Home Blog Page 20

ভোটের প্রচারে নেমে প্রথম দিনে সিলেট বিভাগের তিন জেলা ছয় জেলায় সমাবেশ করবেন তারেক রহমান

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার সিলেট থেকে শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথম দিনেই ছয়টি জেলায় সমাবেশে যোগ দেবেন। জেলাগুলো হলো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তার আগের দিন বুধবার বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যানের প্রচার সূচি জানানো হয়।

রাজধানীর গুলশান–২–এ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, আজ রাতেই বিমানে সিলেট যাবেন তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে রাতেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুরে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে সমাবেশ করবেন। পথে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে একটি সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। দুপুরের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এবং বিকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি নরসিংদী পৌর পার্ক–সংলগ্ন সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার বা রূপগঞ্জ গাউছিয়া এলাকায় আরেকটি সমাবেশে যোগ দেবেন। ছয়টি জেলায় নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই বিএনপির চেয়ারম্যান ঢাকায় ফিরবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ বুধবার গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ বুধবার গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়েছবি: ভিডিও থেকে
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ সফরসূচির বিষয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে আগেই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে এর আগে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং তারেক রহমানের নানির কবর জিয়ারতসহ কিছু সফর বাতিল করা হয়েছিল। কারণ, এসব সফর ঘিরে বড় ধরনের জনসমাগম হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তারেক রহমানের সফরে পর্যায়ক্রমে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে। সিলেট সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ একাধিক তরুণ নেতা।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই বিএনপি তাদের নির্বাচনী ‘থিম সং’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে। মাহদী আমিন জানান, আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার লেকশোর হোটেলে ‘থিম সং’ উদ্বোধন করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের নেতারা।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করে। সব রাজনৈতিক দলের প্রতি তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ২৮টি বিভাগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত থেকে আলাদা বিবৃতিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।মধ্যরাতে সর্বশেষ বিভাগ হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও আঞ্চলিক সংগঠন।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ শেষে সমাবেশে রাত সাড়ে ৮টায় সব বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করতে আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কিনতে ১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

আধুনিক ডেস্ক ::

ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে এক কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘দোয়েল টাওয়ার’ নামক আবাসিক ভবন রয়েছে। সেই ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনতে অনুদান হিসেবে এ টাকা দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপস্থাপন করা এ–বিষয়ক নথিপত্র মঙ্গলবার অনুমোদন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান দিতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ আজ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্ত দিয়ে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে শুরুতে তাঁর সার্জারি হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি। শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন।

এদিকে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে। তাঁর মৃত্যুতে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন চার থানা হচ্ছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদল

আধুনিক ডেস্ক ::

দেশে চারটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা। সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

নতুন থানাগুলো হলো গাজীপুর জেলার পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচল দক্ষিণ ও কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়ী। এ ছাড়া নরসিংদী জেলার রায়পুরাকে ভেঙে একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। আর সাতক্ষীরাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ দুটিকে আবার একত্র করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠন করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব সভায় অনুমোদিত হয়। তবে এই মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে।

সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামের দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।

সভায় পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ভূল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধনের প্রস্তাব সভায় অনুমোদিত হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব বা জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত ছিলেন।

ভোটাধিকার হরণ করার প্রথম স্টেজ শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা: শিবির-সমর্থিত ভিপি প্রার্থী

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

ভোটাধিকার হরণ করার প্রথম ধাপ হলো শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

এ সময় তারা বলেন, শাকসু নির্বাচনের প্রধান সংকট হচ্ছে এখন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের মামলার গ্রাউন্ড স্ট্রং আছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদি আবেদন গ্রহণ করা হয়, তাহলে রায় আমাদের পক্ষে আসবে।

এ ছাড়া আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, সর্বোচ্চ ওপর মহল থেকে এই মামলা না তোলার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, একটি দলের ইউনিট থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে বলেছেন, ছাত্র সংসদ বন্ধ করার ব্যাপারে তারা ভূমিকা রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বড় বড় আইনজীবী থাকার কারণে আমাদের ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে পেরেছেন। সে জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাড়া আর কেউ নেই। সুতরাং যারা এই ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

এ সময় তারা আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এই নির্বাচন না হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য আমাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল যখন আমাদের নির্বাচন আটকানোর জন্য তাদের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে, তখন আমাদের নির্বাচন আদায়ের লড়াইটা আরও বড় শক্তির বিরুদ্ধে পরিণত হয়।

আমাদের উপাচার্য স্যার সর্বোচ্চ জায়গা থেকে চেষ্টা করছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য যে মাধ্যম ব্যবহার করা দরকার, তা ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও আমাদের দাবি রক্ষা করা যায়।

কিন্তু গতকাল আমরা দেখেছি, রিটকারীর পক্ষে যে আইনজীবীরা ছিলেন, তারা বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের আইনজীবী। তারা এই মামলাটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যার কারণে এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

যেহেতু বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তারা আমাদের বিরোধী শক্তি হয়েছে, সেহেতু আমাদের লড়াইটা আরও দীর্ঘ হয়েছে।

আমাদের আন্দোলনের ব্যাপারে দেশবাসী সংহতি জানিয়েছে। সংহতি জানিয়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

এ সময় তারা আরও বলেন, এটি হলো ভোটাধিকার হরণ করার শুরুর ধাপ। হাসিনা এক দিনে তৈরি হয়নি; হাসিনা তৈরি হয়েছে ছোট ছোট অধিকার হরণ করার মাধ্যমেই। আমরা আরেকটি মনস্টার দেখতে চাই না। আমরা চাই দেশবাসী তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হোক।

এ সময় পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে তারা বলেন, এখন আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। পরবর্তীতে আমরা আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করব।

শাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি)শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি-শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা করা ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক সাস্ট চ্যাপ্টারের এক সংবাদ সম্মেলন সর্ম্পকে বলা হয়,শিক্ষকদের একটা অংশের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের তীর বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দিকে করা হয়েছে। এখন আমরা এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে আবার অভিযোগ করবে। এই কারণে আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা অন্যান্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করছি।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয় সেই জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে উঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এখন নির্বাচন বন্ধে তাহলে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। ভিসি মহোদয় এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। ভিসি মহোদয় ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের কোন বক্তব্য বা বিবৃতি দেই নাই।

তিনি আরও বলেন, গত ৫ তারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকরা জানিনা। আমরা আশা করছিলাম ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কিন্তু ভিসি মহোদয় এই বিষয়ে কোন আলোচনা করেন নাই। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কোন আলোচনা না করে ভিসি ও ট্রেজারার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন তাদের একক সিদ্ধান্তে। গত ২৮ বছর বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা একসাথে কাজ করেছি। গত ২৮ তারিখ হঠাৎ করে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টার নামে শিক্ষকদের সংগঠন একটা সংবাদ সম্মেলন করেছে। এই সংবাদ সম্মেলনের ভাষা এবং বক্তব্য শিক্ষক সলভ নয় বলে আমরা মনে করি। ছাত্রদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ হয়েছে। একটা গ্রুপ নির্বাচনের পক্ষে অপর গ্রুপ নির্বাচনের বিপক্ষে। আন্দোলন করে যেভাবে আন্দোলন করে নির্বাচনের তারিখ আদায় করা সঠিক নয় বলে আমরা মনে করি। মামলার রায় যাইহোক না কেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার্থে এবং সহাবস্থানের জন্য আমরা নিরব থাকতে পারি নাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড.আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম,অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।

শাকসুতে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. জুনায়েদকে সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুনায়েদ হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সোমবার এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. জুনায়েদ হাসান বলেন, দল যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি শাকসুতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। শাকসু শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। দলের বাইরে নির্বাচন করলে দলীয় সিদ্ধান্ত আসতে পারে এটা জানা ছিল। তবে আমাকে বহিষ্কারের আগে কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে হামলায় র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত

আধুনিক ডেস্ক ::
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তার নাম নাম আব্দুল মোতালেব। তিনি র‍্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে র‌্যাব-৭ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর হোসেন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন র‌্যাব সদস্যরা। এতে চারজন গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে একজন র‌্যাব সদস্য নিহত হন চিকিৎসাধীন অবস্থায়। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে র‌্যাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সেখানে থাকা সন্ত্রাসীরা। তারা এক পর্যায়ে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়। প্রকাশ্যে চালানো হয় গুলি।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে এটির অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এ এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, খুনোখুনির ঘটনা ঘটে চলছে। সম্প্রতি এলাকায় দখল-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি হয়। এতে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক।

চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটি সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসীরা। এলাকায় বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পরিচয়পত্র। বাসিন্দা ছাড়া বাইরের কেউ এলাকায় ঢুকতে পারেন না। এমনকি পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে।

এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনকে। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।

উল্লেখ্য, ‘চট্টগ্রামের যে এলাকা পাহারা দেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা, পুলিশ-প্রশাসন ঢুকলেই হামলা’ শিরোনামে গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচনের আহ্বান ইউটিএলের শিক্ষকরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের। শিক্ষার্থীদের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সহযোগিতা করবেন বলেও মনে করেন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মিলনায়তনে ইউটিএলের সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল ২০ জানুয়ারি দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাকসু নির্বাচন ২০২৬। আমরা ইউটিএলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আহ্বান করছি এই নির্বাচন করার জন্য। আমরা প্রত্যাশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে আগামীকাল নির্বাচন করবে। আমরা ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব ইনশাআল্লাহ। কয়েকজন শিক্ষক অসহযোগিতার কথা বলেছেন। আমরা বলতে চাই অধিকাংশ শিক্ষক নির্বাচন এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কোন শিক্ষককে ষড়যন্ত্র করার কোন কথা বলি নাই। যারা বলেছেন অসহযোগিতা করবেন। আমরা তাদেরকেও অনুরোধ করছি, আপনারা শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আপনারাও আসুন আমরা সকল শিক্ষক মিলে সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউটিএলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ড. জামালুদ্দিন, অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান প্রমুখ।

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরের বিক্ষোভ মিছিল

আধুনিক ডেস্ক:

শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে।

নগরীর বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে চৌহাট্টায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এবং সিলেট মহানগর সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম সাজু’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ ও সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবু জুবায়ের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ও ছাত্রদল ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ধারণ করতে চায়। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই— এদেশের ছাত্রসমাজ জানে কীভাবে ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চকসু ও জকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন বানচাল করতে না পেরে হাইকোর্টকে ব্যবহার করে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এদেশের ছাত্রসমাজ সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে শাকসু নির্বাচন আদায় করে নেবে, ইনশাআল্লাহ।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শরীফ মাহমুদ বলেন, “স্বৈরাচারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে মুক্ত হবে এবং ছাত্রদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ডাকসুসহ যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে বিএনপি-ছাত্রদল নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচন স্থগিত করেছে, যা সিলেটের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।”

সভাপতির বক্তব্যে শাহীন আহমদ বলেন, “একটি দেশবিরোধী শক্তি ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে ভয় পেয়ে হাইকোর্টে রিট করে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে। আমরা তা কখনো মেনে নেব না।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ছাত্রসংসদ নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। প্রশাসন কোনো পক্ষের তাবেদারি করলে ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেই অধিকার আদায় করে নেবে, ইনশাআল্লাহ।”

উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।