Home Blog Page 19

নির্বাচনী জনসভায় শাবিপ্রবির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইন অমান্য করে রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে বিএনপির এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না।

জনসমাবেশে উপস্থিত হওয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়।

এ আর আনিস নামে একজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক?

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসিসহ যারা তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গেছেন এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এই কর্মকাণ্ডের কারণে বাকরুদ্ধ।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীকে মুটোফোনে যোগাযোগ একাধিকবার কল দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, আমি সিলেটের সব ধরনের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সারাজীবনে আমন্ত্রিত হইছি এবং অংশগ্রহণ করেছি।আমাদের আইনে কোথাও লেখা নাই যে কোন প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত হয়ে দর্শক সারিতে বসা, শ্রোতা হওয়া যাবে না। আজকে আমিও আমন্ত্রিত, ভাইস চ্যান্সেলরও আমন্ত্রিত । আমাদেরকে বারবার অনুরোধ করা হইছে। কিন্তু আমরা তো আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ডায়াসে জায়গা নেই নাই, বসি নাই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কাজে আমরা দর্শকের সারিতে থেকেছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে সিলেটে ‘অভিষেক’ তারেক রহমানের

আধুনিক রিপোর্ট ::

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি দলের চেয়ারম্যান হিসেবেও তার প্রথম জনসভা। এর আগে অনেক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন, তবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এবারই প্রথন কোনো জনসভায় বক্তব্য দিলেন তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি যখন জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন তার মা খালেদা জীবিত ছিলেন। তারেক রহমান তখন ছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিলেটের নির্বাচনী জনসভাই চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাইবোনেরা, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাঁদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাঁদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’

বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মাঠভর্তি মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘কাবা শরিফের মালিক কে? এই দিনদুনিয়া, আমরা যে পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? এই সূর্য–নক্ষত্র যা দেখি, এর মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? দোজখের মালিক কে?’ তারেক রহমানের প্রশ্নের উত্তরে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সমস্বরে উচ্চারণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিব, ওই দিব বলছে, টিকিট দেব, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা শিরক করা হচ্ছে না? যেটার মালিক আল্লাহ একমাত্র। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকানো ঠকাবে, আপনারা বুঝেন এবার।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি–ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান আসেন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এবং প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন। তিনি আসার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল।

তারেক রহমান জনসভায় আসার পর নেতা-কর্মীরা ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’—স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন। মঞ্চে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রায় শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার সংসদীয় আসনের বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় অনেক নেতা বক্তব্য দেন।

এর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। তাঁরা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকে মাথায় ধানের শীষের ছবিসংবলিত টুপি আর কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সভায় হাজির হন। বাইরে থাকা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ধানের শীষ কিনেও অনেকে সভায় আসেন।

আজকের জনসভায় ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগানে বারবার উঠে এসেছে ‘গুম হওয়া’ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নাম। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ঢাকার বনানী থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ‘গুম’ হন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্যে ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

এদিকে মাঠের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারিত জায়গাও রাখা ছিল।

সিলেটে তারেক রহমান, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু নির্বাচনী প্রচারণা

আধুনিক রিপোর্ট

সিলেট পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুই দশকেরও বেশি সময় পর সিলেটে সফরের অংশ হিসেবে সিলেট পৌঁছেই বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হজরত শাহজালাল (র.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এর আগে রাত ৮টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সরাসরি শাহজালাল (র.)–এর মাজারে গিয়ে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করেন। এরপর তিনি মাজার মসজিদে নফল নামাজ আদায় করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর কবরে ফাতেহা পাঠ করেন। রাত সাড়ে দশটার দিকে হযরত শাহপরান (রহ) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। ওই সময় সড়কে অবস্থানরত নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। এসময় অনেকে সিলেটি দামান ও দুলা ভাই বলেও স্লোগান দেন। 

তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে মাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে হাজারো মানুষ জড়ো হন। এ সময় তাকে বহনকারী বাসটি ধীরগতিতে চলতে থাকে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে মাজারে পৌঁছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাজারের গেটে তারেক রহমানকে আরও প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা। দীর্ঘদিনের নির্বাচনী ঐতিহ্য মেনেই বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাও শুরু করতে যাচ্ছে সিলেট থেকে।

হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহ পরান (র.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।

মধ্যনগর সীমান্তে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

ধর্মপাশা-মধ্যনগর প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী রূপনগর এলাকায় ভারতীয় গরু আটককে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ও রাতে মধ্যনগর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সুনামগঞ্জের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সালমান মিয়া, পিতা মো. রওশন আলী, সাং দাতিয়াপাড়া এবং মো. রোস্তম আলী, পিতা মো. কাবিল উদ্দিন, সাং রূপনগর।

পুলিশ সূত্র জানায় যায়, অফিসার ইনচার্জ এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন এর দিকনির্দেশনায় এসআই নাজমুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটে মহেষখলা বাজার এলাকা থেকে সালমান মিয়াকে এবং রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রূপনগর এলাকা থেকে মো. রোস্তম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু আটককে কেন্দ্র করে চোরাকারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মধ্যনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় দুইজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাকসু নির্বাচন স্থগিত ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য বরাবর ইউটিএলের ৪ দফা দাবি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে ৪ দফা সম্বলিত একটি দাবিদাওয়া পেশ করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক(ইউটিএল), সাস্ট চ্যাপ্টার।

বুধবার(২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউটিএল,সাস্ট চ্যাপ্টারের প্রচার বিভাগ থেকে এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নিকট উত্থাপিত ৪ দফা হলো—

শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ‘শাকসু’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করে দ্রুত ক্লাসে ফেরানোর জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশনের যে সকল কমিশনাররা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন, তাদের পদত্যাগপত্র গৃহিত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কারো কারো অপেশাদার আচরণ এবং দুর্ব্যবহার তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন এবং বারবার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া ও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। প্রশাসনের একজন ঊর্ধতন ব্যক্তির প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া,নির্বাচন স্থগিত হওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিনিধি দল উপাচার্যকে জানান, গত ২০ জানুয়ারির নির্বাচনটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিফলন ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছিল। হাইকোর্টের চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশের কারণে কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে । নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিপুল শ্রম, সময় ও আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন— বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সব ধরণের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের অনুরোধ খারিজ, পূর্বনির্ধারিত সূচিতেই বিশ্বকাপ

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিকল্প ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার যে অনুরোধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) করেছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আইসিসি। তারা নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বকাপের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বুধবার ভার্চুয়াল বোর্ড সভা শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারত সফর করতেই হবে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আজ নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে খেলা হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে যোগ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করার পর করণীয় নির্ধারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইসিসি বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আইসিসি জানিয়েছে, ভারতে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, ‘সব ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও স্বতন্ত্র সংস্থার রিপোর্ট বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্টগুলোতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, টুর্নামেন্টে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা বা সমর্থকদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।’

শাকসু নির্বাচন: সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে কমপ্লিট শাটডাউনের ডাক

শাবি প্রতিনিধি ::

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’র ডাক দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০ জানুয়ারি। তবে ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির বলেন, ‘একটি দল দুজন প্রার্থী ও একজন ভোটারকে প্রভাবিত করে রিট করিয়েছে। যার ফলে নির্বাচন বন্ধ হয়েছে এবং ৯ হাজার ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, সুপ্রিম কোর্ট যেন আমাদের আন্তরিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের পক্ষে রায় দেন। অন্যথায় আমরা ক্যাম্পাসে পূর্ণ শাটডাউন ডাকব।’

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের ২১ দিনের মধ্যে কোনো নির্বাচন না করার আইন আছে—এ বিষয়টি আমরা বুঝি। তবে আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শাকসু নির্বাচনের তফসিল জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল—এই বিষয়টি বিবেচনায় নিতে।’

১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে জরুরি শুনানির আবেদন জানায়। তবে ২০ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট শুনানি পিছিয়ে দিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন।

ছাতকের হাওরে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক, বাম্পার ফলনের স্বপ্নে মাঠজুড়ে উৎসব

লুৎফুর রহমান শাওন, ছাতকঃ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বোরো মৌসুমে হাওর-বিলসহ ফসলি জমিতে ধান চাষাবাদ এখন শেষ পর্যায়ে। গত দুই বছর বড় কোনো বন্যা না হওয়ায় বোরো ধানে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারও বেশ উৎসাহ ও ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নেমেছেন কৃষক-কৃষানীরা।

ইতোমধ্যে উপজেলার হাওর এলাকায় হাইব্রিড জাতের ধান রোপণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাওরের বাইরে অন্যান্য এলাকায় এখনো প্রায় ৫৫ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি হাওরে সেচ ও পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক। যদিও কিছু এলাকায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫৫৩ একর। চলতি বোরো মৌসুমে ১৪ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে বোরো ধানের রোপণ শুরু হয় এবং জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে রোপণ কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলায় ৯ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ হয়েছে ৩৪৬ হেক্টর, উপশী জাত ২ হাজার ৯৭১ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৬৫ হেক্টর জমিতে। সব মিলিয়ে হাওর এলাকায় ধান রোপণ শতভাগ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, হাওরের বাইরে এলাকায় হাইব্রিড ধান রোপণ হয়েছে ২ হাজার ১৮০ হেক্টর এবং উপশী জাতের ধান রোপণ হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বোরো চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছে। পাশাপাশি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১ হাজার কৃষককে হাইব্রিড ধানের বীজ এবং ১ হাজার ৪শ’ কৃষককে উপশী জাতের ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক কৃষককে জনপ্রতি ২০ কেজি করে সার সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরেই কৃষকরা কৃষি সরঞ্জাম হাতে মাঠে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ কাদামাখা জমি থেকে চারা তুলছেন, কেউ পাওয়ার টিলার বা বলদের সাহায্যে জমি প্রস্তুত করছেন। প্রস্তুত জমিতে দলবেঁধে চলছে ধানের চারা রোপণ। রাসায়নিক সার প্রয়োগসহ সোনালি ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

তবে এবছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় অনেক হাওর ও বিলে পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় সেচের জন্য তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি।

জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বড় কাপন গ্রামের কৃষক ফখর উদ্দিন জানান, সোনাডুবি (ইন্দারবন) এলাকায় তিনি ১০ একর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন। ছেলে নুর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে পানির সংকটের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক কুটি মিয়া বলেন, তিনি ১৩ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন এবং সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে কিছু হাইব্রিড ধানের বীজ পেয়েছেন। পানির সংকট মোকাবেলায় পাম্প মেশিনের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষীবাউর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, তিনি ২০ একর জমিতে হীরা ও ২৮/২৯ জাতের ধান রোপণের কাজ শেষ করেছেন। তবে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, গত দুই বছর বড় বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। ফলে বোরো চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোরো ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে শিক্ষিত যুবসমাজকে কৃষিতে এগিয়ে আসতে হবে।

শাবিপ্রবির স্নাত্তক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আজ বুধবার রাতে (২১ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হবে।

ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।

ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি বলেন, “আজকে সন্ধ্যায় ভর্তি কমিটির সঙ্গে মিটিং রয়েছে। মিটিংয়ের পরে আমরা ‘এ’ এবং ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করব। আশা করা যায় রাত ৯ টার মাঝে মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরদ ফলাফল পেয়ে যাবেন। ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।”

ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এ বছর ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতির হার ৮২.৯৮ শতাংশ এবং সিলেটে ৭৬.৫৪ শতাংশ। সে হিসাবে ‘এ’ ইউনিটে গড় উপস্থিতির হার ছিল ৮১.৮১ শতাংশ। এবারে এ ইউনিটের ৯৮৫ আসনের বিপরীতে অংশ নিয়েছে ৫২ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতির হার ৭৯.৭৮ শতাংশ এবং সিলেটে ৮৫.২৭ শতাংশ। সে হিসাবে ‘বি’ ইউনিটে গড় উপস্থিতির হার ছিল ৮১.৮৭ শতাংশ। এবারে ‘বি’ ইউনিটের ৫৮১ আসনের বিপরীতে অংশ নিয়েছে ১৮ হাজার ২৫২ শিক্ষার্থী।

জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু নির্বাচন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে আয়োজনের জন্য দাবি তুলেছেন শাকসুর প্রার্থীরা।অন্যথায়, ক্যাম্পাস কমপ্লিট শাটডাউন ও শিক্ষার্থী সহ সহযোদ্ধাদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে হাইকোর্টের রায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে না আসলে ক্যাম্পাস কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ সময় শিবির প্যানেলের ভিপি দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘গতকাল আমাদের ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একটা দলের প্ররোচনায় পরে দুজন প্রার্থী ভোটের দুই দিন আগে হাইকোর্টে রিট করেছে। ফলে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার হরণ করেছে। আমরা এটির তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, হাইকোর্ট অনতিবিলম্বে যেন শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দেন। যদি শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না আসে, তাহলে ক্যাম্পাস কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করবো এবং শিক্ষার্থী সহ সহযোদ্ধাদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

শিবির-সমর্থিত জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকালীন ছুটির পর আমরা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু করি,আমাদের ভাই-বোনেরা দিনরাত কষ্ট করে প্রচারণা চালিয়েছে। অনেকে টিউশনির টাকা খরচ করে, কেউ ঋণ করে প্রচারণা চালিয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে রিট করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। এটির জবাব শিক্ষার্থীরাই দেবে।’

স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১ দিনের মধ্যে যেহেতু অন্য নির্বাচনের অনুমোদন নেই, তাই আমরা চাই যেন হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতার আওতামুক্ত রাখবে। আমাদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে অনেক আগেই। তাই আমরা যেকোনো মূল্যে শাকসু চাই। কারো চাপ বা পেশিশক্তি আমরা মেনে নেব না।’

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট কর্তৃক শাকসু স্থগিতের ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগের সবাই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা করেছেন। হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচনের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় বসবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।