আধুনিক ডেস্ক ::
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের ‘গণহত্যার’ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ -এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মামলায় গণহত্যার দুইটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগে এই গণহত্যার অভিযোগ দুটি আনা হয়েছে। কারণ এখানে আইনানুযায়ী নির্দিষ্ট ইসলামী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ‘গণহত্যা’ চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ২০১৩ সালের পাঁচ ও ছয়ই মে দুইদিনব্যাপী ঢাকার শাপলা চত্বর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জে এই ‘গণহত্যার’ ঘটনা ঘটে।
৬১ জন নিহতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৫৮ জনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও হাসানুল হক ইনু, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একে এম শহীদুল হক, দীপুমনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু, ফারজানা রূপাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।


