Homeজাতীয়সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর...

সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

চলে গেলেন লোকসংগীতের বরেণ্যশিল্পী ফরিদা পারভীন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১। তিনি স্বামী এবং ৪ সন্তান রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, সপ্তাহে দুই দিন তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে যান না–ফেরার দেশে।

১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে ফরিদা পারভীনের পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর পার হতে হয় অনেক চড়াই-উতরাই। পারিবারিক সূত্রেই গানের ভুবনে আসা। গানের প্রতি বাবার টান ছিল বেশি। দাদিও গান করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে তাঁকে।

শৈশবে যখন মাগুরায় ছিলেন, তখন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তালিম থেকে দূরে থাকেননি। নানা ধরনের গান করলেও শিল্পীজীবনে পরিচিতি, জনপ্রিয়তা, অগণিত মানুষের ভালোবাসা মূলত লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। যখন থেকে লালনের গান গাওয়া শুরু হয়েছিল, তারপর আর থেমে থাকেননি।

শুরুতে নজরুলসংগীত, পরে আধুনিক গান দিয়ে ফরিদা পারভীনের যাত্রা শুরু হলেও জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। এ প্রসঙ্গে ফরিদা পারভীন বলেছিলেন, ‘নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা ঘটে। কুষ্টিয়ায় স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসক আমার গানের বেশ মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। কিন্তু কেন জানি, তিনি আমার কণ্ঠে লালনগীতি শুনতে চাইতেন। তাঁর মনে হতো, লালনের গান আমার কণ্ঠে বেশি ভালো লাগবে। তাই হঠাৎ করেই আমাকে একদিন লালন ফকিরের গান শেখার পরামর্শ দেন। কিন্তু শুরুতে লালনের গান গাইতে চাইনি। আমার এই অনীহা দেখে বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে গান শেখার জন্য রাজি করান। বলেন, “ভালো না লাগলে গাইবি না।” এই শর্তে রাজি হই এবং লালনসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। “সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন”, লালনের বিখ্যাত গানটি শিখি। একই বছর দোলপূর্ণিমা উৎসবে গানটি গাইলে শ্রোতারা আমাকে লালনের আরও একটি গান গাইতে অনুরোধ করেন। তখন আমি গান গাইতে অসম্মতি জানাই। শ্রোতাদের বলি, “আমি একটি গান গাইতে শিখেছি। এটাই ভালোভাবে গাইতে চাই।” এ গানই আমার নতুন পথের দিশা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, কী আছে লালনের গানে। তাঁর গানে মিশে থাকা আধ্যাত্মিক কথা ও দর্শন আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এ পর্যায়ে অনুভব করি, লালন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনবদ্য এক স্রষ্টা হয়ে উঠেছেন। এটা বোঝার পর লালনের গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’

৫৫ বছরের সংগীতজীবনে ফরিদা পারভীনের অনেক স্মরণীয় স্মৃতি আছে। সে রকম একটি ঘটনার কথা এভাবেই বলেছিলেন, ‘১৯৭৩ সাল। বিভিন্ন আখড়া থেকে বাউলশিল্পীদের ঢাকায় এনে লালনের গান রেকর্ডের পরিকল্পনা করেন ওস্তাদ মকছেদ আলী সাঁই। তিনি তৎকালীন রেডিওর ট্রান্সক্রিপশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আমন্ত্রণে ঢাকায় রেডিওতে আসি। এ সময় স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন আবদুল হামিদ চৌধুরী, কমল দাশগুপ্ত, সমর দাস, কাদের জমিলির মতো বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞেরা। খুব ভয় হয়েছিল। তাঁদের সামনে আমাকে গাইতে হলো। ১৫ মিনিটের একক সংগীতানুষ্ঠান করে তাঁদের প্রশংসা পেয়েছিলাম। এটিই আমার অন্যতম স্মরণীয় স্মৃতি।’
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহরে বসে লালনসংগীতের চর্চা করেছেন। নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন ছোটবেলায় ছিলেন চঞ্চল প্রকৃতির। প্রায় সারাক্ষণ তিনি দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলা করে বেড়াতেন। তাঁর দাদা ও নানার বাড়ির মাঝখানে ছিল একটি নদ। আত্রাইয়ের সেই শাখা নদের নাম ছিল গুর। ওই নদ পার হয়ে অধিকাংশ দিন তরুণী ফরিদা দাদার বাড়ি থেকে নানার বাড়ি যেতেন। নানার বাড়ির পাশে ছিল বিরাট একটা বিল। ছোটবেলায় খেলার সঙ্গী মামাতো ভাই–বোনদের সঙ্গে মিলে শাপলা তুলতে যেতেন সেই বিলে।
ছোটবেলা থেকেই ফরিদা পারভীনের ভালো লাগত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান। তখন তিনি বুঝতেনও না যে তিনিই সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু রেডিও ছেড়ে দিয়ে তাঁর গান শুনতেন। ফরিদা পারভীনের বেড়ে ওঠাটা একেবারে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রামে নয়। কারণ, তাঁর বাবা মেডিকেলে চাকরি করতেন আর তাঁর চাকরির বদলির সুবাদে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ফরিদাকেও বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। এ কারণে ফরিদার বেড়ে ওঠাতে বিভিন্ন জায়গার ছাপ পড়েছে। ফরিদা পারভীনের স্কুলজীবন কেটেছে বিভিন্ন শহরে। তবে তাঁর স্কুলজীবনের শুরুটা মাগুরায়। একাধিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি কুষ্টিয়ার মীর মশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেন।
ফরিদা পারভীনের গানের হাতেখড়ি মাগুরা জেলায়। সেটা ১৯৫৭-৫৮ সালের কথা, তখন তিনি মাত্র চার-পাঁচ বছরের মেয়ে। সে সময় মাগুরায় তাঁকে গানে হাতেখড়ি দিয়েছিলেন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তী। এরপর যেখানেই তিনি থেকেছেন, সেখানেই বিভিন্নজনের কাছে গানের তালিম নিয়েছেন। স্বরলিপি দিয়ে নজরুলের গান হারমোনিয়ামে ও কণ্ঠে তোলার কাজটি তিনি ওস্তাদ মীর মোজাফফর আলীর কাছেই প্রথম শেখেন। ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর লালন সাঁইজির গানের সঙ্গে ফরিদার পারভীনের যোগাযোগ, তখন তিনি কুষ্টিয়াতে থাকতেন। সেখানে তাঁদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন মোকছেদ আলী সাঁই। ১৯৭৩ সালে ফরিদা পারভীন তাঁর কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মাধ্যমে লালন সাঁইজির গানের তালিম নেন। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের মৃত্যুর পর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালনসংগীতের তালিম নেন।

স্বাধীনতার পর ফরিদা পারভীন ঢাকায় চলে আসেন। তাঁর গাওয়া গান দিয়ে ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস শুরু হলো। মোকছেদ আলী সাঁই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি ফরিদা পারভীনকে ঢাকায় কিছু লালনের গান গাইতে বলেন। তাঁর অনুরোধে তিনি তখন ‘খাঁচার ভিতর’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’ গানগুলো গাইলেন। তখন তিনি কুষ্টিয়া থেকে এসে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনের গান শিখে ট্রান্সক্রিপশনে রেকর্ডিং করতে থাকেন। ফরিদা পারভীনের প্রথম স্বামী প্রখ্যাত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আবু জাফর। তাঁর সেই সংসারে রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে; জিহান ফারিয়া, ইমাম নিমেরি উপল, ইমাম নাহিল সুমন ও ইমাম নোমানি রাব্বি।
লালন সাঁইজির গানের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বদরবারেও তিনি লালন সাঁইয়ের বাণী ও সুরকে প্রচারের কাজে নিয়েজিত ছিলেন। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও বহু দেশে লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন। লালনসংগীতে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। এর বাইরে ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন। লালনশিল্পী হিসেবেই সুপরিচিত হন, তাঁর কণ্ঠে বেশ কটি আধুনিক ও দেশের গান জনপ্রিয় হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ ইত্যাদি।

spot_img

Most Popular

আরও পড়ুন

সাস্টে ৩ দিনব্যাপী ‘আইডিয়া-টু-এন্টারপ্রাইজ’ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাস্ট) শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে...

শাবিপ্রবিতে খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন বিবিএ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে...

লাখাইয়ে গ্রেফতার আর জামিনেই চলছে মাহফুজের জীবন

নাজিম উদ্দিন, লাখাই : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের মাহফুজ মিয়া (৫৫)।...

জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো এমসি কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন বরণ‎

‎এমসি কলেজ প্রতিনিধি:‎‎জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের...

spot_img

পড়ুন

সাস্টে ৩ দিনব্যাপী ‘আইডিয়া-টু-এন্টারপ্রাইজ’ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাস্ট) শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী ‘আইডিয়া-টু-এন্টারপ্রাইজ’ বিষয়ক অনুসরণমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ প্রতিপাদ্য...

শাবিপ্রবিতে খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন বিবিএ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। ফাইনালে সমাজকর্ম বিভাগকে ৩–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের...

লাখাইয়ে গ্রেফতার আর জামিনেই চলছে মাহফুজের জীবন

নাজিম উদ্দিন, লাখাই : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের মাহফুজ মিয়া (৫৫)। দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার, কারাবাস ও জামিনে মুক্তির মধ্যেই তার জীবন ঘুরপাক খাচ্ছে বলে পুলিশের অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার এক বছরের সাজাও...

জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো এমসি কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন বরণ‎

‎এমসি কলেজ প্রতিনিধি:‎‎জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎‎গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সকালে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্যালারিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ফোরামের আয়োজনে এ নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ, অধ্যক্ষ, মুরারিচাঁদ কলেজ,...

লাখাইয়ে সংস্কারের অভাবে রাস্তার বেহাল দশা

নাজিম উদ্দিন, লাখাই : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ডিসি রোড থেকে ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে লাখাই বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পাকা আস্তরণ, খোয়া ও ইট উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি...

কচুরিপানায় অতিষ্ঠ লাখাইয়ের কৃষক, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে মিলছে সমাধান

নাজিম উদ্দিন,লাখাই : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় খাল-বিল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে কচুরিপানার স্তূপ জমে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়া এবং কৃষিকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে কচুরিপানা অপসারণের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের...

‎শাবিপ্রবিতে ‘খোয়াই বন্ধন’-এর নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ‎‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘খোয়াই বন্ধন’র নবীনবরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎‎‎বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। ‎‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা...

এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম মিনারের মৃত্যু, সহপাঠীদের মধ্যে শোক

‎‎এমসি কলেজ প্রতিনিধি: ‎সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম মিনার আর নেই। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।‎‎আব্দুল কাইয়ুম মিনার এমসি কলেজের অনার্স ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ...

শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন শান্তিগঞ্জের রুমা চক্রবর্তী

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমা চক্রবর্তী। গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাঁকে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমার সম্মতিক্রমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন...

শাবিপ্রবির পরিবহনপুলে সীমান্ত ব্যাংকের মাইক্রোবাস উপহার

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (শাবিপ্রবি) উপহার হিসেবে একটি মাইক্রোবাস দিয়েছে সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মাইক্রোবাসটি হস্তান্তর করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য জি এম রবিউল...

শাবিপ্রবিতে বাফসার ২১তম কমিটি গঠন: সহ-সভাপতি আলভী, সাধারণ সম্পাদক আসিফ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘বাংলাদেশ প্রফেশনাল ফরেস্ট্রি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (বাফসা)-এর ২১তম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিফ জামি আলভী এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ আদনান নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার...

ধর্মপাশায় শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসক লাঞ্ছিত ও ভাঙচুর

ধর্মপাশা-মধ্যনগর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তিন মাস বয়সী সিয়াম নামের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কে লাঞ্ছিত ও জরুরি বিভাগের কক্ষের জানালার কাঁচ এবং সেখানে থাকা একটি নেভুলাইজার মেশিন ভঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার...