এমসি কলেজ প্রতিনিধি :
শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন থিয়েটার মুরারিচাঁদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা।
বুধবার (১ জুলাই) ‘উচ্চারণ, আবৃত্তি, টেলিভিশন উপস্থাপনা, নাটক, সংগীত ও নৃত্য’ বিষয়ক এ কর্মশালার প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
থিয়েটার মুরারিচাঁদের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ফারহানা জামান এ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশে শিল্পচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আয়োজকেরা জানান, কর্মশালার প্রথম দিনে দুটি ভিন্ন পর্বে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রথম পর্বে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী প্রতীক এন্দ। তিনি সংগীতচর্চার মৌলিক বিষয়, কণ্ঠের সঠিক ব্যবহার, সুর, তাল, লয় এবং সংগীতের নান্দনিকতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
দ্বিতীয় পর্বে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী ও ‘এখন টিভি’র ব্যুরো প্রধান গোলজার আহমেদ। তিনি শুদ্ধ উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের যথাযথ ব্যবহার, আবৃত্তির কৌশল, শব্দের সঠিক প্রয়োগ, বাচনভঙ্গি এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক ক্লাস নেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মশালা কেবল শিল্পী তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ব্যক্তিত্ব গঠন, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, সৃজনশীল চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্যও এমন প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রথম দিনের সফল আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় কর্মশালার পরবর্তী দিনগুলো আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।


