Home Blog Page 5

মারধরের ঘটনায় শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর ঘটনায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। বহিষ্কতরা হলেন শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখার যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

শাবিতে খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় ছাত্রদলের দুই নেতার মারধরের শিকার এক শিক্ষার্থী, শেষরাতে ভিসি বাসভবনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রাত ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

মারধরের শিকার হওয়া খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের আবরার বিন সেলিম বলেন, “আমি যখন পাশে একটা দোকানে থাকি, তখন পরিসংখ্যানের তারেক ভাই ও পিএসএসের হাসিব ভাইয়ের সাথে খাইরুলের তর্কাতর্কি হচ্ছে। যাওয়ার পর সেখানে তারেককে সিনক্রিয়েট করতে না বলি এবং বিভাগের সিনিয়র দিয়ে বিষয়টা সমাধান করতে বলি।”
“তখন তারেক ভাই আমাকে হলের গ্রুপে খাইরুলের খাবারের অভিযোগটা বলে। তখন আমি তারেক ভাই ও হাসিব ভাই দুজনের কথা শুনি। একই সাথে তারা বলে হল প্রভোস্ট নাকি তার (খায়রুল) মেসেজের স্ক্রিনশট পাটিয়েছেন বিষয়টি দেখার জন্য। পরবর্তীতে যখন খাইরুলের কথা শুনি, তখন হাসিব তার কথার মধ্যে বারবার ইন্টাফেয়ার করে। তখন হাসিবের কি একটা কথার উপর খাইরুল বলে- ভাই আপনি কি দলীয় প্রভাব দেখাচ্ছেন? আমি যদি কথা বলি হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলব। আপনাদের সাথে কেন কথা বলব।”

“তখন হাসিব এত জোরে খাইরুলের বুকে লাথি মারে, সে নিজেই পড়ে যায়। তখন তারেক খাইরুলের মাথার পিছনে ঘাড়ের উপরের সংবেদনশীল জায়গা মারা শুরু করে। এভাবে হাসিব-তারেক খাইরুলকে এত মারাত্বকভাবে মারা শুরু করে, যা আমি আমার পুরো লাইফে কখনও দেখেনি।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার বলেন, “হলের ক্যান্টিনের খাবারে পচা মাছের তরকারি নিয়ে প্রভোস্ট স্যারকে মেনশন দিয়ে একটা মেসেজ দিই ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতে। এ নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) বিকালে ছাত্রদলের তারেক ভাই আমাকে আমার এক বন্ধু দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। ডেকে নিয়ে বলে , হল গ্রুপে ম্যাসেজ দেওয়ার প্রশাসনের উর্ধ্বতন একজন মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন। আমি উর্ধ্বতন কে বলাতে বলল প্রভোস্ট স্যার। তিনি আমাকে প্রভোস্ট স্যারকে সরি বলতে বলেন। আমি ওকে বলে চলে আসি।”

“এরপর গতকাল রাতে ( শুক্রবার) ক্যান্টিনের বাজে খাবার দেখে প্রভোস্ট স্যারকে মেনশন দিয়ে খাবারের বিষয়ে অভিযোগ করি। ম্যাসেজে বলি- ক্যান্টিনে আমাদের যা-তা খাওয়াচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজকে (শনিবার) সন্ধ্যায় গেইটে আসলে হাসিব ও তারেক আমাকে হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি বললাম কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্ট আমাকে বলবে, আপনারা কেন বলবেন। তখন হাসিব আমাকে জোরে বুকে লাথি মারে ও তারেক মাথার পিছনে, মুখে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর আশপাশ মানুষ আসলে কয়েকজন সিনিয়র ভাই ও বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, “হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রভোস্ট স্যার একটু মন খারাপ করছেন। তখন আমার এ নিয়ে খায়রুলকে বুঝাচ্ছিলাম। কিন্ত সে জুনিয়র হয়েও আমাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে। যেটা আমাদের কাছে খুব সিনিয়র হিসেবে খুব খারাপ লাগছে।” “তখন এক কথা-দুই কথা হইতে হইতে বিষয়টা বড় পর্যায়ে চলে গেছে। এক পর্যায়ে সে তেড়ে এসে আমার শরীরে তার হাত টাচ করছে। তখন হাসিব বাধা দিতে গিয়ে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেছে। এতে হাসিবের চশমা ভেঙ্গে গেছে, তার হাত কেটে গেছে। তার ফোন পুরোটা ডেড হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে জানতে হাসিবুর রহমানকে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাত্রদলের দুই নেতাকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড ইফতেখার আহমদ বলেন, এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি দায়িত্ব ও দেই নি । হলের সমস্যা নিয়ে কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সাথে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

“থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব” বলে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর, অভিযুক্ত ছাত্রদলের ২ নেতা

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা। ‘ব্যাটা আমাকে চিনিস? থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব’ বলে মারধরের অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

শনিবার(১৮জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রাত ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

মারধরের শিকার হওয়া খায়রুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের আবরার বিন সেলিম বলেন, “আমি যখন পাশের একটি দোকানে ছিলাম, তখন দেখি পরিসংখ্যানের তারেক ভাই ও পিএসএসের হাসিব ভাইয়ের সাথে খায়রুলের তর্কাতর্কি হচ্ছে। কাছে যাওয়ার পর সেখানে তারেককে ‘সিন ক্রিয়েট’ (হট্টগোল) করতে না বলি এবং বিভাগের সিনিয়রদের দিয়ে বিষয়টা সমাধান করতে বলি।”

“তখন তারেক ভাই আমাকে হলের গ্রুপে খায়রুলের খাবারের অভিযোগটার কথা বলেন। আমি তারেক ভাই ও হাসিব ভাই দুজনের কথাই শুনি। শেষে যখন খায়রুলের কথা শুনছিলাম, তখন হাসিব তার কথার মধ্যে বারবার ইন্টারফেয়ার করছিল। হাসিবের কী একটা কথার ওপর খায়রুল বলে ভাই আপনি কি দলীয় প্রভাব দেখাচ্ছেন? আমি কথা বললে হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলব। আপনাদের সাথে কেন কথা বলব?”

“তখন হাসিব এত জোরে খায়রুলের বুকে লাথি মারে যে, সে নিজেই পড়ে যায়। এরপর তারেক খায়রুলের মাথার পেছনে ও ঘাড়ের ওপরের সংবেদনশীল জায়গায় মারতে শুরু করে। হাসিব ও তারেক খায়রুলকে এত মারাত্মকভাবে মেরেছে, যা আমি আমার পুরো লাইফে কখনও দেখিনি।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “গত শুক্রবার আমি হল ক্যান্টিন থেকে রাতের খাবার আনি। খাবারের মাছটি পচা ছিল বলে আমি প্রভোস্ট স্যারকে মেনশন করে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ জানাই। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় হাসিব ও তারেক আমার অভিযোগের জন্য প্রভোস্ট স্যারের কাছে ‘সরি’ বলতে বলে। তখন আমি ‘ওকে’ বলে চলে আসি।”

“আজ (শনিবার) রাত ১১টার দিকে খাবার খেতে গেটে আসি। এ সময় হাসিব আমাকে ডেকে আমি কেন সরি বলিনি তার জন্য হুমকি দেয়। এরপর তারেক বলে ‘ব্যাটা আমাকে চিনিস? থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব।’ আমি কিছু বলে ওঠার আগেই হাসিব সজোরে লাথি মারে। তারেক মাথায় ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকে। এদিকে হাসিব আবার লাথি মারে এবং আমার ফোন ভেঙে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার কামনা করছি।”

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, “হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রভোস্ট স্যার একটু মন খারাপ করেছেন। তখন আমরা এ নিয়ে খায়রুলকে বোঝাচ্ছিলাম। কিন্তু সে জুনিয়র হয়েও আমাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করেছে, যেটা সিনিয়র হিসেবে আমাদের কাছে খুব খারাপ লেগেছে।”

“তখন এক কথা-দুই কথা হতে হতে বিষয়টা বড় পর্যায়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে সে তেড়ে এসে আমার শরীরে হাত দেয়। তখন হাসিব বাধা দিতে গেলে বিষয়টি হাতাহাতি পর্যায়ে চলে যায়। এতে হাসিবের চশমা ভেঙে গেছে, হাত কেটে গেছে এবং তার ফোন পুরোটা ডেড হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে জানতে হাসিবুর রহমানকে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাহপরান হলের প্রাধ্যক্ষ ইফতেখার আহমদ বলেন, “এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দিইনি। হলের সমস্যা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সাথে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান।”

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন সিকদার। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

লাখাইয়ের ফরদাবাদে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

0

নাজিম উদ্দিন, লাখাই প্রতিনিধি:

লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের অন্তগর্ত ফরদাবাদে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভরসা এখন অস্থায়ী একটু বাঁশের সাঁকো। ফরদাবাদে প্রায় ৬০-৭০ টিরও বেশি পরিবার রয়েছে দূর্ভোগে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরদাবাদ পাড়ার উদ্যোগে প্রতিবছর ৩০০ ফুটের একটি বাঁশের অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এতে ফরদাবাদ মহল্লার কিছুটা দূর্ভোগ লাগব হলেও জনপ্রতিনিদের দৃষ্টি না থাকায় প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে নিজেদের অর্থায়নে সাঁকো সংস্কার করছেন তারা। বর্তমানে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাঁকোটি। বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা সাঁকোটি ব্যবহার করছে।

স্থানীয়রা বাসিন্দা দশরত দাশ জানান, বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। খরা মৌসুমে ভাঙা থাকে এবং বর্ষার মৌসুমে পানি। পাড়ার সকলের অর্থের সহযোগিতা নিয়ে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরী করি। কিন্তু রাজনৈতিক দলের এমপি এবং জনপ্রতিনিধিরা শুধুই আশ্বাস দেন। বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান কাজ করেনা। ২০- ৩০ বছর যাবৎ আমরা খুব কষ্টে রয়েছি। ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে সাঁকো তৈরী করতে হয়। মৃত্যু ব্যক্তির লাশ সৎকার করতে শ্মশানে যেতে হয় নৌকা যুগে। বাচ্চাদের পানি ভেঙে যেতে হয় স্কুলে। আমরা খুব দূভোর্গে রয়েছি। এ থেকে মুক্তি চাই আমরা।

স্থানীয় বাসিন্দা অদৈ দাশ বলেন,আনুমানিক ৩৫ বছর এ-ই রাস্তার দূর্ভোগে ভুগছি আমরা। বর্ষার মৌসুম এবং ডুবা জায়গা হওয়ার কারনে বর্ষার মৌসুম ছাড়াও বাঁশের সাঁকো তৈরী করতে হয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধরা শুধু আশ্বাস দেন কিন্তু পরে আর কোন খুঁজ থাকেনা। সব সরকারের লোক একই কথা বলে শুধু। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে খুবই সমস্যা হয় এবং ডেলিভারি রোগীদেরকে নৌকা যুগে নিয়ে যেতে হয়। আমরা এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই, সকলেই চায় উন্নতভাবে চলতে।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা বলেন, ডেলিভারি রোগী, মৃত ব্যক্তির লাশ সৎকার, বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত করতে বড় সমস্যায় আছি। আমাদের মহল্লায় বিয়ের সম্মন্ধো আসলে ফিরে যায়। এ-ই বেহাল অবস্থা দেখলে। আধুনিক যুগে বাংলাদেশে কোথাও এমন দৃশ্য নেই।
এ অবস্থায় শিগগিরই ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোড়াকরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল মোল্লা বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বাঁশের সাঁকোর বিষয়টি উপস্থাপন করেছি এবং যাতে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো বিষয়ে আমি অবগত নই।

ছাতকে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ

0

ছাতক প্রতিনিধিঃ

ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গাবুরগাঁও পয়েন্টে মা ফটো স্টুডিও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা আরজক আলী।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল আড়াইটার দিকে জুমার নামাজ শেষে আরজক আলীর ভাই জুবেদ আলী ও চমক আলী তাদের দোকান খুলতে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জুবেদ আলীকে মারধর করে আহত করা হয়। তার চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দুটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় একটি দোকানের ক্যাশবক্স থেকে বিকাশ ব্যবসার ৫ লাখ টাকা, দুটি কম্পিউটার মনিটর ও একটি প্রিন্টার নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া অপর একটি দোকানের ক্যাশবক্স থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দোকানের গ্লাস ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা বাদীর বসতবাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী আরজক আলী বলেন,পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের সামাজিকভাবে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদল সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে আবাসিক হল, অনুষদ এবং বিভাগভিত্তিক নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শাবিপ্রবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আওতাধীন সব আবাসিক হল, অনুষদ ও বিভাগের কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। এতে ত্যাগী, সক্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতাদের আবেদন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনের ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পূর্বের অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আলোকচিত্র সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া পূরণকৃত সদস্য ফরম, জন্মনিবন্ধনের কপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রের (স্টুডেন্ট আইডি) ফটোকপি জমা দিতে হবে।

আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জীবনবৃত্তান্তের হার্ডকপি শাবিপ্রবি ছাত্রদলের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আবেদন-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান প্রিন্স এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারি ও পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখলেন জেলা প্রশাসক

0

কোম্পানিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের পাথরসমৃদ্ধ এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার (১৮জুলাই) দুপুরবেলা উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র, লামাগ্রাম, বরমসিদ্দিপুর, বিজয়পাড়ুয়া, মাঝেরগাঁও এবং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ভোলাগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাথর কোয়ারির বর্তমান অবস্থা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা জানান, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে তিনি কোম্পানীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মাসুদ রানা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, উত্তর রণীখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্বপ্ন দেখার নয়, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার জায়গা: শাবিপ্রবির নবীনবরণে শিবির সভাপতি

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:‎

বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ (কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা) নষ্ট হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিষ্ঠান না বানিয়ে, দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

‎‎শুক্রবার (১৭ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎‎নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করা। প্রথম বর্ষেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করে সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্বপ্ন দেখার জায়গা নয়, স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার মাঠ।”

‎‎সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি উদাহরণে বলেন, “পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী ডাইনোসর টিকে থাকতে পারেনি, কিন্তু তেলাপোকা এখনো টিকে আছে। কারণ, তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি। জীবনের ক্ষেত্রেও এটি সত্য; পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে না পারলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।”‎‎

বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর চাকরির জন্য সবাইকে হন্যে হয়ে ছুটতে হয়। বিসিএসের জন্যই ৫-৬ বছর প্রস্তুতি নিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর কেন আবার পাঁচ-ছয় বছর বিসিএসের জন্য পড়তে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় যদি সঠিক দক্ষতা তৈরি করতে পারত, তবে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারত।”‎‎

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিভাগ চালুর আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, যাতে পাস করার পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন আধুনিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।‎‎

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সময়কাল খুবই সীমিত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশ কেবল দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেই অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।‎‎শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জন করলেই চলবে না। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পাইথন, এক্সেল, গবেষণা, পরিসংখ্যান এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে।

‎‎অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অর্থনীতি আমাদের বলে পৃথিবীতে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। কিন্তু সম্পদের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা সম্পদের অসম বণ্টন। বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের হাতে ৯০ শতাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত থাকায় বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।”

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে যদি থাকার ব্যবস্থা করা না যায়, তবে তাকে ভর্তি করানো কেন? আবাসন নিশ্চিত করতে না পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।” এ সময় তিনি গণরুম-গেস্টরুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।‎‎

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। “যে শিক্ষকের ভালো গবেষণা আছে, তার সান্নিধ্যে বেশি যান। গ্রুপ স্টাডি করুন, একে অপরকে সহযোগিতা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সংস্কৃতিও থাকতে হবে।”

‎‎রাজনীতি প্রসঙ্গে সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, তবে মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞান অর্জন ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। মেধাবীরা রাজনীতিতে এলে রাষ্ট্র আরও ভালোভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।‎‎

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি মনে করিয়ে দেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগ। তাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের কথা মাথায় রেখে নিজেকে দক্ষ, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সোয়াল

0

আধুনিক ডেস্ক ::

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন। শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জয়সোয়াল। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা জানতে পারছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না।’

এ প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটা অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এই প্রশ্নের উত্তরেও তিনি জানান, প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

রুস্তম হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল; ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

0

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় রুস্তম আলী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আস্তমা গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকাল ৩টায় উপজেলার আস্তমা গ্রামের পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ মিয়া, নিহত রুস্তম আলীর ভাই মাওলানা মোজাহিদ আহমদ, হাফিজ কয়েছ আহমদ, হাফিজ হোসাইন আহমদ ও আজিমুল হক বাইতুল্লাহ।

বক্তারা বলেন, নিহত রুস্তম আলী একজন নিরীহ ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনো গ্রামের কোনো ঝামেলায় জড়িত ছিলেন না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তারা বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ সব আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে এ দাবিতে আস্তমা গ্রামবাসী রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।

নিহতের ভাই মাওলানা মোজাহিদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার বড় ভাই রুস্তম আলী। আমার লেখাপড়া ও পরিবারের আর্থিক খরচ তিনিই বহন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার ভাই অন্ধকার কবরে শায়িত, আর খুনিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’

মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা আস্তমা গ্রামে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া, আরিছ আলী, আবদুল মন্নান, আমরাজ আলী, সেবুল মিয়া, শফিকুন নূর, গুলজার আহমদ, সুজন মিয়া, জোবায়ের আহমদ, বদরুল আলম, ফারুক আহমদ, শাকিল আহমদ, মোশাররফ হোসেন ও আজিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ বলেন, রুস্তম আলী হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।