আধুনিক রিপোর্ট ::
সিলেটের হযরত শাহজালালের (রাহ.) মাজারে নতুন করে জমা হওয়া দানের অর্থ গণনা করা হবে হবে।েএ নিয়ে দ্বিতীয়বারে গণণা হতে যাচ্ছে এ মাজারের দানবাক্সের টাকা। শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এর আগে ২২ জুন মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মত প্রকাশে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। কয়েস লোদী জানান, গণনা কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও হযরত শাহপরানের (রাহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সে সময়কার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে রক্ষিত তিনটি ডেগচি (স্থানীয়ভাবে মাজারের ডেগ’ হিসেবে পরিচিত, যেগুলো দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল) ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ২২ জুন প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেক ও দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। মাজারের দানবাক্সের টাকার হিসাব নিয়ে আলোচনা সমালোচানার মাঝে ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের পর এবার নতুন কমিটির তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় দফার দান গণনা অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থও আগের মতো সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।


