Home Blog Page 4

লাইব্রেরিতে বই আছে, ওয়েবসাইটে শূন্য: পরীক্ষার মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

শাবি প্রতিনিধি:

‎‎দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বই থাকলেও লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে কোনো বইয়ের তথ্য নেই। পরীক্ষার মৌসুমে দীর্ঘসময় ধরে এই অব্যবস্থাপনা চললেও  কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

‎‎লাইব্রেরিতে পড়তে আসা একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই সপ্তাহ থেকে ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা গেছে। বই আছে কি না, তা বোঝার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে তাদের।‎‎

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে ‘ইয়াক সাফু’ নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “আমাদের লাইব্রেরী আছে, বই ও আছে, ওয়েবসাইট ও আছে কিন্তু ওয়েবসাইটে সার্চ করলে কোনো বই ই নাই।”‎‎

এ বিষয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী আতাহার বলেন, লাইব্রেরিতে বই আছে কিনা তা দেখার জন্য লাইব্রেরিতে আসলাম এখানে আসে দেখি বই নাই। হয়তো কেউ নিয়ে গেছে। একটা বই এক ঘন্টা খুঁজার পর পেলাম।‎বর্তমান পরিক্ষা চলমান, তাই এই সমস্যা সমাধান দ্রুত করা দরকার ছিল বলে আমি মনে করছি।‎‎

এ বিষয়ে লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। সফটওয়্যার ডেভেলপারের সাথে আগের সপ্তাহের শেষ দিকে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। গত সপ্তাহে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি, গত সপ্তাহে তারা বলছে যে এই সপ্তাহেও পারবে না।

‎‎তিনি আরো বলেন, আমার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নাই। আমি জানি, জানার পরেও কিছু করতে পারতেছি না কারণ এটা  আমার হাতে নেই। আমার হাতে থাকলে আমি এতো দিনে করে ফেলতাম। এই সপ্তাহে সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ‎‎

সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

শাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের তিন দশক পূর্তিতে পুনর্মিলনীর আয়োজন, আসছেন মন্ত্রী আরিফুল

‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধি‎‎:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে।

‎‎বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।‎‎

সংবাদ সম্মেলনে মোখলেসুর রহমান জানান, পুনর্মিলনীর প্রথম দিন শুক্রবার সকালে শোভাযাত্রা ও কেক কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে “দ্য ট্রান্সফরমেটিভ পটেনশিয়াল অব অ্যানথ্রোপোলজি ইন গ্লোবাল অ্যানথ্রোপোলজি” শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মন্টেভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস ম্যাকডোনাল্ড। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিলাশবহুল নৈশভোজ।

‎‎দ্বিতীয় দিন শনিবারে অতীতকে স্মরণ, র‌্যাফেল ড্র, অ্যালামনাই জেনারেল মিটিং এবং সন্ধ্যায় মিউজিক্যাল নাইট। এদিন দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

‎‎এদিকে দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সীমিত আলোকসজ্জার মাধ্যমে আয়োজন সম্পন্ন করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।‎‎

শাবিপ্রবির ‘এপ্লাইড সাইন্সেস অনুষদ’র আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন ‎

‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এপ্লাইড সাইন্সেস অনুষদের ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্স, ইনোভেশন এন্ড ইডুকেশন (আই.সি.ই.আর.আই.ই) সম্মেলনের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্মেলনটি আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে।  ‎‎

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় শাবিপ্রবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী এবং মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম।

‎‎আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান বলেন, আজকের এই ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমাদের সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন থেকেই অংশগ্রহণকারীরা তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। এই ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে সম্মেলন সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য প্রদান করা হবে।   

‎‎তিনি আরো বলেন, এটি আমাদের ৯ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দুই বছর পরপর এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলননে শাবিপ্রবির এপ্লাইড সাইন্সেস অনুষদের ৯টি বিভাগ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ইন্সিটিউট এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তিনিটি বিভাগর সরাসারি সম্পৃক্ত থাকবে।     ‎‎

ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, এপ্লাইড সাইন্সেস অনুষদের ডিন ও সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. চৌধুরী আবুল আনাম রাশেদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ রাব্বি, অধ্যাপক ড. মো. ইমরান কবির, অধ্যাপক ড. মো. অনিমেষ সরকার, অধ্যাপক ড. মো. বশিরুল হক, সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল হায়াৎ মিঠু, অধ্যাপক ড. মো. সালাতুল ইসলাম মজুমদার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক আর ইফতেকার রহমান, ড. মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, ড. মো. নুরুজ্জামান সাকিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজা সেলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুনিম ও মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।‎

পহেলা বৈশাখে শাবি ছাত্রদলের একাংশের পান্তা-ইলিশ ভোজের আয়োজন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পান্তা-ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ মাহমুদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।‎‎

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ‎এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মো. আব্দুল কাদির।‎‎

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্ উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকি।‎‎

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, আফফান, মো. মোস্তাকিম ইসলাম, মো. আরফান উদ্দিন ও মো. জুলফিকার রহমান, হারুন অর রশিদ রাসেল, ফাহাদ খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, সহ-সমাজসেবা সম্পাদক আশিকুর রহমান মারুফ, যোগাযোগ মাধ্যম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সহ-সাহিত্য সম্পাদক অন্তর উদ্দিন প্রমুখ।

‎‎অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম বাহক। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করে।”‎‎

ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতেই এই আয়োজন। সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এই আয়োজন শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।” তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। ‎

প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এমপি হলেন মৌলভীবাজারের ডলি বেগম

আধুনিক ডেস্ক ::

প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে কানাডার এমপি হলেন ডলি বেগম। ডলি বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান কানাডায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এ ইতিহাস গড়েন। এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

কানাডায় স্থানীয় সময় সোমবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই উপনির্বাচনে জয় ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি অফ কানাডাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। উপনির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি, রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ও কুইবেকের তেরেবোন আসনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য এ উপ-নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন তার সরকারের আইন পাস করা অত্যন্ত সহজ হবে এবং নীতিনির্ধারণে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এতে আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আজকের উপ-নির্বাচনের আগ পর্যন্ত লিবারেলরা পার্লামেন্টে ১৭১টি আসন নিয়ে এগিয়ে ছিল। সম্প্রতি কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে আজকের উপ-নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগমের জয়ের মধ্য দিয়ে লিবারেল পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিস্কার হয়েছে। বর্তমানে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা ১৭৪টি।

ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে দেশটির অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে এমপিপি পদে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছিলেন গত বছর। তখন তিনি টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এর আগে ডলি ২০১৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট।

চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর কার্যত শূন্য হওয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম।

ডলি বেগম তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’

তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাডার প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ডলি বেগমের পদার্পণ তার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি রাজনীতিতে তার এই সাফল্য বাংলাদেশিদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

অন্যদিকে কানাডার স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ডলি বেগম তার কমিউনিটির উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে এবং কার্যকরভাবে লড়াই করে আসছেন। কার্নি আরও বলেন, ডলি বেগমের অক্লান্ত কণ্ঠস্বর, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ডলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

লোকজ ঐতিহ্য আর প্রত্যয়ের সুরে বৈশাখী শোভাযাত্রা

আধুনিক ডেস্ক ::

লোকজ ঐতিহ্য আর প্রত্যয়ের সুরে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টায়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বর্ণিল এই আয়োজনে অংশ নেন চারুকলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। এবারের শোভাযাত্রায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তারপর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার। এবারের শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়।

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এই ভাবনাকে সামনে রেখে চারুকলার প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে নানা প্রতীকী মোটিফ, যেখানে লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক সামাজিক বার্তার এক সৃজনশীল মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে।

শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে একটি বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করে, তেমনি এই প্রতিকৃতিও নতুন বছর, নতুন সূর্য এবং জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষিভিত্তিক বাংলার জীবনধারায় মোরগের এই ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতিকেও তুলে ধরা হয়েছে বৃহৎ আকারে। চার চাকার এই কাঠের হাতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা এবার শোভাযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এছাড়া সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত হয়েছে দোতরা। সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই বাদ্যযন্ত্রটি শুধু সংগীতের নয়, বরং বাংলার মরমিয়া ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও মনে করছেন আয়োজকেরা।

শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও জাতিসত্ত্বার মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই পায়রা বহন করছে শান্তির আহ্বান।

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা বা পোড়ামাটির ঘোড়াও এবারের আয়োজনে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। আরোহীসহ এই ঘোড়ার প্রতিকৃতি বাংলার লোকজ শিল্পের আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।

প্রধান পাঁচটি মোটিফের পাশাপাশি শোভাযাত্রায় আরও রয়েছে প্যাঁচা, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, বাঘের মুখোশ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র মোটিফ। এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি মোটিফের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাঁচটি পটচিত্রও। যাতে শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজবাস্তবতার নানা দিক।

শাবির সেন্টার অব এক্সিলেন্সের নতুন পরিচালক ড. মোজাম্মেল

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলোজি (এফইটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।

‎‎সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সই করা এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানা গেছে।

‎‎অফিস আদেশে বলা হয়, শাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’র পরিচালক পদ হতে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলোজি (এফইটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হককে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। ‎‎দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধিমোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে অফিস আদেশে বলা হয়।

‎‎নতুন দায়িত্ব পেয়ে অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটির সঠিক মূল্যায়ন ও সেন্টার অব এক্সিলেন্সের উন্নয়নে কাজ করে যাব। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহযোগীতা কামনা করছি।

মণিপুরি সংস্কৃতিতে মৈতৈই ঐতিহ্যবাহী লাই হারাওবা উৎসবের সমাপ্ত

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কমলগঞ্জে মনিপুরী মৈতৈ সম্প্রদায়ের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করা উৎসব যেন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং জীবন্ত ইতিহাসের চলমান প্রতিচ্ছবি। শুক্রবার রাতে তেতইগাঁওয়ের মণিপুরি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হয়েছে এক আবেগঘন ও স্নিগ্ধ পরিবেশে।
ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে গত বুধবার দুপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবে এবার ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও জাতীয় জাদুঘরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা। ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে আসা গবেষক ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বৈশাখের গরম দুপুর পেরিয়ে বিকেলের মৃদু বাতাস যখন গাছের ডালপালায় দোলা দেয়, তখনই যেন প্রাণ ফিরে পায় উৎসব প্রাঙ্গণ। গ্রামীণ পথ ধরে দলে দলে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকেন-কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে, আবার কেউ সংস্কৃতির টানে।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারীদের বর্ণিল উপস্থিতি। কিশোরী ও তরুণীদের খোঁপায় ময়ূরের পেখম, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, আর শিশুদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে যেন এক চলমান শিল্পকর্ম।

শেষ দিনের বিকেল থেকেই ঢোল, খোল, বাঁশিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ধীরে ধীরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মূল নৃত্যপর্ব -যেখানে নারী, কিশোরী ও শিশুদের অংশগ্রহণে মঞ্চ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

‘লাই হারাওবা জগোই’ এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র,শুধু একটি নৃত্য নয়, বরং সৃষ্টির গল্প বলার এক আদি ভাষা। মাইবি বা নারী পুরোহিতদের নেতৃত্বে এই নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি, মানবজীবনের নানা ধাপ এবং দেবতাদের প্রতি ভক্তি। সুর, তাল ও মুদ্রার সমন্বয়ে পুরো পরিবেশ এক সময় রূপ নেয় প্রার্থনার মতো পবিত্র আবহে, যেখানে দর্শকরাও যেন নীরবে সেই আধ্যাত্মিক যাত্রার অংশ হয়ে যান।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) বলেন, “এটি শুধু একটি উৎসব নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছি।”
সদস্যসচিব ওইমান লানথই জানান, “লাই হারাওবা আমাদের সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিফলন, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গভীরভাবে প্রকাশ পায়।”
আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) বলেন, “মাইবিদের নৃত্য এই উৎসবের মূল আকর্ষণ, যা নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে।”

এই আয়োজন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, যা উৎসবটিকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে।

সবকিছু মিলিয়ে ‘লাই হারাওবা’ কেবল একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়-এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে ধর্ম, প্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্গত বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা।

জৈন্তাপুর-কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৪৬ লক্ষাধিক টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:

সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করেছে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)। এসব অভিযানে মোট ৪৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলার গুয়াবাড়ি বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ফেরীঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১,৪৬০ কেজি ভারতীয় জিরা এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। যার সিজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

এর আগে, ১০ এপ্রিল জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সুরাইঘাট, লালাখাল, জৈন্তাপুর ও আটগ্রাম বিওপির পৃথক টহল দল জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি ভারতীয় মহিষ, ৩০০ কেজি চিনি, ৫০ কেজি জিরা এবং ৩৪ কেজি চা পাতা জব্দ করে। এসব মালামালের সিজারমূল্য ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা। দুই দিনের অভিযানে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬০০ টাকা।

জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জুবায়ের আনোয়ার (পিএসসি) জানান, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে।