নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ:
জমিতে পানির অভাবে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কমলগঞ্জের বেশকিছু কৃষক। চারা রোপনের পর কোথাও জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে, আবার পানির অভাবে কোথাও রোপন শুরু হয়নি। দীর্ঘ সময়ে অনাবৃষ্টির কারনে এবং শ্যালো ও ডিপটিউবয়েলে ভূগর্ভ থেকে উত্তোলনে ক্রমাম্বয়ে পানির স্তর নিচে নামছে। শুকিয়ে যাচ্ছে ছড়া ও খাল। ফলে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে
উপজেলার কেওলার হাওর ও কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী ও জলাধারের আশেপাশের জমিতে এবং কিছু কিছু এলাকায় শ্যালো ও ডিপটিউবয়েলে বোরো ক্ষেতে সেচ দিচ্ছেন। তবে অধিকাংশ জমি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ছড়া ও খালে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নদীর পানিও অনেক হ্রাস পেয়েছে। কৃষকদের কেউ কেউ জমি তৈরি করলেও পানির অভাবে রোপন করতে পারছেন না। জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। সেচের জন্য কৃষকরা হাহাকার করছেন। উপজেলার পতনঊষার, শমশেরনগর, আলীনগর, মুন্সিবাজার ও আদমপুর ইউনিয়নসহ সবক’টি এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকদের কেউ কেউ একর প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করেও পানির অভাবে ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। সেচের পানির অভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১৭০টি শ্যালো মেশিন ও এলএলপি অর্থাৎ পাইপ যোগে সেচ কাজে ৭৫০টি যন্ত্র কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে গভীর নলকূপ বিষয়ে কৃষি অফিসে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপত্তি হওয়ায় প্রায় অর্ধশতাধিক ছড়া ও খাল রয়েছে। এগুলো খনন ও সংস্কার না হওয়ায় ভরাট হতে চলেছে। তাছাড়া যত্রতত্র গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানোর কারনে পানির স্তরও নিচে নামতে শুরু করেছে। ফলে উজান থেকেও পানি আসছে না। অন্যান্য বছরের এই সময়ে দু’এক দফা বৃষ্টিপাত হলেও চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাতের দেখা পাওয়া যায়নি। এতে জমি শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক ছুফি মিয়া, পতনউষার ইউনিয়নর কৃষক রমজান আলী বলেন, সময় যতই গড়াচ্ছে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর সেচের পানি পাওয়া না গেলে বোরো ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে যাবে। প্রতি কিয়ার জমিতে এখন পর্যন্ত তিন, চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারা আরও বলেন, উজান থেকে নদীতে অল্প অল্প করে যেপরিমাণ পানি আসে তার ছয় গুণ পরিমাণ পানি সেচ দিয়ে কৃষকরা নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নিম্নাঞ্চলে সেচের পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খালগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ছড়া ও খালে পানি নেই। ফলে সেচের প্রচুর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখনো লক্ষ্যমাত্রাও পুরন হয়নি। তবে বৃষ্টির আভাস রয়েছে। অনেকেই দেরিতে রোপন করছেন। একটু বৃষ্টিপাত হলেই আর সমস্যা হবে না।
