ফেরদৌস টৌধুরী রুহেল ::
সময়টা গেলো শতকের সত্তর আশির দশক। সিলেট শহরজুড়ে তখন মাঠের অভাব ছিলো না। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের এলাকাতেই কয়েকটি মাঠ ছিল। এর মধ্যে মজুমদারী মাঠটি ছিলো বেশ পরিচিত। এছাড়া পীরমহল্লাহ, চৌকিদেখি মুচিরহাওর মাঠও ছিলো খেলাধুলা্য় সরগরম। মজুমদারী মাঠে সব সময় ফুটবল টুর্নামেন্ট লেগেই থাকত। সিলেটের সব নামিদামি খেলোয়াড়দের পা পড়েছিলো এই মাঠে। আমরাও তাদের খেলা উপভোগ করতাম। এছাড়া মজুমদারী মাঠটি স্থানীয় খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্যও ব্যবহার হত। একইভাবে পীরমহল্লাহ, চৌকিদেখি মুচিরহাওর মাঠও স্থানীয়দের খেলাধুলা ও অনুশীলনে ব্যবহৃত হত। ১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে মজুমদারী মাঠ বিলুপ্ত হতে থাকে এবং চৌকিদেখি মুচিরহাওর মাঠেরও বিলুপ্তি ঘটে। তখন শুধুমাত্র পীরমহল্লাহ মাঠে আমরা প্রভাতী সংঘের খেলোয়াড়দের অনুশীলন করার মতো জায়গা ছিল। লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকার মাঠে তখন বাগানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তান এবং কখনও কখনও কর্মকর্তারা ফুটবল খেলতেন। আমাদের এই বৃহত্তর মজুমদারী, চৌকিদেখি, পীরমহল্লাহ, ইলাশকান্দি, বাদামবাগিচায় (তখনকার মালিপাড়া) খেলোয়ারদের খেলার মাঠ না থাকায় রংধনু ক্রীড়া চক্র চৌকিদেখী প্রথম উদ্যোগ নেয় লাক্কাতুরা মাঠে খেলার ব্যবস্থা করার। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি এবং তখনকার সময় আমার বড় ভাই মরহুম সোয়েব চৌধুরী আমাদের ওয়ার্ডের (তখন এ এলাকা ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের আওতাধীন ছিলো) মেম্বার ছিলেন। তিনিসহ রংধনু ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তারা বিশেষ করে ছমির আলী, ছমির উদ্দিন (লেচু চাচা), আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, আনহার আলী, আমি (প্রভাতী সংঘের প্রতিনিধি হিসেবে) এবং বাগানের পক্ষে মরহুম ভুঁইয়া চাচা, আকল চাচা, শুকুর আলি মেম্বারসহ আরও অনেকে এ উদ্যোগে শামিল হন। সিদ্ধান্ত হলো আমরা সবাই চা বাগানের যারা আছেন তাদের সাথে মিলেমিশে এই মাঠে খেলবেন। তখনকার লাক্কাতুরা মাঠটি ছিলো খুব ছোট। ভুইয়া চাচা ছিলেন খুব আন্তরিক খেলাপাগল মানুষ। উনি বাগানের ম্যানেজারের সাথে আমাদের নিয়ে আলোচনা করেন মাঠ একটু বড় করা যায় কিনা এ বিষয়ে। সিদ্ধান্ত হয় মাঠ বড় করার। যথারীতি কাজ শুরু হয়, মাঠ কিছুটা বড়ও হয়। ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে রংধনু ক্রীড়া চক্র এ মাঠে আয়োজন করে টুলটিকর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের। মূলত এই জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় লাক্কাতুরা খেলার মাঠের। ওই টুর্নামেন্টের স্পন্সর ছিলেন প্রবাসফেরত তাজুল ইসলাম বাবুল (মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা)। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে মরহুম ক্রীড়া সংগঠক কমরু মিয়ার (ঝাড়ু ভাই) নামে আরেকটি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে রংধনু ক্রীড়া চক্র চৌকিদেখি। ভেন্যু সেই লাক্কাতুরা মাঠ। যেখানে সিলেট তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় পরিচয় ছেড়ে সিলেটের অন্যতম একটি মাঠ হিসেব আনুষ্ঠানি স্বীকৃতি মেলে লাক্কাতুরা মাঠের। (চলবে)
ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, ক্রীড়া সংগঠক


