Home Blog Page 24

বন্যার আশঙ্কায় আধাপাকা ধান কাটতে মাঠে কৃষক:  আধুনিক যন্ত্র ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে

0

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:

আগাম বন্যার আশঙ্কায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও পুরোপুরি পরিপক্ষ না হলেও সম্ভাব্য পানির চাপ থেকে ফসল রক্ষায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে,  জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈন্তাপুরের সকল কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সতর্কবার্তায় কৃষি অফিস জানান, সম্মানিত কৃষক ভাইদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি অফিস জৈন্তাপুর এর পক্ষ থেকে জরুরী বার্তা। চেরাপুঞ্জি সহ দেশের পূর্বাঞ্চলে আগামী সাত দিন ভারী বৃষ্টিপাত সহ পাহাড়ী ঢলে আকষ্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা থাকায় আপনাদের বোরো ফসল ৭৫% এর উপরে পাকা হলেই দ্রুত কেটে ফেলার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে । নিচু জমিগুলি থেকে  অন্যান্য ফসল যথাসম্ভব উত্তোলন করে ফেলারও অনুরোধ জানানো হয়েছে ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনায় হাওরাঞ্চলে পানি ঢোকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পাকা হওয়ার অপেক্ষা না করে আধাপাকা ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন তারা। এতে ধানের ফলন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, এই সময়ে ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধুনিক যন্ত্র যেমন কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করতে চাইলেও চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্র না থাকায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “ধান পুরোপুরি পাকেনি, কিন্তু পানি চলে এলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আগেই কাটছি। শ্রমিকও পাচ্ছি না, যন্ত্রও কম—সব মিলিয়ে বড় বিপদে আছি।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা একটি নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত যন্ত্র সরবরাহ ও কৃষকদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি। নইলে প্রতিবছরই একই সংকটে পড়তে হবে কৃষকদের।

এবিষয়ে, জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবছর মোট বোরো আবাদ হয়েছে ৫৭২৬ হেক্টর এপর্যন্ত কর্তন হয়েছে ২১৯১ হেক্টর। উপজেলা থেকে ধান কর্তনে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেষ্টার) ৮টি দেওয়া হয়েছে। জৈন্তাপুরে আপাতত কৃষক শ্রমিক সংকট নেই। শ্রমিকের মজুরী দিগুণের বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

এদিকে কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আরও বেশি কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

দোয়ারাবাজারে তেল, শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা

0

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তেল সংকট, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার হাওরাঞ্চলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার ধুম পড়ায় খুশির আমেজ থাকলেও ত্রিমুখী সংকটে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে। কৃষি শ্রমিকের অভাব, হারভেস্টার চালাতে জ্বালানি সংকট এবং ঘন ঘন বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে দোয়ারাবাজারে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকে নি। তবে যেসব জমির ধান পেকেছে, সেগুলো কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৮০ শতাংশ ধান পাকা জমির ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের দিকে এমন আবহাওয়া বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরেজমিনে সদর ইউনিয়নের নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া নামের দুই শ্রমিক। তারা প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই ধান কাটতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন,ধানের ফলন ভালো হলেও তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার শ্রমিকেরও অভাব, বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কারণে ধান ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। সাধারণত বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের শুরু পর্যন্ত ধান কাটা চলে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকায় অনেক সময় ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটা শুরু করেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন জানান, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, কৃষকদের হারভেস্টার ব্যবহারে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে প্রত্যয়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বালু মহালে শ্রমিক নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখা এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

কমলগঞ্জে হুমকির মুখে পরিবেশ, প্রতিবেশ; প্রশাসন নির্বিকার

0

টিলা, পাহাড়ি ছড়া কেটে ও ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে মাটি বালি উত্তোলন

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:

বনাঞ্চল ও চা বাগান অধ্যূষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালু সমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিজের নিচ থেকেও পলিমাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যমন্ডিত এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ। প্রতিনিয়ত এসব কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলেও উপজেলা প্রশাসন নির্বিকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘড়ি নামক এলাকায় দিবালোকে স্থানীয় বাসিন্দা অবৈধভাবে ভেকু মেশিন লাগিয়ে প্রাকৃতিক টিলার লাল মাটি কেটে স্থানান্তর করছেন।স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রাকৃতিক টিলার ব্যাপক অংশ কেটে সমতলে পরিণত করছেন।

অন্যদিকে আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা বাগানের টিলাভূমি রয়েছে প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। তবে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও পাহাড়ি সুনছড়ার বাঁধ কেটে অব্যাহতভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে প্রতিনিয়ত সিলিকা বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মাঝে মধ্যে অবৈধ বালুবাহী ট্রাক আটক করলেও প্রশাসন নিরবতা পালন করছে।

শমশেরনগরের সমাজকর্মী এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালুবাহী একটি ট্রাক জনতা আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছে। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে অবহিত করা হলেও দু’দিন যাবত ওই গাড়ির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এদিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ধলাই নদীর উপর স্টিল ব্রিজের নিচ থেকে অবাধে পলি মাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ ও ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে নিচ্ছে। ফলে ব্রিজটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

যেকোন সময় ব্রিজ ধ্বসে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিলা কাটা, পাহাড়ি ছড়া ও ছড়ার পার্শ্ববর্তী স্থান কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকেও অবৈধভাবে বালুর বাণিজ্য রমরমা হয়ে উঠছে।

এভাবে অবাধে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিষয়ে কলেজ শিক্ষক জমশেদ আলী, পেশাজীবি সোলেমান মিয়া, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনসহ স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে উপজেলার প্রাকৃতিক অনেক দর্শনীয় স্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও আশপাশ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, ব্রিজ-কালভার্ট হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নে টিলা কাটার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। বিষ্ণুপুরে ব্রিজের নিচ থেকে মাটি কাটা ও সুনছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

কৃষকরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন, কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে : এমপি কয়ছর আহমদ

0

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:

‘সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, সরকার কৃষকদের তেল পাওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সবাই তেল পাচ্ছেন। এবছর শুরু থেকেই কৃষকরা একটা আতংকের মধ্যে ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এখন সবাই আতংক মুক্ত আছেন। স্বল্প কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। এরপর আমরা শোকরানা মাহফিল করবো।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় স্থান ভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কৃষি বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের পরিদর্শনস্থলে কৃষি নিয়ে যে গবেষণা হচ্ছে এটিই একটি বড় পরিকল্পনা। এখানে একসাথে ৫১ রকমের ধান নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কোন ফসল দ্রুত গতিতে হবে, এক ফসলি জমিকে কিভাবে বছরে দুই ফসলী, তিন ফসলী হিসেবে ব্যবহার করা যায় সেটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু জমির পরিমান বাড়ছে না। তাই আমরা একই জমিতে কিভাবে একাধিকবার ফসল রোপন করা যায় সেটি নিয়ে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণা হচ্ছে। সরকার এটিকে পুরোপুরি সাপোর্ট দিচ্ছে। এটি আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কমিটমেন্ট।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি জালাল উদ্দিন প্রমূখ।

ঢাবির সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় শাবি প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

0

‎‎শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। একইসাথে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

‎শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতারা।

‎শাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুর আলমের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি জুবায়েদুল হক রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ শুভ এবং বর্তমান সভাপতি নোমান ফয়সাল।

‎বক্তব্যে শাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবায়েদুল হক রবিন বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। যারা এই ধরনের হামলা চালায়, তারা মূলত সত্যকে ভয় পায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রও নিরাপদ থাকবে না। তাই অবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

‎সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বর্তমান সভাপতি নোমান ফয়সাল বলেন, “গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এটা জাতির জন্য বড়ই অশনিসংকেত। কারণ গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবে। একই সাথে আমরা দেখছি যে, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ভণিতার সুরে দুঃখপ্রকাশ করতে। অপরাধী গোষ্ঠী নিজেদের অপরাধকে ঢাকতে সাংবাদিকদের কলমকে দমিয়ে রাখতে তারা চেষ্টা করেছে।

‎তিনি আরও বলেন, “যেসব ছাত্রসংগঠন ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলার পথ বেছে নেয়, তারা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনে। যারাই এই ধরণের উগ্রতা প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার পথ বেছে নিবেন, তারা কোনো দিনই সফল হবে না।”

‎এসময় তিনি ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ৩ দফা দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানান।

‎মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম কবির, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক সাগর হাসান শুভ্র, কোষাধ্যক্ষ সাগর হোসেন জাহিদ, দপ্তর সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হক এবং কার্যকরী সদস্য মো. ইকবাল হোসাইন, মাঈন উদ্দিন ও নাদির আহমেদ প্রমুখ।

‎উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সাংবাদিকের উপর হামলা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

কৃষক কার্ড-ফ্যামিলি কার্ড দিতে দিতেই বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে : নাহিদ ইসলাম

0

বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

https://youtube.com/watch?v=68TEY9Pjnc4

তিনি বলেছেন, এ কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলার যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে, সেটাকেও অস্বীকার করছে বর্তমান সরকার।

অপরিকল্পিত বাঁধে বাড়ছে ঝুঁকি, রাবার ড্যামের দাবি

0
Shantiganj (Sunamganj) Dekhar Haor Dam picture 2

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

ধান কাটার মৌসুমেও সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে ফসল ঘরে তোলার বদলে পানি ঠেকাতে লড়াই করছেন কৃষকরা। গুরুত্বপূর্ণ উথারিয়া বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকাতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নতুন করে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চারটি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ৮ হাজার ৯১০ হেক্টরের দেখার হাওরে আবাদি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয় এখানে। এই হাওরের ফসলের ওপর নির্ভরশীল লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা।

গত ১২ এপ্রিল বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাওরের অন্তত ২০ শতাংশ জমি তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় কৃষকদের দাবির মুখে পানি নিষ্কাশনের জন্য উথারিয়া বাঁধ কেটে দেয় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে কয়েকদিনের মধ্যে তলিয়ে যাওয়া ফসলের একটি অংশ রক্ষা পায়।

তবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় কেটে দেওয়া সেই বাঁধ দিয়েই আবার হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে নতুন করে ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি ঠেকাতে প্রশাসনের সহায়তায় আবারও বাঁধ মেরামতে নেমেছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই প্রতিবছর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে হাওরের ভেতরেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং ফসল তলিয়ে যায়। পরে সেই পানি নামাতে বাঁধ কাটলে উল্টো নদীর পানি ঢুকে আরও বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

আস্তমা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও জমিরুল হক বলেন, এই হাওরের ফসলই তাদের একমাত্র ভরসা। ফসল ঘরে তুলতে পারলে সংসার চলে, আর তলিয়ে গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধান হিসেবে রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

একই গ্রামের সাজাদ মিয়া ও তারেক মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের ফসলহানির পর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও টেকসই সমাধান হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সংকট বারবার ফিরে আসে। বাঁধ কেটে পানি নামাতে গেলে কৃষকদের মামলার মুখেও পড়তে হয়।

এই পরিস্থিতিতে দেখার হাওরের প্রবেশমুখ মহাসিং নদীতে আসামপুর-আস্তমা গ্রামের সংযোগস্থলে রাবার ড্যাম নির্মাণকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

গত ২২ এপ্রিল উথারিয়া ক্লোজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। এসময় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত নেন তারা। অধিকাংশই রাবার ড্যাম নির্মাণের পক্ষে মত দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে, রাবার ড্যাম নির্মাণ করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সমীক্ষা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমদ বলেন, এই হাওরের ফসলের ওপর চারটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক কৃষকের জীবিকা নির্ভরশীল। তাই অস্থায়ী বাঁধের পরিবর্তে স্থায়ী সমাধান জরুরি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে দাবি তোলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

শিশুদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার : এমপি কয়ছর আহমদ

0

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সংসদীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, বিএনপি সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ও মানষিক বিকাশে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে তাদেরকে সুশিক্ষায় গড়ে তোলা৷

শনিবার দুপুর ১২ টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা) পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

কয়ছর আহমদ বলেন, ‘শিশুরা হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদেরকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেনো তারা আগামীর শান্তিগঞ্জের দায়িত্ব নিতে পারে। তাদেরকে নিজেদের সন্তানের মতো করে মমতা দিয়ে শিক্ষা দান করতে হবে। অভিভাবকরা শুধুমাত্র শিক্ষকদের দিকে না তাকিয়ে নিজেরাও দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলেই শিক্ষার মান বাড়বে।

উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব অনেক। স্কুল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুরো ইউনিয়নের অভিভাবক আপনারা। সবগুলো স্কুলের প্রতি আপনাদের সমান দৃষ্টি রাখতে হবে। স্কুলের শিক্ষা, খেলাধুলাসহ সবকিছুর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখলেই স্কুল এগিয়ে যাবে৷ শিক্ষার মান বাড়ার সাথে সাথে আপনার ইউনিয়নেরও সম্মান বাড়বে।

আয়োজিত টুর্নামেন্টের বালক দলের ফাইনাল খেলায় শিমুলবাঁক ইউনিয়নের জীবদারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জয়কলস ইউনিয়নের ইয়াকুব আলী কামরুপদলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা। এর আগে বৃহস্পতিবার মেয়েদের ফাইনাল খেলায় গনিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা।

পরে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন এমপি কয়ছর আহমদ। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান। রথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়া।

এসময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

0

‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না—সেই চিন্তা আমাদের করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে মে দিবস উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

0

আধুনিক ডেস্ক ::
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট। তবে স্থগিতাদেশ পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার বেশি। এ স্থগিতাদেশ পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিস্তারিত জানতে https://ow.ly/CuZa50YoYiW -লিংকে ভিজিট করতে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে সব স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ নীতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো— উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে বা তারা যেন রাষ্ট্রীয় বোঝা হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করা।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিম্নোক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সব প্রকার ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে— আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি।

এছাড়া গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন তালিকায় রয়েছে।