ফেরদৌস টৌধুরী রুহেল ::
সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অধীনে মাঠ উন্নয়নের কার্যক্রম চলতে থাকে। একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর জন্য যে সকল সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে বিসিবির সিলেট বিভাগের পরিচালকসহ অন্যান্য পরিচালক এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিতের নির্দেশনায় দ্রুতগতিতে কাজ চলতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় যে টিলাগুলোকে সাধারণত আমরা স্থানীয়রা এক নম্বর টিলা এবং দুই নম্বর টিলা নামে চিনতাম সেই টিলাগুলি অধিগ্রহণ করে মাটি অপসারণ করা হয়। সেখানে একটি উন্নতমানের জিমনেশিয়াম তৈরি করা হয়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম টেস্ট ম্যাচের ঘোষণাও আসে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকের জন্য দিন নির্ধারণ হয় ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর। বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে ওই দিন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এর যাত্রা শুরু হয়।
এরপর শুধুই এ স্টেডিয়ামের সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ (বিপিএল) নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং নিয়মিত টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ স্টেডিয়ামে। খেলাধুলার প্রতি সিলেটের দর্শকদের যে আগ্রহ রয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছেন সিলেটের দর্শকরা মাঠে উপস্থিত হয়ে।
সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের ফলে পুরো সিলেট সারা বাংলাদেশ ও বিশ্বের কাছে আলাদাভাবে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের একটি ক্ষতিই হয়েছে। শুরুতে আমরা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের জন্য চেষ্টা করেছিলাম স্থানীয়দের খেলার মাঠের স্বল্পতা ঘুচানোর জন্য। যাতে ওই স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়রা খেলার-অনুশীলনের সুযোগ পান। কিন্ত একটি ইন্টারন্যাশনাল ভেন্যুতে তো সে সব সম্ভব নয়। সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু মিললেও হারিয়ে যায় স্থানীয়দের প্রিয় লাক্কাতুরা মাঠ। (চলবে)
