নাজিম উদ্দিন,লাখাই :
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় খাল-বিল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে কচুরিপানার স্তূপ জমে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়া এবং কৃষিকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে কচুরিপানা অপসারণের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।
সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগে তৈরি এ যন্ত্রটি কচুরিপানা পরিষ্কারে ইতোমধ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কম সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে বড় এলাকা থেকে কচুরিপানা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে এ যন্ত্রের মাধ্যমে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বানের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা ভেসে এসে খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করে ফেলে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য চাষ ও কৃষিকাজেও সমস্যা দেখা দেয়। কচুরিপানা পরিষ্কারে বিপুল শ্রমিকের প্রয়োজন হওয়ায় খরচও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক সময় দ্রুত পরিষ্কার করাও সম্ভব হয় না।
এই সংকটের কথা মাথায় রেখে সাধারণ নৌকায় ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন করে কচুরিপানা অপসারণের এ যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। যন্ত্রটি ব্যবহার করে অল্প সময়ে ঘন কচুরিপানা কেটে পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যন্ত্রটির সাহায্যে খাল-বিল ও ফসলি জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় অবরুদ্ধ জলাশয় ও কৃষিজমি আবারও ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠছে।
উদ্ভাবক কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া জানান, স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ কমানোর তাগিদ থেকেই তারা নিজেদের উদ্যোগে এ যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যন্ত্রটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে অনেক শ্রমিক ও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। এখন যন্ত্রটি ব্যবহার করে তুলনামূলক কম সময়ে ও কম খরচে একই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থ তিনটিই সাশ্রয় হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি উদ্যোগ। হাওরের কৃষকদের কষ্ট লাঘবে এ ধরনের দেশীয় প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কচুরিপানা অপসারণের ফলে পতিত জমিও চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ এ সফলতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মধ্যে প্রচার করবে।”
সচেতন মহলের মতে, স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তিকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হলে দেশের হাওর ও মফস্বল এলাকার কচুরিপানা অপসারণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতাও কমানো সম্ভব হবে।


