◼️স্বপ্ন ভেঙে শোকে ভাসছে শান্তিগঞ্জের রনসী গ্রাম
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
পরিবারের স্বপ্নপূরণের আশায় ইউরোপের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসী গ্রামের প্রবাসী যুবক রাজা হোসেন (২৮)। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে। প্রায় ২১ দিন পর অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরল রাজার নিথর দেহ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রিস থেকে একটি বিমানের ফ্লাইটে রাজা হোসেনের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই দিন রাত সাড়ে নয়টায় লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে মরদেহ পৌঁছে যায় তার নিজ বাড়ি রনসী গ্রামে। বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা, বাবা ও স্বজনরা। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রামে। এক নজর ছেলেকে দেখতে ভিড় করেন গ্রামের মানুষজন ও আত্মীয়-স্বজনরা।
শেষবারের মতো স্বজনরা বিদায় জানানোর পর রাত সাড়ে ১০টায় রনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় রাজার জানাজা। জানাজায় এলাকাবাসীর ঢল নামে। পরে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
স্বপ্নপূরণের বদলে শোক:
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে ধারদেনা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচে রাজাকে পাঠানো হয়েছিল গ্রিসে। লক্ষ্য ছিল পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা গুছানো। সেখানে গিয়ে কঠোর পরিশ্রমে তিনি অল্প সময়ে ফোরম্যান পদে উন্নীত হন। কিন্তু সহকর্মীদের ঈর্ষার শিকার হয়ে গত ২৫ জুলাই আক্রোশের বশবর্তী হয়ে খুন হন রাজা হোসেন।
রাজা হোসেনের মা নিবারুন নেছা ও বাবা আব্দুল জলিল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাজা ছিল আমাদের পরিবারের মূল খুঁটি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সহকর্মীদের হিংসায় আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই।
শোকের গ্রাম, বিচারের দাবি:
স্থানীয় শালিস ব্যক্তিত্ব লুৎফুর রহমান বলেন, রাজা হোসেন ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল। লাশের অবস্থা করুণ হলেও অন্তত দেশে এনে দাফন করা গেছে। এখন আমাদের একটাই দাবি- ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম। অনেকে বলছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েও দেশের জন্য সন্তানের লাশ ফেরত পাওয়ার মতো বেদনাদায়ক আর কিছু নেই।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম আলী বলেন, ঘটনাটি যেহেতু গ্রীসে ঘটেছে, মামলা সেখানেই হবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক যা সহযোগিতা করার দরকার, আমরা তা করব।
