ঢাকা-সিলেট রেলরূট যতটা সম্ভব সোজা করা এখন সময়ের দাবি, বাড়তি ১১০ কিলোমিটার রাস্তা কমবে।
বৃটিশ আমলে ত্রিপুরা আর আসামকে রেলসুবিধা দেওয়ার জন্য রেললাইন আঁকাবাঁকা ও ধনুবাঁকা করে তৈরি করেছিলো। ১৯৪৭ এ দেশভাগের পরে আসাম-ত্রিপুরা এদেশে না থাকাতে দেশের মানচিত্র অনেকাংশে পাল্টে গেছে।

রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস ও ভ্যাট ঢাকা
সেই ইংরেজ সরকারের করা অধুনা সীমান্তঘেঁষা ধনুবাঁকা ও আঁকাবাঁকা রেললাইনটি এখন যতটা সম্ভব সোজা করে আন্তঃনগর রেললাইন তৈরি করা উচিত। এতে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের এবং মালামাল পরিবহনের খরচ ও সময়- দুটোই বহুল পরিমাণে সাশ্রয় হবে। এই সময় ও খরচ সাশ্রয়ের বিষয়টি অবশ্যই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আসামে উৎপাদিত চা-পণ্যকে চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা দেওয়ার জন্য ইংরেজ সরকার ১৮৯১-১৮৯৬ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম-লাকসাম-কুমিল্লা-আখাউড়া-কুলাউড়া-শাহবাজপুর-বদরপুর রেললাইন তৈরি করে করিমগঞ্জের বরাক উপত্যকাকে রেলের সুবিধায় নিয়ে এসেছিল। তৎকালীন ‘ত্রিপুরা’ একটি দেশীয় রাজ্য হওয়াতে ত্রিপুরার ঠিক মধ্য দিয়ে লাইনটি করতে না পেরে কুমিল্লায় ত্রিপুরা ঘেঁষে ঘেঁষে লাইনটা টানা হয়েছিল । তখন আসাম থেকে ‘লাতু’ ট্রেন আসাম ও বাংলাজুড়ে চলাচল করতো। পরবর্তীতে করিমগঞ্জের রেললাইনে ট্রেন চলাচলের প্রায় বিশ বছর পর ১৯১৫ সালে কুলাউড়াকে ‘রেল জংশন’ ( উত্তর-পূর্ব দিকে কুলাউড়া-করিমগঞ্জ রেললাইন ও উত্তর-পশ্চিম দিকে কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন) ঘোষণা করে কুলাউড়া-সিলেট রেলরুটটি নির্মাণ করা হয় যা পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আসামের প্রধান চা অঞ্চল করিমগঞ্জকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীকে এড়ানোর জন্যই কুলাউড়া-শাহবাজপুর হয়ে করিমগঞ্জের বদরপুর পর্যন্ত লাইনটা করেছে। এখন যেহেতু করিমগঞ্জ ও ত্রিপুরা আলাদা হয়ে গেছে, অনেক ঘোরানোর বাকাঁ পথে শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-কুলাউড়া-ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সিলেট আসার দরকার কী? এই পুরনো লাইনে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চালু করে সিলেটের সব আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য রেললাইন যতোটা সম্ভব সোজা করে নতুন লাইন তৈরি করা সময়ের দাবি। তাছাড়া পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর (যেখানে প্রতিনিয়ত রাতবিরাতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অনেক বন্যপ্রাণী মারা যায়) অভয়ারণ্য বিবেচনায় লাউয়াছড়া জাতীয় বন ও পাহাড়ি আঁকাবাকা রাস্তা পরিহার করাটা জরুরী।


