শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং(পিএমই)বিভাগে যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ১৭ দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করে দ্রুত বিষয়টি সামাধান করা হোক। সিদ্ধান্ত না পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন না বলে জানান তারা ।
এ বিষয়ে বিভাগটির অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, “১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন বরাবরের মতই আমাদের হতাশ করে যাচ্ছে। তারা আমাদের প্রতিবার কথা দিয়ে যায় নিয়োগ বাতিল হবে; কিন্তু কোনো এক দৈব্যশক্তির কারণে তার নিয়োগ বাতিল করা হয় না। প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর ক্লাসে ফিরব না। আমাদের একটাই দাবি, এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করতে হবে।”
নিয়োগ পাওয়া যে শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি, তার নাম তাজবিউল ইসলাম। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
সেখানে স্নাতকে তার সিজিপিও ৭.৩৫। কিন্তু স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫-কে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি সিজিপিএ ৪-এ রূপান্তর করলে তা ৩.২১ হয় ।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন ৩.৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়। কিন্তু তাজবিউল ইসলামের আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়।
তিনি ওই বছরের জুনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র পান। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি ক্লাসে পাঠদানে অংশ নিতে পারেননি। যদিও তিনি শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা পান।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোরব তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাতে এই শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর কেন তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করে ওই তদন্ত কমিটি।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে কি-না, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মন্তব্য চাওয়া হয়।
কিন্তু সিন্ডিকেট সভা মন্তব্য চাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মন্তব্য নেয়নি বলে অভিযোগ পিএমই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা তাজউদ্দিন বলেন, “আমার কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে কিনা বা আমি দিয়েছি কিনা, ফাইল দেখা ছাড়া বলতে পারব না। ফাইল দেখে বলতে হবে।”
এদিকে নিয়োগের দেড় বছর পর চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখায় তাজবিউল চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট করেন। রিটের কপি নিয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তারা আন্দোলনের ঘোষণাও দেন।
পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “যে শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভিসি ফরিদের আমলে, তা সম্পূর্ণ অনিয়ম করে হয়েছে। ওই প্রার্থীর নূন্যতম যোগ্যতাই নাই আবেদনের। তারপরও তাকে নিয়োগে দিয়েছে। আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে।
“আমাদের বিভাগে শিক্ষকের খুবই সংকট। তার উপর অনিয়ম করে এ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ নানা আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করেছে। এখনও বিভাগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা ফিরছে না।”
তিনি আরো বলেন, “তাজবিউল হাই কোর্টে রিট করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিট খারিজে আপিল করেছে। আগামী সপ্তাহে সেটা চেম্বার আদালতে উঠবে বলে প্রশাসন বলেছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিএমই বিভাগীয় প্রধানের পছন্দমত উকিল দিয়েই এটা করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে তাজবিউল ইসলামকে মোবাইলে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।


