আধুনিক ডেস্ক ::
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে সংঘটিত ভূমিকম্পে পুরান ঢাকায় একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫। কেন্দ্রস্থল নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে। গভীরতা ১০ কিলোমিটার।
রাজধানীর বংশাল থানা পুলিশসূত্রে জানা গেছে, আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকার একটি আটতলা ভবনের পাশের দেওয়াল ও কার্নিশ থেকে ইট ও পালেস্তারা খসে নিচে পড়ে। যেখানে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। সেখানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মিটফোর্ড হাসপাতালে হাসপাতালে তিনজন মারা গেছেন এবং ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। একজনের নাম রাফিউল ইসলাম। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তবে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার সাজ্জাদ বলেছেন, তিনি সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র। মিটফোর্ড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত আরেকজনের নাম সবুজ। তার বয়স ৩০ বছর। ৮ বছরের একটি শিশুর মরদেহ আনা হয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম ফাতেমা বেগম। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে ফাতেমার মা কুলসুম বেগম তার মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে দৌড়ে আসেন। এ সময় প্রতিবেশী জেসমিন বেগমও (৩৫) ঘর থেকে বের হয়ে সড়কে এসে আশ্রয় নেন। ঠিক তখনই সড়কের পাশে থাকা একটি সীমানাপ্রাচীর ধসে তাঁদের ওপর পড়ে। ইটের চাপায় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমা নিহত হয়। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম ও জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
