শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় রুস্তম আলী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আস্তমা গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকাল ৩টায় উপজেলার আস্তমা গ্রামের পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ মিয়া, নিহত রুস্তম আলীর ভাই মাওলানা মোজাহিদ আহমদ, হাফিজ কয়েছ আহমদ, হাফিজ হোসাইন আহমদ ও আজিমুল হক বাইতুল্লাহ।
বক্তারা বলেন, নিহত রুস্তম আলী একজন নিরীহ ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনো গ্রামের কোনো ঝামেলায় জড়িত ছিলেন না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তারা বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ সব আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে এ দাবিতে আস্তমা গ্রামবাসী রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।
নিহতের ভাই মাওলানা মোজাহিদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার বড় ভাই রুস্তম আলী। আমার লেখাপড়া ও পরিবারের আর্থিক খরচ তিনিই বহন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার ভাই অন্ধকার কবরে শায়িত, আর খুনিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা আস্তমা গ্রামে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া, আরিছ আলী, আবদুল মন্নান, আমরাজ আলী, সেবুল মিয়া, শফিকুন নূর, গুলজার আহমদ, সুজন মিয়া, জোবায়ের আহমদ, বদরুল আলম, ফারুক আহমদ, শাকিল আহমদ, মোশাররফ হোসেন ও আজিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ বলেন, রুস্তম আলী হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


