কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন। অভিভাবকদের এমন অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শুধু ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেই দায় সারলেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। শিক্ষা অফিসের এমন সুপারিশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে আরও বলা হয় উল্লেখিত অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে এর আগেও আপনাকে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়েছিল। পরে ১৩ অক্টোবর প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা লিখিত জবাব দাখিল করেন। জবাব পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “জবাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা যেতে পারে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শাস্তি হিসেবে শুধু সতর্কবার্তা দেওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এতে কি শিক্ষকরা দায়িত্বশীল হবেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় এতটুকুই কি যথেষ্ট?
অভিভাবক কামাল মিয়া বলেন, বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায়ই দেখা যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া, এটা বুঝে আসে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। কেউ কেউ নিজেদের ছোট বাচ্চা নিয়ে স্কুলে আসেন এবং সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব সিদ্দিকী আবুল আলা বলেন, যেহেতু আগেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, তাই পুনরায় শুধুমাত্র সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরোও কঠোরভাবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন।
কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, একটি বিদ্যালয়ের সফলতা নির্ভর করে শিক্ষকতার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার ওপর। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগের মতো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধু সতর্কবার্তায় বিষয়টি শেষ করে দেওয়া দুঃখজনক। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান-সেখানে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কখনোই কাম্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মশৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভাটরাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সদ্য সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম (ঠান্ডা স্যার) বলেন, শোকজ নোটিশের কপিতে স্পষ্ট দেখা যায়, এর আগেও সহকারী শিক্ষা অফিসার অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাঁদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন। এবারও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে বিষয়টি সমাধান করা, এটা আমাদেরকেই ভাবায়।
সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুল হাসান বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় উপপরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বলবো।


