অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া অথবা সংস্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের
শাবি প্রতিনিধি:
একুশ এলে যে প্রাঙ্গণে ভোরের আলো ফোটার আগেই জড়ো হতো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, যে বেদিতে ফুল দিয়ে জানানো হতো ভাষাশহীদদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা সেই শহীদ মিনারটি পড়ে আছে আজ নীরবতায়। ১৯৯২ সালে ছোট-বড় তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়ে নির্মিত হয় শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) অস্থায়ী শহীদ মিনারটি।
সরজমিন দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনারটি অসংরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কেউ সবচেয়ে ছোট স্তম্ভের উপর দাড়িয়ে আছে, কেউ সাইকেল রাখছে কেউবা উপরে বসে রয়েছেন। বড় স্তম্ভ দুটিতে ঘাস ও শেওলার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে ছোট স্তম্ভের উপর বসে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০২৪-২০২৫ সেশনের এক শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনার, তা তিনি আগে জানতেন না । কখনো তিনি এ বিষয়ে অবগত হওয়ার সুযোগ পাননি । ১০১টি সিঁড়িবিশিষ্ট শহীদ মিনার থাকায় পুরাতন শহীদ মিনার সংরক্ষণের কথা প্রশাসন ভুলে গেছেন বলে অভিযোগ জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষের কাছে মিনারটি সংস্কার কিংবা অপসারনের দাবি জানিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন বলেন, ‘স্মৃতির প্রথম মিনারটি ওভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি আমাদের বিবেকে বাধে। এটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনার, সেটিই জানেন না ক্যাম্পাসের অনেকেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রশাসনকে স্মৃতির মিনারটির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে আফিয়া ইবনাত নিশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , ব্যতিক্রম ধর্মী গঠনের করণে প্রথমবার দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি শহীদ মিনার। সকলের দৃষ্টি টিলার উপরের দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটির দিকে, জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা মিনারের দিকে নয়। ভাষা শহীদদের সম্মানে কর্তৃপক্ষ মিনারটির দ্রুত সংস্কার করা উচিত বলে তিনি মনে করি ।
বিষয়টি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে একাধিকবার কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, শিক্ষার্থীরা যে সংস্কারের কথা বলতেছে—এটা আমি মনে করি তারা সঠিক বলতেছে। সংস্কার এতদিন যে করা হয় নাই, এটা আসলে ঠিক হয় নাই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনার। শহীদ মিনারটি সংস্কারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে আলোচনা করে কি করা যায় সেই অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আশ্বাস দেন তিনি।


