Home Blog Page 6

আইসিসিআর-এর ৭৭ বছর: সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

আধুনিক ডেস্ক:

ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান ও সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন এক জাঁকজমকপূর্ণ, বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইসিসিআর-এর প্রাক্তন অ্যালামনাই এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সম্প্রীতি ও ভারত-বাংলাদেশের গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য প্রদান করেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার জনাব অনিরুদ্ধ দাস।

তিনি বলেন, “আইসিসিআর কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে এক দৃঢ় সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ঐতিহাসিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তা আরও সুদৃঢ় করতে আইসিসিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসিআর-এর মাধ্যমে অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব শিক্ষার্থী শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনই নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে একটি গভীর আন্তঃসাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা লাভ করছেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইসিসিআর-এর প্রাক্তন অ্যালামনাইদের বিশেষভাবে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের জীবন্ত সেতু। আপনারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক জনাব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আইসিসিআর স্কলারশিপ প্রদানের জন্য তিনি ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের শিক্ষা সহযোগিতা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার জনাব ড. হিমাদ্রী শেখর রায় এবং প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার জনাব ড. প্রকৃতি মিশ্রা।

তারা উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আইসিসিআর-এর দীর্ঘ পথচলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন।

তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইসিসিআর বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে,কয়েকজন প্রাক্তন অ্যালামনাই তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আইসিসিআর-এর বৃত্তি তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তারা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি তারা এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত ও পরিবেশনার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনধারা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

পরে আয়োজন করা হয় এক আন্তরিক মতবিনিময় পর্ব, যেখানে অতিথিরা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত বিনিময় করেন।

সার্বিকভাবে, আইসিসিআর-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের এই আয়োজনটি ছিল অর্থবহ এবং সময়োপযোগী।

ধর্মপাশায় নিজ দোকানের ভেতর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

ধর্মপাশা – মধ্যনগর প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের দৌলতপুর বাজারের নিজ দোকানের ভেতর থেকে মো. কামরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যবসায়ীর ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম দৌলতপুর বাজারে নিজস্ব একটি মনোহারি দোকান দীর্ঘদিন ধরে  পরিচালনা করে আসছিলেন।  এবং প্রতিদিনের মতন দোকান বন্ধ করার পর দোকানের ভিতরেই রাত্রিযাপন করতেন তিনি। বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিরা দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানটি খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দোকান এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। দোকানের ক্যাশবাক্সে খোলা।  এবং নিহত কামরুল ইসলামের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন । পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোকাররম হোসেন তালুকদার  বলেন, মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এবং দৌলতপুর গ্রামে এ বিষয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন,খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এবং লাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মধ্যনগরে দুই নেতার বিরুদ্ধে কবরস্থানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ধর্মপাশা – মধ্যনগর প্রতিনিধ:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে কবরস্থানের উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অমিত হাসান রাজুর বিরুদ্ধে বংশীকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম ও মোঃ জুলহাস মিয়া বুধবার দুপুরে মধ্যনগর (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর এ অভিযোগ জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বংশীকুন্ডা সার্বজনীন কবরস্থানের উন্নয়ন, সংস্কার ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে অভিযুক্তরা নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে আংশিক কাজ সম্পন্ন করেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল তার প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের কাজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে স্থানান্তর করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অমিত হাসান রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের যোগসাজশে প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়,এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরেও পারিবারিক কবরস্থানের নামে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া ২ লাখ টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ কারীদের ভাষ্য, একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইনামুল গনি তালুকদার রুবেল বলেন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রকল্পে তিনি বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকলেও কাজ বাস্তবায়ন করেছেন কমিটির সভাপতি অমিত হাসান রাজু। তিনি দাবি করেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তার পারিবারিক কবরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা অবগত আছেন।
এ বিষয়ে (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাপগঞ্জে এলপিজি গ্যাস প্লান থেকে সরকারি মূল্যে সিলিন্ডার না পাওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের গোলাপগঞ্জের এলপিজি গ্যাস প্লান থাকা সত্ত্বেও গোলাপগঞ্জের মানুষ সরকারি মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার প্রতিবাদে ও পুনরায় তা চালুর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় গোলাপগঞ্জের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধন বক্তারা বলেন, আমাদের এলাকা থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে কিন্তু আমরা অনেকেই গ্যাস সংযোগ পাওয়া থেকেও বঞ্চিত রয়েছি। বিগত দিন আমরা কার্ডের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জ এলপিজি গ্যাস প্লান্ট থেকে সরকারি মূল্যে ৬৫০ টাকা করে গ্যাসের সিলিন্ডার পেতাম। এখন এলপিজি গ্যাস প্লান্টে আমাদের সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধ রয়েছে। 

বক্তারা আরো বলেন, এই গ্যাস প্লান্ট থেকে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি গাড়িতে করে সিলিন্ডার যায়, কিন্তু গোলাপগঞ্জের মানুষ তা পায়না। কোন অজানা ডিলারের কাছে এগুলো যায় তাও কারো অবগত নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই সিলিন্ডারগুলো বিক্রি করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হতো। এজন্য স্থানীয়ভাবে ডিলার নিয়োগ করার আহবানও জানান বক্তারা। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যাগুলো গুলো সমাধান ও এলপিজি প্লান্ট থেকের আগের মত সূলভ মূল্যে সিলিন্ডার দেওয়া না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার হুশিয়ারিও প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সালমান আহমদ, সাবিনা বেগম, রুনা বেগম, স্বপন আহমদ, হৃদয় আহমদ প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধসংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাস

আধুনিক ডেস্ক ::

সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এটিকে আইনে রূপ দিতে আজ জাতীয় সংসদে বিল পাস হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ সময় আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ–সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তাঁরা তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। এটা পুরো পড়তে পারেননি। এটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আইনটি পাসের জন্য তাঁদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই। জবাবে বিরোধী দলের নেতা বলেন, দুঃখজনকভাবে শিটটা তো পেয়েছেন এইমাত্র। তখন স্পিকার বলেন, বিষয়টি হয়তো পরে দেখবেন, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাস করার প্রস্তাব করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ–সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসীবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, তাঁরা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনটাও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলে যা আছে : বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, উক্ত সত্তা কর্তৃক বা উহার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসসক্ষে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করবে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা হয় এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

যে ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল, তার একটি সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যদেশ। তবে আজ এ–সংক্রান্ত যে বিল পাস হয়েছে, সেখানে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

ভিসা সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্বের ১৩ দেশ

আধুনিক ডেস্ক ::

যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্বের ১৩টি দেশ তাদের দূতাবাসগুলো থেকে ভিসাসহ সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ ও কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভিসা, পারমিট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা গ্রহণে আবেদনকারীদের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ১৩টি দেশ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হচ্ছে—যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ ঢাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি দেশের হাইকমিশন–দূতাবাস নিজেদের ফেসবুক পেজে আজ বুধবার বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে।

১৩টি দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। জাল কাগজপত্র ব্যবহার, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্টের সহায়তা নেওয়া কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ধরনের অনিয়মের কারণে ভিসাপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব, আর্থিক ক্ষতি, সীমান্তে প্রবেশে বাধা ও গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো দেশের মিশন বা দূতাবাস কোনো এজেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। কাজেই ভিসাপ্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা বা প্রভাব বিস্তারের দাবি করে, এমন মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর না করতে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচাইকৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে সব ধরনের ভিসাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এতে সবার জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ন্যায্য আবেদনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে

আধুনিক ডেস্ক ::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই তফসিল ঘোষণা করেন।

আখতার আহমেদ জানান, ৬ এপ্রিল কমিশনের সভায় এ–সংক্রান্ত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করা হলো। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মইনুদ্দিন খান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন মনির হোসেন। এ ছাড়া চারজন পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত থাকবেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন প্রসঙ্গে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১টি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটে থাকছে না। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও কোনো জোটে থাকছেন না।

শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই পক্ষেরই বিজয় দাবি

আধুনিক ডেস্ক ::

রাতভর ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিবে। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাজ শরীফ। ফলে অবিলম্বেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
শাহবাজ শরীফ বলেন, আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে,” বলেছেন মি. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে,” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন শাহবাজ শরীফ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আলোচনার জন্য’ ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠক ডেকেছে পাকিস্তান। সেখানে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শাহবাজ শরীফ।

শাহবাজ শরীফের ভাষ্য, আমরা আন্তরিকভাবে আশাকরি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি অর্জনে সফল হবে এবং সামনের দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরও সুসংবাদ জানাতে চাই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ইরানের দশ দফার প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া দশ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, উভয়পক্ষ নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানে সাধারণ নাগরিকদেরকে সড়কে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং ‘আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানে দুই সপ্তাহের হামলা না চালানো যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, সেটাকে ইসরায়েল সমর্থন করে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ পরমাণুর ‘ঠিকমত দেখভাল করা হবে’ বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সেটা নাহলে আমি মীমাংসা করতাম না,” বার্তাসংস্থা এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে চীনও ভূমিকা রেখেছে বলে জানতে পেরেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে আবার ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার অবস্থানে ফিরে যাবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।

সামাজিক মাধ্যমেরএক বার্তায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনীর কারণে সম্ভব হয়েছে। ইরানে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান সরকারও এটিকে নিজেদের একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান এই যুদ্ধে তার ‘প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।’

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করার শর্তে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, ইসরায়েল তা সমর্থন করে। তবে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। যদিও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগে জানিয়েছিলেন যে, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও তাদের অভিযান বন্ধ রাখবে।

আন্তর্জাতিক সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হলেও সেখান দিয়ে চলাচল করতে হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর প্রথম এক ঘণ্টায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৩ দশমিক ছয় শতাংশ কমে বুধবার ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও প্রায় ১৪ দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতিব্যারেল ৯৬ দশমিক ৮০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্তও প্রতিব্যারেল তেল ১০০ ডলারের অনেক ওপরে বিক্রি হচ্ছিল। যদিও তেলের দরে বড় পতন দেখা গেলেও সেটি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৭০ ডলারের মতো। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।

ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ, এডহক কমিটির প্রধান তামিম

আধুনিক ডেস্ক ::

বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি। আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। এর আগে তিনি এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এনএসসির পরিচালক।

এডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।

সুরঞ্জিত সেন হত্যা চেষ্টা মামলা: নিজেদের নির্দোষ দাবি আরিফ-গউছ-বাবরের

আধুনিক ডেস্ক ::

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। সোমবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে এই মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে মামলা থেকে নিজেদের অব্যাহতির দাবিও জানান।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, মামলার রায় প্রদানের আগে ৩৪২ ধারায় আদালতে আসামি পরীক্ষা করা হয়। এতে আরিফুল হক, লুৎফুজ্জামান বাবার, জি কে গউছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, এই মামলার কারণে ২৬ মাস নির্যাতনের শিার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার বাদির শাস্তি দাবি করছি।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারন করেছেন।

এরআগে বেলা ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত চত্বরে এসে হাজির হন। এসময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। এই মামলার শুনানির জন্য আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে অংশ নেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।