স্পোর্টস ডেস্ক
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের ২য় টেস্টের ৪র্থ দিনে সকালের কুয়াশার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও যেন নেমে এলো আধার। যতক্ষণে মিরপুরে সূর্যের দেখা মিলেছে, ততক্ষণে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
জাকির হাসান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার করতে পারেননি বিশ রানও। নিউজিল্যান্ডকে দেড়শ ছাড়ানো লক্ষ্যও দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৭২ রানের জবাবে ১৮০ রান করে কিউইরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৪৪ রানে। জিততে হলে ১৩৬ রান করতে হবে কিউইদের।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২ রান।
জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ১৩৭ রানটাইগারদের নিতে হবে ১০ উইকেট
তবে কি বিচ্ছেদের পথেই কি হাঁটছেন এশ্বরিয়া-অভিষেক !
বিয়ের পর দুই দশক পার করেছেন বলিউডে পাওয়ার কাপল খ্যাত অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বেশ সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাউর হয়েছে প্রায় ১৬ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছেন তারা। এরই মধ্যে অবশ্য অভিষেকের ভাগ্নে অগস্ত্য নন্দনের প্রথম ছবি ‘দ্য আর্চিজ’-এর প্রিমিয়ারে বচ্চন পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা গেছে এশ্বরিয়াকে। কিন্তু সেখানেই মিলেছে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত। দেখা গেছে নিজের বিয়ের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলেছেন এ সাবেক বিশ্ব সুন্দরী।
২০০৭ সালে জুনিয়র বচ্চনের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন ঐশ্বরিয়া। এর পর থেকেই তার অনামিকায় শোভা পাচ্ছিল অভিষেকের দেয়া মূল্যবান হীরের আংটি। এ আংটিটি ছিল তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
তবে এবারের ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেল সম্পুর্ণ ভিন্ন রুপে। দ্য আর্চি এর প্রিমিয়ারে অবশ্য তিনি এসেছিলেন। কিন্তু সেখানেই দেখা গেল অভিনেত্রীর আঙুল থেকে উধাও বিয়ের আংটি।
এর আগে বিয়ের পর কখনই এ আংটি খোলেননি অভিনেত্রী। শুটিং থাকলেও তিনি আংটি হাতে রেখেই শুটিং করেছেন। কিন্তু এবার হঠাৎ এমন কী হল ঐশ্বরিয়ার!
সম্প্রতিক সময়ে, নিজের বিয়ের আংটি খুলে ফেলেন অভিষেকও। মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে অভিষেক বচ্চনকে দেখা গেছে বিয়ের আংটি ছাড়াই। সমালোচকরা এবার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে শুরু করেছে।
১৩ দেশের ৩৭ জনের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আফগানিস্তান, চীন, হাইতি, ইরানসহ মোট ১৩টি দেশের ৩৭ ব্যক্তির ওপর ভিসা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ব্রিটেন এবং কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যে ৩৭ জন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন— তাদের ওপর অলিখিতভাবে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ৩৭ ব্যক্তির মধ্যে মাজিদ দাস্তজানি এবং মোহাম্মদ মাহদি খানপুর আরদেস্তানি নামের দুই ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়েছেন। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত জেনারেল কাসেম সোলায়মানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে নজরদারি ও হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছিলেন তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্মীয়, বাণিজ্যিক এলাকা ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নজরদারি ও সম্ভব্য হামলার জন্য লোকবল সংগ্রহ এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বে মাজিদ দাস্তজানি এবং মাহদি খানপুর আরদেস্তানি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন কট্টর ইসলামপন্থী তালেবান গোষ্ঠীর বেশ কয়েক জন নেতাও রয়েছেন। এই নেতাদের মধ্যে দেশটির ‘পূণ্যের বিকাশ ও পাপের দমন’ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। মূলত নারী, তরুণী ও কিশোরীদের দমনপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত তালেবান নেতা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, বেত্রাঘাত এবং মারধোরের অভিযোগও রয়েছে। তালেবান প্রশাসনের কোনো মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি।
এসএমপির ৬ থানার নতুন ওসি হলেন যারা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট মহানগর পুলিশের ৬ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন নতুন ৬ ওসি।
নতুন ৬ ওসি হলেন যারা, কোতোয়ালী মডেল থানায় মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন শিপন, দক্ষিণ সুরমায় মো. ইয়ারদৌস হাসান, শাহপরানে মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, জালালাবাদে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বিমানবন্দরে মোহাম্মদ নুনু মিয়া, এবং মোগলাবাজারে মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ৩৩৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলির অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ৩০ রানের লিড
স্পোর্টস ডেস্ক:
সকাল থেকে ছিল বৃষ্টি। মাঝে রোদ উঁকি দিয়ে গেলেও মেঘ কাটলো না প্রায় কখনোই।
শেষ বিকেলে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হলো ঘণ্টাখানেক আগে। এর মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের পাঁচ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
পরে অবশ্য নিজেরাও হারিয়েছে দুই উইকেট।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটিতে মাঠে নামে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়। পরে কিউইরা করে ১৮০ রান।
এরপর তৃতীয় দিনশেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৮ রান করেছে স্বাগতিকরা।
পুরো একদিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর মাঠ না শুকানোয় তৃতীয় দিনেও এক সেশন খেলা হয়নি। এরপর দুই স্পিনারকে দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। গ্লেন ফিলিপস আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ড্যারিল মিচেল।
জুটি ভাঙতে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নাঈম হাসানকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সফলও হন তিনি। অবশ্য তাতে বড় ভূমিকা আছে মেহেদী হাসান মিরাজের। মিড অফ থেকে দৌড়ে এসে লং অনে ক্যাচ নেন তিনি। ৩৯ বলে ১৮ রান করে ফিরতে হয় মিচেলকে।
এই জুটি ভাঙার পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং থামাননি ফিলিপস। তবে পরের ওভারে এসে আরও এক উইকেট এনে দেন নাঈম। ৭ বলে ১ রান করে মিচেল স্যান্টনার এবার ক্যাচ দেন প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো শান্তর হাতে।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে গিয়ে পেসার আনে স্পিনার দিয়ে শুরু করা নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটটা নেন সাউদি নিজেই। ২৪ বলে ১৫ রান করে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান। তিনি আউট হওয়ার পর আর একটি বলই হয়। এরপর আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ৪টা ৯ মিনিটে দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। ওপেনার জাকির হাসান ১৬ ও মুমিনুল হক শূন্য রানে অপরাজিত আছেন।
সিলেটে আ.লীগের নির্বাচন সম্পর্কিত আইনি সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সমন্বয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাচন সম্পর্কিত আইনি সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় উপ কমিটির নির্দেশে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শমিউল আলমকে আহবায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমল আলীকে সদস্য সচিব করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত আইনি সহায়তা বিষয়ক সিলেট জেলা ও মহানগরের ৭৪ সদস্যবিশিষ্ট উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুছ, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান, অ্যাডভোকেট সুরুজ আলী, অ্যাডভোকেট মাহমুদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট দিলিপ কুমার দেব, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট বনশ্রী দাস অপু, অ্যাডভোকেট পংকজ দাস, অ্যাডভোকেট রাখাল কুমার দে, অ্যাডভোকেট ময়নুল হক ফারুক, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক, অ্যাডভোকেট নিমার আলী, অ্যাডভোকেট পৃথিস দত্ত পিংকু, অ্যাডভোকেট জয়শ্রী দাস জয়া, অ্যাডভোকেট আকমল খান, অ্যাডভোকেট শংকর লাল দাস, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমদ বাবলু, অ্যাড আব্দুল খালিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন, অ্যাডভোকেট এম আর খান মুন্না, অ্যাডভোকেট কানন আলম, অ্যাডভোকেট জয়ন্ত, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট সরোয়ার মাহমুদ, অ্যাডভোকেট রোকন মিয়া, অ্যাডভোকেট বিজিত লাল তালুকদার, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, অ্যাডভোকেট শহিদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া রিজু, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী তালুকদার, অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জুয়েল, অ্যাডভোকেট আলা উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া, অ্যাডভোকেট লিটন মিয়া, অ্যাডভোকেট সজল চন্দ্র পাল, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সুমন, অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আসীম কুমার দাস, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট টিপু রঞ্জন দাস, অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মারুফ আহমদ তামিম, অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট একরামুল হাসান শিরু, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট এ এইচ এম ওয়াসিম, অ্যাডভোকেট দিদার আহমদ, অ্যাডভোকেট কাওছার আহমদ, অ্যাডভোকেট মো ইকবাল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট প্রণয় দাস, অ্যাডভোকেট সেলিম মিয়া, অ্যাডভোকেট অরুপ শ্যাম বাপ্পী, অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার রীপা, অ্যাডভোকেট তানজিনা আক্তার জেসি, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইব্রাহীম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ জিগর আলম, অ্যাডভোকেট ইদি আলম লিয়ন, অ্যাডভোকেট মান্না দত্ত , অ্যাডভোকেট মাজেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট কাউছার আহমদ, অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ, অ্যাডভোকেট মনজুরুল হক তালুকদার, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট কাউছার আহমদ খান, অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার, অ্যাডভোকেট রন চন্দ্র দেব, অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক জায়েদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিগত ১৭ নভেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে নির্বাচন সম্পর্কিত আইনি সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
সিলেট-২ : সমঝোতার বলি কে, শফিক না ইয়াহইয়া?
জুবেল আহমেদ, ওসমানীনগরঃ
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেকে সামনে রেখে সিলেট-২ আসনে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তায় আলোচনায় রয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরী। এ আসনে আরো বৈধ প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের মুখে রয়েছে এই দুজনেরই নাম। তবে এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিজস্ব প্রার্থী দিতে চায় জাতীয় পার্টি।
এদিকে দল মনোনয়ন দিলেও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী আবারো সমঝোতার বলি হতে পারেন। মহাজোটের প্রয়োজনে জাতীয় পার্টির চাহিদা মেটাতে গেলে আসনটিতে আবারো সমঝোতার বলি হয়ে কপাল পুড়তে পারে শফিক চৌধুরীর। এবারে জাতীয় পার্টি আসনটি পেলে শরিকদের কাছে হারানোর হ্যাটট্রিক করবেন তিনি।
বিগত দুটি নির্বাচনে এ আসনে জোটের বলি হতে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। ২০০৮ সালে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে এ আসনের মসনদে বসেছিলেন শফিক চৌধুরী। এরপর দুটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীকে এই আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তাতে কপাল পুড়ে শফিক চৌধুরীর। মহাজোটের ব্যানারে দশম জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াহইয়া চৌধুরী। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে হেরে যান জাপার এই প্রার্থী। নির্বাচিত হন ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের মোকাব্বির খান।
তবে দুবার হাতছাড়া হওয়া এ আসনটিতে এবার দলীয় প্রার্থী চান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। টানা দুইবার দলের আনুগত্য থেকে ত্যাগ স্বীকার করা শফিকুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে একাট্টা আসনটির আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা।
শফিক চৌধুরীর সমর্থকদের দাবি, ক্ষমতাসীন দল হয়েও বিগত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় আসনটিতে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে তিনি মহাজোটের প্রয়োজনে ছাড় দিয়েছেন, এবার শফিক চৌধুরীকে ছাড় দেওয়ার কথা।
দুই মেয়াদে ত্যাগের পুরস্কার স্বরুপ শফিক চৌধুরীকে এ আসনে বহাল রাখারও গুঞ্জন আছে। এমনটি হলে কপাল পুড়বে জাপার প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীর।
তবে ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পরিষ্কার হবে সবকিছু। সমঝোতা না হলে কে হচ্ছেন এ আসনের পরবর্তী এমপি সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নিষেধাজ্ঞা এলে বিএনপির ওপর আসবে: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভাবছি না। আমরা নির্বাচন নিয়ে ভাবছি। আর নিষেধাজ্ঞা এলে বিএনপির ওপর আসবে।
শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে, প্রতিহত করতে জ্বালাও পোড়াও করছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে, আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়াচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডতো সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধা বিপত্তি। সুতরাং নিষেধাজ্ঞা এলে বিএনপি ও তাদের দোসরদের ওপর আসবে। তারাই নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য।
সেতুমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে নিবাচনী আমেজ বইছে। জনগণ এখন নির্বাচন মুখী। তারা ভোট দিতে প্রস্তুত। ফলে যারা (বিএনপি) নির্বাচনে বাধা বিপত্তি করবে তাদেরকে নির্বাচনমুখী স্বতঃস্ফূর্ত ভোটররাই প্রতিহত করবে।
ডেনমার্কে পবিত্র কোরআন পোড়ানো নিষিদ্ধ করে আইন পাস
অনেক আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্কের পর অবশেষে পবিত্র কোরআন বা অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন পাস করেছে ডেনমার্ক। ওই আইনে ডেনমার্কের পার্লামেন্ট ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতি ‘অনুপযুক্ত আচরণ’ নিষিদ্ধ করেছে।
মূলত এই আইন বা বিলটি ইউরোপের এই দেশটিতে কোরআন আইন হিসাবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র কোরআন বা অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার এই আইনের পক্ষে ডেনমার্কের পার্লামেন্টে ভোট পড়ে ৯৪টি। আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৭৭টি। আর এতেই আইনটি পাস হয় এবং এই আইনের অধীনে অপরাধীদের এখন জরিমানা বা দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
বিবিসি বলছে, ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর একের পর এক ঘটনার পর ডেনমার্কে এই আইন পাস করা হলো। মূলত একের পর এক কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।
ডেনমার্ক এবং প্রতিবেশী সুইডেনে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত এই ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। আর এটি ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর আগে গত আগস্টে ডেনমার্কের সরকার জানায়, আগুনে পুড়িয়ে বা অন্য কোনও উপায়ে কেউ যেন পবিত্র কোরআন অবমাননা না করতে পারেন- সেজন্য একটি আইন প্রস্তাব করতে যাচ্ছে তারা। এরমাধ্যমে কথিত বাকস্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে কেউ কোরআন পোড়াতে পারবে না।
মূলত কোরআন অবমাননার জেরে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ডেনমার্কের সম্পর্কের উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই উত্তেজনা প্রশমনে এমন উদ্যোগ নেয় দেশটি। আর তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দেশটিতে পবিত্র কোরআন পোড়ানো নিষিদ্ধ করে আইন পাস হলো।
অবশ্য ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের আরেক দেশ সুইডেনেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অসংখ্যবার কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ পাতায় আগুন লাগিয়ে অথবা পাতা ছিঁড়ে পবিত্র এ ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করেছেন। এসব ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মুসলিম দেশগুলো।
বিবিসি বলছে, পবিত্র কোরআন পোড়ানো বা অবমাননা বন্ধে ডেনমার্কের মতো সুইডেনের সরকারও একই ধরনের আইনের কথা বিবেচনা করছে। এছাড়া ডেনমার্ক এবং সুইডেন উভয়েই ব্লাসফেমি আইন বাতিল করেছে।
পাঁচ বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন বেগম রোকেয়া পদক
সমাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পাঁচ বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩’। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এ তথ্য জানান। ৯ ডিসেম্বর ‘বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩’ প্রদান উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, পদকপ্রাপ্ত পাঁচ বিশিষ্ট নারী ও তাদের অবদানের ক্ষেত্র হলো—নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম, মরণোত্তর (ঢাকা জেলা)। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডা. হালিদা হানুম আখতার (রংপুর জেলা)। নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা, মরণোত্তর (নেত্রকোনা জেলা)। নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার (লক্ষ্মীপুর জেলা) এবং পল্লি উন্নয়নে রনিতা বালা (ঠাকুরগাঁও জেলা)।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন। পদকপ্রাপ্তরা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদক গ্রহণ করবেন। পদকপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণ নির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, প্রত্যেককে ৪ লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
