Home Blog Page 11

শাবিপ্রবিতে কর্মচারীদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল

শাবি প্রতিনিধি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিলেট উদয়ন স্কুলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বক্তারা পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখা সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, শাখা সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শাবি শাখা শিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, ‘রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার। এই মাস হল ত্বাকওয়া অর্জনের মাস। আমাদের সবারই ত্বাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করা দরকার। কর্মচারী ভাইয়েরা ক্যাম্পাসকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন। কর্মচারী ভাইদের সাথে ছাত্রশিবির  অতীতেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে ইনশাআল্লাহ।’

জৈন্তাপুরে খাঁসিয়াপল্লীর নিরাপত্তায় পুলিশের টহল জোরদার

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি মোকামপুঞ্জি খাঁসিয়া পল্লী পরিদর্শন করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তিনি জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল নিয়ে আকস্মিকভাবে মোকামপুঞ্জি এলাকায় যান এবং খাঁসিয়া কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পল্লীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাসিন্দাদের জীবনমান নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় কিছু অসাধু চক্র রাতের আঁধারে চোরাইপণ্য ও মাদক পাচারের রুট হিসেবে নির্জন এসব এলাকা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি মোকামপুঞ্জি খাঁসিয়া পল্লীর প্রবেশমুখে স্থাপিত লোহার ফটক প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বন্ধ ও রাতে তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফটক সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনেরও পরামর্শ দেন।

ওসি আরও বলেন, পল্লীর ভেতরে সন্ধ্যার পর যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আড্ডা বা অনলাইন গেমে দলবদ্ধভাবে সময় নষ্ট না হয় সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি খাঁসিয়া কমিউনিটির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে পল্লীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোকামপুঞ্জি এলাকা দিয়ে সুপারি, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য ও মাদক পাচারের চেষ্টা বেড়েছে। এতে পল্লীর অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সীমান্তবর্তী মোকামপুঞ্জি এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। শিগগিরই খাঁসিয়া কমিউনিটির সদস্যদের নিয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।

নারীর কণ্ঠে ন্যায়ের ডাক: দোয়ারাবাজারে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অধিকার ও ন্যায়ের বার্তা

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে “নারীর কণ্ঠে, ন্যায়ের ডাক” শীর্ষক এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।”

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতা করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (সিডা)।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল বার্তা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়।প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারে, ন্যায়বিচার পায় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নাধীন “স্পেস টু লিড” প্রজেক্টের আওতায় আয়োজন করা হয় এ কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার রাফিদ আমীন অক্ষর পরিচালিত আলোচনা সেশনে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের নারী অধিকার, অধিকার লঙ্ঘনের ধরন, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (GBV), যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR), অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল সহিংসতা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে কিশোরীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একটি প্যানেল ডিসকাশন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া আক্তার, মেডিকেল অফিসার, দোয়ারাবাজার এবং কানিজ সুলতানা, সভাপতি, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), দোয়ারাবাজার।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য অধিকার, আইনি সুরক্ষা, SRHR সম্পর্কে সচেতনতা এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় কিশোরী, নারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারীর কণ্ঠ শক্তিশালী হলে তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়বিচার ও সমতার সমাজ।

মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

আধুনিক ডেস্ক ::

মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাঁকে এ পদে নির্বাচন করেছে। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে। আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।

অপরদিকে, মোজতবা খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও আনুগত্য ঘোষণা করেছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোজতবা খামেনিকে ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান… ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত, নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

সি‌লে‌টের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার উপজেলার ধারাবহর শাহজাহান এস্টেটস্থ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিলেট জেলা আইনজীবী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন দিলু, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ভূমি ও ভবন দাতা আনোয়ার শাহজাহান, সা‌বেক সভাপ‌তি এনামুল হক এনাম, সা‌বেক আহবায়ক এম আব্দুল জলিল, যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, সা‌বেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সা‌বেক দফতর সম্পাদক ইমরান আহমদ, সাবেক কোষাধ‌্যক্ষ জালাল আহমদ চৌধুরী, সদস‌্য সাকিব আল মামুন, মাহমুদুল হাসান বাচ্চু, ফারহান মাসউদ আফসর প্রমুখ।

ইফতার পরবর্তী আলোচনায় গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের স্থবিরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর তিন মাসের জন্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেও নতুন সদস্য সংগ্রহ ও কার্যকরী কমিটি গঠন করতে না পারায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং সাবেক সভাপতি এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক, সাবেক সাংগঠ‌নিক সম্প‌াদক হা‌রিছ আলী‌কে যুগ্ম আহবায়ক ও ইমরান আহমদকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
আহবায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সাকিব আল মামুন ও মাহমুদুল হাসান বাচ্চু।
নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি আগামী ৩১ মা‌র্চের মধ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরাতনদের সদস‌্য পদ নবায়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চিকিৎসা বর্জ্য থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে: শিকাগো যাচ্ছে শাবিপ্রবির ৮ শিক্ষার্থী

হিমেল হান্নান, শাবি:

চিকিৎসা বর্জ্যকে টেকসই নির্মাণ সামগ্রীতে রূপান্তরের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল তরুণ শিক্ষার্থী।

আগামী ২৯ মার্চ আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) সাস্ট স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাধর্মী সংগঠন ‘ইকো জেনেসিস’-এর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত নয় সদস্যের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘এসিআই ফাইবার রিইনফোর্সড পলিমার (এফআরপি) কম্পোজিটস’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন একই বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের মিফতাহুল ইহসান দিহান, তৌরাত হোসাইন, ২০২১-২০২২ সেশনের প্রাপ্তি সাহা এবং ২০২২-২০২৩ সেশনের ফারহানা ইসলাম প্রমা, নাদির-উজ-জামান নায়েফ, আতেফ ইবনে শহিদ, মো. মারুফ ও আবু ইয়াহিয়া।

চিকিৎসা বর্জ্যের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, সার্জিক্যাল মাস্ক ও ডায়াপারে থাকে পলিপ্রোপিলিন নামক এক ধরনের প্লাস্টিক, যা প্রকৃতিতে মিশে যেতে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ বছর সময় লাগে। এই ধারনাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা তাদের উদ্ভাবনী ‘এফআরপি বিম’ বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করবেন ।

এর আগে ‘ইকো জেনেসিস’ চিকিৎসা বর্জ্য ও পলিপ্রোপিলিন ব্যবহার করে ‘ছায়া’ নামে একটি পরিবেশবান্ধব ছাদ নিয়ে গবেষণা করে, যা প্রচলিত টিনশিটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। নিম্ন আয়ের পরিবার, বন্যাকবলিত অঞ্চল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়, যা টেকসই ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুবিধা প্রদান করে।

এই উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত ‘এগ প্রোটেকশন ডিভাইস’ প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দল হিসেবে শাবিপ্রবি প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া তারা ‘এসিআই চুয়েট স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার’ আয়োজিত ‘এসিআই কংক্রিট ফেস্টে’ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এবং ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাবে’ প্রথম রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ফলস্বরূপ প্রকল্পটি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিভাগের শিক্ষক, সিনিয়র ও সহপাঠীদের সহযোগিতাই তাদের এই পথচলায় এগিয়ে যেতে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তারা আশা করছেন, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে দেশের আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে পারবেন।

ক্যাম্পাসের সুবিধাবঞ্চিত রিকশা চালকদের মাঝে ‘ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্টে’র ঈদ উপহার বিতরণ

শাবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সুবিধাবঞ্চিত রিকশাচালকদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ভ্রমণ বিষয়ক সংগঠন ‘ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্ট’।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ফুডকোর্ট প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসে কর্মরত ২০ জন রিকশাচালকের হাতে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি প্যাকেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও বস্ত্র প্রদান করা হয়েছে। উপহারের মধ্যে ছিল লুঙ্গি, চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সেমাই, চিনি ও গুঁড়া দুধ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট ক্লাবের ২৪তম কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ হাসান ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক রেহনুমা নাহরিন মীম ও সহ-সভাপতি আহমেদ শামসুল আরেফিন। এছাড়াও ক্লাবের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে মো. জাহিদ হাসান ফাহিম বলেন, “ক্যাম্পাসের নিম্নআয়ের মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফুটিয়ে তুলতে আমাদের ক্লাবের চ্যারিটি উইং-এর উদ্যোগে রিকশাচালক মামাদের মাঝে এই উপহার বিতরণ করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এমন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

বস্তিতে কঠিন কাজে নিয়োজিত চা বাগানের বেকার নারী শ্রমিকরা

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:

আজ আন্তজার্তিক নারী দিবস। চা বাগানের নারীদের জীবন মূলত সংগ্রাম, বঞ্চনা ও কঠোর পরিশ্রমের। বৈদেশিক মুর্দ্রা অর্জনের প্রধান চা শিল্পে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ রয়েছে বেকার। বেকারত্বের জীবনে নারীদের একটি বড় অংশ। জীবিকার তাগিদে চা বাগানের এসব বেকার নারীরা বস্তি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ঝুঁকি নিয়েই বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, ইট-বালু-পাথর বহন, মাটি কাটার মতো কায়িক শ্রমে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। পুরুষদের সমান পরিমাণ কাজ করলেও তাদের মজুরি তুলনামূলক রয়েছে কম।

কমলগঞ্জের দেওছড়া ও কানিহাটি চা বাগনের গীতা রবিদাস ও রুকমনিয়া মৃধা বলেন, নারী দিবসের কথা আমাদের অনেকেই জানেন না। এই দিবসে কি হয় তা আমরা জানি না। এই দিনে তো আমাদের কোন ছুটি নেই। দিবস আসলেও আমাদের জীবনের বঞ্চনা ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প তো আর শেষ হয় না।:
অনুসন্ধানে জানা যায়, চা বাগানে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। ‘এ’ ক্লাস বাগানে দৈনিক ১৮৭ দশমিক ৪৩ টাকা এবং ‘বি’ ও ‘সি’ ক্লাসে যথাক্রমে ১৮৬ দশমিক ৩২ এবং ১৮৫ দশমিক ২২ টাকা। বাংলাদেশে শিল্প সেক্টরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি পেয়ে থাকেন চা-শ্রমিকরা। সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত ৪৩টি সেক্টরে এবং মজুরি কমিশন ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প সেক্টরের মজুরির সাথে তুলনা করলে চা-শ্রমিকদের মজুরি কম। স্বল্প এই মজুরি দিয়ে পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ফলে বাধ্য হয়ে বেকার নারীরা কাজের সন্ধানে বস্তিতে চলে আসেন।

রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে চা বাগানে পোকা-মাকড়ের আক্রমনের মধ্যেই চলে তাদের কাজ। এরপর মজুরি পরিবারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বেকার নারী শ্রমিকরা চা বাগানে কাজ না পেয়ে সংসারের চাকা সচল রাখতে বস্তি ও শহরে বেঁচে নিয়েছেন কঠিন কাজ। চা বাগানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেকার নারী চা শ্রমিকদের এরকম কঠিন কাজের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।

শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক মনি চাষা, দেওছড়া বাগানের চানো রবিদাস, শান্তি রবিদাস জানান, বেকারত্বের জীবনে স্বামী ও সন্তানাদি নিয়ে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে বাগানের বাইরে গিয়ে কায়িক কাজ করতে হয়। কেউ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে মাথায় টুকরি নিয়ে ইট, বালু ও পাথর বহন করেন। কেউ কেউ মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত থাকেন। কেউ কেউ নার্সারী সমুহে কাজ করেন। নারীদের জন্য এই কাজগুলো খুবই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েই পুরুষদের সমান কাজ করতে হয়। তবে মজুরি পুরুষদের চেয়ে দেড়, দুশো’ টাকা কম থাকে।

শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের রুকমিনিয়া মৃধা, রুপালী রিকিয়াশন ও গনেশিয়া রবিদাস জানান, বাগানে কাজ না থাকায় বস্তিতে একটি নার্সারীতে কাজ করে চলেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মাঝখানে একঘন্টা বিরতি দিয়ে কাজ করি। আমরা নারীদের দৈনিক মজুরি ১৬০ টাকা আর পুরুষরা পান ২৫০ টাকা।

আলীনগরের সুনছড়া চা বাগানের নারী কুন্তি রবিদাস ও গীতা হাজরা জানান, বস্তিতে গিয়ে সারাদিন মাটি কাটা ও মাটি বহন করার কাজ করে করে দৈনিক ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পাই। এই আয়ে কোনমতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে।

মৌলভীবাজার চা শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের এমনিতেই পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে চেহারায় হাড্ডিসার দশা। তার উপরে বাগানের বেকার নারী শ্রমিকদের একটি অংশ বাইরের বস্তিতে মাটি কাটা, নার্সারী, কনস্ট্রাকশনসহ বিভিন্ন কষ্টসাধ্য কাজে নিয়োজিত। রোগশোকে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে কঠিন কাজ করার পরও কাঙ্খিত মজুরি পান না। সরকারি উদ্যোগে চা বাগানের বেকার নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানান তিনি।

কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, বিল্ডিং আর কনস্ট্রাকশনের কাজে কম মজুরিতে সহজেই চা বাগানের নারীদের পাওয়া যাচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে রোজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন হয়। দৈনিক এই আয় দিয়েই কোন মতে দু:খ-কষ্টে খাবার-দাবার ও বাচ্চাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর বাসস্থান, স্যানিটেশন, পানীয়জল আর চিকিৎসা সমস্যা তো আছেই। বেকার নারী ও যুবতিদের কর্মসংস্থানে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

সিলেটের বেদে পল্লিতে ‘স্বপ্নোত্থান’-এর ঈদ উপহার বিতরণ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নোত্থান’-এর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সিলেটের পরগণা বাজার সংলগ্ন মুসলিম বেদে পল্লিতে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে তহবিল সংগ্রহ করে আসছিল। এর অংশ হিসেবে বিশেষ ‘ঈদ কার্ড’ বিক্রির লভ্যাংশ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের আর্থিক সহযোগিতায় এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে তিনটি বেদে পল্লির মোট ২১টি পরিবারের ৮৬ জন সদস্যের মাঝে নতুন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া শিশুদের হাতে মেহেদি মাখিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বেচ্ছাসেবীদের সরাসরি উপস্থিতিতে উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের মেহেদি মাখিয়ে দেওয়া সেখানকার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মামুন হোসেন বলেন, “স্বপ্নোত্থানের এই উদ্যোগ সফল করতে যেসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আপনাদের অবদান এই মানবিক কার্যক্রমকে সফল করেছে এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠন বিশ্বাস করে, এই আয়োজন ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক মনোভাব আরও সুদৃঢ় করবে।”

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে স্বপ্নোত্থান শিক্ষা সহায়তা, রক্তদান এবং বিভিন্ন চ্যারিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।