Home Blog

‘মুজিবুল হক চুন্নুই জাতীয় পার্টির বৈধ মহাসচিব’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত প্রত্যখ্যান করেছেন দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তাদের অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমরা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছি, আমাদের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বহাল রয়েছেন। ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একদিন আগে ৭ জুলাই তাকে এবং পার্টির মহাসচিবসহ তিন শীর্ষনেতাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যে প্রেসিডিয়ামের সভার রেফারেন্স দিয়েছেন জিএম কাদের সেই বৈঠককেও অস্বীকার করেছেন তিনি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রথমত ওই প্রেসিডিয়ামের সভায় কোরাম হয়নি। আর গঠনতন্ত্রের ২০/৩(খ) ধারায় বলা হয়েছে মহাসচিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রেসিডিয়ামের মিটিং আহ্বান করবেন। আলোচ্য সূচি নির্ধারণ করবেন মহাসচিব। পার্টির চেয়ারম্যান মিটিং ডাকার এখতিয়ার রাখেন না। সম্মেলন ঘোষণার পর পার্টির কোনো পদে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারবেন না।

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে আমরা গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছি। আমরা পার্টির বিরুদ্ধে কি কাজ করেছি। আমরা বিবৃতি দিয়ে বলেছি ২০ (ক) ধারা বাতিল করতে বলেছি, হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলেছি। আমাদের এসব কাজ কোনভাবেই দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর কাছ থেকে জোর করে দলের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জি এম কাদের নেন বলে অভিযোগ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘জি এম কাদেরের প্রতিটি বিষয়ে স্বৈরাচারী মনোভাব।’

দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তারা জাতীয় পার্টিকে ভাঙতে দেবেন না এবং তারা দল ছাড়বেন না। সোমবার ৭ জুলাই জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন দলের চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টির দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ মাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছিলো। মুজিবুল হক চুন্নুর স্থলে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করার কথা জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, গত ২৮শে জুন দলের প্রেসিডিয়াম সভায়ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই তিনজন নেতাকে দলীয় সকল পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমন অবস্থায় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

ওত পেতে আছে ‘স্প্রে পার্টি’, অটোরিকশায় সাবধান

এম কে তুহিন
মিষ্টি একটি সুবাস। তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন একটু চেতনা ফেরে তখন দেখেন সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, দামি জিনিসপত্র গায়েব। সিলেটে প্রায় প্রতিদিনই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশাযাত্রীদের অনেকেই। ‘স্প্রে পার্টি’ খপ্পরে পড়ে দামি জিনিসপত্র খোয়ালেও প্রতিকার মিলছে না। এমন ঘটনা ঘটছেই।
সিলেট নগরীতে গণপরিবহন বলতে কিছু নেই। পথ চলতে অনেক ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশাই ভরসা নগরবাসীর। এটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে সিএনজি অটোরিকশা চালকের একটি চক্র। দিনে কিংবা রাতে টার্গেট করা ব্যক্তিকে অটোরিকশায় তুলে নেন। যাত্রী হিসেবে থাকেন ওই চক্রেরই আরো দুই সদস্য। তারা কৌশলে ‘টার্গেট’কে বসিয়ে দেন অটোরিকশার পেছনের সিটের মাঝখানে। দুই পাশে বসেন চক্রের সেই দুই সদস্য। কিছুদুর যাওয়ার পর কখনও ‘স্প্রে’ ব্যবহার করে আবার কখনও তেল বা সুগন্ধিজাতীয় চেতনানাশক ব্যবহার ঘোরের মধ্যে ফেলেন ওই যাত্রীকে। কিছুসময় ‘বেখবর’ হয়ে যান টার্গেট করা যাত্রীটি। এই সময়ের মধ্যেই তার সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পড়েন চক্রের এক সদস্য। কিন্তু কিছুই টের পান না ভুক্তভোগী। আরও কিছু দূর গিয়ে কোনো এক অজুহাতে যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতই সরে পড়েন অটোরিকশা চালক। তখনও ওই যাত্রীর ঘোর পুরোপুরি কাটেনি। ধীরে ধীরে যখন স্বাভাবিক হতে থাকেন, মনে পড়ে মোবাইল ফোনের কথা। পকেটে বা হ্যান্ডব্যাগে হাত দিয়ে দেখেন মোবাইল ফোন নেই, টাকা-পয়সা , জিনিসপত্রও গায়েব। তখন আর কিছুই করার থাকে না। সিএনজি অটোরিকশা তো কখনই হাওয়া হয়ে গেছে।
এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে নগরীর বন্দরবাজার-হুমায়ুন রশীদ চত্বর, পুলেরমুখ- টুকেরবাজার, আম্বরখানা- হুমায়ুন রশীদ চত্বর, আম্বরখানা-বন্দরবাজার, আম্বরখানা-টিলাগড়, আম্বরখানা-টুকেরবাজার, টিলাগড়- মেজরটিলাসহ সিএনজি অটোরিকশার বিভিন্ন রুটে। কোন কোন ক্ষেত্রে নীরবে সহ্য করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেও প্রতিকার পান না। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে তারা কোনো অভিযোগ পায় না। কার কাছে বিচার দেবেন ভুক্তভোগীরা? মনের দুঃখ তাই তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দৈনিক আধুনিক কাগজের কাছে এরকমই এক অভিজ্ঞতার গল্প বললেন ভুক্তভোগী আমজাদ হাসান ফাহিম। তিনিও খপ্পরে পড়েছিলেন ‘স্প্রে পার্টি’র। সে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি এভাবে,

আমি রাত ৮ ঘটিকার সময় বন্দর বাজার থেকে সোবহানীঘাট যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে উঠি। ড্রাইভারের পাশে একজন এবং গাড়ির পিছনের সিটে আরো দুই জন যাত্রী ছিলেন। ধোপাদিঘীর পার যাওয়ার পর গাড়ির ড্রাইভার বলল গাড়ির চাকায় কি একটা সমস্য হচ্ছে গাড়ি থেকে নামার জন্য। আমি নামলাম। আমার সাথে আমার ল্যাপটপ ছিল সাথে আরো দুটি ব্যাগ। ড্রাইভার বলল ব্যাগগুলো পিছনে রেখে গাড়িতে ধাক্ষা দেওয়ার জন্য। গাড়িতে ধাক্ষা দিয়ে যখন গাড়িতে উঠছিলাম তখন আমার পাশেরজন বলল, ভাই আপনি মাঝখানে চলে যান, আমার মাঝখানে বসতে সমস্যা হচ্ছে। আমার বমির ভাব হচ্ছে। পরে গাড়িটি ছাড়ার পর সোবহানীঘাট পয়েন্ট পার হওয়ার সাথে সাথে আমার পাশে থাকা ব্যক্তি বলল, গাড়ি থেকে পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে বলেই একটা ‘প্রে’ বের করে মারতে থাকে। সাথে সাথে মনে হচ্ছিল আমার জানি কি হয়ে যাচ্ছে। আমি ড্রাইভারকে বললাম গাড়িটি থামানোর জন্যে কিন্তু ড্রাইভার গাড়িটি থামাচ্ছিলেন না। পরে আমি লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সামনে বসা ব্যক্তি আমি যাতে না নামতে পারি তার জন্যে হাত দিয়ে আমাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। আমি জোড় করে নামার সময় আমার পাশে থাকা ব্যাক্তি আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা চলে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী আদৃতা পিংকি বলেন, আমি বাসা থেকে বের হয়ে বন্দর যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠি। সিএনজিতে একজন বোরকা পড়া আন্টি ছিলেন। আম্বরখানা ক্রস করার পর হঠাৎ আন্টি উনার হিজাবটা খুলে মাথায় তেল দেওয়া শুরু করলেন। উনার তেল দেওয়া দেখে আমি অবাক হই। কারণ উনি যেহেতু পর্দা করেন তো পর্দা খুলে কেন মাথায় তেল দিতে যাবেন। তেলের সুগন্ধিটা এত কড়া যা আমার নাকে আসার সাথে সাথে আমার ঘুম চলে আসছে। তখন আমার হঠাৎ মনে হল আমি যদি ঘুমিয়ে যাই আমার ফোনটা পড়ে যায়। আমার শরীর খারাপ করায় আমি ড্রাইভারকে বলি আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু। আমার একটাই খারাপ লাগতেছিল যে আমি জুরে বলতেও পারতেছিলাম না আমাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য। ড্রাইভার কোন ‘রেসপন্স’ করতেছিলেন না। চৌহাট্টা যাওয়ার পর আমি জ্যামে আটকা পড়া অবস্থায় নেমে যাই। ড্রাইভার হঠাৎ করে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি কেন বন্দর বলে চৌহাট্টা নেমে যাচ্ছি। আমি টাকা দিছি উনি নেয়নি। পওর াইম পানি ক্রয় করে মাথায় ও মুখের মধ্যে দেই। দিয়ে বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পরও আমার মাথা ভার ছিলো। শরীরটা অনেক খারাপ ছিলো।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাস থেকে শহরে ‘স্প্রে পার্টি’ নামে একটি চক্র সিএনজি অটোরিকশাকে ব্যবহার করে যাত্রীদের সাথে থাকা টাকাপয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এটা আগে এই শহরে ছিলোনা। আমরা এ বিষয়ে সজাগ ইছ। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার তা করব।
আম্বরখানা-সালুটিকর উপ-পরিষদের সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, এ বিষয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় মিটিং করেছি। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি অপরিচিত কাউকে এই রুটে পেলে তার নেতার সাথে কথা বলে তার পরিচয় শনাক্ত করে তাকে ছেঢ়ে দেওয়া। আবার আমার শ্রমিক যদি কেউ জড়িত হয় একাজে আমরা তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সকলকে সহযোগীতা করব।
সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরাও দেখেছিলাম এবং এরকম ‘প্রে’ প্রয়োগ করার সংবাদগুলে সিলেটের সাধারণ মানুষ ফেসবুক ভাইরাল কার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে আমরা আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। যাতে এ ধরনের কার্যক্রম যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। যদি কোন যাত্রী সিএনজিতে উঠার পর যাত্রী বা কারো আচরণ সন্দেহজন মনে হয় অবশ্যই আমদের ট্রাফিকপুলিশ সদস্যদের নহায়তা যেন গ্রহণ করেন। আমরা অনেককেই বলেছি আপনার কোন সমস্যায় থানায় যান, পুলিশের কাছে যান, অথিযোগ করুন, সময়টা ও স্থানটা আমাদের কাছে বলুন। হেহেতু আমরা আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে সিলেট নগরে সানুষের গতিবিধি বা গাড়ির নাম্বারটা সনাক্ত করতে পারি। যদি আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। আমরা জানিনা আসলে এই চক্রে কতজন আছে। প্রকৃতঅর্থে তাদেরকে আইনের আওয়ায় এনে কারা আছে এটা শনাক্ত করতে পারব। এখন পর্যন্ত আমরা কোন অভিযোন পাইনি। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার জাকির হোসেন খান

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান।
সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান সদ্য বদলি হওয়া সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মো. ইলিয়াছ শরীফকে পিবিআইয়ের ডিআইজি করা হয়েছে।
এরআগে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফকে প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের মাধ্যমে সিলেটসহ দুই পুলিশের কমিশনার এবং পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) অন্যত্র বদলির জন্য ইসিতে এই প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। আর হবিগঞ্জে নতুন এসপি হিসেবে যাচ্ছেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আক্তার হোসেন।
গত রোববার সকালে ইসির উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়। পরে সোমবার নতুন কমিশনার ও এসপি নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

গোলাপগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। এসময় র‍্যালিটি ঢাকাদক্ষিণ বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিতে স্থানীয় শ্রমিক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে সংক্ষিপ্ত শ্রমিক সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এসময় উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফ আল মান্নান লিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমীর আব্দুল আজিজ জামাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আমীর রেহান উদ্দিন রায়হান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মুন্নাসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শাবিপ্রবিতে জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ‘জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় আঞ্চলিক পর্ব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎‎

শুক্রবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) আয়োজনে এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় অলিম্পিয়াডটি অনুষ্ঠিত হয়।‎‎

এ সময় পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। কেন্দ্র পরিদর্শনউপস্থিত ছিলেন এইচআরএসএস-এর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল বুখারী, বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, জেলা সমন্বয়ক শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, খুলনা বিভাগের সমন্বয়ক নাজমুল হুদা এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সাল।‎‎

এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “মানবাধিকার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এই অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করবে।”

‎‎নাজমুল হুদা জানান, “আমাদের প্রথম পর্বটি গত বছরের এই সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এবারেও সিলেট অঞ্চলের পাশাপাশি একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের আরও চারটি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।”‎‎

তিনি আরও বলেন, “এবার প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ করতে পারবো বলে আমরা মনে করছি।”‎‎

পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন ‘এ’ থেকে গোল চত্বর পর্যন্ত একটি র‍্যালি বের হয়। এতে শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা মানবাধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন।

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া ও তার মোবাইল নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্টিং ও ফটোকপির দোকানের এক কর্মচারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তার গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ। ‎‎

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে প্রক্টরিয়াল বডি।

‎‎প্রক্টর অফিস, শিক্ষার্থী ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেমিস্টারের প্রেজেন্টেশন পেপার প্রিন্ট করতে মদিনা মার্কেটের হক ম্যানশনে অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে প্রতি পৃষ্ঠা ৩০ টাকা করে লেখা ও প্রিন্ট করতে অর্ডার করেন তিনি। কাজ শেষে দোকানের কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ৫০০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।‎ পরবর্তীতে ওই কর্মচারী মোবাইলের মাধ্যমে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে মদিনা মার্কেট এলাকায় গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া দোকানের ওই কর্মচারী হোয়াটসঅ্যাপে ও ফেসবুকের বিভিন্ন অসামাজিক গ্রুপে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নম্বর ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠে৷ ফলে গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অচেনা লোকজন ফোন ও মেসেজ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অসামাজিক কথাবার্তা ও অনৈতিক কাজের মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল।

‎‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে থানার উপ-পরিদর্শক সাগর মদিনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

‎‎জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. সাদমিম হাসান সিফাত বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করেছে। এজন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।‎‎

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল হাবিব বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে হেনস্তা ও তার নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি এবং ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহদ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের পাশে রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজারো যাত্রীরা। এরআগে গত রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন ও ব্যাপক গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে মুন্সিবাজার ও পতনঊষারের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই, লাঘাটা নদীসহ পাহাড়ি ছড়া সমুহে পানি বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার বলেন, ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সীবাজার কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে সরবরাহ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধা দেখা দেয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার দেড়ফুট নিচে রয়েছে। নদনদীর পানি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে কেওলার হাওরে কিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও গাছগাছালি ভেঙ্গে সড়কপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:

গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত। কওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। ঝড় ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্পূর্ণ এলাকার বোরো ধান ও শাকসবজি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে দেখা যায়, গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল রাত থেকে দ্রুত কেওলার হাওরে প্রায় ৫শ’ হেক্টর বোরোধান ডুবে গেছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বোরোধান এবং সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও ঢলে বোরো ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে ৭০ হেক্টর ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫০ হেক্টর। সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য এখনও আসেনি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার সবজি ক্ষেতও নিমজ্জিত হচ্ছে। ঢলের পানি দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকলে কৃষকরা পুরোদমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ধান কাটার সময় হাওরের সকল ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরোধান ৭০ হেক্টর ও আংশিক ৩৫০ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। তাছাড়া সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনও তথ্য আসেনি। পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা নয় বলে তিনি জানান।

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ১১ কেভি লাইনসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন এলাকায় টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা। দুর্যোগ মোকাবেলায় সোমবার উপজেলা প্রশাসনের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড়ে এই ক্ষতি সাধিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক বসতঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়েছে। তাছাড়া গাছগাছালি ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ও অসংখ্য স্থানে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রের ১১ কেভি লাইন ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ১০ ঘটিকা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, কালবৈশাখি ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংবাদ জানা গেছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যানদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৫টি বসতঘর আংশিক বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া আরো কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিকাল পর্যন্ত পাওয়া যাবে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার ঘোষ কালবৈশাখি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। গাছগাছালি ভেঙ্গে শতাধিক মিটার বিনষ্ট হয়েছে, ১৫০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার ২২ বর্গকিলোমিটারে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৫টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত, দু’টি কালভার্ট ও গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্তের তথ্য পাওয়া গেছে। জরুরিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সোমবার সকালে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় শান্তিগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় অনিশ্চয়তা

কুহিনূর রহমান নাহিদ, শান্তিগঞ্জ:

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিপাত ও রোদ না থাকায় ধান কাটা ও শুকানো- দুই প্রক্রিয়াই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকা। এ উৎপাদন থেকে প্রায় ৯৪ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলায় ব্রি ধানসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৫৭ শতাংশ। তবে দেখার হাওরে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে হাওরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানা অতিবৃষ্টি। প্রতিদিন বৃষ্টি থাকায় কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। আবার যেসব ধান কাটা হচ্ছে, সেগুলো রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসের বরাতে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৩ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনজুড়ে হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতসহ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেসব ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকরা জানান, খোলা মাঠে ধান রাখলে বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় অনেকেই খলায় ধান তুলে ত্রিপল বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।

বৈশগাঁও হাওরের কৃষক শারিফ মিয়া বলেন, অনেক ধান এখনো কাটা হয়নি। পানি বাড়লে সব ডুবে যাওয়ার ভয় আছে। খলায় ঢেকে রাখলেও বৃষ্টির পানিতে কিছু ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

দেখার হাওরের কৃষক হাবিবুর মিয়া বলেন, ধান কাটলেও শুকাতে পারছি না। রোদ না থাকায় ভিজা ধান নিয়ে খুব বিপদে আছি।

দেখার হাওরের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, ফলন ভালো হয়েছে এবং ধান পেকেছে। আমার প্রায় অর্ধেক কাটা শেষ। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাকি ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। অতিবৃষ্টি হলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধান ঘরে তুলতে পারব, না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।

শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে কিছুটা প্রভাবিত করছে। বর্তমানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে কৃষকরা বলছেন, মূল সমস্যা এখন আবহাওয়া।

যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হাওরাঞ্চলে বর্তমানে ১২২টি হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। একটি হারভেস্টার দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। এসব হারভেস্টারের জন্য আবেদন সাপেক্ষে প্রতি মেশিনে ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত ধান কাটার কাজ কিছুটা গতি পেয়েছে।

অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এখনো বড় ধরনের কোনো বাঁধ ভাঙনের ঘটনা ঘটেনি, তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও শুকানো- দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। আমরা কৃষকদের সতর্ক করেছি এবং যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, হাওরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি মসজিদে মাইকিং করে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে।

বন্যার আশঙ্কায় আধাপাকা ধান কাটতে মাঠে কৃষক:  আধুনিক যন্ত্র ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:

আগাম বন্যার আশঙ্কায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও পুরোপুরি পরিপক্ষ না হলেও সম্ভাব্য পানির চাপ থেকে ফসল রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে,  জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈন্তাপুরের সকল কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সতর্কবার্তায় কৃষি অফিস জানান, সম্মানিত কৃষক ভাইদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি অফিস জৈন্তাপুর এর পক্ষ থেকে জরুরী বার্তা। চেরাপুঞ্জি সহ দেশের পূর্বাঞ্চলে আগামী সাত দিন ভারী বৃষ্টিপাত সহ পাহাড়ী ঢলে আকষ্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা থাকায় আপনাদের বোরো ফসল ৭৫% এর উপরে পাকা হলেই দ্রুত কেটে ফেলার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে । নিচু জমিগুলি থেকে  অন্যান্য ফসল যথাসম্ভব উত্তোলন করে ফেলারও অনুরোধ জানানো হয়েছে ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনায় হাওরাঞ্চলে পানি ঢোকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পাকা হওয়ার অপেক্ষা না করে আধাপাকা ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন তারা। এতে ধানের ফলন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, এই সময়ে ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধুনিক যন্ত্র যেমন কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করতে চাইলেও চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্র না থাকায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “ধান পুরোপুরি পাকেনি, কিন্তু পানি চলে এলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আগেই কাটছি। শ্রমিকও পাচ্ছি না, যন্ত্রও কম—সব মিলিয়ে বড় বিপদে আছি।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা একটি নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত যন্ত্র সরবরাহ ও কৃষকদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি। নইলে প্রতিবছরই একই সংকটে পড়তে হবে কৃষকদের।

এবিষয়ে, জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবছর মোট বোরো আবাদ হয়েছে ৫৭২৬ হেক্টর এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২১৯১ হেক্টর। উপজেলা থেকে ধান কর্তনে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেষ্টার) ৮টি দেওয়া হয়েছে। জৈন্তাপুরে আপাতত কৃষক শ্রমিক সংকট নেই। শ্রমিকের মজুরী দিগুণের বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

এদিকে কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আরও বেশি কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

দোয়ারাবাজারে তেল, শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তেল সংকট, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার হাওরাঞ্চলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার ধুম পড়ায় খুশির আমেজ থাকলেও ত্রিমুখী সংকটে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে। কৃষি শ্রমিকের অভাব, হারভেস্টার চালাতে জ্বালানি সংকট এবং ঘন ঘন বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে দোয়ারাবাজারে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকে নি। তবে যেসব জমির ধান পেকেছে, সেগুলো কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৮০ শতাংশ ধান পাকা জমির ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের দিকে এমন আবহাওয়া বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরেজমিনে সদর ইউনিয়নের নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া নামের দুই শ্রমিক। তারা প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই ধান কাটতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন,ধানের ফলন ভালো হলেও তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার শ্রমিকেরও অভাব, বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কারণে ধান ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। সাধারণত বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের শুরু পর্যন্ত ধান কাটা চলে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকায় অনেক সময় ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটা শুরু করেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন জানান, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, কৃষকদের হারভেস্টার ব্যবহারে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে প্রত্যয়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বালু মহালে শ্রমিক নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখা এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

কমলগঞ্জে হুমকির মুখে পরিবেশ, প্রতিবেশ; প্রশাসন নির্বিকার

টিলা, পাহাড়ি ছড়া কেটে ও ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে মাটি বালি উত্তোলন

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:

বনাঞ্চল ও চা বাগান অধ্যূষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালু সমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিজের নিচ থেকেও পলিমাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যমন্ডিত এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ। প্রতিনিয়ত এসব কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলেও উপজেলা প্রশাসন নির্বিকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘড়ি নামক এলাকায় দিবালোকে স্থানীয় বাসিন্দা অবৈধভাবে ভেকু মেশিন লাগিয়ে প্রাকৃতিক টিলার লাল মাটি কেটে স্থানান্তর করছেন।স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রাকৃতিক টিলার ব্যাপক অংশ কেটে সমতলে পরিণত করছেন।

অন্যদিকে আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা বাগানের টিলাভূমি রয়েছে প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। তবে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও পাহাড়ি সুনছড়ার বাঁধ কেটে অব্যাহতভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে প্রতিনিয়ত সিলিকা বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মাঝে মধ্যে অবৈধ বালুবাহী ট্রাক আটক করলেও প্রশাসন নিরবতা পালন করছে।

শমশেরনগরের সমাজকর্মী এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালুবাহী একটি ট্রাক জনতা আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছে। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে অবহিত করা হলেও দু’দিন যাবত ওই গাড়ির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এদিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ধলাই নদীর উপর স্টিল ব্রিজের নিচ থেকে অবাধে পলি মাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ ও ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে নিচ্ছে। ফলে ব্রিজটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

যেকোন সময় ব্রিজ ধ্বসে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিলা কাটা, পাহাড়ি ছড়া ও ছড়ার পার্শ্ববর্তী স্থান কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকেও অবৈধভাবে বালুর বাণিজ্য রমরমা হয়ে উঠছে।

এভাবে অবাধে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিষয়ে কলেজ শিক্ষক জমশেদ আলী, পেশাজীবি সোলেমান মিয়া, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনসহ স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে উপজেলার প্রাকৃতিক অনেক দর্শনীয় স্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও আশপাশ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, ব্রিজ-কালভার্ট হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নে টিলা কাটার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। বিষ্ণুপুরে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি কাটা ও সুনছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।