Home Blog Page 22

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি

আধুনিক ডেস্ক ::

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারী চিকিসৎকসহ পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। শুক্রবার রাতের এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই থানার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নাম্বার সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যে কোনো সময় কাজে ফিরতে প্রস্তুত।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার ঘটনার পরপর নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ওসি মাইনুল জাকির।

গুম হওয়া স্বজনের অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য বড় দায়: তারেক রহমান

আধুনিক ডেস্ক ::
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বহু সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি আবার ‘মা’ বলে ডাকবেন। এই অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়।’ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপির পরিবার’ নামের দুটি সংগঠনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় তারেক রহমান বলেন, গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর কষ্ট এমন গভীর যে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারেক রহমান গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষকে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে যাঁরা আবার নষ্ট বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা যেন সফল না হন।

বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের হাজার হাজার নেতা–কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে হত্যা করা হয়েছে, হাজারেরও বেশি মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। আজ এখানে গুম হওয়া সেই মানুষগুলোর কিছু পরিবারের সদস্য উপস্থিত আছেন। আবার অনেক পরিবার এখনো অপেক্ষায় আছেন।’

সীমাবদ্ধতা থাকলেও গুম হওয়া মানুষকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। দলীয় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেননি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতা–কর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারেন—সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।’

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি তাদের বিতর্কিত ভূমিকা দেখা গেছে। তারপরও রাজনৈতিক একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিতে চায়।

গুম ও হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭১ সালের যাঁরা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যাঁরা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, ’২৪-এর আন্দোলন ও ৫ আগস্টের আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন—প্রতিটি অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।’

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শহীদ ও গুমের শিকারদের আত্মত্যাগ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় থাকে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শহীদ পরিবারদের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।

সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ওসমানীনগর প্রতিনিধি ::

সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামলী পরিবহন ও এনা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতরা হলেন, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান (৫৫) এবং সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কুরুয়া এলাকার বাসিন্দা বকুল রবিদাশ (২৬)।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতেই গণভোট : ফারুক ই আজম

আধুনিক রিপোর্ট ::

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোট। গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই গণভোটে অংশ নিতে হবে। তিনি শুক্রবার বিকালে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ফারুক ই আজম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারে মূল কাজ ছিল তিনটি- গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে গণহত্যার বিচার শুরু করেছে, অনেকের সাজা হয়েছে। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় যাতে আর কেউ নিতে না পারে সেজন্য সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়েই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। আর নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার তার দায়িত্ব পূর্ণ করবে।

যারা জীবনে প্রথম ভোট দেবেন তাদেরকে অনেক সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য, আপনার নিজের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য। গণভোটের পক্ষে আপনার সুচিন্তিত মতামতের ফলেই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে।

ফারুক ই আজম বলেন, আমাদেরকে সচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধ সম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। যে বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই সময় তিনি রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। আর ভালো প্রার্থী তৈরি হবে ভালো রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো রাষ্ট্রের পক্ষে ফরজে কেফায়া, মন্তব্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টার

আধুনিক ডেস্ক ::

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো রাষ্ট্রের পক্ষে ফরজে কেফায়া বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে গণভোট নিয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান, উচ্চ কক্ষ নিম্ন কক্ষ বুঝানো লাগবে না, নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবনে গণভোট কী প্রভাব রাখবে তা বুঝিয়ে হ্যাঁ এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।’

নুরজাহান বেগম আরো বলেন, ‘যারা নির্বাচন চায় না তারা সর্বোচ্চ ট্রাই করবে নির্বাচন না হোক। তাই জনগণকে যতো যুক্ত করা যাবে, তত অশুভ শক্তি ও নির্বাচন বিরোধী শক্তি পরাজিত হবে।’

ভীতিপ্রদর্শন করবে, গুজব ছড়াবে, এখনই গুজব ছড়ানো শুরু হয়েছে। যখনই গুজব কানে আসবে সেটা তাৎক্ষনিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সেটি যে ভুল তা তুলে ধরতে হবে। যা ছড়ানো হয়েছে সেটা যে ভুল তথ্য তা প্রচার করে দেন। এতে মানুষ সত্যটা জানতে পারবে। স্বস্তি আসবে।

তিনি বলেন, যারা ইলেকশন চায়না তারা শতভাগ চেষ্টা করবে যাতে ইলেকশনটা পন্ড হয়। আপনি কি ইলেকশন পন্ড হতে দিবেন নাকি, একটা উৎসব মুখর ইলেকশন করবেন।

তিনি আরও বলেন, স্যার বলেছেন যেখানে সম্ভব সেখানে মেলার আয়োজন করলে লোকজন কেনাকাটাও করবে আবার ভোটও দিবে। যতবেশি জনগন অংশগ্রহণ করবে, অশুভ শক্তি তত বেশি পেছনে হাটতে বাধ্য হবে। অশুভ শক্তিকে সামনে আগতে দেবেন না। তারা সামনে আসলে তান্ডব নিয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে আমাদের ভয় পাওয়া চলবেনা। আমরা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ভোট কাস্টিং বেশি হতে হবে। আমরা রেকর্ড সৃষ্টি করবো। গণভোটে আমরা হ্যাঁ ভোট দিবো হ্যাঁ ভোট দিবো হ্যাঁ ভোট দিবে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ইলেকশন যেনো আমরা করতে পারি এবং ইনশাল্লাহ আমরা তা পারবো।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঞ্চালনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান ছাড়াও সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের, প্রার্থী ২৬৮ আসনে

আধুনিক ডেস্ক ::
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে না থেকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে দলটি জানিয়েছে, তারা ২৬৮ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সমঝোতার পরদিন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ঢাকার পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের সিদ্ধান্ত জানান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাজ করছেন জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, এসব আসনে দলের প্রার্থীরা আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দল’–এ ইসলামী আন্দোলনও ছিল। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন কয়েক দিন ধরে আলোচনায় ছিল। টানাপোড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল আসন সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনী মোর্চার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর আজ সেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানাল ইসলামী আন্দোলন।

পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা

আধুনিক ডেস্ক ::

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ ও ২ আসনের নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার রাতে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১৫ জানুয়ারির এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশটুকু বাতিল করে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ জানুয়ারি রোববার রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি সোমবার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে। এই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি এবং ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

ইসি সচিবালয় জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (নং ১৯০/২০২৬) সংক্রান্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী ইসি এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

রাজধানীর উত্তরায় বাড়িতে আগুনে নিহত ৬

আধুনিক ডেস্ক ::

রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ ৬ জন। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সকালে তিনজন নিহত হন, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নিভেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়।

ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ঘরে প্রচুর আসবাব ছিল। সেগুলোয় আগুন লেগে যায়। আগুন তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন–৩–এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন দ্বিতীয় তলায় লেগে তা তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

পবিত্র শবে মিরাজ আজ

আধুনিক ডেস্ক ::

পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ আজ। মিরাজের ঘটনা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলাম ধর্মের তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র শবে মিরাজ পালন করেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মিরাজের ঘটনার মধ্য দিয়েই সালাত বা নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়। এ রাতেই প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ আদায় করার বিধান নিয়ে আসেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দের এক রাতে তিনি কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ বা আল-আকসা মসজিদে গমন করে নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। তাঁর মসজিদুল আকসায় গমনের এ ঘটনাকে কোরআনের ভাষায় ‘ইসরা’ বলা হয়। সেখান থেকে তিনি ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্ব আকাশে গমন করেন এবং এ ঘটনাকে ‘মিরাজ’ বলা হয়। এ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)।

জিবরাইল (আ.) হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত ‘সিদরাত-আল মুনতাহা’, বেহেশতের নদী ও ফেরেশতাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত ইবাদতখানা ‘বায়তুল মামুর’ পরিদর্শন করান। এরপর হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহপাকের সাক্ষাৎ লাভ করেন।

বিশেষ এ দিনটিকে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে মসজিদে, নিজ গৃহে কিংবা ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআনখানি, জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন।

১১ দলের আসন সমঝোতা, সিলেটের ১৯টির কার কোনটি

আধুনিক রিপোর্ট ::

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আসন সমঝোতায় এখনও সম্পৃক্ত না হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা হয়েছে। আসনের এ সমঝোতায় সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে জামায়াত। দলটির ভাগে পড়েছে দশটি আসন। জামায়াতের পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে খেলাফত মজলিস। তাদের ভাগে পড়েছে পাঁচটি আসন। দটি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং দুটি আসন রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। সিলেট বিভাগের কোনো আসন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাগে পড়েনি।

১১ দলের আসন সমঝোতায় সিলেট বিভাগে যে ১০টি আসন পেয়েছে জামায়াত সেগুলো হচ্ছে- সিলেট-১ (সিলেট সদর ও সিটি কর্পোরেশন), সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞচুগঞ্জ), সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর), সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার), সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা), সুনামঘহ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর), সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী), মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া), হবিগঞ্জ- (নবীগঞ্জ-বাহুবল)

১১ দলের আসন সমঝোতায় জামায়াতের পর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির ভাগের ১০টি আসনের মধ্যে অর্ধেকই সিলেট বিভাগের। আসনগুলো হচ্ছে- সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর), সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ), মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর), হবিগঞ্জ-২ (আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং) ও হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা)।

আসন সমঝোতায় সিলেট বিভাগে দুটি আসন ভাগে পেয়েছে মামনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ দটি আসন হচ্ছে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ)।

আসন সমঝোতায় সিলেট বিভাগে দুটি আসন রাখা হয়েছে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ দটি আসন হচ্ছে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ)।

১১ দলের আসন সমঝোতায় এখনও সম্পৃক্ত না হলেও সিলেট বিভাগে দুটি আসন রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। আসন দুটি হচ্ছে- সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) ও হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ)।