Home Blog Page 5

বর্তমান প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়ও এগিয়ে থাকতে হবে : এমপি মিলন

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ -৫ আসনের ছাতক দোয়ারাবাজার কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়ও এগিয়ে থাকতে হবে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি শনিবার (১১ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বগুলা রোছমত আলী রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে চলে বর্ণাঢ্য আয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

এসময় এমপি মিলন বগুলা ইউনিয়নের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও দেন। এর মধ্যে রয়েছে। বগুলা রোছমত আলী রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ, ৮ লাখ টাকার আসবাবপত্র, ১ লাখ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকার ভবন নির্মাণ, বোগলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং স্কুলের বাউন্ডারি নির্মাণে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অরূপ রতন সিংহ, তিনি বলেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।

শেষে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই মুছে দেব : বাণিজ্যমন্ত্রী

আধুনিক ডেস্ক ::

দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার আর নিয়ন্ত্রিত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের টিলাগড়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি কৃষকদের বিক্রয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনের সময় এ মন্তব্য করেন তিনি। সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙতেই কৃষকরা এই হাটে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি করবেন বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হাট উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে বাজার নজরদারি সহজ হবে এবং বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। দেশে টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২০০-৩৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, এটা কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

সারা দেশে কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্য সপ্তাহে এক দিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষি পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন সকালে টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে এই বাজারের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। বাজারটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করা।

বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম।

এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হলে ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন। সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা। সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্টের পাশেই বসবে এই বাজার। যেখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের পণ্য সরাসরি বেচাকেনা করতে পারবেন। এতে কৃষকরা পণ্যের সঠিক দাম পাবেন এবং ভোক্তা পর্যায়েও পণ্যের দাম কমবে।

নদী গর্ভে বিলীনের পথে গোলাপগঞ্জের শদাই শাহ (র:) এর মাজার

রুহুল আমিন, গোলাপগঞ্জ:

এক সময় যেখানে কোরান তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মধুর আওয়াজে কম্পিত হত পুরো এলাকা।সমাগম ছিল মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মের লোকের।দূর দুরান্ত হতে শিরনী নিয়ে আসতেন অসংখ্য ভক্ত ও আশেকান। আজ ভাঙ্গনের মুখে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ধীরে ধীরে ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতাধিক বছরের উতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউপির শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ। শুধু শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ নয়।

কুশিয়ারার নদী ভাঙনের ফলে নদীর পেটে চলে গেছে এখানকার অসংখ্য বসতভিটা, মসজিদ, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদের ভাঙন ঠেকাতে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাজারের পাশে মসজিদে যাওয়া আসার একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার লোকজন নিজ উদ্যোগে মাজার ও মসজিদের ভাঙন রোধ করলেও এবার গত কয়েক দিন ধরে তীব ভাঙ্গনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে মাজার ও মাজার মসজিদ ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবার নতুন করে তীব্রভাবে ভাঙন দেখা দেওয়ায় হযরত শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) এর মাজারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে? এতে যে কোন সময় শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ মাজার ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তারা মনে করছেন মাজার ও মসজিদ হারিয়ে গেলে তাদের একটি ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের কেন্দ্র বিলীন হয়ে যাবে।

এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি আব্দুল কুদ্দুস ও সমাজসেবক জেড রহমান জুনু, শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদের খাদেম ও উপজেলা শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর ইসলাম গেদা সহ বেশ কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ নদীর ভাঙ্গনের ফলে অনেক লোক বাড়িঘড় ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব।
এ অবস্থায় শাহ সুফি সৈয়দ শদাই (রঃ) এর মাজার ও মসজিদ সিলেট-৬ আসনের সাংসদ এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলাপরিষদের প্রসাশক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম সহ সরকারের উধর্বতন কতৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন তারা।

শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম কবির উদ্দিন বলেন- আমি তিনবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করেছি। কিন্তু কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। কয়েকদির পরপর কোন না কোন কর্মকর্তা শুধু আসেন। আর দেখে যান, এ অবস্থা চলতে আছে।

এবিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন- সিলেট-৬ আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কথা বলেছেন। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।

‎শাবির পরিবহন সেবা  সীমিত করায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ‎

‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎দেশব্যাপী চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সীমিত করা হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পরিবহন সেবা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।‎

ইরান-ইজরাইল ও আমেরিকা যুদ্ধের কারনে দেশে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শাবিপ্রবিতে। এজন্য বাতিল করা হয়েছে টিলাগড় রুটের বাসের ২টি শিডিউল।‎‎

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকালে পরিবহন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক আ.ফ.ম জাকারিয়ার স্বাক্ষরিত সিডিউলে বিষয়টি জানানো হয়।‎‎এতে দেখা যায় , বিকাল ৪টা ১০ ও পৌনে ৫টার বাসের শিডিউল পরিবর্তন করে ৪টা ২০ মিনিট করা হয়েছে এবং সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের টিউশনিতে যাতায়াত ও বাসায় যাওয়া আসায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।  ‎‎

সম্প্রতি সন্ধ্যার পর সিলেটে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ছিনতাইয়ের প্রভাব বেড়েছে। বাস শিডিউল সীমিত করার শিক্ষার্থীদের সিএনজি কিংবা অন্য গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে মোহাম্মদ ইবনে আব্বাস নামে এক শিক্ষার্থী লিখেন, নতুন বাস শিডিউল দিয়েছেন এখন যে পরিস্থিতি চলমান, সিএনজি চালকেরা এই সুযোগে দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা চায়। এখন যারা বিকালে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের পরীক্ষা পৌনে ৫টায় শেষ।  তাহলে তারা ৪.২০ এর বাস ধরবে কিভাবে? একটা নতুন সিদ্ধান্ত নিতে তো প্রতিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ।‎‎

জাহিদ সাগর লিখেন, বাসের নতুন শিডিউলে টিলাগড়ের রাতের বাস নাই যেটা অনেকদিনের দাবির পর দেওয়া হয়েছিল। আমরা অনেকেই বিকালে টিউশন গিয়ে রাতের বাসে ফিরে আসি। তিনি এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। ‎‎নাহিদ হাসান লিখেন, বিকেল সোয়া ৫টায় আর রাত সাড়ে ৮টায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দেখলাম নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এসময়ে বাস নেই। সিলেটের সিএনজি সিন্ডিকেট তার উপর চুরি, ছিনতাই  ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে অন্তত ছাত্র- ছাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি বিবেচনা করার।‎‎

এ বিষয়ে টিলাগড় থেকে আসা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী   অর্পিতা বলেন, বাসের নতুন সূচী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনিতেই নারী শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালকের দ্বারা টিসিং এর স্বীকার হচ্ছেন তারমধ্যে সম্প্রতি সিলেটে চুরি-চিনতাই এর প্রকোপ বেড়েছে। নাড়ী শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের কাছে বাসের শিডিউলটি বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি।

‎‎জানতে চাইলে পরিবহন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক আ.ফ.ম জাকারিয়া বলেন, বর্তমান প্রায় সব বিভাগে পরিক্ষা চলমান থাকায় বাসের শিডিউল পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসন ডিনদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  প্রশাসন চাইলে এটি পরিবর্তন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।‎‎

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি একটা প্রোগামে আছি কথা ঠিক ভাবে শোনা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময় যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। পরবর্তী সময় মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।‎‎

অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের সাথে মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।‎

শাবির সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের নেতৃত্বে শাওন-রবিন ‎

‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:‎‎

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ (এসভিএস) শাখার ১০ম কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।নবঘোষিত কমিটির সভাপতি অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রীশাওন দেবনাথ এবং সাধারণ সম্পাদক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রী রবিন সরকার।‎‎

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ বিল্ডিংয়ের এক্সটেনশন গ্যালারি রুমে আয়োজিত বিদ্যার্থীবরণ অনুষ্ঠানে ৮৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।‎‎

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি শ্রী দীপু রাম রায়, সাবেক সভাপতি শ্রী উৎপল রায়সহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।

‎‎সদ্য সমাপ্ত ৯ম কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শ্রীমতি পান্না সরকার, নির্বাহী সভাপতি শ্রীমৃদুল রাজবংশী কৌশিক এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রীটগর পাল নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।‎‎

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের পবিত্র দীপান্বিতা তিথিতে কয়েকজন উদ্যমী তরুণ এবং সনাতনী শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।‎‎

দক্ষতা উন্নয়নে শাবি প্রেসক্লাব কর্তৃক ‘সাংবাদিকতায় মুক্তপাঠ’ কর্মসূচি শুরু

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎সাংবাদিকদের দক্ষতা ও পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে মাসিক পাঠচক্র ‘সাংবাদিকতায় মুক্তপাঠ’ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।‎‎

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।

অনুষ্ঠানে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবি প্রেসক্লাবের ১৬তম কমিটির সহ-সভাপতি ও ৪৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডার আরাফ আহমদ। ‎‎

উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন শাবি প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি নোমান ফয়সাল ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুর আলম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘সাংবাদিকতায় মুক্তপাঠ’ কর্মসূচির আহ্বায়ক ও শাবি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাগর হাসান শুভ্র।

‎‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শাবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।  আজকের শুরু হওয়া এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের মানোন্নয়নে এমন কার্যক্রম।প্রশংসার। প্রেসক্লাবের যেকোনো ভালো উদ্যোগে কর্তৃপক্ষ সবসময় পাশে থাকবে।’

‎‎সভাপতির বক্তব্যে নোমান ফয়সাল বলেন, সাংবাদিকদের দক্ষতাউন্নয়নে এই কর্মসূচি অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। এই কমসূচির মাধ্যমে নিজেদেরকে শাণিত করার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সাংবাদিকেরা কাজে লাগাতে পারবেন। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে শাবি প্রেসক্লাব সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

‎‎অনুষ্ঠানে ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে যোগদান করায় আরাফ আহমেদকে শাবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সেশনে ‘ক্যাম্পাস  সাংবাদিকতার খুটিনাটি’ বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। ‎‎

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান নাঈম, নাঈম আহমদ শুভ, বর্তমান সহ-সভাপতি সৈকত মাহাবুব কোষাধ্যক্ষ সাগর হোসেন জাহিদ, দপ্তর সম্পাদক মোফাজ্জল হক, কার্যকরী সদস্য ইকবাল হোসেন, মাঈন উদ্দিন, নাদির আহমেদ, সদস্য আব্দুর রহিম, ইসফাক আলি, কাজী মু. আতহার ও হিমেল হান্নান।‎

তরুণ উদ্যােক্তা প্রোগ্রামে যোগ দিতে শাবিপ্রবিতে আসছেন বাণিজ্য মন্ত্রী মুক্তাদির

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ‎:

তরুণ উদ্যােক্তা প্রোগ্রামে যোগ দিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আসছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

‎‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।‎‎

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এসএমই ফাউন্ডেশন এবং সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সৃজনশীল ব্যবসা ধারণা ও স্টার্টআপ বিকাশে ব্যাংকসহ বিকল্প অর্থায়ন বিষয়ক ‘ইয়্যুথ এন্ট্রেপ্রেনারশিপ এন্ড স্টার্টআপ ফর স্টুডেন্টস’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

‎‎অনুষ্ঠানটি শনিবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

‎‎বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।‎‎

শাবিপ্রবিতে এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সেস অনুষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষকদের মাঝে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (এফইএস) বিভাগে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম।

গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। ‘রিসার্চার অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার সরকার।

অন্যদিকে, ‘রিসার্চার অব এক্সেলেন্স’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মস্তাবুর রহমান, লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফারুক মিয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহিদুল হক।

সালমান শাহ হত্যা মামলা : সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ মে

আধুনিক ডেস্ক ::

চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডলে ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

আধুনিক ডেস্ক ::

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৩ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ৬ জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো.হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন- রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো.মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো.হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো.মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো.মাহাবুবার রহমান, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো.আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি।