Home Blog Page 40

‘অর্জন, চর্চা, সৃষ্টি’- নীতিতে শাবিপ্রবির তিন যুগ পূর্তি

0

হিমেল হান্নান, শাবি:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলের লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘অর্জন, চর্চা, সৃষ্টি’- এই নীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১(১লা ফাল্গুন)। গৌরবময় ৩৫ টি বসন্ত পাড়ি দিয়ে আজ(১৪ ফেব্রুয়ারি) তিন যুগ পূর্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির।

১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি বিভাগ(পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতি), ১৩ জন শিক্ষক ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শিক্ষাপ্রদানের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি,নতুন জ্ঞান ও আবিষ্কার সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে আরো টেকসই উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে নিরলস ভাবে কাজ করছে। যার ফলশ্রুতিতে ৩২০ একরের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আলো ছড়াচ্ছে বিশ্বে।

বিগত বছরগুলোতে ইংরেজি দিনপঞ্জি অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হলেও ২০২০ থেকে বাংলা দিনপঞ্জির সঙ্গে মিল রেখে ১লা ফাল্গুন (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।বর্তমান প্রতিষ্ঠানটিতে ৭টি স্কুল, ২৭টি বিভাগ এবং ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে । শিক্ষক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৬ জনে, আর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৮,৫৯৬। এর পাশাপাশি মেডিকেল সায়েন্স স্কুলের অধীনে রয়েছে এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ ১২টি অনুমোদিত মেডিকেল কলেজ, যেখানে অধ্যয়ন করছে প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থী।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে জার্মানির কার্লসরুয়ে প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট,ইতালির কালাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চীনের চিংশু বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি ফ্যাচকশিউল (বার্লিন),ফিনল্যান্ডের তামপেরে ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।

২০২৫ সালের কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৪২তম স্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।এডুর‍্যাঙ্ক অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যে ১১তম এবং বিশ্বব্যাপী ৩৪৪৮তম স্থানে রয়েছে ।ভবিষ্যতের দিক বিবেচনায়, গবেষণা, শিক্ষার গুণমান ও একাডেমিক কার্যক্রমে আরও উন্নতি সাধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক আইটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে , যার মধ্যে রয়েছে হাই-স্পিড নেটওয়ার্কিং, ক্লাউড ও ভার্চুয়ালাইজেশন সুবিধা, ক্যাম্পাস অটোমেশন সিস্টেম এবং ২৪/৭ টিয়ার-৩ ডেটা সেন্টার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত অনেক প্রযুক্তি দেশে প্রথম ও অনন্য স্থান দখল করে রেখেছে। মোবাইল ফোনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই সেবার আওতায় নিয়ে আসা, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ উদ্ভাবন, যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস উদ্ভাবন, চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) উদ্ভাবন, বাংলায় কথা বলা সামাজিক রোবট ‘রিবো’ তৈরি, হাঁটতে চলতে সক্ষম রোবট ‘লি’ তৈরি, অনলাইনে টান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সুবিধা চালু, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কিবোর্ড তৈরি , রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনসহ অসংখ্য উদ্ভাবন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশে ইন্টিগ্রেটেড অনার্স প্রোগ্রাম চালু করা প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল । ১৯৯৬–৯৭ শিক্ষাবর্ষে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করে, যা শিক্ষার মানে দৃশ্যমান উন্নতি এনেছে, এমনকি জাতীয় পর্যায়েও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ৭৯টি দেশের বাছাইকৃত ২৭২৯টি দলের সঙ্গে লড়াই করে শীর্ষ চারে জায়গা করে নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম অলিক’।সর্বশেষ দেশের প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ‘দেশসেরা ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে শাবিপ্রবি।

শুধু শিক্ষা ও গবেষণায় নয়, মানবিকতায়ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শাবিপ্রবি। অতিমারী করোনাকালে নিজস্ব অর্থায়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধীনে করোনা শনাক্তরণ ল্যাব তৈরি করেছে। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমিয়েছে। করোনা ভাইরাসের জিনোম রহস্য উন্মোচন করে ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছে শাবিপ্রবির গবেষক দল।

প্রথম পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকা অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফাতিমা তুজ জাহরা(পূর্বনাম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল) সৈয়দ মুজতবা আলী হলের অসমাপ্ত তিন-চতুর্থাংশ, সেন্টার এক্সেলেন্স ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় ভবন, টেনিস কোর্ট, আইআইসিটি ভবনের অসমাপ্ত পঞ্চম থেকে দশম তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প কাজ চালছে । এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন, চতুর্থ ছাত্রী হল, চতুর্থ ছাত্র হল, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগসমূহের দুটি একাডেমিক ভবন, কর্মচারীদের জন্য একটি আবাসিক ভবন, ভৌত বিজ্ঞান, কৃষি ও খনিজ বিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগসমূহের জন্য একটি একাডেমিক ভবন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন, বাংলা, ইংরেজি বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের জন্য একটি একাডেমিক ভবন, গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশি ছাত্রদের জন্য হোস্টেল, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের জন্য একটি ভবন, চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ সহ দুটি সংযোগ সেতু নির্মানের কাজ চলমান।

শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা প্রদানের জন্য বর্তমানে মোট ৬টি আবাসিক হল রয়েছে। যার মধ্যে ৩টি ছেলেদের জন্য ও ৩টি মেয়েদের জন্য বরাদ্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সৃজনশীলতার চর্চার জন্য রয়েছে অর্ধ-শতাধিক সংগঠন ।

১৯৯০ সালে মাত্র কিছু বই ও চারটি কক্ষে লাইব্রেরি শুরু হলেও আজ এটি একটি আধুনিক ৪ তলা ভবনে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা সেবা প্রদান করা হয়। এখানে ৭৫ হাজারের বেশি বই, ৬ হাজারের বেশি জার্নাল এবং ২৩টি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে সহায়ক।

গ্রন্থাগারটি ২৫ হাজারের বেশি ই-জার্নাল এবং ই-বুক সাবস্ক্রাইব করে, যা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও পড়াশোনায় আরও এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আধুনিকায়িত লাইব্রেরিটি কোহা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে ডিজিটালাইজড হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই বই খুঁজে পেতে এবং আরএফআইডি সিস্টেমের মাধ্যমে বই ধার নেওয়া যায়।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায়ে শিক্ষার গুনগত মান যাতে বজায় থাকে, সেজন্য ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহায়তায় আইকিউএসি চালু হয়। প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট ও ইন্সটিটিউট এর শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিগূঢ়ভাবে গবেষণা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিরলস ভাবে কাজ করছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাস্ট রিসার্চ সেন্টার। সেন্টারটি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড ম্যানেজ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে থাকে।

শাবিপ্রবি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণের আশ্রয়, গর্ব আর সম্ভাবনার একটি নাম।
৩৬বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন,প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন যুগ পূর্তি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগের জায়গা। তিন যুগ পূর্তিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

0

আধুনিক ডেস্ক ::

নানা আলোচনা ও জল্পনার পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটেও ভোট দিবেন দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার। বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওইআসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ঠেলে অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে; আমেজ ছিল অনেকটা ঈদ উৎসবের মতোই। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে।


বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারি। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের তিনদিনের মাথায় চব্বিশের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর কয়েক মাসের মাথায়ই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক হয় তারেক রহমানের। এরপরই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে। ২০২৫ সালের পাঁচই অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়।
এবারের নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটার। ভোটারদের বড় একটি অংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পৌনে তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ ভোটার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এই তরুণ ভোটাররা।

ইসির তথ্য বলছে, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। ভোট চলবে বিকেলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য। যে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।
অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে। আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিএনপির ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুসহ প্রধান প্রতিশ্রুতি নয়টি

0

আধুনিক ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহারে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির ইশতেহারে যে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা–উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠায়ো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যামে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন, ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

বিএনপি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, সবার আগে বাংলাদেশ।

শাবিতে ক্রিকেট খেলায় ‘স্লেজিংকে’ কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৬

0

আধুনিক ডেস্ক ::

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ‘স্লেজিংকে’ কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষক। তারা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর আলম। তাদের মধ্যে আশরাফ সিদ্দিকী ও আব্দুল বাসিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাঁদের মধ্যে সোহানুর ও যশমন্তকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফারদিন ইসলাম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ফারদিন ও সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলা বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বাংলা বিভাগ লোকপ্রশাসন বিভাগকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি লোকপ্রশাসন বিভাগ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে ২০ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হয়। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘স্লেজিং’ করা হলে মাঠে থাকা অপর পক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই দফায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তর–পশ্চিম কোনায় ছিল। লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠে যায়নি। আগে থেকেই বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেকেই আহত হয়েছে। যা–ই ঘটুক সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে খেলা পরিচালনা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু ফাইনাল খেলা, আমি খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলাম। আমাদের একজন খেলোয়াড়কে স্লেজিং করা হয়। ওই খেলোয়াড় মনে হয় প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলেছিল। এরপর আমাদের খেলোয়াড় শিক্ষার্থীকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মারধর শুরু করে। পরে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা তা দেখে সেখানে যায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। আমি আটকাতে গেলে একজন আমার চোখের দিকে ঘুষি মারে। আহত হয়ে পড়ি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আহত হয়েছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। জানামতে, দুটি হাসপাতালে দুজন করে ভর্তি আছে। শিক্ষার্থীরা এখন কোন পর্যায়ে যাচ্ছে, আমাদের ভাবতে হবে। এটা তো মাত্রা ছাড়িয়ে গেল।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এছাক মিয়াকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মো. এছাক মিয়া বলেন, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানায় প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একুশে পদকের জন্য ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান মনোনীত

0

আধুনিক ডেস্ক ::

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন ববিতা, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মেরিনা তাবাশ্যুম, আইয়ুব বাচ্চু, ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিক শফিক রেহমান, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, তেজশ হালদার যশ ও অর্থী আহমেদ। আর প্রতিষ্ঠানটি—ওয়ারফেজ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

আধুনিক ডেস্ক ::

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড। আর একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এই মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন।

এই মামলার মোট আসামি মোট ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আটজন। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (৭ বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (৭ বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) ও মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)। পলাতক আট আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এ এফ এম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত ছিলেন, তাঁকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে এটি প্রথম রায় হলো। অন্যদিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। এর মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ২৬ জানুয়ারি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১।

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে পাঁচ গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ

0

আধুনিক রিপোর্ট ::

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। বুধবার মধ্যরাতে নেগরের তেমুখী এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরাধ করে সংঘর্ষে জড়ান ৫ গ্রাম বাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বুধবার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের জালালাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, জালালাবাদ থানার অধীন তেমুখী এলাকার পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে কুমারগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে নাজিরেরগাঁও এবং সাহেবেরগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁওয়ের লোকজন যুক্ত হন। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় ওই সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। তবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রা ১ টার দিকে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়েপরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কেউ কেউ সংঘর্ষের ঘটনাটি রাজনৈতিক বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত শিশুদের ঝগড়া থেকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সিলেটের কানাইঘাটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল তরুণের

0

কানাইঘাট প্রতিনিধি ::

সিলেটের কানাইঘাটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল (২১) নামে এক তরুণ খুন হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাবিল কানাইঘাট সরকারী কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী বলে জানা গেছে।

ছুরিকাঘাতে নাবিল হত্যার তথ্য নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচাতো ইসলাম হোসেনের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল খুন হয়।

তিনি বলেন, নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই একই বাড়ির বাসিন্দা। সকালে বাড়ির বাথরেমে মাটি ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাবিলকে ছুরিকাঘাত করেন ইসলাম।

বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী জানান, ছুরিকাহত নাবিলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সিলেট থেকে নিখোঁজ প্রবাসীর আগুনেপোড়া ও গলায় দড়িবাঁধা লাশ মিললো জকিগঞ্জের হাওরে

0

আধুনিক রিপোর্ট ::

সিলেট থেকে নিখোঁজ যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর আগুনে পোড়া ও গলায় দড়িবাঁধা লাশ মিললো জকিগঞ্জের হাওরে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা হাওরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯) নামের ওই প্রবাসী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি জিডি করা হয়। বুরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। থাকতেন সিলেট নগরীর চৌকিদেখির রঙধনু ৩৪/১ নম্বর বাসায়। পিতার নাম মৃত সমছু মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আগুনে পোড়া দাগ ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। তাদের ধারণা, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

আজ পবিত্র শবে বরাত

0

আধুনিক ডেস্ক ::

আজ পবিত্র শবে বরাত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আজ সেই মুক্তির রাত বা ‘লাইলাতুল বরাত’।

হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত হিসেবে পরিচিত। এই রাতে বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন মহান আল্লাহ তাআলা।

মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন।