হিমেল হান্নান, শাবি:
চিকিৎসা বর্জ্যকে টেকসই নির্মাণ সামগ্রীতে রূপান্তরের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল তরুণ শিক্ষার্থী।
আগামী ২৯ মার্চ আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) সাস্ট স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাধর্মী সংগঠন ‘ইকো জেনেসিস’-এর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত নয় সদস্যের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘এসিআই ফাইবার রিইনফোর্সড পলিমার (এফআরপি) কম্পোজিটস’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন একই বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের মিফতাহুল ইহসান দিহান, তৌরাত হোসাইন, ২০২১-২০২২ সেশনের প্রাপ্তি সাহা এবং ২০২২-২০২৩ সেশনের ফারহানা ইসলাম প্রমা, নাদির-উজ-জামান নায়েফ, আতেফ ইবনে শহিদ, মো. মারুফ ও আবু ইয়াহিয়া।
চিকিৎসা বর্জ্যের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, সার্জিক্যাল মাস্ক ও ডায়াপারে থাকে পলিপ্রোপিলিন নামক এক ধরনের প্লাস্টিক, যা প্রকৃতিতে মিশে যেতে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ বছর সময় লাগে। এই ধারনাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা তাদের উদ্ভাবনী ‘এফআরপি বিম’ বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করবেন ।
এর আগে ‘ইকো জেনেসিস’ চিকিৎসা বর্জ্য ও পলিপ্রোপিলিন ব্যবহার করে ‘ছায়া’ নামে একটি পরিবেশবান্ধব ছাদ নিয়ে গবেষণা করে, যা প্রচলিত টিনশিটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। নিম্ন আয়ের পরিবার, বন্যাকবলিত অঞ্চল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়, যা টেকসই ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুবিধা প্রদান করে।
এই উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত ‘এগ প্রোটেকশন ডিভাইস’ প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দল হিসেবে শাবিপ্রবি প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া তারা ‘এসিআই চুয়েট স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার’ আয়োজিত ‘এসিআই কংক্রিট ফেস্টে’ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এবং ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাবে’ প্রথম রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ফলস্বরূপ প্রকল্পটি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিভাগের শিক্ষক, সিনিয়র ও সহপাঠীদের সহযোগিতাই তাদের এই পথচলায় এগিয়ে যেতে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তারা আশা করছেন, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে দেশের আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে পারবেন।


