Home Blog Page 4

আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেটে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) স্কলারশিপ ২০২৬-২৭-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, সিলেট শনিবার (১৮ জুলাই) নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জফির সেতু, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুবসহ শিক্ষাবিদ, স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এ বছর সিলেট অঞ্চল থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আইআইটি মাদ্রাস, এনআইটি শিলচর, এনআইটি চণ্ডীগড়, দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।

স্বাগত বক্তব্যে দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন শিক্ষাজীবন শুরু করার আহ্বান জানান।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সফল শিক্ষাজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে। তিনি আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করে এ উদ্যোগের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সেখানে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অধ্যাপক জফির সেতু বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা কেবল একাডেমিক অর্জনের বিষয় নয়, এটি নতুন সংস্কৃতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অন্যদিকে প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুব শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার অভিজ্ঞতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরে আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

হলের খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ করায় শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, ৩ দফা দাবি ইনকিলাব মঞ্চের

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলে ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রভোস্টকে ট্যাগ করে অভিযোগ জানান সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। এর জের ধরে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে শাখা ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।

রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শুয়াইব আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মারধর করেন শাখা ছাত্রদলের কর্মী হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, শাহপরাণ হলের প্রভোস্টের প্রত্যক্ষ মদদে ওই দুই কর্মীকে বিষয়টি দেখতে পাঠানো হয়, যার পরপরই হামলার ঘটনাটি ঘটে।ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এটি কেবল একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা নয় বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি তোলার অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর এক গুরুতর আঘাত। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বিজ্ঞপ্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের উত্থাপিত ৩টি দাবি হলো:

১. হামলাকারী ছাত্রদল কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. শাহপরাণ হলের প্রভোস্টের বিতর্কিত ভূমিকা তদন্ত করে তাকে পদচ্যুত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে এর সমস্ত দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

পাসপোর্টে ফিরল ‘ইসরায়েল ব্যতীত’, জলছাপে আসছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম

0

আধুনিক ডেস্ক ::

বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ যুক্ত করা হয়েছে। ছয় বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাদ দেওয়া এই শব্দবন্ধ পুনর্বহাল করে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন থেকে যেসব পাসপোর্ট তৈরি করা হবে, সেগুলোতে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ যুক্ত হবে। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ই–পাসপোর্ট বুকলেটে বিদ্যমান ছবি পুনর্বিন্যাস করে এর নকশা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করে জলছাপগুলো সুবিন্যস্ত করা হলো। আদেশটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ই–পাসপোর্টের জলছাপে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন জলছাপে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি–সংবলিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সব ধর্মের প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে ই–পাসপোর্টে।

নতুন করে যেসব ই-পাসপার্ট তৈরি করা হবে, সেগুলোর জলছাপে থাকবে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা অনির্বাণ, লালবাগ দুর্গ, কক্সবাজারের ঝাউবনসহ সমুদ্রসৈকতের ছবি (নৌকা ব্যতীত), সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, জাতীয় মাছ ইলিশ, বান্দরবানের নীলগিরি, ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল, জাতীয় ফল কাঁঠাল, বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, রাজশাহীর আমবাগান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগর, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সোনালি আঁশ পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন, খ্রিষ্টধর্মের হলি রোজারি চার্চ এবং জয়নুল আবেদিন চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করা হয়। তখন পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ বাদ দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ছাড়া। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে ই-পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করতে দাবি ওঠে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পাসপোর্টে বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে একাধিক সভা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্টে কয়েকটি ছবি যুক্ত করতে বলেন। সেসব ছবি জলছাপে যুক্ত করে সরকারি আদেশ জারি করা হলো।

পাসপোর্ট থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে।
ই-পাসপোর্টে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি; উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার জার্সি পরিহিত চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি। এ তিনজনের ছবি যুক্ত করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা করে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬৪ পৃষ্ঠার অনুমোদিত জলছাপে নতুন ছবি থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাসপোর্ট থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা করে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬৪ পৃষ্ঠার অনুমোদিত জলছাপে নতুন ছবি থাকবে।

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৩

0

মাধবপুর প্রতিনিধি ::

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজিবাজার এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯। শনিবার বিকেল ও রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর রেলক্রসিং এবং মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার তুরাগ থানার রোশাদিয়া এলাকার রাসেল মিয়া, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুরের বড় দলিয়া গ্রামের শিপন মিয়া এবং একই গ্রামের অহিবুর রহমান।

র‌্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, ২০ জুন রাত ২টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার চন্দরা এলাকার ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজস্ব প্রাইভেটকারে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে মাধবপুর উপজেলার ১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরিহিত ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করে। পরে তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে প্রাইভেটকারসহ সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।

র‌্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে রোববার মাধবপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া এই ডাকাত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিকে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে দক্ষিণ সুরমার হাজেরা

0

আধুনিক ডেস্ক:

২০২৬ সলের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় হাজেরা আক্তার ভুঁইয়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। সে দক্ষিণ সুরমার মিনিখলা গ্রামের আব্দুল হাকিম ভুঁইয়ার মেয়ে। হাজেরা মেনিখলা মৌরিবিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। হাজেরা ডাক্তার হতে চায়। তার উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া চেয়েছেন মা-বাবা।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) নির্বাচিত হয়েছে ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী। বাকি ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

শিক্ষার্থীকে মারধর: ছাত্রদলের শাস্তি দাবি শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শাবিপ্রবি শাখা।

রোববার (১৯ জুলাই) শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ শাকিল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন এবং শাখা সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “শাহপরাণ হলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের নিম্নমান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ জানানোর কারণে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারের ওপর হামলা চালায় শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান এবং যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিব। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের মতো একটি যৌক্তিক বিষয়ে কথা বলায় এমন পেশিশক্তির ব্যবহার চরম উদ্বেগজনক। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

ছাত্রশিবির নেতারা আরও বলেন, “ছাত্রসমাজ যখন রক্তাক্ত জুলাই উদযাপন করছে, সেই সময়ে ছাত্রদল ছাত্রলীগের কায়দায় ছাত্র নির্যাতন করছে। আমরা মনে করি ছাত্রদল জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অংশীদার হলেও তারা জুলাইয়ের স্পিরিট হতে সরে গিয়ে ক্যাম্পাসে পুরাতন কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলো থেকে পেশীশক্তির রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে পেশিশক্তির ব্যবহার কারো জন্য সুখকর হবে না। কেউ যদি ফ্যাসিবাদীদের মতো ক্যাম্পাসে পুরাতন কালচার ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের পরিণতি হবে ফ্যাসিবাদীদের মতোই। শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে এসব পেশিশক্তিকে তোয়াক্কা করবে না।”

বিবৃতিতে আরও বলেন , “ছাত্রদল নেতারা হামলা চালানোর পর উলটো ভিক্টিমকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে তারা বিভিন্ন বয়ান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক এই হামলাকে ‘সংঘর্ষ’ সাব্যস্ত করে মূলত ভিক্টিমকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো দোষী সাব্যস্ত করার ব্যবস্থা করে ছাত্রদল নেতাদের বয়ানেরই পক্ষ নিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক হামলার মতো ঘটনাকে ‘সংঘর্ষ’ সাব্যস্ত করার নিন্দা জানাই।”

নেতৃবৃন্দ অপরাধীদের পক্ষ না নিয়ে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর ব্রিজ ও বাড়িঘরের নিচ থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন, হুমকিতে শতাধিক বসতবাড়ি ও ধলাই সেতু

0

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:

কমলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলাই নদীর ব্রিজ ও নদী সংলগ্ন বাড়িঘরের নিচ থেকে ড্রেজার মেশিনে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকান্ডের ফলে নদীর ব্রিজ, শতাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি ও স্থানীয় জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলনের বিষয়ে এই প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সাময়িক বন্ধ রেখেছে।

0-4064×3074-0-0#

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ভারত থেকে আসা ধলাই নদীর লিজকৃত ও লিজবহির্ভূত বিভিন্ন স্থান থেকে বেপরোয়া গতিতে বালু উত্তোলন চলছে। ড্রেজার মেশিনযোগে বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশ জনপদসহ নানা অবকাঠামো। গতকাল রোববার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজারে যাতায়াত সড়কের উপর নির্মিত ধলাই সেতুর নিচ থেকে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে ধলাই সেতু। এছাড়া ইজারার বাহিরেও ধলাইপাড়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। উত্তোলিত বালু ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে ধলাইপাড়, কুমড়াকাপন এলাকা, হীরামতি, রহিমপুর ইউনিয়নের জসমতপুর, ধর্মপুর, চৈত্রঘাট এলাকার প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। বাড়িগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।

নীরবাজারে ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত মালিক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং বালু পরিবহনের দায়ে চারটি ট্রাক জব্দ করে। ধর্মপুর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের দায়ে সজিব দেবনাথ নামে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জসমতপুর এলাকায় আব্দুল কাদির নামে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে উপজেলা প্রশাসন। ইসলামপুর ইউনিয়নে মুহিতুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ট্রাক্টর আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারপরও বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন রোধ করা যাচ্ছে না।

বালু উত্তোলনের বোমা আর ড্রেজার মেশিনের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকিতে পড়েছে নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ। অন্যদিকে বালু পরিবহনের কারনে ভেঙে পড়ছে রাস্তাঘাট। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি। স্থানীয় রাস্তাঘাটেরও বেহাল দশা ধারণ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সানু মিয়া, রফিক মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন জানান, বন্যার পর বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধলাই নদীর তীরবর্তী বেশকিছু বাড়িঘর নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছি।

এব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক এড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, আমরা সরেজমিনে ধলাই নদীর বালু উত্তোলনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দেখেছি। বসতবাড়ির সন্নিকট ও ব্রিজের নিচ থেকে কোন অবস্থায়ই বালু উত্তোলনের বিধান নেই। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের কোন নিয়ন নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডও নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাবিপ্রবিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার: বহিরাগত ও যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার ( ১৯ জুলাই) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই বিকাল ৬:০০ টা থেকে ২০ জুলাই সকাল ৬:০০ টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বহিরাগত ব্যক্তি ও যানবাহন প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও চলাচল করতে পারবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও শাহপরাণ হল সংলগ্ন ফটক দিয়ে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশসহ জরুরি সেবার যানবাহন (অ্যাম্বুলেন্স, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং বাহন, অন্যান্য সরকারি যানবাহন) ক্যাম্পাসে সীমিতাকারে প্রবেশ করতে পারবে।

এছাড়া অন্যান্য সকল যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের দুই নেতার মারধর, তিন দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবার নিয়ে মন্তব্যের জেরে দুই ছাত্রদল নেতা কর্তৃক খাইরুল খন্দকার নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস ঘুরে গোলচত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের উপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খাইরুল আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে, শাহপরান আবাসিক হলের প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, আহত শিক্ষার্থীসহ শাবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, “পূর্বে আবাসিক হল কেন্দ্রিক কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ছাত্রলীগের একটা গ্রুপ ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করত। আমরা একই চিত্র আবার লক্ষ্য করছি। আমাদের বিভাগের জুনিয়র যখন হলের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছে তখন ছাত্রদলের দুই নেতা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে এবং সবশেষ গতকাল রাতে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। চব্বিশের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা আশা করছি তদন্ত কমিটি যেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনে।”

বিভাগের অন্য শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “গতকাল উপাচার্য স্যারের সাথে দেখা করার পর আমরা তদন্তের জন্য তিনদিনের সময় মেনে নিয়েছিলাম। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পরে আমরা দেখতে পেলাম প্রশাসন যে ভাষায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আমরা সেটির নিন্দা জানাচ্ছি। সুষ্ঠু তদন্ত কমিটির ভাষা এটি হতে পারে না। দুইটি দলের মুখোমুখি মারামারি না হলে কখনো সংঘর্ষ হতে পারে না। অন্যায়ভাবে একজন শিক্ষার্থীকে মারা হয়েছে, সেখানে তদন্ত কমিটিতে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের অর্থ হচ্ছে লাশ খুনিকে মেরেছে। আমরা এই তদন্ত কমিটি নিয়ে আমাদের সংশয়ের জায়গা তৈরি হয়েছে।”

‘আমরা তদন্ত কমিটির ভাষা সংশোধন করে পুনরায় বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এবং হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। দাবি বাস্তব না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো’- যোগ করেন ফয়সাল।

প্রসঙ্গত, শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্যের জেরে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় দুই ছাত্রদল নেতার কর্তৃক মারধরের শিকার হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২৩-২৪) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা সকলেই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।