জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ
৫ আগষ্টের পর থেকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারীদের জন্য পরিণত হয়েছে নিরাপদ অভয়ারণ্যে। উপজেলার অন্তত ২০০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষসহ চিনি, নিম্নমানের চা-পাতা, কসমেটিকস, শাড়ি, লেহেঙ্গা, টায়ার-টিউব ও নানা ধরনের পণ্য। শুধু তাই নয়, হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, কসিড্রিল, মদ, গাঁজা, হেরোইনসহ ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য। এতে একদিকে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছেন প্রায় নীরব ভুমিকায়।
সরেজমিন চিত্র বলছে, নলজুরী খাঁসীনদী, খাঁসী হাওড়, মোকামবাড়ী, আলুবাগান, শ্রীপুর, মিনাটিলা, কাঠালবাড়ী, ডিবিরহাওড়, গৌরীশংকর, করিমটিলা, কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, বাইরাখেল, জালিয়াখলা, আফিফানগর, বাঘছড়া ও রাবার বাগানসহ অগণিত সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য।
স্থল ও নৌপথ দুদিক দিয়েই প্রতিদিন বিপুল পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
ভারতীয় সীমান্তের অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এই রুটগুলো চোরাকারবারীদের কাছে হয়ে উঠেছে আরও জনপ্রিয়।
জৈন্তাপুরে গবাদিপশুর খামার নেই বললেই চলে। তবুও প্রতিটি হাটবাজার ভারতীয় গরু-মহিষে ঠাসা। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সহজেই এসব পশু স্থানীয় বাজারে ঢুকছে। পরে ইজারাদারদের কাছ থেকে ফি দিয়ে সরকারি রশিদ সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন হাটে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,চোরাচালানের পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করছে তথাকথিত সোর্স বা লাইনম্যানরা। বিজিবির নাম ব্যবহার করে তারা কোটি কোটি টাকার পণ্য দেশে ঢোকাচ্ছে। শ্রীপুর, মিনাটিলা, ডিবিরহাওড়, জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ও লালাখাল বিওপির আওতায় এসব সোর্সের ছত্রছায়ায় অবাধে চলছে সীমান্ত বাণিজ্য। মাঝে মধ্যে কিছু গরু-মহিষ বা পণ্য সিজার দেখানো হলেও মূল চক্র থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অতীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য আটক হলেও চক্রের কাউকেই আটক করা যায়নি। বরং এখন তারা আরও বেপরোয়া। সীমান্তের সহজ সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়েই এসব পণ্য দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, পুলিশ নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। মাদকসহ চোরাচালান পণ্যও আটক হচ্ছে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বিষয়।
রাজনৈতিক পালাবদল হলেও জৈন্তাপুর সীমান্তের চিত্র পাল্টায়নি। বরং নতুন নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়েছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের মতে, এই সীমান্ত এখন হয়ে উঠেছে এক প্রকার ‘স্বর্ণখনি’। কিন্তু এর খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে এবং ধ্বংসের মুখে পড়ছে তরুণ সমাজ।
