মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, দোয়ারাবাজার:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া উপ-স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং অবকাঠামোগত সমস্যার মুখে কার্যত টিকে আছে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিষ্ঠার উপর। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এস এম শফিকুল ইসলাম। প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মুখেও তিনি চেষ্টা করছেন সর্বোচ্চ সেবা দিতে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি ও আস্থা তৈরি হয়েছে।
রোগী আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিবার এলে দেখি স্যার একাই সব সামলান। লোকবল কম, সমস্যা অনেক—তারপরও তিনি সময় নিয়ে মন দিয়ে দেখেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা সত্যিই বড় সহায়তা।”
আরও কয়েকজন রোগী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক, ভবনের অবস্থা খারাপ—তবুও বাধ্য হয়ে এখানেই চিকিৎসা নিতে আসেন, কারণ আশপাশে বিকল্প কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র নেই।
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “এতো সংকটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। তারপরও সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করছি। দ্রুত এই সংকট সমাধান হওয়া জরুরি।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামোর নানাবিধ সমস্যা। ভবনের তিনটি বিদ্যুৎ মিটারের মধ্যে দুইটি সরিয়ে নেওয়ায় এখন একটি মিটার চালু আছে। পানির লাইন, বেসিন এবং অধিকাংশ কল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, আর লিংক রোড না থাকায় রোগী ও সেবাদাতাদের চলাচল চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সালেহীন খান আধুনিক কাগজকে বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একাধিক পদে জনবল সংকট রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, একজন কর্মকর্তার একক প্রচেষ্টার ওপর পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালানো দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। দ্রুত জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
