শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী প্রেমঘটিত কলহের জেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার বাঁধন (২১)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্থায়ী ঠিকানা চুয়াডাঙ্গা জেলায়। তিনি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টিলারগাঁওয়ের মেসে থাকা অবস্থায় বিষপান করেন শাহরিয়ার। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের জানাননি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-২ এর ১৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “শাহরিয়ারের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই তরুণী এবং তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে কথাকাটাকাটি ও মান-অভিমান হয়, যার কল রেকর্ড ও মেসেজ তার মোবাইলে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিকভাবে বিষণ্ণ ছিলেন। এর আগেও ১ম বর্ষের ১ম সেমিস্টারে অধ্যয়নকালে তিনি ইঁদুরের বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং সে সময় ৪-৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।”
বিভাগীয় প্রধান হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে জানান, রোগী যে কীটনাশক পান করেছেন তার প্রভাব বেশ তীব্র ও ধীরগতির (স্লো পয়জনিং)। ওসমানী মেডিকেলের আইসিইউ ইনচার্জের মতে, এই ধরণের বিষপানের লক্ষণ ৭-৮ দিন পর ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে এবং তা কিডনি, লিভার ও ফুসফুসে প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জি. এম. রবিউল ইসলাম হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে বলেন, “আপাতত রোগীর রক্তচাপ ও অন্যান্য শারীরিক সূচক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিন তার শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। আহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।”
উপ-উপাচার্য জানান, বিভাগীয় প্রধান আপাতত বিষয়গুলো তদারকি করছেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে তা পরিশোধ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র উপদেষ্টার অধীনে সাইকিয়াট্রিস্ট ও কাউন্সেলিং সুবিধা রয়েছে। যেকোনো মানসিক চাপ বা সমস্যায় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


