নাজিম উদ্দিন, লাখাই প্রতিনিধি:
লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের অন্তগর্ত ফরদাবাদে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভরসা এখন অস্থায়ী একটু বাঁশের সাঁকো। ফরদাবাদে প্রায় ৬০-৭০ টিরও বেশি পরিবার রয়েছে দূর্ভোগে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরদাবাদ পাড়ার উদ্যোগে প্রতিবছর ৩০০ ফুটের একটি বাঁশের অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এতে ফরদাবাদ মহল্লার কিছুটা দূর্ভোগ লাগব হলেও জনপ্রতিনিদের দৃষ্টি না থাকায় প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে নিজেদের অর্থায়নে সাঁকো সংস্কার করছেন তারা। বর্তমানে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাঁকোটি। বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা সাঁকোটি ব্যবহার করছে।
স্থানীয়রা বাসিন্দা দশরত দাশ জানান, বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। খরা মৌসুমে ভাঙা থাকে এবং বর্ষার মৌসুমে পানি। পাড়ার সকলের অর্থের সহযোগিতা নিয়ে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরী করি। কিন্তু রাজনৈতিক দলের এমপি এবং জনপ্রতিনিধিরা শুধুই আশ্বাস দেন। বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান কাজ করেনা। ২০- ৩০ বছর যাবৎ আমরা খুব কষ্টে রয়েছি। ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে সাঁকো তৈরী করতে হয়। মৃত্যু ব্যক্তির লাশ সৎকার করতে শ্মশানে যেতে হয় নৌকা যুগে। বাচ্চাদের পানি ভেঙে যেতে হয় স্কুলে। আমরা খুব দূভোর্গে রয়েছি। এ থেকে মুক্তি চাই আমরা।
স্থানীয় বাসিন্দা অদৈ দাশ বলেন,আনুমানিক ৩৫ বছর এ-ই রাস্তার দূর্ভোগে ভুগছি আমরা। বর্ষার মৌসুম এবং ডুবা জায়গা হওয়ার কারনে বর্ষার মৌসুম ছাড়াও বাঁশের সাঁকো তৈরী করতে হয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধরা শুধু আশ্বাস দেন কিন্তু পরে আর কোন খুঁজ থাকেনা। সব সরকারের লোক একই কথা বলে শুধু। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে খুবই সমস্যা হয় এবং ডেলিভারি রোগীদেরকে নৌকা যুগে নিয়ে যেতে হয়। আমরা এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই, সকলেই চায় উন্নতভাবে চলতে।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা বলেন, ডেলিভারি রোগী, মৃত ব্যক্তির লাশ সৎকার, বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত করতে বড় সমস্যায় আছি। আমাদের মহল্লায় বিয়ের সম্মন্ধো আসলে ফিরে যায়। এ-ই বেহাল অবস্থা দেখলে। আধুনিক যুগে বাংলাদেশে কোথাও এমন দৃশ্য নেই।
এ অবস্থায় শিগগিরই ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মোড়াকরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল মোল্লা বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বাঁশের সাঁকোর বিষয়টি উপস্থাপন করেছি এবং যাতে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করেছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো বিষয়ে আমি অবগত নই।


