Home Blog Page 8

জানুয়ারিতে শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তিন দিনব্যাপী রি-ইউনিয়ন

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তিন দিনব্যাপী রি-ইউনিয়ন ২০২৭ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সাস্ট’ (এএবিএ সাস্ট)-এর উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদের সহযোগিতায় এই উৎসব ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি ‘এএবিএ সাস্ট’-এর নির্বাহী কমিটির (ইসি) এক সভায় রি-ইউনিয়ন আয়োজনের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য আয়োজনটি সফল করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে নির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ নির্ধারণ করে।

এএবিএ সাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ফেরদৌস চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রি-ইউনিয়নের প্রথম দিন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ‘নেটওয়ার্কিং সেশন’ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী দুই দিনে থাকবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

নেতৃবৃন্দ আরও জানান, এই রি-ইউনিয়নের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার (ডাটাবেস) তৈরি করা। এর মাধ্যমে দুই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিভাগের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিদায়ী ব্যাচ পর্যন্ত সব প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

উক্ত নির্বাহী কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাহিয়ান খান, যুগ্ম সম্পাদক রতন অধিকারী রাতুল ও মো. আজিজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহেরু হেলাল, ক্রীড়া সম্পাদক সোহরাব রানা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য একিউএম আব্দুল্লাহ আল মনসুর প্রমুখ।

শাবিপ্রবির রিম মিউজিক্যাল ক্লাবের নেতৃত্বে তাফহিমুল – অতি

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ক সংগঠন রোকন ইফতেখার মেমোরিয়াল মিউজিক্যাল ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ তাফহিমুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আদন আহমেদ অতি মনোনীত হয়েছেন।

বুধবার ( ১৫ জুলাই) সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৌরভ হাসান ও বৈশাখি ভেরোনিকা কুবি, সহ-সভাপতি সাদিয়া তানজিম আলভি ও রাফিয়া তাসকিন নূর দোলা এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির মাহাদী হাসান, ব্যান্ড লিডার হিসেবে অর্ক প্রভ রায় দিব্য, সহকারী মিউজিক স্কুল সমন্বয়ক সুমিত ফারহান , সহকারী ব্যান্ড ম্যানেজার শ্রাবণ বিশ্বাস , সহকারী ব্যান্ড লিডার নাফিজ আহমেদ এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক সুষ্ময় মহন্ত, সহকারী প্রকাশনা সম্পাদক ফাইজা ইসলাম , সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন কুমার সরকার মনোনীত হয়েছেন।

মিউজিক স্কুল সমন্বয়ক আদিত্য শংকর দাস , ব্যান্ড ম্যানেজার অভিজিৎ কুমার চৌধুরী , দাপ্তরিক ও প্রচার দপ্তর সম্পাদক আকাশ সরকার ও সৈকত মন্ডল , প্রচার সম্পাদক নকিব হাসান শুভ এবং প্রকাশনা সম্পাদক নুমান হাসান শুভ্র মনোনীত হন। ক্লাবের সামগ্রিক কার্যক্রমের তদারকিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদমান হৃদয় এবং অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশিক বিল্লা , সুশান্ত বিশ্বাস ও সুমন মিয়া।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাগিব নিহাল, প্রদিপ্ত, অর্ণব , মাশরুর শখসিয়াত, সানাত, নম্র , পার্থ , হাসিব , নিলয় , আতিকা তাহসিন , শেখ সাদ বিন বখতিয়ার এবং শাহীন হোসেন শাফিন।

শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগে ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‘ফলে মিলুক পুষ্টি, প্রাণে জাগুক প্রীতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ‘ডি’-তে বাংলা সমিতির আয়োজনে এই ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন ও লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই আমাদের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ভুলতে বসেছি। বাংলা বিভাগের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যকে যেমন স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন উৎসবমুখর আয়োজন শুধু আনন্দ জোগায় না, বরং ক্যাম্পাস জীবনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমি এই সুন্দর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিজাউল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কেবল পুষ্টির চাহিদা মেটানোই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে এবং প্রাণের মেলবন্ধন তৈরিতে আমাদের এই আয়োজন। প্রতি বছরই আমরা এ ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ ধরে রাখার চেষ্টা করব।”

অনুষ্ঠিত এ উৎসবে আম, কাঁঠাল, লটকন, আনারসসহ নানা রকম দেশীয় মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আনন্দঘন আড্ডার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

সাগরে আবার লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

0

আধুনিক ডেস্ক ::

বঙ্গোপসাগরে আবার একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালেই এটি সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, লঘুচাপটির নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে দু–এক দিন বৃষ্টি বাড়লেও প্রায় আট দিন ধরে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা মোটেও হবে না। এই লঘুচাপের কারণে অবশ্য আজ দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–ওডিশা উপকূলে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই দেশের চার বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। বন্দরগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা। এই সতর্কবার্তা জারি করে সাগরের মাছ ধরার নৌকা বা ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর একটু উত্তাল হতে পারে। এই লঘুচাপ নিম্নচাপ হবে না। এটি বড়জোর সুস্পষ্ট লঘুচাপ হতে পারে। আর তা হয়ে ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দিকে চলে যাবে। এর প্রভাবে অবশ্য আগামী শুক্র ও শনিবার বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে। রাজধানীতেও বৃষ্টি হতে পারে। অবশ্য দেশের কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে কোথাও কোথাও।

৫ জুলাই নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল বর্ষণে দেশের অন্তত ১১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ১২ তারিখ পর্যন্ত এ মাসের গড় বৃষ্টির ৭৯ শতাংশই হয়ে গেছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। এ দফায় তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, আবহাওয়াবিদেরা বলছেন তেমনই।

কোম্পানীগঞ্জের তেলিখাল ইউপির প্রশাসক হলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা

0

কোম্পানিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওদুদ আলফু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে গত ২১ জুন পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিধিমালা অনুযায়ী গত ১ জুলাই ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ওপর তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জারি করা ওই আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর। তিনি ৩৪তম বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে মৎস্য বিজ্ঞানে স্নাতক (অনার্স) এবং মৎস্য ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন এবং আমি, দুজনই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলাম। দুজনই প্রার্থী হওয়ায় নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ওপর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ কাজী আব্দুল ওদুদ আলফু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর খনিজসম্পদ-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে যান। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর ২০২৬ সালের ২৪ মে তিনি মুক্তি পান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন প্রায় আট মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অফিস আদেশের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ভুল, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

0

আধুরিক ডেস্ক ::
এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র মডারেশনের (পরিশোধন) দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল। তা ছাড়া প্রশ্ন কঠিন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সোমবার হওয়া ওই পরীক্ষা আবার নেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দিনভর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্রটি মডারেশনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন। ওই চারজন শিক্ষক সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন।

সরকারের পক্ষ থেকেও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে বলেছেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। এই প্রশ্নপত্রের জন্য যেসব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান ও সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, ১৩ জুলাই সোমবার সকালের পরীক্ষা চলাকালে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি বা অসংগতি দেখা দিয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি থাকায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও পরিশোধক হিসেবে প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এ ধরনের কাজে সিলেট বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি বা অসংগতি থাকার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব এই নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা, বগুড়া, বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ

0

আধুনিক ডেস্ক ::

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা উত্তরায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। দুই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় ও বগুড়াতেও শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি চত্বরের সামনে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে।

একই দাবিতে বরিশালে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বেলা দেড়টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

বিক্ষোভ হয়েছে বগুড়াতেও। বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১ টার দিকে তারা মহানগরীর সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি নগরীর সাতমাথা এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে যায়।কার্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশ করা হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেয় শিক্ষার্থীরা।

Reply

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড ও রনি, তারেক, অর্জুনের যাবজ্জীবন

0

আধুনিক ডেস্ক ::

দেশব্যাপী আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সকল আসামীদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার। রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদন্ড, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস প্রদান করেনে আদালত। তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে আসামীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ছয় বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার ঘোষণা হলো। প্রায় আড়াই ঘণ্টায় রায় পড়া শেষ করেন আদালত।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামীদের অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হওয়ার পর ২০২৫ সালের মে মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আলোচিত এ মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আদালতে সাক্ষ্য দেন। বুধবার (৮ জুলাই) আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় ঘুরতে যান এক দম্পতি। সে সময় স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত তরুণীকে (২০) গণধর্ষণ করা হয়। মামলার এজাহারের বর্ণনামতে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২০)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়েছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ। প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ছয় তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও। ঘটনার রাতেই নির্যাতনের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসএমপির শাহপরান থানায় মামলা করেন। প্রাইভেটকারটি আটকে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। মামলা দুটি প্রথমে পৃথক চললেও পরে উভয় মামলা একসঙ্গে চলার সিদ্ধান্ত হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে সন্দেহভাজন দুজন ও এজাহারনামীয় ছয়জনসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গ্রেফতার আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত এই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি, বিরোধী দলের প্রত্যাখ্যান, ওয়াকআউট

0

আধুনিক ডেস্ক ::

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। সোমবার রাতে সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। এতে পাঁচজনের নাম দিতে বিরোধী দলকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছে। চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হলেও তাঁরা কোনো সদস্যের নাম দেননি। তাই আপাতত পাঁচটি পদ শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পরে বিরোধী দল নাম দিলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

বিশেষ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএনপির সংসদ চিফ হুইপ সদস্য নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ। চিফ হুইপ এই প্রস্তাবটি করার পর বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়টা সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই চলে আসছে। প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে দিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

চিফ হুইপ একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা কখনোই বলেননি এ কমিটিতে নাম দেবেন। তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয় তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের অভিপ্রায় ও মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত নয়। এ জন্য তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করবো না এটাই নয়; বরঞ্চ এই পর্বটা আমরা যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না তার প্রতিবাদে ওয়াক আউট করছি। এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ সময় বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানান। তবে তারা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা হতে পারে, তবে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ হয়েছে এবং সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করেছে। তাই বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বিরোধী দলের দুটি শপথের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ, এটি কালারেবল লেজিসলেশন। তিনি বলেন, আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে যদি সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে। পরে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি নিজেদের ভিন্নমতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংবিধান সংস্কার’ হিসেবে দেখছে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত গুরুত্ব পায়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জাতীয় সংসদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করার কথা। তবে বিএনপি ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়নি। বিরোধী দলের সদস্যরা এ শপথ নিয়েছিলেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।

৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাড়বে চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা

0


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের হাসপাতালে রোগী পাঠানোর প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত গত ৬ জুলাইয়ের এক সরকারি পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা ও সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে অনেককেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা শহরের অন্যান্য হাসপাতালে রেফার করতে হয়। বিশেষ করে জটিল রোগ, প্রসূতি, শিশু, সার্জারি ও জরুরি বিভাগের রোগীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বৃদ্ধি করা। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু শয্যাসংখ্যাই বাড়বে না, চিকিৎসাসেবার মানও উন্নত হবে। ফলে উপজেলার মানুষ নিজ এলাকাতেই আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সচেতন মহল বলছে, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ নেবে এবং এটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে।

এদিকে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।