Home Blog Page 257

দেশের জন্য কাজ করি, কারও তাবেদারি করার জন্য ক্ষমতায় বসিনি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন বড় দেশ বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে দিক, আমার কাছে বাংলাদেশের চেয়ে বড় আর কেউ না৷ দেশের জন্য কাজ করি, কারও তাবেদারি করার জন্য ক্ষমতায় বসিনি৷

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১০ টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শুরু হওয়া দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য রাজনৈতিকভাবে না পারলেও এখন অর্থনৈতিকভাবে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে বিদেশি কিছু কিছু মোড়ল৷ দুমুখো কিছু মোড়ল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে৷

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মানেই শান্তি ও সমৃদ্ধি৷ নিশ্চয়ই দেশবাসী এসব বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভোট দেবেন৷ বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশকে খুবলে খাবে, নিজেদের ভাগ্য গড়বে৷

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের জনগণ। কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০১৪ সালে আত্মবিশ্বাস ছিল না বলেই জ্বালাও-পোড়াও করে তারা নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপবাদ দিলেও কেউ এখন পর্যন্ত অনিয়মের একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভার প্রথম দিনে কয়েকটি বিভাগের সংসদীয় আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৩০০ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী কয়েক দিন বৈঠক করবে দলটি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে ৩০০ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন মোট ৩ হাজার ৩৬২ জন। প্রতি আসনে গড়ে ১১ জন এ ফরম কিনেছেন।

সিলেটে ট্রেনে আ গু ন, সন্দেহের তীর অবরোধকারীদের দিকে

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে উপবন এক্সপ্রেসের একটি ট্রেনের বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ট্রেনের বগিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। নাশকতার উদ্দেশ্যে অবরোধকারীরাই আগুন লাগাতে পারে বলেও সন্দেহ তাদের।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন ট্রেনের কয়েকটি সিট পুড়ে যায়। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আগুনের খবর পেয়ে সিলেট রেলস্টেশনে যান রেলওয়ে পুলিশ সুপার শেখ শরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী বিরোধীদল অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে টেনে আগুন দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তারা সিলেটেও ট্রেনে আগুন দিয়েছে বলে আমি মনে করি। যদিও এটি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এটি নাশকতাকারীদের কাজ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ট্রেনের সিট পুড়ার ট্রেনের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে এটি নাশকতাকারীদের কাজ। আগুণের ধারণ দেখে বুঝা যাচ্ছে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানো হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডও এমন মতামত দিয়েছে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন ট্রেনের একটি বগিতে আগুন লাগে। আগুনে বগির ১৬-১৭টি সিট পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে কেউ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। তদন্ত স্বাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।

উপবন ট্রেনে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আরেকটি ট্রেনে সিলেট আসেন পররাষ্ট্র প্রতমিন্ত্রী শাহারিয়ার আলম। তিনি বলেন, যারা এঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা খুব খারাপ কাজ করেছে। আমি আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুতই তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যারা নাশকতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরিফের বাসায় ককটেল

মঙ্গলবার রাত ৮টায় দুর্বৃত্তরা তার বাসায় দুটি ককটেল চার্জ করে। সাবেক মেয়র তখন বাসায় ছিলেন না।

সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় আটক ২

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে সিলেট নগরীর টিভি গেইট এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রাতে নগরীর পৃথক স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ।

আটককৃতরা হলেন- বাচ্চু মিয়ার পুত্র রনি (২১) ও কামাল মিয়ার পুত্র মামুন মজুমদার (২৮)। তারা দুজনেই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী।

সিলেটে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

পুর্ব শত্রুতার জেরে সিলেট মহানগরীর টিভি গেইট এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সোমবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে নগরের বালুচরস্থ টিভি গেইট এলাকায় এই এঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রলীগকর্মী আরিফ আহমদ (১৯) টিবি গেট এলাকার ফটিক মিয়ার ছেলে ও সিলেট সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলামের অনুসারী।

সিলেট নগরের টিবি গেট এলাকায় বাসার সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত ছাত্রলীগকর্মী মারা গেছেন। পরিবারের দাবি মারধরের মামলা করায় খুন হয়েছেন তিনি। এজন্যে তারা স্থানীয় এক কাউন্সিলরকে দায়ী করেছেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।

জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিরন মাহমুদ নিপু ও জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি নাজমুল ইসলামের কর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীর টিবি গেইট এলাকায় আরিফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায় অপর গ্রুপের কর্মীরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আরিফকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আরিফের মায়ের দাবি, কয়েক দিন আগেই বালুচর এলাকায় ওয়াকওয়েতে বসা অবস্থায় আরিফকে মারধর করে কাউন্সিলর হিরণ মাহমুদ নিপুর গ্রুপের কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আমার ছেলেকে সবাই মিলে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আরিফের চিৎকার শুনে বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে দেখি কাউন্সিলর নিপুসহ তার কর্মীরা মিলে আমার ছেলেকে মারধর করছে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও আরিফের ওপর বালুচর এলাকায় হামলা চালায় কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সন্ত্রাসী কায়েম করতে মানুষকে নির্যাতন করছে, তারাই আজ আরিফকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর হিরণ মাহমুদ নিপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, নগরীর বালুচর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন রাত দেড়টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

হরতালের সমর্থনে সিলেটে গাড়ি ভাংচুর

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি ভাংচুর করেন হরতাল সমর্থনকারীরা।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সকালে নগরের উপশহর পয়েন্টে হরতালের সমর্থনে কয়েকটি মোটরসাইকেলে মিছিল বের করে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিছিল চলাকালে একটি ট্রাক ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এসময় আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পিকেটিং চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নেতাকর্মীদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

এছাড়া, নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকায় মিছিল করে যুবদলের নেতাকর্মীরা।

সকাল পৌনে ৮টায় স্বেচ্ছাসেবক দল সিলেট মহানগর শাখার আহবায়ক মাহবুল হক চৌধুরী ও সদস্য সচিব আফসর খানের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে  মিছিল বের হয়। মিছিলটি নয়াসড়ক থেকে শুরু হয় তাতীপাড়া গলির মুখে এসে শেষ হয়।

দুপুর ১২টায় নগরীর চৌহাট্টা-মীরবক্সটুলায় সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব শাকিল মোরশেদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে আরেকটি মিছিল বের হয়।

এছাড়া সিলেট নগরে অনেকটা ঢিলেঢালা হরতাল হচ্ছে। সকাল থেকে নগরে যানবাহন চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচল বেড়েছে। অন্য দিনের মতোই অফিস-আদালত চলছে। চাকরিজীবীদের যথাসময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেখা গেছে। স্কুল-কলেজও চলছে যথারীতি।

নগরীর ছোট দোকানপাট খোলা থাকলে বন্ধ রয়েছে শপিংমল ও বিপনি-বিতান। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে স্বাভাবিক দিনের মতো খুলেছে দোকানপাট। জনজীবনও রয়েছে অনেকটা স্বাভাবিক।

এদিকে হরতালের নামে নগরজুরে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হরতাল অবরোধের নামে সিলেট মহানগরীতে অগ্নিসন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।

যেকোনও ধরনের নাশকতার তথ্য মহানগর পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও ৬ থানার ওসিদের দিয়ে সহযোগিতা করলেই মিলবে এই পুরস্কার।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় জানায়- “সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় নাশকতাকারী ও অগ্নিসন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফ, বিপিএম(বার), পিপিএম। জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবসময় প্রস্তুত আছে এবং নগরবাসীর পাশে আছে। সিলেট মহানগরীকে নিরাপদ রাখাতে তথ্য দিয়ে পুলিশের পাশে থাকুন।”

এতে যেকোন ধরণের নাশকতার খবর পেলেই সাথে সাথে এসএমপির কন্ট্রোল রুমের ০১৩২০০৬৯৯৯৮ এই নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করতে বলা হয়।

আপিল খারিজ, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় বহাল

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ মামলাটি ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ আদেশ দেন। ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্ট রায়ই বহাল থাকলো বলে জানান আইনজীবীরা।

এদিকে রোববার শুনানির বিষয়ে দিন ধার্য থাকলেও হরতালে আসতে পারবেন না বলে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীরা ছয় সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু তা আদালত গ্রহণ করেননি।
এর আগেও কয়েক দফা সময় আবেদন করেছিলেন জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী।

এই আদেশের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল থাকলো।
ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, নিবন্ধন বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে জামায়াত। তারা ১২ বছর বিষয়টি শুনানি করেননি। তারা বার বার সময় চেয়ে আর্জি পেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও তারা সময় চান। আদালতে তাদের ডিফল্ট এর জন্য আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আপিল খারিজ হওয়ায় আদালত অবমাননা ও নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনের প্রয়োজনীয়তা রইলো না। তবে ফের কারণ উদ্ভব হলে আমাদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনসহ পৃথক দুটি আবেদনের ওপরেও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। শেষ রিট আবেদনটিতে জামায়াতের নাম বা ব্যানার ব্যবহার করে সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগের আদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি জানান, যেহেতু জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তাই আদালত এই ২ আবেদন গ্রহণ করেনি।

এর আগে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ আরও দুইজন গত ২৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করতে না পারার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেন।

একই দিন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানসহ পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দল হিসেবে জনসভা করায় আদালত অবমাননার আবেদন করেন চাঁদপুরীসহ আরও দুজন।

জামায়াতে ইসলামীকে ঢাকায় কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়ায় কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও আনা হয়।

দুই সাংবাদিক আটক, পুলিশ ভেবেছে মিছিলকারী

হবিগঞ্জ শহরে মিছিলকারী ভেবে দুই সাংবাদিককে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের পোদ্দারবাড়ি এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। রাত সাড়ে নয়টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় ওই সাংবাদিকেরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আটক ছিলেন।

আটক সাংবাদিকেরা হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জাকারিয়া চৌধুরী এবং এসএ টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবদুর রউফ ওরফে সেলিম। সাংবাদিক আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নিজেদের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ মারমুখী আচরণ করে তাঁদের ধরে নিয়ে যায়।

হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নূর হোসেন ওরফে মামুন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। যখন পরিচয় পাওয়া যায়, তখনই তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা যেন ওই দুজন সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয় থেকে নিয়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জেলা শহরে একটি মশালমিছিল বের করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য শহরের পোদ্দারবাড়ি এলাকায় যান সাংবাদিকেরা। মিছিলের ছবি ও ফুটেজ নেওয়ার সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাঁদের বাধা দেন। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পুলিশ ওই দুই সাংবাদিককে বিএনপির নেতা-কর্মী দাবি করে আটক করে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁদের পরিচয় দিলেও পুলিশ তাঁদের ছাড়েনি।

সিলেট মিছিলের নগরী

কাগজ রিপোর্ট :

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পক্ষ বিপক্ষের কর্মসূচি উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেটে।

সংসদ নির্বাচনে ভোট ৭ জানুয়ারি

কাগজ ডেস্ক ::
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন। ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সংসদ নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সিইসির ভাষণ সম্প্রচার শুরু হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর।

নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো হয়নি। বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীন নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগের দাবিতে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। সংঘাতময় এ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেন সিইসি।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন সিইসি। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার আগে বিকেল পাঁচটায় নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনাররা। সেখানে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হয়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন করতে হয়। চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। এর আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৮৫২।

এমন সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো, যখন বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে। বিএনপি এবং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোট তফসিল ঘোষণা করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র তিন দলকে শর্তহীন সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর দেওয়া চিঠি বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পেয়েছে। আজ আওয়ামী লীগও চিঠি পেয়েছে। তবে চিঠি পেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন আর সংলাপের সময় নেই।