নাজিম উদ্দিন, লাখাই :
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের মাহফুজ মিয়া (৫৫)। দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার, কারাবাস ও জামিনে মুক্তির মধ্যেই তার জীবন ঘুরপাক খাচ্ছে বলে পুলিশের অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার এক বছরের সাজাও হয়েছে।
মাহফুজ মিয়া ভাদিকারা গ্রামের মৃত ঠান্ডা মিয়ার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, মাদক বিক্রিই তার প্রধান আয়ের উৎস। কখনো নিজে হেঁটে মাদক বিক্রি করেন, আবার কখনো অন্যদের মাধ্যমে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা বা অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই বলেও দাবি পুলিশের । চলতি সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লাখাই থানা পুলিশ মাহফুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন বলে পুলিশ জানান। এরপর অন্য একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের আরও দাবি, মাহফুজ মিয়া এর আগেও মাদকসংক্রান্ত মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার ও কারাবাসের পর জামিনে বের হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় সাবেক মহিলা সদস্য বাহার বেগমের সহোদর ভাই।পুলিশ বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগে বারবার গ্রেপ্তার ও কারাবাসের কারণে মাহফুজের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার বসতঘরের অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা।
তবে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ মিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি।
লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসা থেকে সাময়িকভাবে কেউ লাভবান হলেও এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার, মামলা, আদালত, কারাবাস ও জামিন এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনও বারবার ব্যাহত হয়।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


