টির বৈধ মহাসচিব’

0

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত প্রত্যখ্যান করেছেন দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তাদের অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছি, আমাদের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বহাল রয়েছেন। ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একদিন আগে ৭ জুলাই তাকে এবং পার্টির মহাসচিবসহ তিন শীর্ষনেতাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যে প্রেসিডিয়ামের সভার রেফারেন্স দিয়েছেন জিএম কাদের সেই বৈঠককেও অস্বীকার করেছেন তিনি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রথমত ওই প্রেসিডিয়ামের সভায় কোরাম হয়নি। আর গঠনতন্ত্রের ২০/৩(খ) ধারায় বলা হয়েছে মহাসচিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রেসিডিয়ামের মিটিং আহ্বান করবেন। আলোচ্য সূচি নির্ধারণ করবেন মহাসচিব। পার্টির চেয়ারম্যান মিটিং ডাকার এখতিয়ার রাখেন না। সম্মেলন ঘোষণার পর পার্টির কোনো পদে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারবেন না।

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে আমরা গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছি। আমরা পার্টির বিরুদ্ধে কি কাজ করেছি। আমরা বিবৃতি দিয়ে বলেছি ২০ (ক) ধারা বাতিল করতে বলেছি, হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলেছি। আমাদের এসব কাজ কোনভাবেই দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর কাছ থেকে জোর করে দলের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জি এম কাদের নেন বলে অভিযোগ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘জি এম কাদেরের প্রতিটি বিষয়ে স্বৈরাচারী মনোভাব।’

দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তারা জাতীয় পার্টিকে ভাঙতে দেবেন না এবং তারা দল ছাড়বেন না। সোমবার ৭ জুলাই জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন দলের চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টির দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ মাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছিলো। মুজিবুল হক চুন্নুর স্থলে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করার কথা জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, গত ২৮শে জুন দলের প্রেসিডিয়াম সভায়ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই তিনজন নেতাকে দলীয় সকল পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমন অবস্থায় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

ওত পেতে আছে ‘স্প্রে পার্টি’, অটোরিকশায় সাবধান

0

এম কে তুহিন
মিষ্টি একটি সুবাস। তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন একটু চেতনা ফেরে তখন দেখেন সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, দামি জিনিসপত্র গায়েব। সিলেটে প্রায় প্রতিদিনই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশাযাত্রীদের অনেকেই। ‘স্প্রে পার্টি’ খপ্পরে পড়ে দামি জিনিসপত্র খোয়ালেও প্রতিকার মিলছে না। এমন ঘটনা ঘটছেই।
সিলেট নগরীতে গণপরিবহন বলতে কিছু নেই। পথ চলতে অনেক ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশাই ভরসা নগরবাসীর। এটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে সিএনজি অটোরিকশা চালকের একটি চক্র। দিনে কিংবা রাতে টার্গেট করা ব্যক্তিকে অটোরিকশায় তুলে নেন। যাত্রী হিসেবে থাকেন ওই চক্রেরই আরো দুই সদস্য। তারা কৌশলে ‘টার্গেট’কে বসিয়ে দেন অটোরিকশার পেছনের সিটের মাঝখানে। দুই পাশে বসেন চক্রের সেই দুই সদস্য। কিছুদুর যাওয়ার পর কখনও ‘স্প্রে’ ব্যবহার করে আবার কখনও তেল বা সুগন্ধিজাতীয় চেতনানাশক ব্যবহার ঘোরের মধ্যে ফেলেন ওই যাত্রীকে। কিছুসময় ‘বেখবর’ হয়ে যান টার্গেট করা যাত্রীটি। এই সময়ের মধ্যেই তার সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পড়েন চক্রের এক সদস্য। কিন্তু কিছুই টের পান না ভুক্তভোগী। আরও কিছু দূর গিয়ে কোনো এক অজুহাতে যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতই সরে পড়েন অটোরিকশা চালক। তখনও ওই যাত্রীর ঘোর পুরোপুরি কাটেনি। ধীরে ধীরে যখন স্বাভাবিক হতে থাকেন, মনে পড়ে মোবাইল ফোনের কথা। পকেটে বা হ্যান্ডব্যাগে হাত দিয়ে দেখেন মোবাইল ফোন নেই, টাকা-পয়সা , জিনিসপত্রও গায়েব। তখন আর কিছুই করার থাকে না। সিএনজি অটোরিকশা তো কখনই হাওয়া হয়ে গেছে।
এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে নগরীর বন্দরবাজার-হুমায়ুন রশীদ চত্বর, পুলেরমুখ- টুকেরবাজার, আম্বরখানা- হুমায়ুন রশীদ চত্বর, আম্বরখানা-বন্দরবাজার, আম্বরখানা-টিলাগড়, আম্বরখানা-টুকেরবাজার, টিলাগড়- মেজরটিলাসহ সিএনজি অটোরিকশার বিভিন্ন রুটে। কোন কোন ক্ষেত্রে নীরবে সহ্য করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেও প্রতিকার পান না। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে তারা কোনো অভিযোগ পায় না। কার কাছে বিচার দেবেন ভুক্তভোগীরা? মনের দুঃখ তাই তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দৈনিক আধুনিক কাগজের কাছে এরকমই এক অভিজ্ঞতার গল্প বললেন ভুক্তভোগী আমজাদ হাসান ফাহিম। তিনিও খপ্পরে পড়েছিলেন ‘স্প্রে পার্টি’র। সে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি এভাবে,

আমি রাত ৮ ঘটিকার সময় বন্দর বাজার থেকে সোবহানীঘাট যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে উঠি। ড্রাইভারের পাশে একজন এবং গাড়ির পিছনের সিটে আরো দুই জন যাত্রী ছিলেন। ধোপাদিঘীর পার যাওয়ার পর গাড়ির ড্রাইভার বলল গাড়ির চাকায় কি একটা সমস্য হচ্ছে গাড়ি থেকে নামার জন্য। আমি নামলাম। আমার সাথে আমার ল্যাপটপ ছিল সাথে আরো দুটি ব্যাগ। ড্রাইভার বলল ব্যাগগুলো পিছনে রেখে গাড়িতে ধাক্ষা দেওয়ার জন্য। গাড়িতে ধাক্ষা দিয়ে যখন গাড়িতে উঠছিলাম তখন আমার পাশেরজন বলল, ভাই আপনি মাঝখানে চলে যান, আমার মাঝখানে বসতে সমস্যা হচ্ছে। আমার বমির ভাব হচ্ছে। পরে গাড়িটি ছাড়ার পর সোবহানীঘাট পয়েন্ট পার হওয়ার সাথে সাথে আমার পাশে থাকা ব্যক্তি বলল, গাড়ি থেকে পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে বলেই একটা ‘প্রে’ বের করে মারতে থাকে। সাথে সাথে মনে হচ্ছিল আমার জানি কি হয়ে যাচ্ছে। আমি ড্রাইভারকে বললাম গাড়িটি থামানোর জন্যে কিন্তু ড্রাইভার গাড়িটি থামাচ্ছিলেন না। পরে আমি লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সামনে বসা ব্যক্তি আমি যাতে না নামতে পারি তার জন্যে হাত দিয়ে আমাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। আমি জোড় করে নামার সময় আমার পাশে থাকা ব্যাক্তি আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা চলে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী আদৃতা পিংকি বলেন, আমি বাসা থেকে বের হয়ে বন্দর যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠি। সিএনজিতে একজন বোরকা পড়া আন্টি ছিলেন। আম্বরখানা ক্রস করার পর হঠাৎ আন্টি উনার হিজাবটা খুলে মাথায় তেল দেওয়া শুরু করলেন। উনার তেল দেওয়া দেখে আমি অবাক হই। কারণ উনি যেহেতু পর্দা করেন তো পর্দা খুলে কেন মাথায় তেল দিতে যাবেন। তেলের সুগন্ধিটা এত কড়া যা আমার নাকে আসার সাথে সাথে আমার ঘুম চলে আসছে। তখন আমার হঠাৎ মনে হল আমি যদি ঘুমিয়ে যাই আমার ফোনটা পড়ে যায়। আমার শরীর খারাপ করায় আমি ড্রাইভারকে বলি আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু। আমার একটাই খারাপ লাগতেছিল যে আমি জুরে বলতেও পারতেছিলাম না আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য। ড্রাইভার কোন ‘রেসপন্স’ করতেছিলেন না। চৌহাট্টা যাওয়ার পর আমি জ্যামে আটকা পড়া অবস্থায় নেমে যাই। ড্রাইভার হঠাৎ করে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি কেন বন্দর বলে চৌহাট্টা নেমে যাচ্ছি। আমি টাকা দিছি উনি নেয়নি। পওর াইম পানি ক্রয় করে মাথায় ও মুখের মধ্যে দেই। দিয়ে বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পরও আমার মাথা ভার ছিলো। শরীরটা অনেক খারাপ ছিলো।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাস থেকে শহরে ‘স্প্রে পার্টি’ নামে একটি চক্র সিএনজি অটোরিকশাকে ব্যবহার করে যাত্রীদের সাথে থাকা টাকাপয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এটা আগে এই শহরে ছিলোনা। আমরা এ বিষয়ে সজাগ ইছ। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার তা করব।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, এ বিষয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় মিটিং করেছি। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি অপরিচিত কাউকে এই রুটে পেলে তার নেতার সাথে কথা বলে তার পরিচয় শনাক্ত করে তাকে ছেঢ়ে দেওয়া। আবার আমার শ্রমিক যদি কেউ জড়িত হয় একাজে আমরা তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সকলকে সহযোগীতা করব।
সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরাও দেখেছিলাম এবং এরকম ‘প্রে’ প্রয়োগ করার সংবাদগুলে সিলেটের সাধারণ মানুষ ফেসবুক ভাইরাল কার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে আমরা আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। যাতে এ ধরনের কার্যক্রম যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। যদি কোন যাত্রী সিএনজিতে উঠার পর যাত্রী বা কারো আচরণ সন্দেহজন মনে হয় অবশ্যই আমদের ট্রাফিকপুলিশ সদস্যদের নহায়তা যেন গ্রহণ করেন। আমরা অনেককেই বলেছি আপনার কোন সমস্যায় থানায় যান, পুলিশের কাছে যান, অথিযোগ করুন, সময়টা ও স্থানটা আমাদের কাছে বলুন। হেহেতু আমরা আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে সিলেট নগরে সানুষের গতিবিধি বা গাড়ির নাম্বারটা সনাক্ত করতে পারি। যদি আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। আমরা জানিনা আসলে এই চক্রে কতজন আছে। প্রকৃতঅর্থে তাদেরকে আইনের আওয়ায় এনে কারা আছে এটা শনাক্ত করতে পারব। এখন পর্যন্ত আমরা কোন অভিযোন পাইনি। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার জাকির হোসেন খান

0

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান।
সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান সদ্য বদলি হওয়া সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মো. ইলিয়াছ শরীফকে পিবিআইয়ের ডিআইজি করা হয়েছে।
এরআগে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফকে প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের মাধ্যমে সিলেটসহ দুই পুলিশের কমিশনার এবং পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) অন্যত্র বদলির জন্য ইসিতে এই প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। আর হবিগঞ্জে নতুন এসপি হিসেবে যাচ্ছেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আক্তার হোসেন।
গত রোববার সকালে ইসির উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়। পরে সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি, বিরোধী দলের প্রত্যাখ্যান, ওয়াকআউট

0

আধুনিক ডেস্ক ::

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। সোমবার রাতে সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। এতে পাঁচজনের নাম দিতে বিরোধী দলকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছে। চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হলেও তাঁরা কোনো সদস্যের নাম দেননি। তাই আপাতত পাঁচটি পদ শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পরে বিরোধী দল নাম দিলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

বিশেষ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএনপির সংসদ চিফ হুইপ সদস্য নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ। চিফ হুইপ এই প্রস্তাবটি করার পর বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়টা সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই চলে আসছে। প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে দিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

চিফ হুইপ একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা কখনোই বলেননি এ কমিটিতে নাম দেবেন। তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয় তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের অভিপ্রায় ও মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত নয়। এ জন্য তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করবো না এটাই নয়; বরঞ্চ এই পর্বটা আমরা যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না তার প্রতিবাদে ওয়াক আউট করছি। এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ সময় বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানান। তবে তারা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা হতে পারে, তবে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ হয়েছে এবং সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করেছে। তাই বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বিরোধী দলের দুটি শপথের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ, এটি কালারেবল লেজিসলেশন। তিনি বলেন, আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে যদি সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে। পরে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি নিজেদের ভিন্নমতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংবিধান সংস্কার’ হিসেবে দেখছে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত গুরুত্ব পায়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জাতীয় সংসদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করার কথা। তবে বিএনপি ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়নি। বিরোধী দলের সদস্যরা এ শপথ নিয়েছিলেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।

৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাড়বে চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা

0


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের হাসপাতালে রোগী পাঠানোর প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত গত ৬ জুলাইয়ের এক সরকারি পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা ও সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে অনেককেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা শহরের অন্যান্য হাসপাতালে রেফার করতে হয়। বিশেষ করে জটিল রোগ, প্রসূতি, শিশু, সার্জারি ও জরুরি বিভাগের রোগীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধি করা। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু শয্যাসংখ্যাই বাড়বে না, চিকিৎসাসেবার মানও উন্নত হবে। ফলে উপজেলার মানুষ নিজ এলাকাতেই আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সচেতন মহল বলছে, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ নেবে এবং এটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে।

এদিকে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে নিখোঁজ সিলেটের জকিগঞ্জের রাজন, লাশ মিলল হবিগঞ্জের বাহুবলে

0

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ::

চাকরির জন্য পরীক্ষা (ইন্টারভিউ) দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জের মাহবুব সরোয়ার রাজন (৩০)। পরীক্ষা শেষে শুক্রবার ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি রাজনের। রোববার হবিগঞ্জ থেকে তার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজন জকিগঞ্জ উপজেলার গন্ধগত্ত এলাকার বাসিন্দা। রাজন প্রায় আট মাস আগে বিয়ে করেন।রোববার দিনে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী দাসপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ। এরপর রোববার (১২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজনের ছবি দেখে শনাক্ত করে তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব সরোয়ার রাজন ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলপথের দাসপাড়া এলাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।

নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না রেলওয়ের কর্মচারী। তিনি জানান, রাজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হয়। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে স্থানীয়রা দুপুরের দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। পরে মরদেহটি রাজনের বলে শনাক্ত করা হয়।

নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তিনি জানান, রাজনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করতে না পেরে রোববার দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সবশেষ অবস্থান রাত ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের বহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষায় এআই ও প্রযুক্তি দক্ষতা অপরিহার্য: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

দেশের উচ্চশিক্ষাকে যুগান্তকারী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা, সৃজনশীল উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই চরম প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল প্রথাগত সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এগুলোকে যুগান্তকারী জ্ঞান সৃষ্টি, প্রায়োগিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।

রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সাস্ট কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল কার্নিভাল-২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ এবং সিএসই সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল প্রযুক্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে গভীর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে নিছক একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী হ্যাকাথন ও প্রযুক্তি মেলার মতো আয়োজনগুলো শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধানে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রবলভাবে উৎসাহিত করে।

সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। শিক্ষা খাতের বাজেটও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও হলের সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষক সংকট দূর করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সেবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে আমরা ক্যাম্পাসে একটি মেগা ‘জব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। এ লক্ষ্যে আমি ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৬টি প্রযুক্তি ও করপোরেট কোম্পানির সাথে আলোচনা সম্পন্ন করেছি এবং আগামীতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “আমরা কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের (ইউনিক কোয়ালিটি) মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে দেশ-বিদেশের জব মার্কেটে তাদের যোগ্যতা, চাহিদা ও মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই সেরা সময়টাকে তোমরা যেন যথাযথভাবে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারো, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসাইন, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান, বিকাশ-এর চিফ প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি অফিসার মোহাম্মদ আজমল হুদা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

এছাড়াও দুই দিনব্যাপী আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রযুক্তি উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর পর্ব ছিল টানা ২৪ ঘণ্টার হ্যাকাথন এবং ৫ ঘণ্টার স্নায়ুক্ষয়ী প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তাদের উদ্ভাবনী বুদ্বিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার তীব্র লড়াইয়ে মেতে ওঠে। হলরুমের নিস্তব্ধতায় কেবল শত শত ল্যাপটপের পর্দার আলো, কি-বোর্ডের একটানা শব্দ আর কফির কাপে চুমুকের মাঝেই জন্ম নেয় আগামী দিনের নানা প্রযুক্তিগত সমাধান।

অন্যদিকে, ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা মস্তিষ্কের অধিকারীরা জটিল সব গাণিতিক ও অ্যালগরিদমভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দেন।

এবারের সাস্ট কার্নিভালে সারা দেশের প্রায় ৮০টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৯টি মেধাবী টিম অংশগ্রহণ করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বিয়ানীবাজারে মেয়েকে হত্যার ঘটনায় বাবা গ্রেপ্তার

0

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে কিশোরী মেয়েকে ঘটনায় তার বাবা আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন তথ্যেরে ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন আবু বক্কর। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামের ওই কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে (৪৫) প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা। রিয়া স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। হত্যার ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক আবু বক্করের মেয়ে রায়কা আক্তার রিয়ার (১৭) সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক বছর পূর্বে ওই ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। একমাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ছেলেটি বখাটে, তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক, তাই বিয়ে দেওয়াও সম্ভব হয়নি। মেয়েকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৩/৪ মাস যাবত ইনাম গ্রামে তার নানার বাড়িতে রাখা হয়। কিন্তু সেখানে থাকাবস্থায় পুরোনো প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে আবারও পালানো চেষ্টা করে রিয়া। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে আটকায়। ঘটনাটি জানতে পেরে তার বাবা আবু বকর ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে বৃহস্পতিবার বাড়িতে ‍নিয়ে যান। তবে রাত্রে কোনো ঝামেলা হয়নি। মেয়ের প্রতি বাবার ক্ষুব্ধ মনোভাব বুঝতে পেরে শুক্রবার সকালে মেয়েকে তার নানী ও মামা পুনরায় তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। তখন মেয়ের বাবা বাড়িতে ছিলেন না।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানোর জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন তিনি। এরপরেও মেয়ে তার কথা না শুনায় তিনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নিহতের নানাবাড়ির পুকুর ঘাটে মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শাবিপ্রবি উপাচার্যের গভীর শোক প্রকাশ

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।

রোববার ভোর সোয়া চারটার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বার্ধক্যজনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

শোক বার্তায় উপাচার্য বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আইন অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা এবং নিরপেক্ষতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে হারালো। “

বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শাবিপ্রবিতে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা ও কুইজ অনুষ্ঠিত

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সোচ্চার স্টুডেন্টস’ নেটওয়ার্ক সাস্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে “মানবাধিকার এবং ছাত্র-সক্রিয়তা: সুযোগ ও দায়িত্ব” শীর্ষক কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের গ্যালারি রুম-২-এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. শাদমিম হাসান সিফাত।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট লস্কর আবিদ মনোয়ার, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং অফিসার আবদুল্লাহ আল বুখারী এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও গবেষক সুমাইয়া তাসনিম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবাধিকার, শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং ইতিবাচক ছাত্র-সক্রিয়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সোচ্চার স্টুডেন্টস’ নেটওয়ার্ক, সাস্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি জসিম উদ্দিন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মশালা শেষে মানবাধিকার বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ীর হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

লাখাইয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

0

নাজিম উদ্দিন, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে আরশিয়া (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আরশিয়া ঢাকার মহাখালী এলাকার বাসিন্দা বাপ্পি আহমেদের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, উপজেলার পূর্ব রুহিতনশী গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া তালুকদারের মেয়ে জান্নাত আক্তার (মৌসুমী) শিশু মেয়ে আরশিয়াকে নিয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) রাত প্রায় ৯টার দিকে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের বর্ষার জমে থাকা পানিতে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় আরশিয়া। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের পানিতে আরশিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি লাখাই থানা পুলিশকে জানানো হয়। আরশিয়ার এ-ই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাবি ছাত্রীদের সিট বাতিল সংক্রান্ত ২০১০ সালের পুরনো খবর নিয়ে বিভ্রান্তি

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রীদের হল সংক্রান্ত একটি পুরনো খবরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় “শাবি ছাত্রীদের বিয়ে হলেই সিট বাতিল” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই পুরনো সংবাদের কাটিংটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে অনেকেই নানা ধরণের মন্তব্য করছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।প্রকৃতপক্ষে, এই সিদ্ধান্তের সাথে শাবিপ্রবির বর্তমান প্রশাসনের কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে ২০১০ সালের তৎকালীন হল প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যা বর্তমানের বাস্তবতায় কার্যকর নয়।

তৎকালীন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোনো ছাত্রী বিয়ের তথ্য গোপন করলে তার সিট বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৎকালীন হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. নাজিয়া চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিবাহিত ছাত্রীদের নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হওয়া এবং নিয়মশৃঙ্খলার স্বার্থে তৎকালীন প্রশাসন এই নিয়মটি চালু করেছিল।

ফেসবুকে বা অন্য মাধ্যমে যে ছবিটি ঘুরছে, সেটি স্পষ্টতই ২০১০ সালের ২৯ আগস্টের (১৪ ভাদ্র ১৪১৭ বঙ্গাব্দ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কাটিং।

সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই

0


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য শরফ উদ্দিন খসরু ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শরফ উদ্দিন খসরু সিলেট-৬ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৫ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে তিনি আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান। পরে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট (পিডিপি) থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি।

শরফ উদ্দিন খসরুর জন্ম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরের দক্ষিণভাগ এলাকায়। তার পিতা ছিলেন আসদ্দর আলী। গ্রামের স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করে তিনি ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা শরফ উদ্দিন খসরু সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে সাবেক এ সাংসদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

শোকবার্তায় এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু ভাই ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। নির্লোভ, সদালাপী এবং অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত খসরু ভাইকে আল্লাহ্ জান্নাতবাসী করুন। বিগত নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে অনেক পরিশ্রম করেছেন। সর্বশেষ গত রমজানে গোলাপগঞ্জে আমাদের ইফতার মাহফিলেও তিনি যোগদান করেছিলেন।”