নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:
কমলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলাই নদীর ব্রিজ ও নদী সংলগ্ন বাড়িঘরের নিচ থেকে ড্রেজার মেশিনে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকান্ডের ফলে নদীর ব্রিজ, শতাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি ও স্থানীয় জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলনের বিষয়ে এই প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সাময়িক বন্ধ রেখেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ভারত থেকে আসা ধলাই নদীর লিজকৃত ও লিজবহির্ভূত বিভিন্ন স্থান থেকে বেপরোয়া গতিতে বালু উত্তোলন চলছে। ড্রেজার মেশিনযোগে বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশ জনপদসহ নানা অবকাঠামো। গতকাল রোববার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজারে যাতায়াত সড়কের উপর নির্মিত ধলাই সেতুর নিচ থেকে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে ধলাই সেতু। এছাড়া ইজারার বাহিরেও ধলাইপাড়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। উত্তোলিত বালু ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে ধলাইপাড়, কুমড়াকাপন এলাকা, হীরামতি, রহিমপুর ইউনিয়নের জসমতপুর, ধর্মপুর, চৈত্রঘাট এলাকার প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। বাড়িগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।
নীরবাজারে ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত মালিক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং বালু পরিবহনের দায়ে চারটি ট্রাক জব্দ করে। ধর্মপুর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের দায়ে সজিব দেবনাথ নামে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জসমতপুর এলাকায় আব্দুল কাদির নামে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে উপজেলা প্রশাসন। ইসলামপুর ইউনিয়নে মুহিতুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ট্রাক্টর আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারপরও বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন রোধ করা যাচ্ছে না।
বালু উত্তোলনের বোমা আর ড্রেজার মেশিনের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকিতে পড়েছে নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ। অন্যদিকে বালু পরিবহনের কারনে ভেঙে পড়ছে রাস্তাঘাট। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি। স্থানীয় রাস্তাঘাটেরও বেহাল দশা ধারণ করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সানু মিয়া, রফিক মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন জানান, বন্যার পর বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধলাই নদীর তীরবর্তী বেশকিছু বাড়িঘর নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছি।
এব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক এড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, আমরা সরেজমিনে ধলাই নদীর বালু উত্তোলনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দেখেছি। বসতবাড়ির সন্নিকট ও ব্রিজের নিচ থেকে কোন অবস্থায়ই বালু উত্তোলনের বিধান নেই। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের কোন নিয়ন নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডও নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


