নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) স্কলারশিপ ২০২৬-২৭-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, সিলেট শনিবার (১৮ জুলাই) নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জফির সেতু, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুবসহ শিক্ষাবিদ, স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এ বছর সিলেট অঞ্চল থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আইআইটি মাদ্রাস, এনআইটি শিলচর, এনআইটি চণ্ডীগড়, দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।
স্বাগত বক্তব্যে দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন শিক্ষাজীবন শুরু করার আহ্বান জানান।
ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সফল শিক্ষাজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে। তিনি আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করে এ উদ্যোগের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সেখানে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অধ্যাপক জফির সেতু বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা কেবল একাডেমিক অর্জনের বিষয় নয়, এটি নতুন সংস্কৃতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অন্যদিকে প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুব শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার অভিজ্ঞতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরে আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


