Home Blog Page 239

বীরমুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিমের স্মরণ সভা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক। দেশের জন্য জীবন বাজী রেখে তিনি লড়াই করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। দলের জন্য তার আনুগত্য অবিস্মরণীয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার ধারবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে সবাইকে নৌকার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সিলেটের অসমাপ্ত উন্নয়নের সমাপ্তি টানতে আওয়ামী সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

পররাষ্টমন্ত্রী শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় ৮নং ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিদ্দেক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমের দলীয় আনুগত্য ছিলো প্রশ্নাতীত। তিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমার জন্য এবং নৌকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। দোয়া করি তিনি যেনো জান্নাতবাসী হোন।তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিত প্রান কর্মী এবং একজন দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাকে হারালো।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দল এবং দেশের জন্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমের ত্যাগ উদাহরণ হয়ে থাকবে। তার জীবনের নানা দিক থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত এক সৈনিক ছিলেন। সারাটা জীবন তিনি দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন।তিনি আগামী নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাসসহ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। স্মরণসভা পরিচালনায় ছিলেন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম নজু।

হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ‘গরিব’ প্রার্থী রুয়েল

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল। জেলার চারটি আসনের মধ্যে নিজ দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী তিনি।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ময়েজ উদ্দিনের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া কৃষিখাত থেকে ৩০ হাজার, আইন পেশা থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। নগদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ঢাকা, হবিগঞ্জ ও নিজ এলাকায় কিছু জমি আছে। যেগুলোর মূল্য দেখিয়েছেন ২৯ লাখ টাকা।

ময়েজ উদ্দিনের স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের কোনো সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আয়ও নেই। অথচ জেলার চারটি আসনের মধ্যে বাকি তিনটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যেকের আয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে কয়েক কোটি টাকার।

ময়েজ উদ্দিন শরীফ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক। বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক তিনি। তার বাবা শরীফ উদ্দিন আহমেদ হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর সমান সম্পদ ড. কবিরের স্ত্রীর

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে সম্পদে সবচেয়ে এগিয়ে সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ড. আহমদ আল কবির। তার নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অন্য সাত প্রার্থীর চেয়েও দ্বিগুণ। এমনকি তাদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার স্ত্রীর।

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহমদ আল কবির। তিনি সিলেটের সর্ববৃহৎ এনজিও সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এছাড়া তার নামে সিলেটে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

হলফনামায় আহমদ আল কবির তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন সাত কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার ৩২৯ টাকার। এরমধ্যে তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে তিন কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৭ টাকার। অথচ এ আসনে অন্য সাত প্রার্থীর মধ্যে কারো এত সম্পদ নেই।

হলফনামায় আহমদ আল কবির তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৫২৪ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে দুই লাখ; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত বাবদ দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা এবং পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে আয় ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৮ টাকা।

হলফনামায় তার নিজের অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৯৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭১ টাকার। আর ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার ২০৭ টাকার স্থাবর সম্পদ। তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ৬২৩ টাকা।

তাছাড়া যৌথ মালিকানায় স্থাবর সম্পদ উল্লেখ করেছেন ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৪৮০ টাকা। যার ৫০ শতাংশ মালিক আহমদ আল কবির নিজে এবং বাকি ৫০ শতাংশের মালিক তার স্ত্রী। সবমিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সাত কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৮০৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আহমদ আল কবিরের স্ত্রীর নামে তিন কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৭ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অথচ ওই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সাত প্রার্থীর মোট সম্পদ রয়েছে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ২১৯ টাকার। একক হিসেবে আহমদ আল কবিরের স্ত্রীর সমান সম্পদও ওই আসনে অন্য কোনো প্রার্থীর নেই।

সিলেট-৫ আসনের আট প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মাসুক উদ্দিন আহমদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫৩ লাখ ৯৮ হাজার ২৫০ টাকা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাব্বির আহমদের ৮৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩ টাকা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের খায়রুল ইসলামের সাত লাখ ৩৫ হাজার টাকা, তৃণমূল বিএনপির কুতুব উদ্দিন আহমদ শিকদারের ৩৪ লাখ ৫০ হাজার, স্বতন্ত্র হুছাম উদ্দিনের ৮১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৬ টাকা, কয়ছর আহমদ কাওছারের ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের বদরুল আলমের এক কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

আহমদ আল কবির হলফনামায় নিজের সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭১ টাকা। এছাড়া তার সম্পদের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৪৫ লাখ; বন্ড, ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ৬৮ লাখ; পোস্টাল, সেভিংস ও বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ; বাস, ট্রাক মোটরগাড়ি রয়েছে ৪৪ লাখ, স্বর্ণালংকার এক লাখ ৮০ হাজার, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী সাত লাখ, আসবাবপত্র আট লাখ ও অন্যান্য খাতে আরও রয়েছে ২৬ লাখ টাকা।

এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কৃষিজমি দেখিয়েছেন দুই লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৭ টাকার, অকৃষি জমি পাঁচ লাখ ৮ হাজার ৫৪০ টাকার এবং বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট বাবদ ৩৯ লাখ টাকা।

কবির তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন, নগদ এক কোটি ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা এক কোটি ১৫ লাখ; পোস্টাল, সেভিংস ও বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ৪৩ লাখ এবং স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার। তাছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে কৃষিজমি ৪০ হাজার টাকার ও বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকার।

স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আল কবির বলেন, ‘আমার স্ত্রী অধ্যাপক মমতাজ শামীম সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত। এরআগে তিনি বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তার আয়ের উৎস চাকরি।’

মৌলভীবাজারে গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব

মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে উৎসবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

উৎসবে জেলা শিল্পকলা একাডেমী সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিদল, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, গানঘর, গান পাঠশালা, রবিরাগ, অগ্নিকণা, নূপুর নিক্কন ও শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয় অংশগ্রহণ করে।

কবিতা পাঠ করেন কবি আকমল হোসেন নিপু, কবি মুজাহিদ আহমেদ, কবি জয়নাল আবেদীন শিবু। আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ চৌধুরী ও ডোরা প্রেন্টিস।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন তমাল ফেরদৌস, মৌমিতা সিনহা, গোপন চক্রবর্তী, জয়দীপ রায় রাজু, সুরঞ্জিত সুরণ, আলো দেবী, আইরিন মুন্নী, এস ডি শান্ত, টুম্পা দেবী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী ছিলেন, দেলোয়ার হোসেন দুর্জয়, সুমন দাশ, ঈশিতা বাহাদুর মৌ।

অনুষ্ঠানে যন্ত্র শিল্পীরা ছিলেন, কিবোর্ডে এডভোকেট প্রীতম দত্ত সজীব, গীটারে নিউটন, অক্টোপ্যাডে হিমেল দেবনাথ, তবলায় রাম গোপাল দাশ।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন অ্যাডভোকেট গৌছ উদ্দিন নিক্সন ও সুশিপ্তা দাশ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত প্রশিক্ষক সুপ্রিয়া মিশ্র।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রভাংশু সোম মহান, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিন্টু, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাসুদ, নাট্যকার আব্দুল মতিন, রেডিও পল্লী কন্ঠের স্টেশন ম্যানেজার মেহেদী হাসান, বিটিভি প্রতিনিধি হাসানাত কামাল, নাট্য ব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরী, কয়ছর আহমদ প্রমুখ।

‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৭৪ শতাংশই বিষণ্ণতায় ভুগছেন’

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ পরীক্ষার্থীই মানসিক বিষণ্ণতায় বা হতাশায় ভুগছেন; এর মধ্যে ২২ শতাংশই মারাত্মক পর্যায়ের। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিই-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ এমন ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীরাও’ বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

গত ৩০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল প্লস ওয়ানের ক্যাটাগরি কিউ-১ এ প্রকাশিত বাংলাদেশি একদল গবেষকদের এক গবেষণাপত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ সমস্যা সমাধানে গবেষকরা কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছেন তাদের অনুসন্ধানে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ৬ জন গবেষক গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন।

‘বাংলাদেশে স্নাতক ভর্তি প্রার্থীদের মধ্যে বিষণ্ণতার প্রাদুর্ভাব এবং কারণসমূহ’ শিরোনামে গবেষণাটি কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। গবেষণা বাজেট সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এটি বিলম্বিত হয়েছে; তবে প্রায় দুই বছর কাজ শেষে গত মাসে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান গবেষকরা।

বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ প্রায় ৫ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের মতামত নিয়ে এই গবেষণায় আউটপুট তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষকদলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- শাবির পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. নাফিউল হাসান ও আল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনমুন সরকার, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মিলাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আখের আলী, চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুবায়ের আহমেদ।

গবেষণার আউটপুট কি জানতে চাইলে গবেষক দলের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, দেশের ৭৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী বিভিন্ন পর্যায়ের বিষণ্ণতায় ভুগছেন। এর মধ্যে মাঝারি বিষণ্ণতায় ২৬ শতাংশ, অত্যাধিক বিষণ্ণতায় ২৬ শতাংশ এবং ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী মারাত্মক পর্যায়ের বিষণ্ণতায় ভুগছেন।’’

‘ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা কি’ এ বিষয়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, বিষণ্ণতা একটি প্রচলিত ও মারাত্মক মানসিক অসুস্থতা; যা আপনার অনুভূতি, চিন্তা এবং আচরণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এবং এটি আত্মহত্যার দিকে টেনে নিয়ে যায়।’’

বিষণ্ণতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একটি মাত্রা হচ্ছে `পেশেন্ট হেলথ কোয়েশ্চনিয়ার’- সংক্ষেপে ‘পিএইচকিও নাইন’ বলে থাকে; তা দিয়ে পরিমাপ করে গবেষকরা গবেষণার মাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

বিষণ্ণতা বাড়ার কিংবা কমার- এই উভয়পক্ষে কতগুলো প্রভাবককে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

বিষণ্ণতা বাড়ার পেছনে প্রভাবক বা কারণ হিসেবে রয়েছে- লিঙ্গ (ছেলে এবং মেয়ে), ব্ল্যাকমেইলের শিকার, পারিবারিক সমস্যা, গুরুতর অসুস্থতা, কোভিড আক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল ও মানসিক সমস্যা।

অন্যদিকে, বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন কমার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে- ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস, শরীরচর্চা, পড়াশুনার সময় ও ধর্মচর্চা।

গবেষকরা বলছেন, পারিবারিক আয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বিষণ্ণতার প্রভাবক বা কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও এদের প্রভাব খুব জোরালো নয়।

এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের ‘বিষণ্ণতার সঙ্গে ধুমপানের অভ্যাস, বৈবাহিক অবস্থা, প্রেমের সম্পর্ক ও ধর্মবিশ্বাসের’ কোনো সম্পর্ক নেই’ বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে বলে জানান গবেষক অধ্যাপক জামাল।

গবেষক দল নেতা মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ছেলেদের তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের ‘অত্যাধিক বিষণ্ণতায় ভোগার ঝোঁক’ প্রায় দ্বিগুণ। খুব সম্প্রতি কোনোপ্রকার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া এবং পারিবারিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অত্যাধিক বিষণ্ণতায় ভোগার ঝোঁক ২ থেকে ৩ গুণ।

অপরদিকে, যাদের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ আছে তাদের মাঝে বিষণ্ণতার হার অধিক এবং ঝোঁক প্রায় দেড়গুণ। তবে যাদের জিপিই-৫ আছে তাদের কেন বিষণ্ণতার মাত্রা বেশি; এটি আরও গবেষণা করে দেখা যেতে পারে বলে জানান মো. আবু বকর সিদ্দিক।

এদিকে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সচেতন এবং নিয়মিত শরীরচর্চাকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষণ্ণতার হার তুলনামূলক কম এবং আক্রান্ত হওয়ার ঝোঁক যথাক্রমে এক দশমিক চার এবং ২ গুণ কম।

বিষণ্ণতা কিভাবে কমানো যায়- জানতে চাইলে অধ্যাপক জামাল ও মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সৎ সঙ্গ এবং উত্তম পারিবারিক পরিবেশ ও বোঝাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। সেইসাথে শরীরচর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সচেতনতাও গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের শুধু দৈহিক সুস্বাস্থ্যই নয়; মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।’

শুধু ভালো একাডেমিক ফলাফল নয়, দৈহিক ও মানসিকভাবে বলিষ্ঠ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে জানান গবেষকরা।

আল-রিয়াদকে ৪-১ গোলে হারাল রোনালদোর আল নাসর

স্পোর্টস ডেস্ক
টানা তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার পর, অবশেষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জাদুতে দুর্দশা কাটলো আল নাসরের। পেশাদার ক্যারিয়ারের ১২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে পর্তুগিজ উইঙ্গার নিজে গোল করলেন, সতীর্থকে দিয়েও করালেন।
রোনালদোর মাইলফলক ম্যাচটিতে আল নাসর ৪-১ গোলে হারিয়েছে আল-রিয়াদকে। ম্যাচের প্রথম গোলটিই করেন রোনালদো। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগিজ সতীর্থ ওতাভিওকে দিয়ে গোল করান তিনি। অবশ্য কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া না করলে রোনালদোর গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারতো। পরে জোড়া গোল করে আল নাসরের বড় জয় নিশ্চিত করেন অ্যান্ডারসন তালিস্কা।
ঘরের মাঠ আল আওয়াল পার্কে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই ব্যাপক চাপে রাখে আল নাসর। একের পর এক আক্রমণে আল-রিয়াদের রক্ষণ কাঁপায় তারা। এর মধ্যে রোনালদো একাই বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। যদিও পরে গোল করে তা পুষিয়ে দেন ১২০০তম ম্যাচ খেলতে নামা রোনালদো। অবশ্য সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রোনালদোর নয়, ১৩৮৭ ম্যাচ খেলে সবার ওপরে আছেন সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটন।
ত্রয়োদশ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত এক মুহূর্তের জন্ম হয়। রোনালদোর একটি শট গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফেরান আল রিয়াদের এক ডিফেন্ডার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ভিএআর দেখেও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি রেফারি। ওই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান রোনালদো। ৩২তম মিনিটে প্রতিশোধও নেন তিনি। সাদিও মানের দারুণ এক ক্রসে ট্যাপ করে লক্ষ্যভেদ করেন রোনালদো। অবশ্য রোনালদোর প্রথম প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গোলকিপার কাম্পানা।
প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে ওতাভিয়ার গোলে অ্যাসিস্ট করেন রোনালদো। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে বল বাড়ান পর্তুগিজ সতীর্থের উদ্দেশে। দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ওতাভিও। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আল নাসরের হয়ে জোড়া গোল করেন তালিসকা। মাঝে একটি গোল শোধ করেন আল রিয়াদের আন্দ্রে গ্রে।
১৬ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আছে আল নাসর। শীর্ষে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ৪৪।

ভালবাসার মানুষের কল কম ধরেন ব্যারিস্টার সুমন

‘যাদের আমি ভালবাসি, তাদের কল কম ধরি’ মন্তব্য করেছেন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরে গণমাধ্যমের সামনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার শেষ পর্যায়ে তিনি একথা বলেন।

এর আগে ব্যারিস্টার সুমন হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ সবুজ পালের আদালতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা শোকজের লিখিত জবাব দেন।

সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, আমাকে শোকজ করা হয়েছিল; একটি জায়গায় নাকি আমি রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছি। আর হচ্ছে আমি পুলিশকে কেন জানাইনি। আসলে আমি সেদিকে যাচ্ছিলাম। আর যেহেতু ফেসবুকে আমার প্রায় ৭ মিলিয়ন অনুসারী রয়েছেন; তারা ভিড় করেছেন। আর এটি আমার কোনো প্রোগ্রাম ছিল না, তাই পুলিশকে জানাইনি।

তিনি বলেন, আদালতকে জবাব দিয়েছি, আমি যেহেতু আইনের মানুষ তাই, কোনো বিধি যেন অমান্য না হয় সে বিষয়েও সজাগ থাকব।

পরে সাংবাদিকদের কল ধরতে পারেন না প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আসলে আমি যাদের ভালবাসি, তাদের কল কম ধরি।

ইসরায়েলি বর্বরতায় মদদ দেয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্রেও মুসলমানদের আস্থা হারিয়েছেন বাইডেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিটো গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র সমর্থন জানালেও ভিটো দেয় স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজায় অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা এক প্রস্তাবে ভিটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় ‘অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি’র দাবি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আনা একটি খসড়া প্রস্তাবনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির জন্য তোলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ভিটো দেওয়ায় সেটি ভেস্তে যায়। গাজার পরিস্থিতিকে ‘ঘুরপাক খেতে থাকা অমানবিক দুঃস্বপ্ন‘ বলে অভিহিত করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গাজার কোনো এলাকাই বেসামরিকদের জন্য নিরাপদ নয় বলে ঘোষণা করেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র সমর্থন জানালেও ভিটো দেয় স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারের এই ভোট ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে বাকিদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স- এই তিন স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসহ নিরাপত্তা পরিষদের ১০ অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের সবাই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু ব্রিটেন ভোট দানে বিরত থাকে আর যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেয়। স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট বা ভিটো (আমি নিষেধ করছি) দেওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিটো জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড পরিষদকে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলেন, “এই প্রস্তাব টেকসই না এমন একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে, যা শুধু পরবর্তী যুদ্ধের বীজ বপণ করবে। আমরা এই প্রস্তাব সমর্থন করি না।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করে বলেছে, এটি শুধু হামাসকে সুবিধা দেবে, ৭ অক্টোবরের প্রাণঘাতী আন্তঃসীমান্ত তাণ্ডবের জন্য যাকে ইসরায়েল নির্মূল করার প্রতিজ্ঞা করেছে। ‘যুদ্ধবিরতির’ বদলে যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের ‘বিরতির’ মতো লড়াই কিছুদিনের জন্য থামিয়ে রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সাত দিনের ওই ‘মানবিক বিরতিতে’ গাজা থেকে কিছু জিম্মি মুক্তি পেয়েছিল এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে অতি জরুরি ত্রাণ সরবরাহ অনেকটা বেড়েছিল। ১ ডিসেম্বর ওই ‘বিরতির’ সমঝোতা ভেঙে পড়ার পর থেকে গাজায় ফের ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিটো দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, “লাখ লাখ ফিলিস্তিনির জীবন সংকটজনক অবস্থার মধ্যেই রয়ে গেল।” ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত এল-রেশিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভিটো দেওয়ার নিন্দা করে একে ‘অমানবিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সব জিম্মি ফিরে এলে এবং হামাস ধ্বংস হলেই শুধু একটি যুদ্ধবিরতি সম্ভব।”
অবরুদ্ধ গাজা ইসরায়েলি বর্বরতায় মদদ দেয়ায় বিশ্বের অন্য দেশের মুসলিমদের মতো মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চরম অসন্তুষ্ট।
এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে তারা আর বাইডেনের উপর আস্তা রাখতে পারছেন না।
ইসরায়েলের নির্বিচার গণহত্যায় অস্ত্র, অর্থ ও সমর্থন দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমরা বাইডেনের উপর থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। খবর ডেইলি সাবাহ’র।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে মিশিগান, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেগুলোতে বাইডেনের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে।
তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #অ্যাবানডনবাইডেন প্রচারণাও শুরু করেছে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের বিরোধীরা।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে নিরপরাধ মানুষের প্রাণ রক্ষায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোতে অনীহা প্রকাশ করার কারণে আগামী ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বাইডেনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের উদ্যোগ হিসেবে #অ্যাবানডনবাইডেন প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাইডেনবিরোধী প্রচারণা চালানো গোষ্ঠী মিনেসোটার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনের (সিএআইআর) পরিচালক জায়লানি হোসেইন বলেন, ‘আমাদের হাতে কেবল দুটি অপশন নয় অনেকগুলো অপশন রয়েছে।’ মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই কথা বলেন।

অন্যদিকে, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে ফিলিস্তিনবিরোধী অপপ্রচারকে ভালোভাবে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুলমানরা। ইসলাম ফোবিয়ার কারণে মিডিয়াতে বিভিন্ন পক্ষপাতমূলক সংবাদ এসেছে যেটি মার্কিন প্রশাসন ইচ্ছা করেই নিয়ন্ত্রণ করেনি। এটিকেও ভালোভাবে নেয়নি মুসলমানরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল মুসলমান ও আরব মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। প্রায় ৩৫ লাখ মুসলিমের বসবাস এখন যুক্তরাষ্ট্রে। এ কারণেই সত্যিকার অর্থেই আগামী নির্বাচনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
কারণ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ‘ইলেক্টোরাল বডি’র মাধ্যমে। আবার এই ইলেক্টোরাল বডি নির্ধারণ করে দেয় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো। তবে দেশটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেন।

৫ নারীর হাতে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঁচ নারীর হাতে পদক তুলে দেন।
পদকপ্রাপ্ত পাঁচজন বিশিষ্ট নারী ও তাদের অবদানের ক্ষেত্র হলো— নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম মরণোত্তর (ঢাকা জেলা), নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডা. হালিদা হানুম আখতার (রংপুর জেলা), নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা মরণোত্তর (নেত্রকোনা জেলা), নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার (লক্ষ্মীপুর জেলা) এবং পল্লী উন্নয়নে রনিতা বালা (ঠাকুরগাঁও জেলা)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ১৩৭ রানটাইগারদের নিতে হবে ১০ উইকেট

স্পোর্টস ডেস্ক
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের ২য় টেস্টের ৪র্থ দিনে সকালের কুয়াশার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও যেন নেমে এলো আধার। যতক্ষণে মিরপুরে সূর্যের দেখা মিলেছে, ততক্ষণে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
জাকির হাসান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার করতে পারেননি বিশ রানও। নিউজিল্যান্ডকে দেড়শ ছাড়ানো লক্ষ্যও দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৭২ রানের জবাবে ১৮০ রান করে কিউইরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৪৪ রানে। জিততে হলে ১৩৬ রান করতে হবে কিউইদের।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২ রান।