আধুনিক ডেস্ক ::
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যুক্ত হন তিনি। যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপির আগামী সংসদ নির্বাচনে জন্য ২২৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেখানে হবিগঞ্জ-১ আসনটি ফাঁকা রেখেছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেজা কিবরিয়া বিএনপির জোটসঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করেছিলেন।
অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন। ২০১৮ সালে ওই চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে ড. কামাল হোসেন গণফোরামে যোগ দেন এবং কিছু দিনের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। পরে তাকে কেন্দ্র করে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এরপর তিনি ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করেন। সেখানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সেখানে তাকে কেন্দ্র করে দলটিও দুই ভাগে বিভক্ত হয়। পরে বিভক্ত দল আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রেজা কিবরিয়া।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি বিএনপিতে যোগ দিয়ে খুবই গর্বিত। আমি বিএনপিতে আজকে ফরমালি জয়েন করলাম। এই দলটার ইতিহাসটা হল গণতন্ত্রের ইতিহাস। দুই দুইবার তারা গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের থেকে। একবার শেখ মুজিবের গণতন্ত্র ধ্বংস…সেখান থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এটাকে রক্ষা করলেন। আর দ্বিতীয় বার শেখ হাসিনা-জেনারেলের এরশাদের সাথে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং আমাদের বেগম খালেদা জিয়া যিনি এখন অনেক অসুস্থ…সবাই দোয়া করবেন উনার জন্য। উনি আবার এটা রক্ষা করলেন।
এটা একটা ঐতিহাসিক ভূমিকা। একটা দল দুইবার বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। আমি ইতিহাসে এরকম কোন উদাহরণ অন্য কোনো দেশে দেখি না। এইসব কারণে আমি বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার আদর্শ। উনার সাহস, উনার ব্যক্তিগত চরিত্র, উনার সততা এগুলো নিয়ে এত বছর পরও সবাই গর্ব করে। উনি যে কোয়ালিটির ছিলেন যে, এত বছর পরও গ্রামের লোক উনার কথা বলে, এরকম মানুষ আর বাংলাদেশে জন্মাবে না হয়ত।
রেজা কিবরিয়া বলেন, “আমরা মনে করি, বিএনপির এখন যে নেতৃত্বে আছে এবং যারা আছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা, আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম, তাদের সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। তাদের যে ভিশন দেশের জন্য, এটা আগের ভিশন না। অনেক কিছু বদলে গেছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব উনার যে রক্ত, এটা কোন কোয়ালিটির আপনারা যদি চিন্তা করেন, উনার বাপ কী ছিলেন, মা কী আছেন… এটা ইনক্রিডিবল, এটা বাংলাদেশে আর কারো ওই কোয়ালিটির ব্লাড লাইন নাই আপনাদেরকে বলতে পারি। আমরা সবাই উনাকে (তারেক রহমান) সাহায্য করব একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
তারেক রহমানের লন্ডনবাসের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, এটা একদিক থেকে দুঃখজনক, আমাদের দেশের মানুষের কাছে নাই। আরেক দিক থেকে আমি এটাতে খুশি যে, উনি (তারেক রহমান) বিদেশের সব কোয়ালিটি, সব প্রশাসনিক সব জিনিসগুলি উনি দেখছেন, শিখছেন এবং সেইগুলি বাংলাদেশে উনি আনবেন আমি এটা আশা করি। আমি মনে করি উনার ইংল্যান্ডে থাকাও দেশের মানুষের জন্যে একটা লাভজনক জিনিস। উনি অনেক কিছু নিয়ে আসবেন এ দেশে যেটা আগে ছিল না।
রেজা কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশটাকে উন্নত করা, এশিয়ার মধ্যে প্রথম তিন দেশের মধ্যে আনা অসম্ভব কিছু না। আপনারা ভাবছেন, আমি কি রূপকথার মতো বলছি? এটা পরে দেখবেন। আমি ৩৫টা দেশে কাজ করেছি প্রায় ৪০ বছর। আপনাদেরকে বলতে পারি, আমাদের দেশের মানুষের কোয়ালিটি এটা হলো ‘টপ ক্লাস’ এবং এই মানুষগুলোকে দিয়ে একটা ‘টপ ক্লাস’ দেশ প্রথম সারির দেশ তৈরি করা যাবে ইনশাল্লাহ।”
গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ ঘুরে বিএনপিতে আসা এই রাজনীতিবিদ বলেন, বিএনপিকে এই সুযোগটা যদি ভোটাররা দেয়, তাহলে আপনারা দেখবেন তারা কী পারে এই দেশের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে তারা কী করতে পারে, আপনারা তখন দেখতে পাবেন। আমি আশা করি আমার এলাকায় নবীগঞ্জ-বাহুবল, সেখানে আমার কাজ করার একটা সুবিধা হবে এবং যদি উনারা মনে করেন জাতীয় কোনো জায়গায় আমাকে কাজ করতে সুযোগ দেওয়ার। আমি চাই, দেশের জন্য কাজ করতে। আমি খুব ভালো চাকরি ছেড়ে এসেছি। আপনারা জানেন, আইএমএফের চাকরি লাভজনক লোভজনক একটা চাকরি। সেই চাকরি ছেড়ে আমি আসছি দেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে কাজ করার জন্যে। এটা ছিল আমার বাবার স্বপ্ন। আমি আশা করি সেটা পূরণ করতে পারব।
রেজা কিবরিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, রেজা কিবরিয়া এসে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আমি আমাদের দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশ গঠন ভূমিকা রাখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।


