Home Blog Page 23

শাবিপ্রবির আবাসিক হলে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, অভিযুক্তের আসন বাতিল

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফাতিমা-তুজ-জাহরা হলে শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্তার দায়ে এক শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয়েছে।

‎‎সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় ফাতিমা-তুজ-জাহরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমত আরা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।‎‎

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাজিয়া পারভীন সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তিনি হলের ১০৭ নম্বর রুমে থাকতেন। তার পার্শ্ববর্তী ১০৪ নম্বর রুমের নোশিন তাবাসসুম নিহা হল প্রাধ্যক্ষের কাছে তার দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। তদন্ত ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে প্রভোস্টবৃন্দের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তার আসন বাতিল করা হয়।‎‎

হল সূত্রে জানা যায়, রাজিয়া পারভীনের দ্বারা বিভিন্ন সময়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা, এমন অভিযোগের এর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৮০ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর দেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ওই হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৪ মে একটি সভা করেন হল প্রাধ্যক্ষ। সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তদন্ত ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করেন হল কর্তৃপক্ষ।‎‎

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেমা-তুজ-জাহরা হলের প্রাধ্যক্ষ ইসমত আরাকে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি।

‎‎জানতে চাইলে সহকারী প্রাধ্যক্ষ হুসনে আরা চৌধুরী বলেন, ‘ রাজীয়া পারভীনের বিরুদ্ধে হলের ৮০ জন  শিক্ষার্থী গণস্বাক্ষর দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টি তদন্ত করি। পক্ষ-বিপক্ষ-নিরপক্ষের বক্তব্য শুনেছি। এভাবে তথ্য ও প্রমানাদির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ছাত্রী রাজীয়া পারভীনের হলের আসন বাতিল করা হয়েছে।’‎‎

সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

0

আধুনিক রিপোর্ট ::

সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, দূর হবে সড়ক ও রেল যোগাযোগে ভোগান্তিও, জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ বৃষ্টি হচ্ছে। কারও জন্য সুবিধা, কারও জন্য অসুবিধা। এই বৃষ্টির কারণে আমি যখন শহরের দিকে আসছি, বৃষ্টির কারণে দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় একটু একটু করে পানি জমে গিয়েছে এবং বৃষ্টি যদি আরেকটু বেশি হয়, হয়তো এরই ভেতরে অনেক জায়গা আছে, যেখানে কিছু জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যাবে। তবে কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছিলেন, চট্টগ্রামের কিছু নিউজ এসেছিল। যদিও সেটার মধ্যে পরে আমরা দেখেছি, পুরোপুরি সত্যতা ছিল না। যাই হোক, আমরা দেখেছি যে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা।’

সিলেট নগরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সকল কিছু বিষয় মাথার মধ্যে রেখে বিবেচনা করে আমরা খাল খনন কর্মসূচি সারা দেশে দিয়েছি। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এই সমস্যা ঢাকাতে আছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহরগুলোতে আছে। আমাদের জন্য যেটি একটি বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে, এটিকে যে টেনে তুলছি, এ ছাড়া কৃষিকার্যের জন্য একই কাজ আমরা করছি, এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

জলাবদ্ধতা দূরসহ নানা কারণে খাল খননের প্রাসঙ্গিকতা আছে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পানিটাকে যাতে আমরা ব্যবহার করতে পারি, জলাবদ্ধতাও যাতে না হয়, মানুষেরও কষ্ট না হয়, সেটি কৃষির সুবিধার জন্য হোক, পানি থেকে মানুষের ব্যবহার সুবিধার জন্যই হোক, আমরা খালগুলো খনন করতে চাচ্ছি দেশে, যাতে অতিরিক্ত যে পানি থাকবে, সে পানিটাকে যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি এবং প্রয়োজনের সময় আমরা সেটিকে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি।

সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়টি উত্থাপন করে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

সিলেটের জন্য বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে আসার আগেই সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসেছি। এই কাজটি সম্পন্ন হলে আমরা ধরে নিতে পারি, ইনশা আল্লাহ সিলেট শহরে জলাবদ্ধতা হবে না। তবে অবশ্যই এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যে সমস্যাটি শুধু সিলেটে নয়, যে সমস্যাটি আমাদের প্রায় সবগুলো শহরে আছে, সামগ্রিকভাবে হয়তো সমগ্র দেশেই আছে। সুরমা নদীতে বিভিন্ন পলিথিন থেকে আরম্ভ করে, প্লাস্টিক থেকে আরম্ভ করে, পড়তে পড়তে স্তরটা বেশ পুরো হয়ে গিয়েছে।’ লন্ডনের কিছু বিশেষজ্ঞদের মতামতের সূত্র ধরে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতেও প্রায় দুই মিটার ময়লার স্তর জমেছে বলেও তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। এভাবে যদি সব নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একটা অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন, মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে পাশাপাশি যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ নেন, ভালো। যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি।’ দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের ভেতরে থাকা বিদ্যালয়ে এমন সচেতনতা চালাতে তিনি আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিমানে সিলেটে আসা এবং সড়ক পথে ঢাকা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাই রোডে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার অবস্থা এতই খারাপ, প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আমরা সরকার গঠন করার পর এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম, জায়গা অধিগ্রহণের সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়ে আমি আশা করছি, ইনশা আল্লাহ দ্রুত সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। কাজটি শুরু করলে ইনশা আল্লাহ শেষ তো একসময় হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশা আল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ভোগ করতে হবে না।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সাথে আমরা যদি রেলওয়ে ব্যবস্থাকেও ডেভেলপ করতে চাই। সারা দেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়, রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে। রাস্তা যতই বড় করতে থাকি, ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়, ট্রাফিক বাড়বে। এ ছাড়া জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ড ওয়াইজ যদি চিন্তা করি, আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না, অনেক দেশ থেকে ছোট। বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সে জন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না। আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, সে জন্য অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন দরকার। তবে আমরা রাস্তার ক্ষেত্রে রেলটাকে ডেভেলপ করতে চাই।’ এ সময় সিলেটের রেল যোগাযোগকে ডাবল লাইন কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বিএনপি সরকার ভাবছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল আছে। এই হাসপাতালটি আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত যাতে চালু হতে পারে। একই সাথে আমরা এরপর এটাকে চেষ্টা করব এক্সপ্যান্ড করে ১২০০ শয্যার একটি হাসপাতালে নিতে।’

বন্ধ কলকারখানা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এই কলকারখানাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব চালু করব। যদি দরকার হয় আমরা প্রাইভেটাইজ করব সেগুলোকে। যাঁরা এগুলো চালাতে আগ্রহী, তাঁদের কাছে আমরা হ্যান্ডঅভার করব। এই কাজটি শুরু করতে পারলে একদিকে সারা দেশে বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। একই সাথে আমরা চেষ্টা করছি দেশে এবং বিদেশে যাঁরা বিনিয়োগকারী আছেন, তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য। যাতে তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানা অথবা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি যেটাই হোক, তাঁরা যাতে বিনিয়োগ করেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেটে একটি আইটি পার্ক করা হয়েছিল। পার্কটি সেভাবে সচল নেই। এই আইটি পার্কটি নিয়ে অলরেডি আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে মন্ত্রণালয় আছে, তারা কাজ করছে। ইনশা আল্লাহ, দ্রুত সময়ে আমরা এটা চালু করতে সক্ষম হব। আমাদের তরুণ সমাজের অনেক সদস্য আছে, যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন, আইটির বিভিন্ন কাজ করেন, ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ করেন, তাদের আমরা ওখানে সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আড়াই মাস বয়সে একটি শিশু কিন্তু হাঁটতে পারে না। শিশুটাকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান সরকারের বয়স আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা এরই মধ্যে যেসব কমিটমেন্ট দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, সেই কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

শহরের মানুষ কিছুটা চিকিৎসা সুবিধা পেলেও গ্রামের অধিকাংশ জায়গায় এখনো ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে। তবে আমরা জোর দেব, গ্রামের মানুষের ওপরে বেশি। তারা বিশেষ করে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা চালাবে।’

তারেক রহমান বলেন, তারা (নতুন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মী) বিশেষ করে পরিবারের নারী যাঁরা আছেন, যাঁরা সংসার দেখাশোনা করেন, তাঁদের সচেতন করবে যে কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিও হবে না, বা লাইফস্টাইল কী হলে তাঁর হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা কিডনির রোগ হবে না, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করবে। হাইজিন সম্পর্কে তাঁদের সংশোধন করবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ধীরে ধীরে সামগ্রিকভাবে পুরা দেশে অসুস্থ যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সুস্থ রাখা। তার ফলে স্বাভাবিকভাবে যাঁরা হাসপাতালে আসবে, পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে তাঁদের যাতে বেটার চিকিৎসা দেওয়া যায়। অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যখন কম হবে, আমাদের জন্য সুবিধা হবে টেককেয়ার করতে। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি, সচেতনতার মাধ্যমে আমরা যদি অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি, তাহলে যাঁরা অসুস্থ হবেন তাঁরা বেটার সার্ভিস পাবেন।’

সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে সিলেটে আসেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নগরের দরগাগেট এলাকায় হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে ১০টা ৫৫ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর নগর ভবন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাকালু শিখরে বাবর আলী

0

আধুনিক ডেস্ক ::

আট হাজার মিটার (২৬,২৪৬ ফুট) বা ততোধিক উচ্চতার পর্বত আছে পৃথিবীতে চৌদ্দটি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই ১৪টি পর্বত চূড়ার মধ্যে চারটি পর্বতের চূড়া ছুঁয়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী, যে কৃতিত্ব নেই আর কোন বাংলাদেশির। আর শনিবার (২ মে) ভোরে বাবর নিজেকে নিয়ে গেলেন আরেকটু উচ্চতায়। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি নিজের পঞ্চম আটহাজারি পর্বত হিসেবে স্পর্শ করেছেন পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু শিখর। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত ৮,৪৮৫ মিটার (২৭,৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতে এটিই প্রথম বাংলাদেশি সফলতা। ‘এক্সপিডিশন মাকালুঃ দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজক পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’। এই ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার ‘মাকালু অ্যাডভেঞ্চার’ এর স্বত্তাধিকারি মোহন লামসাল এর সূত্রে আধুনিক কাগজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শিখরে বাবরের সাথে ছিলেন আং কামি শেরপা। মাউন্ট মাকালু চৌদ্দটি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত শিখর স্পর্শের স্বপ্নের পথে বাবরের পঞ্চম সাফল্য। বাবর আলীর এই অভিযান আরও একটি কারণে অনন্য, এটি প্রথম কোনোদ বাংলাদেশির কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই কোন আট হাজার মিটার উচ্চতার শিখর আরোহণ।
গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ বা ‘মহা-কালো’খ্যাত এই চূড়া আরোহণের উদ্দেশ্যে বাবর ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি শেষে তিনি ৯ এপ্রিল বিমানে উড়ে যান টুমলিংটার এবং সেখান থেকে গাড়িতে সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে চলা শুরু করে ১৮ এপ্রিল পৌঁছান পর্বতের উচ্চতর বেস ক্যাম্পে। এরপর উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নিতে ২১ এপ্রিল তিনি ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২ তে ঘুমিয়ে ৭,০০০ মিটার উচ্চতা ছুঁয়ে বেসক্যাম্পে নেমে আসেন । দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তিনি পর্বতে চড়ে ক্যাম্প-২ এ একদিন কাটিয়ে পরদিন নেমে আসেন বেসক্যাম্পে। এরপর শুরু হয় ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষার পালা। আবহাওয়া কিঞ্চিৎ সদয় হওয়ার আভাস পেয়ে বাবর আবার পর্বতে চড়তে শুরু করেন ৩০ এপ্রিল। ওই দিন তিনি সরাসরি উঠে যান ৬৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ এ এবং পরদিন উঠেন ৭৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩ এ। বিকালটা সেখানেই অপেক্ষা করে মাঝরাতে তিনি বেরিয়ে পরেন শিখরের উদ্দেশ্যে। একটানা ১১০০ মিটারের অধিক ভয়ানক চড়াই অতিক্রম করে তিনি ভোরে পৌঁছে যান শিখরে। তিনি শনিবার তার ক্যাম্প-২-এ নেমে আসার কথা। আর রোববার (৩ মে) বেসক্যাম্পে নেমে আসবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান। বাবর আলীর এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমান্স গ্রোসারিজ।
পর্বতারোহণে বাবরের পথচলা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। ট্রেকিং-এর জগতে তার হাতেখড়ি হয় ২০১০ সালে; পার্বত্য চট্টগ্রামের নানান পাহাড়ে পথচলার মধ্য দিয়ে। চট্টগ্রামের পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তিনি। এই ক্লাবের হয়েই গত বারো বছর হিমালয়ের নানান শিখরে অভিযান করে আসছেন তিনি। ভারতের উত্তরকাশীর নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন ২০১৭ সালে। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম ও টেকনিক্যাল চূড়া আমা দাবলাম (২২,৩৪৯ ফুট) আরোহণ করেন বাবর। ২০২৪ সালে একই অভিযানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (২৯,০৩৫ ফুট) ও চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে (২৭,৯৪০ ফুট) আরোহণ করেন। একই অভিযানে দুটি আট হাজার মিটার পর্বত আরোহণের কৃতিত্ব নেই আর কোন বাংলাদেশি পর্বতারোহীর। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি আরোহণ করেন বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ পর্বত অন্নপূর্ণা-১ (২৬,৫৪৫ ফুট)। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই আরোহণ করেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মানাসলু (২৬,৭৮১ ফুট)।

গোলাপগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

0

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। এসময় র‍্যালিটি ঢাকাদক্ষিণ বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিতে স্থানীয় শ্রমিক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে সংক্ষিপ্ত শ্রমিক সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এসময় উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফ আল মান্নান লিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমীর আব্দুল আজিজ জামাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আমীর রেহান উদ্দিন রায়হান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মুন্নাসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শাবিপ্রবিতে জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎‎শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ‘জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় আঞ্চলিক পর্ব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎‎

শুক্রবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) আয়োজনে এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় অলিম্পিয়াডটি অনুষ্ঠিত হয়।‎‎

এ সময় পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। কেন্দ্র পরিদর্শনউপস্থিত ছিলেন এইচআরএসএস-এর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল বুখারী, বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, জেলা সমন্বয়ক শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, খুলনা বিভাগের সমন্বয়ক নাজমুল হুদা এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সাল।‎‎

এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “মানবাধিকার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এই অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করবে।”

‎‎নাজমুল হুদা জানান, “আমাদের প্রথম পর্বটি গত বছরের এই সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এবারেও সিলেট অঞ্চলের পাশাপাশি একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের আরও চারটি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।”‎‎

তিনি আরও বলেন, “এবার প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ করতে পারবো বলে আমরা মনে করছি।”‎‎

পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন ‘এ’ থেকে গোল চত্বর পর্যন্ত একটি র‍্যালি বের হয়। এতে শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা মানবাধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন।

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে মুঠোফোনে হেনস্তা, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

0

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া ও তার মোবাইল নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্টিং ও ফটোকপির দোকানের এক কর্মচারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তার গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ। ‎‎

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে প্রক্টরিয়াল বডি।

‎‎প্রক্টর অফিস, শিক্ষার্থী ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেমিস্টারের প্রেজেন্টেশন পেপার প্রিন্ট করতে মদিনা মার্কেটের হক ম্যানশনে অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে প্রতি পৃষ্ঠা ৩০ টাকা করে লেখা ও প্রিন্ট করতে অর্ডার করেন তিনি। কাজ শেষে দোকানের কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ৫০০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।‎ পরবর্তীতে ওই কর্মচারী মোবাইলের মাধ্যমে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে মদিনা মার্কেট এলাকায় গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া দোকানের ওই কর্মচারী হোয়াটসঅ্যাপে ও ফেসবুকের বিভিন্ন অসামাজিক গ্রুপে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নম্বর ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠে৷ ফলে গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অচেনা লোকজন ফোন ও মেসেজ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অসামাজিক কথাবার্তা ও অনৈতিক কাজের মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল।

‎‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে থানার উপ-পরিদর্শক সাগর মদিনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

‎‎জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. সাদমিম হাসান সিফাত বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করেছে। এজন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।‎‎

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল হাবিব বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে হেনস্তা ও তার নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

0

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি এবং ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহদ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের পাশে রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজারো যাত্রীরা। এরআগে গত রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন ও ব্যাপক গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে মুন্সিবাজার ও পতনঊষারের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই, লাঘাটা নদীসহ পাহাড়ি ছড়া সমুহে পানি বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার বলেন, ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সীবাজার কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে সরবরাহ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধা দেখা দেয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার দেড়ফুট নিচে রয়েছে। নদনদীর পানি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে কেওলার হাওরে কিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও গাছগাছালি ভেঙ্গে সড়কপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে বোরোধান, কৃষকরা হতাশ

0

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:

গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত। কওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। ঝড় ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্পূর্ণ এলাকার বোরো ধান ও শাকসবজি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে দেখা যায়, গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল রাত থেকে দ্রুত কেওলার হাওরে প্রায় ৫শ’ হেক্টর বোরোধান ডুবে গেছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বোরোধান এবং সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও ঢলে বোরো ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে ৭০ হেক্টর ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫০ হেক্টর। সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য এখনও আসেনি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার সবজি ক্ষেতও নিমজ্জিত হচ্ছে। ঢলের পানি দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকলে কৃষকরা পুরোদমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ধান কাটার সময় হাওরের সকল ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরোধান ৭০ হেক্টর ও আংশিক ৩৫০ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। তাছাড়া সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনও তথ্য আসেনি। পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা নয় বলে তিনি জানান।

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

0

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:

কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ২২ বর্গকিলোমিটারে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ও দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ১১ কেভি লাইনসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন এলাকায় টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা। দুর্যোগ মোকাবেলায় সোমবার উপজেলা প্রশাসনের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড়ে এই ক্ষতি সাধিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক বসতঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়েছে। তাছাড়া গাছগাছালি ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ও অসংখ্য স্থানে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বৃহদ গাছ ভেঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রের ১১ কেভি লাইন ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দু’টি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ১০ ঘটিকা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, কালবৈশাখি ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংবাদ জানা গেছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যানদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৫টি বসতঘর আংশিক বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া আরো কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিকাল পর্যন্ত পাওয়া যাবে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার ঘোষ কালবৈশাখি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। গাছগাছালি ভেঙ্গে শতাধিক মিটার বিনষ্ট হয়েছে, ১৫০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার ২২ বর্গকিলোমিটারে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৫টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত, দু’টি কালভার্ট ও গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্তের তথ্য পাওয়া গেছে। জরুরিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সোমবার সকালে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় শান্তিগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় অনিশ্চয়তা

0

কুহিনূর রহমান নাহিদ, শান্তিগঞ্জ:

অতিবৃষ্টির শঙ্কায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিপাত ও রোদ না থাকায় ধান কাটা ও শুকানো- দুই প্রক্রিয়াই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকা। এ উৎপাদন থেকে প্রায় ৯৪ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলায় ব্রি ধানসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৫৭ শতাংশ। তবে দেখার হাওরে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে হাওরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানা অতিবৃষ্টি। প্রতিদিন বৃষ্টি থাকায় কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। আবার যেসব ধান কাটা হচ্ছে, সেগুলো রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসের বরাতে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৩ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনজুড়ে হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতসহ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেসব ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকরা জানান, খোলা মাঠে ধান রাখলে বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় অনেকেই খলায় ধান তুলে ত্রিপল বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।

বৈশগাঁও হাওরের কৃষক শারিফ মিয়া বলেন, অনেক ধান এখনো কাটা হয়নি। পানি বাড়লে সব ডুবে যাওয়ার ভয় আছে। খলায় ঢেকে রাখলেও বৃষ্টির পানিতে কিছু ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

দেখার হাওরের কৃষক হাবিবুর মিয়া বলেন, ধান কাটলেও শুকাতে পারছি না। রোদ না থাকায় ভিজা ধান নিয়ে খুব বিপদে আছি।

দেখার হাওরের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, ফলন ভালো হয়েছে এবং ধান পেকেছে। আমার প্রায় অর্ধেক কাটা শেষ। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাকি ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। অতিবৃষ্টি হলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধান ঘরে তুলতে পারব, না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।

শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে কিছুটা প্রভাবিত করছে। বর্তমানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে কৃষকরা বলছেন, মূল সমস্যা এখন আবহাওয়া।

যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হাওরাঞ্চলে বর্তমানে ১২২টি হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। একটি হারভেস্টার দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। এসব হারভেস্টারের জন্য আবেদন সাপেক্ষে প্রতি মেশিনে ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত ধান কাটার কাজ কিছুটা গতি পেয়েছে।

অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও এখনো বড় ধরনের কোনো বাঁধ ভাঙনের ঘটনা ঘটেনি, তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও শুকানো- দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। আমরা কৃষকদের সতর্ক করেছি এবং যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, হাওরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি মসজিদে মাইকিং করে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে।