নাজিম উদ্দিন, লাখাই:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বর্ষার পানি নামতে থাকায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিও এখন আমন চাষের আওতায় আনা হয়েছে। হাওর অধ্যুষিত এ উপজেলায় ধানই প্রধান ফসল। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ইতোমধ্যে রোপণ করা বিস্তীর্ণ আমন জমিতে মৃদু বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের পাতা। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই যেন সবুজের সমারোহ। এ সময়ে ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ উইডার দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ প্রয়োগ করছেন প্রয়োজনীয় সার, বালাইনাশক ও আগাছানাশক।
কৃষকেরা জানান, আমন আবাদে সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তারপরও ভালো ফলনের আশায় তারা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধান উৎপাদনের মাধ্যমে এবার লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লাখাই উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সময়মতো উন্নত জাতের বীজের প্রাপ্যতা, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং বর্ষার পানি সময়মতো নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা আমন চাষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। এ মৌসুমে ব্রিআর-ধান-২২, ব্রি-ধান-৭৫, বিনা-৭ ও বিনা-১৭সহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে।
কৃষকদের বাড়তি আবাদ সফল করতে এবং তারা যাতে বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের জমিতে গিয়ে ধানের চারাগাছের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
আমনক্ষেতে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের বিষয়ে আগাম পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ধানের ফলন বাড়াতে কোন সময়ে কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়ে কৃষকদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমনক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও বালাইনাশক ব্যবহারে ব্যস্ত কৃষকেরা।
উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের কৃষক মঈনউদ্দীন বলেন, “এবার জমিতে ধানের চারা রোপণের আগে ও পরে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় সেচের খরচ কিছুটা কম হয়েছে। বন্যা না থাকায় নিচু জমিতেও চাষাবাদ বেড়েছে। তবে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে খরচ কিছুটা বেড়েছে।
করাব গ্রামের কৃষক অর্জুন দেব বলেন, এবার নিজস্ব বীজতলা তৈরি করে সেখান থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছি। সব মিলিয়ে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। যেসব নিচু জমি থেকে পানি নেমে গেছে, সেসব জমিও চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন।”
কৃষি বিভাগ বলছে, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবং রেকর্ড পরিমাণ আমন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।


