বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুল তালেব মোল্লা বলেন, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা-পুলিশ একজন আসামিকে আটক করলে মাহদী হাসান শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা দেন। ওই ঘটনায় আটক করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান ও এম এ মজিদ বলেন, যে ধারায় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। মাহদী হাসান থানায় মুখ ফসকে যে কথা বলেছেন, সে জন্য তিনি অনুতপ্ত। তিনি পুলিশের সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করেননি। তার রাজনৈতিক সহকর্মীকে পুলিশ ভুল তথ্যে আটক করেছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশকে যুক্তি–তর্কের সময় তার মুখ ফসকে ভুল তথ্য প্রচার হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রের ও সমাজের জন্য কাজ করেন, একজন আদর্শ রাজনৈতিক কর্মী।
সংক্ষিপ্ত শুনানির পর বিচারক আবদুল মান্নান জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে উল্লাস প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান মাহদী হাসান এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে কারাগার থেকে মিছিল করে শহর প্রদক্ষিণ করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ। নয়ন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী দাবি করে শুক্রবার দুপুরে তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ কয়েকজন নেতা। শুক্রবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে বসে আছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী। পুলিশের সাথে তারা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। এসময় মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল, এই গভমেন্ট আমরা গঠন করেছি। অথচ আপনি আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে আসছেন। আবার এখন বার্গেনিং করছেন। ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ওই নেতা আরও বলেন, ‘এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। সবচেয়ে ক্রুশাল আন্দোলন যেসব জায়গায় হয়েছে সেখানে হবিগঞ্জ একটা। বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়াই দিছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিছিলাম। এখন কোন সাহসে তাদের ধরে নিয়ে আসা হলো আমি জানতে চাই।
ভিডিওচিত্রটি ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা আটক করে। এর আগে শনিবার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মাহদীকে আটকের পর নেতাকর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নেন। রাতে ঢাকায় শাহবাগ মোড়ও অবরোধ করে রাখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোড়টি অবরোধ করায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।


