শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
টিউশনের উদ্দেশ্যে শেয়ার করা নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে অশালীন প্রস্তাব, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ ডায়েরীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, আমি লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্রী। গত কিছু দিন পূর্বে ‘সাস্ট আপডেট’ নামক একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে একটি পোষ্ট করা হয়। যাতে টিউশনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। উক্ত ফেইসবুক পেইজের এডমিন রাহিন ইসলাম, মো. আরমান সামি তারা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী। আমি উক্ত পোস্টে মন্তব্যের স্থানে আমার নাম উল্লেখ পূর্বক টিউশন করানোর আগ্রহ প্রকাশ করি। পরবর্তীতে তারা আমার নাম্বার চাইলে আমি আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার প্রদান করি।
তাদের পোস্টের মন্তব্যে আমি নাম্বার প্রদান করার পর গত ২৪ জুন রাত ৮টা ১মিনিটে ০১৫৮০৮৮১৮১২ মোবাইল নাম্বার হতে আমার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বরে এসএমএস করে এবং প্রথমে আমাকে চাকুরীর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে আমি তাহার প্রতিউত্তর দিলে উক্ত নাম্বার হতে আমাকে আপত্তিকর, অশালীন ও কুপ্রস্তাব, কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে উক্ত নাম্বার হইতে আমাকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি মূলক হুমকী প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী খলিলুর রহমান চাঁদ বলেন, “সাস্ট আপডেট পেইজের অ্যাডমিনরা যদি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা দিতে না পারে তাহলে কেন তারা নাম্বার নিবে। আমাদের দাবি হলো, যে নম্বর থেকে ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছে অতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে । যারা সাস্ট আপডেট পেজের অ্যাডমিনদের এ বিষয়ে জবাবদিহীতা করতে হবে।”
অভিযোগ আসা ০১৫৮০৮৮১৮১২ নম্বরটিতে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে ‘সাস্ট আপভেট পেইজের অ্যাডমিন রাহিন ইসলাম বলেন, আমরা টিউশনের পোস্ট করার পর অনেকে সেখানে কমেন্ট করেন। সেখান থেকে কেউ নম্বর নিলে সেই দায়ভার আমাদের না। আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারোর থেকে নম্বর চাইনি বা পোস্টেও বলিনি।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী কুপ্রস্তাবের আসার পর ম্যাসেজ সম্পর্কে আমাদের জানান। আমি নিজে এটির প্রতিবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেছি। এতোদিন পর নতুন করে আমার বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ আনা হলে আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।”


