রুহুল আমিন, গোলাপগঞ্জ:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো শেষ বাজারে পুরোপুরি জমে উঠেছে। আগামী কাল ঈদ তাই হাটে ক্রেতা ও পশুর সমাগম বাড়ছে। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে গরু ক্রয়-বিক্রয়ের ধুম।
গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পুরকাস্থবাজার,ঢাকাদক্ষিণবাজার ও অস্থায়ী হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, খামারি ও পাইকাররা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং স্থানীয় খামার থেকে আকর্ষণীয় সব গরু ও ছাগল হাটে নিয়ে এসেছেন। এবারের বাজারে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, পশুর খাবারের মূল্যবৃদ্ধি এবং পশুপালনের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়, এভারের ঈদের হাট ৩টি স্থায়ী ও ৭টি অস্থায়ী হাটসহ ১০টি হাট বসে।
হাটে আসা এক ক্রেতা জানান, “বাজারে গরুর কোনো ঘাটতি নেই, তবে বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না। আমার বাজেট অনুযায়ী একটি মাঝারি সাইজের গরু খুঁজছি, আশা করি শেষ মুহূর্তে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হবে।” অন্যদিকে, স্থানীয় এক খামারি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু বড় করেছি। হাটে মানুষের ভিড় ভালো, আশা করছি লাভজনক দামেই বিক্রি করতে পারব।”
পশুর হাটে জালিয়াতি রোধ ও জাল টাকা শনাক্তকরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার সকল বাজারে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। হাটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে হাটের আশপাশের রাস্তায় বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জের প্রবাসী পরিবার ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এবার অনলাইন থেকে সরাসরি খামারের ছবি ও ভিডিও দেখে কোরবানির পশু কেনার প্রবণতাও বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি দামের অস্বস্তি থাকলেও উৎসবের আমেজে কোনো কমতি নেই গোলাপগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বাজার আরও চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা।


