Home Blog Page 9

চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে নিখোঁজ সিলেটের জকিগঞ্জের রাজন, লাশ মিলল হবিগঞ্জের বাহুবলে

0

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ::

চাকরির জন্য পরীক্ষা (ইন্টারভিউ) দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জের মাহবুব সরোয়ার রাজন (৩০)। পরীক্ষা শেষে শুক্রবার ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি রাজনের। রোববার হবিগঞ্জ থেকে তার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজন জকিগঞ্জ উপজেলার গন্ধগত্ত এলাকার বাসিন্দা। রাজন প্রায় আট মাস আগে বিয়ে করেন।রোববার দিনে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী দাসপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ। এরপর রোববার (১২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজনের ছবি দেখে শনাক্ত করে তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব সরোয়ার রাজন ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শায়েস্তাগঞ্জ–সাটিয়াজুরি রেলপথের দাসপাড়া এলাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।

নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না রেলওয়ের কর্মচারী। তিনি জানান, রাজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হয়। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে স্থানীয়রা দুপুরের দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। পরে মরদেহটি রাজনের বলে শনাক্ত করা হয়।

নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তিনি জানান, রাজনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করতে না পেরে রোববার দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সবশেষ অবস্থান রাত ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের বহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষায় এআই ও প্রযুক্তি দক্ষতা অপরিহার্য: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

দেশের উচ্চশিক্ষাকে যুগান্তকারী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা, সৃজনশীল উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই চরম প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল প্রথাগত সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এগুলোকে যুগান্তকারী জ্ঞান সৃষ্টি, প্রায়োগিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।

রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সাস্ট কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল কার্নিভাল-২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ এবং সিএসই সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল প্রযুক্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে গভীর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে নিছক একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী হ্যাকাথন ও প্রযুক্তি মেলার মতো আয়োজনগুলো শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধানে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রবলভাবে উৎসাহিত করে।

সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। শিক্ষা খাতের বাজেটও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও হলের সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষক সংকট দূর করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সেবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে আমরা ক্যাম্পাসে একটি মেগা ‘জব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। এ লক্ষ্যে আমি ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৬টি প্রযুক্তি ও করপোরেট কোম্পানির সাথে আলোচনা সম্পন্ন করেছি এবং আগামীতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “আমরা কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের (ইউনিক কোয়ালিটি) মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে দেশ-বিদেশের জব মার্কেটে তাদের যোগ্যতা, চাহিদা ও মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই সেরা সময়টাকে তোমরা যেন যথাযথভাবে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারো, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসাইন, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান, বিকাশ-এর চিফ প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি অফিসার মোহাম্মদ আজমল হুদা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

এছাড়াও দুই দিনব্যাপী আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রযুক্তি উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর পর্ব ছিল টানা ২৪ ঘণ্টার হ্যাকাথন এবং ৫ ঘণ্টার স্নায়ুক্ষয়ী প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তাদের উদ্ভাবনী বুদ্বিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার তীব্র লড়াইয়ে মেতে ওঠে। হলরুমের নিস্তব্ধতায় কেবল শত শত ল্যাপটপের পর্দার আলো, কি-বোর্ডের একটানা শব্দ আর কফির কাপে চুমুকের মাঝেই জন্ম নেয় আগামী দিনের নানা প্রযুক্তিগত সমাধান।

অন্যদিকে, ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা মস্তিষ্কের অধিকারীরা জটিল সব গাণিতিক ও অ্যালগরিদমভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দেন।

এবারের সাস্ট কার্নিভালে সারা দেশের প্রায় ৮০টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৯টি মেধাবী টিম অংশগ্রহণ করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বিয়ানীবাজারে মেয়েকে হত্যার ঘটনায় বাবা গ্রেপ্তার

0

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে কিশোরী মেয়েকে ঘটনায় তার বাবা আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন তথ্যেরে ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন আবু বক্কর। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামের ওই কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে (৪৫) প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা। রিয়া স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। হত্যার ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক আবু বক্করের মেয়ে রায়কা আক্তার রিয়ার (১৭) সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক বছর পূর্বে ওই ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। একমাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ছেলেটি বখাটে, তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক, তাই বিয়ে দেওয়াও সম্ভব হয়নি। মেয়েকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৩/৪ মাস যাবত ইনাম গ্রামে তার নানার বাড়িতে রাখা হয়। কিন্তু সেখানে থাকাবস্থায় পুরোনো প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে আবারও পালানো চেষ্টা করে রিয়া। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে আটকায়। ঘটনাটি জানতে পেরে তার বাবা আবু বকর ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে বৃহস্পতিবার বাড়িতে ‍নিয়ে যান। তবে রাত্রে কোনো ঝামেলা হয়নি। মেয়ের প্রতি বাবার ক্ষুব্ধ মনোভাব বুঝতে পেরে শুক্রবার সকালে মেয়েকে তার নানী ও মামা পুনরায় তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। তখন মেয়ের বাবা বাড়িতে ছিলেন না।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানোর জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন তিনি। এরপরেও মেয়ে তার কথা না শুনায় তিনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নিহতের নানাবাড়ির পুকুর ঘাটে মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শাবিপ্রবি উপাচার্যের গভীর শোক প্রকাশ

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।

রোববার ভোর সোয়া চারটার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বার্ধক্যজনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

শোক বার্তায় উপাচার্য বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আইন অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা এবং নিরপেক্ষতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে হারালো। “

বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শাবিপ্রবিতে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা ও কুইজ অনুষ্ঠিত

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সোচ্চার স্টুডেন্টস’ নেটওয়ার্ক সাস্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে “মানবাধিকার এবং ছাত্র-সক্রিয়তা: সুযোগ ও দায়িত্ব” শীর্ষক কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের গ্যালারি রুম-২-এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. শাদমিম হাসান সিফাত।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট লস্কর আবিদ মনোয়ার, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং অফিসার আবদুল্লাহ আল বুখারী এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও গবেষক সুমাইয়া তাসনিম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবাধিকার, শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং ইতিবাচক ছাত্র-সক্রিয়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সোচ্চার স্টুডেন্টস’ নেটওয়ার্ক, সাস্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি জসিম উদ্দিন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মশালা শেষে মানবাধিকার বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ীর হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

লাখাইয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

0

নাজিম উদ্দিন, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে আরশিয়া (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আরশিয়া ঢাকার মহাখালী এলাকার বাসিন্দা বাপ্পি আহমেদের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, উপজেলার পূর্ব রুহিতনশী গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া তালুকদারের মেয়ে জান্নাত আক্তার (মৌসুমী) শিশু মেয়ে আরশিয়াকে নিয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) রাত প্রায় ৯টার দিকে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের বর্ষার জমে থাকা পানিতে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় আরশিয়া। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের পানিতে আরশিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি লাখাই থানা পুলিশকে জানানো হয়। আরশিয়ার এ-ই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাবি ছাত্রীদের সিট বাতিল সংক্রান্ত ২০১০ সালের পুরনো খবর নিয়ে বিভ্রান্তি

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রীদের হল সংক্রান্ত একটি পুরনো খবরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় “শাবি ছাত্রীদের বিয়ে হলেই সিট বাতিল” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই পুরনো সংবাদের কাটিংটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে অনেকেই নানা ধরণের মন্তব্য করছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।প্রকৃতপক্ষে, এই সিদ্ধান্তের সাথে শাবিপ্রবির বর্তমান প্রশাসনের কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে ২০১০ সালের তৎকালীন হল প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যা বর্তমানের বাস্তবতায় কার্যকর নয়।

তৎকালীন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোনো ছাত্রী বিয়ের তথ্য গোপন করলে তার সিট বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৎকালীন হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. নাজিয়া চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিবাহিত ছাত্রীদের নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হওয়া এবং নিয়মশৃঙ্খলার স্বার্থে তৎকালীন প্রশাসন এই নিয়মটি চালু করেছিল।

ফেসবুকে বা অন্য মাধ্যমে যে ছবিটি ঘুরছে, সেটি স্পষ্টতই ২০১০ সালের ২৯ আগস্টের (১৪ ভাদ্র ১৪১৭ বঙ্গাব্দ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কাটিং।

সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই

0


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য শরফ উদ্দিন খসরু ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শরফ উদ্দিন খসরু সিলেট-৬ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৫ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে তিনি আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান। পরে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট (পিডিপি) থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি।

শরফ উদ্দিন খসরুর জন্ম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরের দক্ষিণভাগ এলাকায়। তার পিতা ছিলেন আসদ্দর আলী। গ্রামের স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করে তিনি ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা শরফ উদ্দিন খসরু সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে সাবেক এ সাংসদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

শোকবার্তায় এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু ভাই ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। নির্লোভ, সদালাপী এবং অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত খসরু ভাইকে আল্লাহ্ জান্নাতবাসী করুন। বিগত নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে অনেক পরিশ্রম করেছেন। সর্বশেষ গত রমজানে গোলাপগঞ্জে আমাদের ইফতার মাহফিলেও তিনি যোগদান করেছিলেন।”

শাবিপ্রবির কাইজেন সাস্ট’র ১৫তম কমিটি গঠন: সভাপতি ফখরুল, সাধারণ সম্পাদক রাফিয়া

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমভিত্তিক সংগঠন ‘কাইজেন সাস্ট’র ১৫তম কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ফখরুল ইসলাম এবং সাধারন সম্পাদক একই শিক্ষাবর্ষের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রওনক জাহান রাফিয়া।

শুক্রবার (১০জুলাই) বর্ণাঢ্য গালা নাইটে এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শহীদ হাসান জয়। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইব্রাহিম খলিল, মো. আনিছুর রহমান, ফারজানা আক্তার, হাফিজুন নেছা লামি ও নয়ন মনি দাস। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাইহান কবির এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ আল আবির।

উপ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহজাবিন সুলতানা দিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন অর্ণব সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন ও নাফিউল নূর নাফি, সহ-কোষাধ্যক্ষ মো. সৈকত আলি।

এছাড়া আইটি সম্পাদক সাবিত উল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মো. তারেকুল ইসলাম, কর্পোরেট রিলেশনস সম্পাদক রাফিউল হোসাইন লিংকন, স্পন্সর ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক তানভীর হাসান সিজান, স্কুল-ইন-চার্জ জিকরুল শাহরিয়ার অয়ন, রাকিবুল ইসলাম জিসান, মিনহাজ সামি, মো. মুতাসিমুল হাসান ও মোহাম্মাদ শায়াদ খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব, আব্দুল্লাহ আল মাহিদ ও আসাদুজ্জামান তাসনিম, সহ-প্রকাশনা সম্পাদক হাসানুল আবির ও তাসফিয়া আহমেদ অথৈ। অফিস সম্পাদক মো. সাইফুল আজমান সোহাগ, গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পাদক খন্দকার ইকরামুল ইসলাম, সহ-কর্পোরেট রিলেশনস সম্পাদক তানভীর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সুদিপ কুমার রায় এবং ডেপুটি স্কুল-ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আল মামুন ও আতিক।

সংগঠন সূত্র জানা যায়, গালা নাইটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদায়ী ১৪তম কার্যনির্বাহী কমিটির এক বছরের সফল পথচলার স্মৃতিচারণ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন অর্জন, প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী নেতৃত্বকে সম্মাননা জানানো এবং নতুন নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী সভাপতি শাফি আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক হিমেল দাস, বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও আল রোমান। এছাড়াও বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন ব্যাচের সদস্য এবং সংগঠনের শুভানুধ্যায়ীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিদায়ী কমিটির সদস্যদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতুন কমিটির সদস্যরা সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সৌহার্দ্য, উদ্দীপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাইজেন সাস্টের নতুন যাত্রার সূচনা হয়।

জন্মস্থান মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার জন্মস্থান দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। সেখানকার পবিত্রতম ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হয়। ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরা শোকাহত লাখো মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান–সংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন। খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা ও শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি হলো। তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গত মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধের প্রথম দফায় নিহত হন খামেনি। টানা হামলার ৪০ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত মাসে যুদ্ধ শেষ করতে দেশ দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এখন তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলাও চলছে দুই দেশের মধ্যে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মার্চের শুরুতে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে। তবে এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠধারণও প্রকাশ করা হয়নি। তবে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। বাবাকে হত্যা করা হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।

তেহরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মোজতবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনো জনসমক্ষে আসার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। পাশাপাশি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখছে। খামেনির শোকযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় মাশহাদে জড়ো হওয়া অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি তরুণ বয়সে কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন।