হিমেল হান্নান, শাবিপ্রবি:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের তিনটি কক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মূলত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গ্রন্থাগারে নিজস্ব বই বা পড়ার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। ফলে গ্রন্থাগারের নিরিবিলি পরিবেশে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়ে আসলেও পূর্বে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন।
এই উদ্যোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখন একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নন-একাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার জন্য তাঁদের নিজস্ব বই সাথে রাখা প্রয়োজন। তাঁরা যাতে গ্রন্থাগারের শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা করে সফল হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন কক্ষগুলো বরাদ্দ করা হচ্ছে। আমাদের সম্পূর্ণ একটি তলা বরাদ্দের ইচ্ছা থাকলেও স্থানসংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কক্ষগুলোকে বর্তমানে উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা শুরু করতে পারবেন।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। ইতোপূর্বে কেবল জার্নাল সেকশনে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারতেন, এখন আমরা পরিসর আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি । লাইব্রেরি ভবনে আইকিউএসি, রিসার্চ সেন্টার ও র্যাংকিং অফিসসহ অন্যান্য কার্যালয় থাকায় পর্যাপ্ত জায়গার অভাব রয়েছে । এ কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “ইতোমধ্যে নতুন একটি কক্ষ সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে এসি ও যাবতীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়ে যাবে। এছাড়া লাইব্রেরি ভবনের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় আরও নতুন কক্ষ খোঁজা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ আরও বাড়ানো যায়।”


